somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা গ্রামের কাছাকাছি

১৯ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
একটা গ্রামের কাছাকাছি

এটা গ্রামের কাছে
কুয়াশায় ঢেকে ছিল নদী
একটা গ্রামের কাছে
ফসলের মাঠ নিরবধি
একটা গ্রামের পথে
শুকনো পাতায় ঢেকে ছিল কিছু উঠোন বসত বাড়ীর
একটা গ্রামের পথে
শুনশান নীরবতা ছিল
কয়েকটা গ্রাম পেরিয়ে
আরেকটা গ্রামের শুরু হলো যেখানে


একটা গ্রামের পর
একেকটা গ্রাম- মেঠো পথ
গাছগাছালি ঢাকা বুনো পথ
পাখপাখালির কুহুতান
কিষাণির পথ চেয়ে থাকা
পাতা ঢাকা উঠোনের পর শুনশান নীরবতা
কলপাড়ে পড়ে আছে শূন্য কলস
ফাঁকা মাঠের ওপরে তাজা ঘাস জুড়ে
কৃষকের স্বপ্নেরা ভাসে
ফসলের ঢেউয়ের ওপাশে
আকাশের নীল গিয়ে মেশে
অদ্ভুত কুয়াশার চাদর ঢেকেছে সেই সীমানার চারিপাশ
একাটা গ্রামের পথে
সেইসব মানুষেরা সারা দিন হাঁটে


একটা গ্রামের পথে
আরো কিছু পথ এসে মেশে
একটা গ্রামের পথে
আরো অনেকটা দূরে-বহু দূরে
আরো কিছু গ্রাম দেখা গেছে
আরো দূরে আকাশেরা সেখানে দিগন্তে মিশেছে
প্রান্তরের বুনো অন্ধকার আর কুয়াশার চাদরে ঢেকেছে
তার সেই চেনা আঁচলের পাড়
একটা গ্রামের কাছে এসে
মনে কত প্রশ্ন জেগেছে
এই বেলা ভর দুপুরে


গ্রামের কত শত মানুষেরা- এখন কোথায় তারা ?
কোন খানে- কিসের আবডালে-তারা লুকিয়েছে সব ?
তাদের কারো কারো দেখা পেলে আরো কত
প্রশ্ন যে, হতো বলা কত কথা
জানা যেতো আরো কত কিছু !
কিন্তু সেই অচেনা লোকেদের সাথে
হয়নি তো দেখা- তাই বলাও হয়নি সেই সব কথা
কেবল বলেছে কথা সেই গাইড রিকশাওয়ালা
আমরা শুনেছি নিশ্চুপ থেকে
আর কেউই ছিল না তো কাছাকাছি-পাশে
পথের শেষে--খালবিল-ফসলের প্রান্তর আর দূরে নদী
আরো কিছু আলপথ-ডোবা-নালা এদিক সেদিকে
কোন কোন কৃষকেরা ফসল তুলছে, ভ্যান ভরে আছে সেই সবজির ভারে
আমরা শুনেছি সেখানে, কৃষকেরা ফিসফিস করে বলে
“এই ঘোর গ্রাম পথে-গ্রাম দেখতে
আবার নাকি কোন মানুষেরা আসে দেখতে আমাদের।”
একটা গ্রাম দেখে ফিরে আসার পথে
শুকনো পাতায় ঢাকা সেইসব উঠোনেরা কেবলই ডেকেছে কাছে.........
কোথায় ! কোথায় তারা সব ? যারা এতদিন ধরে এইসব বসত বাড়িতে থেকেছে ?


এই পুরাতন জীর্ণ ঘরদোর ফেলে তারা কি--শহরে বা বিদেশ গিয়েছে ?
আজ তাই তাদের সেই পরিচিত টিনের চালে প্রতিদিন একটু একটু করে জং ধরছে
ঝরা পাতার পরতে পরতে সেইখানে অনেক হাহাকার আজো জমে আছে
আবার কি তারা সব একে একে কোন দিন এইখানে ফিরে আসবে
এতদিন যারা এই গ্রাম ছেড়েছে .....
একটা গ্রাম দেখে ফিরে আসছি
কিন্তু কেবলই মনে হচ্ছিল ফেরা যাচ্ছেনা
কেননা গ্রামটা যেনও ক্রমশই আমাদের খুবকরে জড়িয়ে ধরেছে
তার সেই পুরাতন উঠনের শুকনো পাতায় ঢাকা মায়া
আমাদের আরো বেশী বিবশ করেছে
ভেবেছিলাম পেছনে ফেলে এসেছি শহরেরে মেকী কৃত্রিমতা
কিন্তু এই এখানেও দেখা গেলো সব কিছু গ্রাম্য দোকানে এসে একে একে প্যাকেটে ঢুকেছে
(কোন কিছুতেই যেনও নেই সেই পুরাতন স্বাদ, যাই কিনি যাই খাই শহুরে গন্ধ-লাগছে বিস্বাদ)
ওরকম আরো কিছু প্যাকেট মোড়কে আমাদের চেতনাকে বন্দী করেছে গ্রামের সেই চায়ের দোকান
দোকানি বলেছে কিছু দীর্ঘশ্বাস ফেলে--তারপর আর একটি বারও পেছনে না ফিরে
নড়বড়ে রিক্সার হুডে ভর দিয়ে আমরা সেই অচেনা গ্রাম ছেড়ে চলে এসেছি...


একটা গ্রাম দেখে ফিরে আসছি
এমন সময় আসে ফোন--
বিদেশি গেস্ট আসছে, আমাদের ওখানের স্কুল দেখবে বলে...
গ্রামটা তখনও হাতছানি দেয়--যেনও আমাকে বলতে চাইছে--
যারা চলে গেছে তারা আবার কবে ফিরবে; আবারও কবে ফিরে আসবে
এখানে যে কেবলই পাতা ঝরছে, পাতারা প্রতিদিন ঝরে পড়ছে
ঝরা সেই পাতাতে পাতাতে দিন দিন উঠোন ঢাকছে, ঢাকছে টিনের চাল
পড়ে আছে খর বিচালি; একা তাল গাছ--তারা থেকে থেকে
প্রতিদিন আরো বেশী একলা হয়েছে...


নিকনো উঠোন সেই কবে থেকে ঢেকে আছে; প্রতিদিন আরো ঢাকছে
কেবলই শুকনো পাতায়, তাদের ভঙ্গুরতায় প্রতিদিন ঢেকে যাচ্ছে
ঢেকে থাকা পাতারা পঁচে যাচ্ছে
সেই উঠোন গুলোতে চলাচলের চিহ্ন নেই কোন, নেই কোন পায়ের ছাপও
কোন পথে এইখানে মানুষ আসছে গেছে--ঘরদোর, কলপাড় এমনি পড়ে আছে
টিনের চাল গুলোতে দিন দিন আরো বেশী জং বাড়ছে
নতুন করে প্রতিদিন শিশিরে ভিজছে আরো বেশী জং পড়ছে
আঙ্গিনার আবডাল কলাপাতার বেড়া গুলো ভেঙ্গে পড়ছে
আর ভেঙ্গে পড়ছে
মাথা হীন একটা তাল গাছে, কে জানে কবে থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এই পথের পাশে, জানিনা কার অপেক্ষায় !


কবে কোন ঝড় এসে মেঘের আবেশে বিদ্যুৎ মেখে তার এই দশা হয়েছে...
একটা গ্রাম দেখে ফিরে আসছি--বুক ভরা ব্যথা নিয়ে
শূন্যতা............. কেবলই শূন্যতা..........আরো দূরে দিগন্ত রেখা
তারও পরে আরো অনেক শূন্যতা
কত কিছু যে আরো হয়ে ওঠেনি দেখা
একটা গ্রাম দেখে পরিচিত শহরেই আবার ফিরে এসেছি
আমাদের পুরাতন আবাসে
মুক্ত আকাশ ফেলে প্রিয় এই পাখির খাঁচাতে
কত বেশী ঘরকুনো আমি
তাই সেই সবুজের গ্রাম ফেলে শহরের ঘরটাকেই আরো বেশী
ভালবেসেছি



আমি, আমার ভাগ্নে বনি আর রাফি ১১/০১/১২ তারিখে গোপালগঞ্জ শহর থেকে কিছু দূরে অচেনা একটা গ্রাম ঘুরে আসার পর, গ্রাম দেখার সেই সব স্মৃতি নিয়ে ১০/০২/১২ তারিখে লেখা কবিতা।
আরো ছবি দেখতে এই খানে ক্লিক করুন

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৫০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×