somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোজ (অনুবাদ গল্প)

০৫ ই মে, ২০১২ রাত ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউসুফ হাবাসি আল-আশকার (১৯২৯-১৯৯২)
লেবানিজ উপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার ইউসুফ হাবাসি আল-আশকারের জন্ম লেবাননের বাইত শাবাব এলাকায়। তিনি সেন্ট. জোসেফ ইউনিভারসিটি এবং পরে লেবানিজ একাডেমী অব ফাইন আর্টস এ দর্শন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন, বৈরুতে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে চাকুরীর মধ্যদিয়ে তার কর্ম জীবনের শুরু। আশকার লেবাননের অন্যতম সফল লেখক। বুর্জোয়া সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে, একনিষ্ঠভাবে তিনি লিখে গেছেন। তার চারটি ছোট গল্প সংগ্রহ ছাপা হয়েছে: ‘দ্যা টেস্ট অব এ্যাসেস’(১৯৫২), ‘উইন্টার নাইট’(১৯৫৪) ‘দ্যা ওল্ড ল্যান্ড’(১৯৬২), এবং ‘দ্যা প্যারাসল,’ ‘দ্যা কিং,’ এবং ‘দ্যা ডেথ অবসেসন’ (১৯৮১); এবং তার লেখা দু’টি উপন্যাস হলো: ‘ফোর রেড মেরিজ’(১৯৬৪) এবং ‘রুটস ডোন্ট গ্রো ইন দি স্কাই’(১৯৭১)।

ভোজ
যুদ্ধ আর শীত। এর কি কোন শেষ আছে ?
যুদ্ধই সব কিছু। যুদ্ধই জ্ঞান। যুদ্ধই পালন কর্তা। যুদ্ধই সর্বস্বান্তকারী। যুদ্ধই শক্তি। সর্বত্রই যুদ্ধ চলছে, সবার কথায় এবং সবার হৃদয়ের ভেতর।
এই সেই যুদ্ধ যা আমরা শীত, আটা-ময়দা, আলো আর উষ্ণতা সম্পর্ক জানতে চেয়েছিলাম।
হায় যুদ্ধ, শীত কী ভয়ঙ্কর। এর কী কোন শেষ আছে ? আমাদের গ্রামে কেবল যুদ্ধের অভিপ্রায়ে জ্বালানি কাঠ বাইরে পড়ে থাকে। জ্বালানি কাঠের বন্দনা, কেননা একে ছাড়া যুদ্ধই ঈশ্বর হয়ে উঠতো। যুদ্ধ ! কখনই এর শেষ নেই। ঘরে বাইরে, আমাদের হিংসা বিদ্বেষ আর ভেতরের পশুত্বের মাঝে, দৃষ্টির সবটা জুড়ে, সর্বত্রই তার দেখা পাওয়া যায়। একবার আমাদের বাড়িতে যখন ভোজের আয়োজন করা হয়, সম্মানিত অতিথিদের ভীরে আমাদের হলঘর তখন লোকে লোকারণ্য। ঠিক তখনও সে তার একচোখের ফাঁক গলে ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বের মজা লুটেছে।
আজ আবার নিজ হাতে সোনালি চুড়ি পড়ে রিনিঝিনি শব্দে শীত হাসছে। গিটার বাদকের মত আঙ্গুল চালিয়ে একের পর এক নোট বাজাবার মত, একে একে মেঘের প্রথম দ্বিতীয়, তৃতীয় পরত ভেদ করে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। তার সেই আঙ্গুলের ছোঁয়া আমাদের বাড়ির ইট গুলোতে আলতো চুমুর মত আঘাত হানছে।
হে সূর্য, তোমার ঐ চুড়িটা আমাদের দিয়ে যাও। যাতে করে যুদ্ধকালীন আপত কালের জন্য কিছুটা স্বর্ণ অন্তত মজুদ করে রাখা যায়।
নুড়ি বিছানো পথটা শুকিয়ে গেছে। কাদার সেই অবশিষ্ট অংশটুকু শুধু মাটির ওপরের দিকটা ভিজিয়ে বাদামি করে রেখেছে। বৃদ্ধ মহিলাদের মতন বয়স লুকাবার চেষ্টায় মড়া ঘাস গুলোও শিশিরের গহনায় সেজেছে, সেগুলো আবার আপনা আপনি, ফোটায়, ফোটায় ঝড়ে পড়ছে।
সেই পথের ওপর দাড়িয়ে আমরা সূর্যের বদান্যতা সংগ্রহ করছিলাম।
কী যে দয়াময় তুমি, হে প্রভু ! তোমার সূর্য আমাদের ওপর উদিত হয়-অথচ আমরা হিম হবারও যোগ্য নই, অথচ তোমার সব উদারতা, আর তোমার দেয়া স্বাধীনতার অপার দানকে তুচ্ছ করে আমরা তোমারই বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করি।
তার মুখটা কালো, খুবই কালো। আমি জানি সে কে। কিন্তু তার নাম কি আমার জানা আছে ? এই প্রথম তার নাম জানার ইচ্ছে হলো আমার। ওর মুখ কালো, ঠিক কালচে বাদামি তামাকের মত। চুল গুলো সোনালি; চোখ দু’টো গ্রীষ্মের আকাশের মত উজ্জ্বল। দীর্ঘ বালুময় পথ ধরে সে হাটে। কবিতার ছন্দে কাদামাখা পথে সেই পায়ের ছাপ আঁকা হয়ে থাকে। জুতো জোড়ায় শক্ত করে পেরেক আটা। সোয়েটারটা লাল আর প্যান্টটা কালো রঙের। কাঁধে লম্বা একটা রাইফেল ঝুলছে। দেখতে যুবক, কতইবা আর বয়স হবে ?
সেই পথের ধারে দাড়িয়ে থাকা তরুণ লোকটা তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন এরই মাঝে সে তাকে তীব্র ভাষায় গাল দিয়েছে।
“কোথায় যাচ্ছ, সৈনিক ?” আমি জিজ্ঞেস করলাম ওকে। “গায়ে সূর্যের আলো মেখে নিতে, কেননা খুব শীঘ্রই আবার বরফের চুড়ি হাতে শীত ফিরে আসছে, আমাদের আঙ্গুলের ছাপ মুছে দিতে, সাঁড়াশি দিয়ে আঙ্গুলগুলো বেধে দিতে। সেসময় সূর্যটাও পুরোপুরি মিলিয়ে যাবে, আর সেই দৃশ্য দেখে আমি ফিরে যাবো।”
সে আর পিছু ফিরে তাকালো না। ধুলোমাখা দীর্ঘ পথ দূরে গিয়ে মিশেছে এবং, তারও অনেক দূরে সেই লাল সোয়েটার খানা ঘন পাইন বনের ভীরে হারিয়ে গেলো।
“হে যুদ্ধ,” আমি বললাম, “শীত ফিরে এসেছে। আর কে বলেছে সে বার বার ফিরে আসে ?”
শীতে সব কিছু অবিকল তাদের নিজের মতই থাকে। মেঘের আড়ালের কারণে সব কিছু আলাদা দেখায়। এই আড়ালটা আসে তার ছায়ার কাছ থেকে। আলোর ক্ষেত্রেও সেই একই কথা খাটে। সেই লাল সোয়েটারও তখন ম্লান দেখায়।
“যুবক, লাল সোয়েটারের জন্য ওদের চোখে পড়বে তুমি আর ওরা তোমাকে গুলি করবে। এখুনি খুলে ফেল ওটা। খুলে ফেল, বোকা কোথাকার, আর খালি গায় ইচ্ছে মত রোদ মেখে নাও।”
এখনো থেকে থেকে কামানের গোলার শব্দ ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে কখনই সেটা আর থামবে না। যেন বিশাল চার্চে হাটুগেরে বসে, সারাটা কাফর মিল্লাত গ্রাম ত্রাসের সেই শব্দ শুনছে। পাথরের একটা বেঞ্চির কিনারায় কনুই দিয়ে উড়ুতে ঠেস দিয়ে কুঁজো হয়ে বসে আছে যিরাইস। তার গায়ের কোর্টটা বেঞ্চের বেশ কিছু অংশ ঢেকে দিয়েছে আর উলের টুপি দিয়ে ঢাকা মাথা আর মুখমণ্ডল। কেবল নাক আর চোখ দু’টি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কাউকে ইশারা ইঙ্গিতে কিছু বলার জন্যেও চোখ আর নাকের অংশটা যথেষ্ট নয়। তার জন্য চেহারাটা খোলা থাকা চাই। কাউকে এর জন্য মুখমণ্ডল ভাল করে দেখতে দিতে হবে। এর অংশ বিশেষ দেখেই কারো পক্ষে কিছু বুঝে ওঠা নাও সম্ভব হতে পারে। কোন কিছুর আদল বৈশিষ্ট্যই কেবল যোগাযোগে সক্ষম, এবং কেবল মুখের মাধ্যমেই সেই আদল তুলে ধরা সম্ভব।
“এই যুদ্ধ কী আর কখনই থামবে না ?” যিরাইস জিজ্ঞেস করলো। তার দুই ছেলে এখন যুদ্ধ ক্ষেত্রে।
“তুমি জমে যাবে, যিরাইস, ভেতরে এসো।”
যিরাইসের বাড়ির ছাদ এখন আর কাদা দিয়ে তৈরি নয়। তার ভেতরের একটা অংশ এখন মরে গেছে: এই একই যিরাইস এক সময় পাথরের রোলার দিয়ে তার বাড়ির ছাদ সমান করতো। সেই পাথর দিয়ে সে ছাদের ওপর কংক্রিটের আস্তর দিতো। হাতল ছাড়া সেই রোলারটা এখনো সেখানেই পড়ে আছে। এখন আর সেটাদিয়ে কোন কাজ নেই। দুই ছেলে তাকে ফেলে যুদ্ধে চলে যাবার পর সে যেভাবে আছে ঠিক তেমনি করে পাথরটাও পড়ে আছে। কেন এই যুদ্ধ, হায় যুদ্ধ ?
“প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় দুর্ভিক্ষ দেখাদিয়ে ছিল,” যিরাইস বলল, “আমারা বিমানে করে দূরে পালিয়ে ছিলাম, তাই আজো বেচে আছি।” এই যুদ্ধ যেভাবে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এবার আমরা কোথায় পালাবো ?
দিকে দিকে যুদ্ধ চড়িয়ে পড়েছে, সব দিকে। কোথায় পালাবো আমরা ? বড় মেয়েটা আমার মাছের মতই সাঁতরাতে পারে। সে যেই বাধানো পুকুরে সাতার কাটে তার জল দেখতে নীল। স্রোত আর ফেনার সাদা আঁচড় টানা সাগরটা আকাশের মতই নীল। বউ সেই সাগরের তিরে রোদ পোহাচ্ছে। থিতু হয়ে পড়ে থেকে চামড়ায় রঙ ধরাচ্ছে। ঠোঁটে তার একটা সিগারেট।
একটা চেয়ারে হেলান দিয় শুয়ে শুয়ে, আমি দূর কল্পনার কোন নারী মূর্তি গড়ছি। হায়রোগ্লফিকসে আমি তার বর্ণনা আঁকছি যাতে করে শুধু সে ছাড়া অন্যকেউ সেটা পড়তে না পারে। সে হায়রোগ্লফিকস জানে। তার বয়েস হয়েছে, অনেক বয়েস হয়েছে। হেটসশীপস্যুটের রাণী সে।১
যুদ্ধ আসে আর আমাদের সবার স্বপ্নকে সে যুদ্ধের ময়দানে টেনে নিয়ে যায়। আমাদের স্বপ্নেরাও তখন লাল সোয়েটার পড়ে ঘুরে বেড়ায়।
যিরাইসের ছেলেরা এক সময় ফিরে আসে। তাদের মা গরম পানিতে ওদের গোসল করায়। সেভ করে বাবু সেজে ওরা মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করতে চলে যায়। যিরাইস টানা চব্বিশটা ঘণ্টার জন্য ঘুমিয়ে পড়ে, তারপর ঘুম থেকে উঠে, পা দিয়ে সেই রোলার খানা ঠেলতে ঠেলতে আপন মনে গেয়ে ওঠে, “ওরা ঘরে ফিরেছে, ওরা ফিরে এসেছে।”
রোলারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে, বাতাসে তার চুলগুলো উড়তে থাকে। নাচের দলের নেতার মত সে তার টুপিটা হাতে নিয়ে রুমালের মত দোলায়।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে।
তুমি কর্মবাচ্য দিয়ে শুরু করতে পারোনা, চৌকশ ছেলে। তুমি “এবং,”দিয়েও শুরু করতে পারোনা এবং তুমি............
“ব্যাকরণে আমি বরাবরই কাঁচা,” আমি তাকে বলি, “এবং আমি কারা দেয়ালের বিরোধী, সাজ পরানো লাগাম দেওয়া পোষা ঘোড়ার বিরোধী, তুমি আর আমিই এখানে নিয়ম, বাকি সব কিছুর কথা আলাদা।”
যদিও সে তার ব্যাকরণ বইটা পড়ছিলও, আর কাঁপা কাঁপা আঙ্গুলে কমা গুলো পর্যন্ত দেখিয়ে দিচ্ছিল।
বাইরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে।
যিরাইস সেই রোলার নিয়ে নাচছে। এ্যামচিট ২ রেডিও স্টেশন থেকে এই খবর ভেসে আসছে, “হাট স্ট্রিট এবং সোডিকো কোয়ার্টারের মধ্যে গুলি বিনিময়ের খরব পাওয়া গেছে।” সানায়ী রেডিও৩ ঘোষণা করলো, “সোডিকো কোয়ার্টার আর হাট স্ট্রিটের মাঝে গুলি বিনিময় হচ্ছে।”
রেডিওটা আমি বন্ধ করে দিলাম।
“কিন্তু ওরা আবারো যুদ্ধে ফিরে গেল, যিরাইস,” হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে আমি তাকে বললাম, “এবার তোমাকেও সেই পাথরের বেঞ্চিটাতে ফিরে যেতে হবে, হেট দিয়ে মুখ আর মাথা ঢেকে বসে থাকার জন্যে।” ছেলেকে সঙ্গে করে আমিও ইতস্তত দৌড়লাম। তার হাত ধরলাম। সেটা লম্বা হতে লাগলো। ছোট্টটি রইলো না। ওর মুখের দিকে তাকালাম আমি; সেখানে এক সময় দাড়ি গজাবে। আরো শক্তকরে ওর হাত ধরলাম আমি। একসময় সে বড় হবে আর ওই জাহাজে মত দূরে চলেযাবে। ধবধবে সাদা পোষাকে, নববধূর সাজে সেজে যেন জাহাজটা ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে, গর্বের সঙ্গে দোল খাচ্ছে। এমনই একটা জাহাজে করে একদিন ও চলে যাবে, এর স্বপ্নে এমন কিছু বিরাজ করছে যা আমি কল্পনাও করতে পারছিনা। ওই আমাদের এই বন্ধন ছিন্ন করবে। আমার দিক থেকে সেটা অটুটই থেকে যাবে। ওই জাহাজটার মত করে পাল তুলে একদিন সে দূরে চলে যাবে। কেবল মাঝে মধ্যে বাড়ি ফিরবে।
আমরা থামলাম। এবার ওর দিকে তাকালাম আমি। ওর পুরু ঠোঁট আর নীল চোখ জুড়ে হাসি।
ঘন কালো গাছের সারির ভেতরে সূর্যের আলো গভীর সীতার মত সেঁধিয়ে ছিলো, ঢোকার পথে, সে অদ্ভুত সেই আলোর পানে চেয়ে ছিলো। আমাদের সামনে কেবল গাছ আর গাছ। আলো সেই বনটার এফোঁড় ওফোঁড় পেরিয়ে গেছে এবং সেই আলোয় বনটা পুড়ছে। এই দৃশ্য দেখে আমার ছেলের হাতের লোম দাড়িয়ে গেলো। সে চোখ বুজে দাড়িয়ে রইল।
“ভয় পেয়েছ ?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“না !” জবাবে সে বলল।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো।
“তোমার চোখ দু’টো আমাকে ধার দাও,” আমি বললাম, “আমরা এক সঙ্গে দেখতে পাবো, অনুভব করতে পারবো। তোমার চোখে আমি এই বিস্ময় দেখে রাখতে চাই !”
যিরাইস আমার কাঁধে তার হাত রাখল। এবার তার মাথা ছিলো খালি, পড়নে কোন কোটও ছিলো না। ছেলেদের বাড়ি ফেরা উদযাপনের আনন্দে, সত্তর বছরের জীবন যেনো তার চোখের তারায় সত্তরটা মোম বাতি হয়ে জ্বলছিল।
“যতবার ওরা ফিরে এসেছে আমি এই সত্তরটা মোমবাতিই জ্বালিয়েছি। প্রতিবারই আমি ওদের সঙ্গে নতুন করে জন্মেছি আর ওদের অপরিণামদর্শিতা দেখে ছাদে উঠে নেচেছি।”
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।
উশর জমিনের ওপর দাড়িয়ে থেকে আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাদের বাড়ির সামনের গাছ গুলোতে কোন পাতাই ছিলো না। সবে মাত্র কুড়ি বেরিয়েছে।
“আমি সেই গাছের নগ্নতা ভালবাসি।” আমি বললাম, “পাতাশূন্য লতানো গাছের চেয়ে এরা আরো বেশী সুন্দর।”
“নতুন প্রেমিকার নগ্নতার মত,” সে বলল।
তার চোখে একাত্তরটা মোমবাতির আলো জ্বলছে।
“ভেতরে চলে এসো,” বিড়বিড় করে সে বলল, “তুমি ভিজে যাবে।”
“তোমার কী গতি হবে ?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“আনন্দই আমার পাহারাদার,” সে বলেই চলল, “আনন্দ অসুস্থতা, ক্ষুধা, এবং মৃত্যুর প্রতিষেধক। আনন্দই পুনরুত্থান।”
সে গাছের নিচ দিয়ে এগোল। ভূগর্ভস্থ ঘরের খোলা দরজা পর্যন্ত আমি তাকে অনুসরণ করলাম।
কে ভাবতে পেরেছিলো যে আবার আমরা জ্বালানি কাঠের কাছে ফিরে আসতে পারবো ?
“জ্বালানি কাঠ আমাদের রক্ষা করেছে, এবং এমন একদিন আসবে আমরা সে কথা ভুলে যাবো।”
“যুদ্ধের সেই দিন গুলোতে তোমার কাছে কী আমি জ্বালানি কাঠের মতই ছিলাম না, আর সে কথা তুমি আমাকে একদিন না একদিন ঠিকই খুলে বলবে,
‘তখন যুদ্ধ ছিলো। জ্বালানি কাঠও ছিলো এবং প্রেমিকাও ছিলো,?”
“যা ধরতে পারেনা সময় কী তা ধ্বংস করে ফেলে নাকি ?”
“মানে ?”
“বলতে চাইছি সময়ের বাইরে আমাদের দুজনের মাঝে যা যা রয়েছে তুমি কি সেগুলোকে তেমনই দেখতে চাও ?”
“সে রানীর চোখের দিকে তাকাল। অনেক ক্ষণ না অল্পক্ষণ ? তা সে জানতো না। পথভ্রষ্টের মত, কবির দৃষ্টিতে, স্রষ্টার মহানুভবতা নিয়ে, সে ওর স্বপ্নিল দু’চোখে জীবনটা যেনো হারিয়েই ফেলেছিলো।
“তোমার ধূসর চুলগুলো আমি খুবই ভালোবাসি।”
“আমি চাইনা তুমি কেবল আমার আলাদা কোন অংশের প্রেমে পড়ে যাও।”
“কেন ?”
“যে কোন একটা অংশের প্রেমে পড়লে, সেই অংশটা যতক্ষণ থাকে ততক্ষণই স্থায়ী হয়।”
“তবু তারপরও আমি তোমার ধূসর চুলগুলো কে ভালোবাসি।”
“ধূসর চুল মানে কিন্তু মরণ পথে পা রাখা।”
“আমার ভালোবাসা তোমাকে নতুন করে জীবন দিবে, মরণকে দূরে সরিয়ে দিবে, তোমার সামনে অনন্তের দরজা মেলে ধরবে। আমি তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকেই শুধু ভালোবাসি।”
সূর্যটা কমলা রঙের আলো ছড়াচ্ছিল। জানালা ভেদ করে সেই আলো দেয়াল আর ওর মুখটাকে রঙ্গিন করে তুলেছিল।
“গমশীষ, গমশীষ,” সে ওকে ডেকে উঠলো।
সিলিঙের ওপর স্তুপকরে জ্বালানি কাঠ রাখা ছিলো। একটি ওকগাছের কাণ্ডের ওপর বিশ্রামের ভঙ্গীতে বসে ছিলো যিরাইস, বৃষ্টির ফোটাগুলো গাছের শাখা বেয়ে জড়ো হয়ে, উপর থেকে এলোমেলোভাবে তার মাথার ওপর ঝড়তে লাগলো।
“আমি ব্যাকরণের নিয়ম ঘৃণা করি। আমি জেলখানা ঘৃণা করি। পতিত জমিতে যেমনকরে স্বতঃস্ফূর্ত বুনো গমশীষ বেড়ে বোঠে ঠিক তেমনি করে আমি তোমাকে ভালবাসি।”
গাছের নিচে ছোট্ট সেই ভাঁড়ার ঘরটা একটানা সোরগোলে সেদ্ধহতে লাগলো। পাথরের দেয়ালের ওপর বসে ফারিস ধূমপান করছিলো। মাঝেমধ্যে সেখান থেকে উঠেগিয়ে তালাদেয়া দরজায় কানপাতে আর কি যেন শুনতে চেষ্টা করে। তার ছোট্ট মেয়ে দু’টো তাকে ঘিরে ঘুরতে থাকে। ছোটটা কান্না কাঁদতে শুরু করে। শ্লেষ্মা ওর ঠোঁট আর থুতনি ঢেকে যায়। ফারিস ওর চোখের জল আর শ্লেষ্মা মুছে, চুলের সিঁথি ঠিক করে, জামার হাতা ঠিক করে দেয়, তারপর তাকে পরম আদরে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে।
“ফারিস কী করছে, যিরাইস ?”
“বউয়ের জন্য অপেক্ষা করছে সে।”
“বদ্ধএই ঘরে বসে।”
“ওকি নিজেকে ক্রুশ বিদ্ধ করছে ?”
“না, ওর বাচ্চা হবে।”
আমাদের প্রতিবেশীর বউয়ের কোল আলোকরে ফুটফুটে নতুন একটা শিশু এলো। সে একাই সেই বাচ্চার জন্ম দিয়েছে, ঠিক যেমন করে ভেড়ার বাচ্চা হয়। তার স্বামী শুধু বাইরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করেছে মাত্র। একা একাই সে জলজ্যান্ত একটা বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। এমন কী সেই সময় সে কোন চিৎকার বা উঁ’ শব্দটি পর্যন্ত করেনি। আমি সেই শব্দ শুনতে চেয়েছিলাম কিন্তু কিছুই শুনতে পাইনি। মিলনের ব্যথা যন্ত্রণায়, মেয়ে মানুষ যেমন করে কাতরায়, আঙ্গুল কামড়ে ধরে, বিছানার চাদর আঁকরে ধরতে চায়, তার সেসব দৃশ্য আমি কল্পনা করেছি শুধু। খুব তাড়াতাড়িই শিশুটা ভূমিষ্ঠ হলো। সে তাকে ধুয়েমুছে এনে পাশে শুইয়েদেয়। কোন উপহার, উৎসব ছাড়াই এই পৃথিবী তার শিশুকে গ্রহণ করবে। কখনই সেই শিশু নির্ভয়ে খোলামাঠে দৌড়াতে পারবেনা। এই শিশু কখনই কুকুর, গাধা এমনকি মাকড়শা দেখেও ঘাবড়াবে না।
“যিরাইস, সেই নীল চোখ, সোনালি চুলের কালো যুবকটা, কী যেন নাম তার, ঐযে লাল সোয়েটার পরে, কাঁধে লম্বা রাইফেল ঝুলিয়ে এলো, আর ওই দীর্ঘ ধুলোমাখা পথধরে হেটেগিয়ে বনের প্রান্তে হারিয়ে গিয়েছিলো।”
“আনতুন, ঔযে আস’আদ আল-ইফরিকির ছেলে। ওর বাবাকে তো তুমি চানতে, কি চিনতে না ?”
“হ্যাঁ, যখন সে মারা যায়, তার বউ বিশপের কাছে সেই খরব পাঠিয়েছিলো এবং বিশপ নিজেও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছিলো।”
“আল-ইফরিকি বিশপের সুনজরের যোগ্য। দশ পর্যন্ত গুনতে না পারলেও ছেলেমেয়েদের জন্য সে দশলাখ পাউন্ড রেখে গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা দু’জনে একসঙ্গে প্লেনে চড়ে পালিয়ে ছিলাম। তখন আমদের দু’জনেরই বয়স মাত্র নয় বছর। তার কাছে তখন রুটির পাঁচটা টুকরো, কটিবন্ধের মতকরে সেগুলোকে সে কোমরে বেঁধে নিয়ে ছিলো আর কেউ যাতে সেগুলো চুরি করতে না পারে, সে জন্যে রুটির সেই কটিবন্ধটা পরেই সে ঘুমাতো। যুদ্ধ শেষে নিজ ইচ্ছাতেই সে আফ্রিকা চলে যায়। আস’আদ বিশপের সুনজরের যোগ্য, যদিও তিনি তাকে চেনেন না। ছেলে তার আলোর মত। কাঁধে পুরানো রাইফেল বয়ে নিয়ে সে ফৌজের পিছু ধেয়ে যায়, তাকে সঙ্গে নেবার আকুতি জানায়। আস’আদের কী ভাগ্য, ছেলের জন্য একাঘরে বসে দীর্ঘ অপেক্ষার আগেই সে মরে গেছে। যুদ্ধ ফেরত ছেলের পথের পানে চেয়ে চেয়ে তাকে বনেবাদারে, পথেপ্রান্তরে ঘুরতে হয়নি। সব সময়ই সে ছিলো বড় ভাগ্যবান লোক।”
ভালোবাসা আগুনের মতো। হতাশায় না পুড়লে তা মরে যায়। “আমাকে ভুলে যেওনা। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকো আর সদ্য গজানো একটা সফেদা গাছের মতো মুখ পানে নুয়ে থেকো। শুধু যদি তুমি জানতে সফেদার পাতা আমি কতই না পছন্দ করি। তুমিও কি ওদের রূপালি দীপ্তিময় কাঁপন আর তামাটে চেহারা ভালোবাসো না ?”
“বাইরে তুষার ঝরবে,” বলল যিরাইস।
“কী করে জানলে তুমি ?”
“ঐযে মেঘের ধুলো রঙ দেখে। সেই কখন থেকে পাখিরা ডানা গুটিয়ে বাসায় লুকিয়ে আছে। ওইদিকে ওই ঝাঁকটার দিকে দেখ: কেমন করে ওরা সব ফেলে ভাগছে ?”
“ভাগছে, সব ফেলে ? কই বোঝা যাচ্ছেনা তো। ওরা নিজেদের মতই মুক্ত বিহঙ্গে উড়ছে।”
“এত এত স্কুল আর ভারি ভারি বই পড়েও, তোমরা শহরের লোকেরা এমনই মূর্খ রয়ে গেলে ! ভাগা আর ওড়ার পার্থক্যও করতে পারোনা ? আমি বলছি তুষার পড়বে।”
ভাঁড়ার ঘরটা খোলা থাকায় তার ভেতরেও বাতাস খেলা করছে, তাতে মৃত ঘাস, পাইনের সুঁইয়ের মতন সবুজ পাতা, বাসিমাটির সোদাগন্ধ আর আমার তামাক পোড়া পাইপের ঝাঁজ লেগে আছে।
এবং আমি তোমাকে ভালোবাসি।
“আগ্নেয়গিরির মতো তুমি সঙ্গম কর আর তা নিয়ে সন্তের মতো ভাবো।”
“আমাদের পরিবারে দেরিতে বিয়ের রীতি। আজকে আমার এই ত্রিশতম জন্মদিনে আমি তোমাকে বিয়ে করবো। সন্ত নারীর মতো তোমার সঙ্গে সঙ্গম করবো আমি আর সেটা নিয়ে ভাববো প্রণয়িনীর মতন। তাইকি চাইছ তুমি ?”
“সব সময় কেনো তোমাকে দ্বিমুখী হয়ে থাকতে হবে, আমার গমশীষ-দুই ধরনের অনুভূতি আর দুই ধরনের স্বভাব নিয়ে ?”
“আমাকে কেন তুমি ‘গমশীষ’ বোলছও ?”
“তোমার ত্বকের বর্ণ ঠিক গমেরই মতন। গম যেমন এক টুকরো রুটি হবার অপেক্ষায় থাকে, তেমনি আমিও তোমার উপহারের অপেক্ষায় রয়েছি।”
আমি জানি অন্যদের সঙ্গেও ও’ কথা বলে। এও জানি ওর এই আয়েশি শব্দ গুচ্ছ কত বেশী প্রয়োজন, ভালোবাসা মাখানো শব্দগুলো কতটা দরকারী, ওকে যাদুমোহিত করতে পারে এমন একগুচ্ছ শব্দ বিষণ্ণ নিরানন্দ রাতে ঈস্টের মতোই তার স্বপ্নগুলোকে গাজিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলতে পারে। আমার সেই গমশীষ রাজকীয়ভাবে ক্ষুধার্ত, কিন্তু এখন আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি রাজা, রাজ্য আর রাজকীয় মর্যাদার মতো অন্যকিছুই নেই আসলে। ভালোবাসাতে এবং বুদ্ধি, আত্মতৃপ্তি, ভোগ, আর ভোজের আনন্দের মাঝে বসে হতাশ না হবার জন্যে দরকার এসবের। তবে হতাশা থেকে মুক্তির জন্য কাউকে ত্যাগী হতে হয়, ভালোবাসা বিলাতে হয়, ভালোবাসতে হয়। অন্যের মাঝে আত্মমগ্ন হতে হয়, তবেই মুক্তি মেলে। আত্মগ্নতা: যাই বলো না কেন, কী আছে এই শব্দের মাঝে ?
“যিরাইস, তোমাকে ছেড়ে আমি চলে যাব, আমাকে যে যেতেই হবে।”
“কোথায় যাবে তুমি ? আমিও সঙ্গে যাব তোমার।”
“না। কেউ আমার সঙ্গে যেতে পারে না।”
“ঠিক আছে, তোমার কোটটা অন্তত সঙ্গে নাও।”
“কোন কিছুই আমি সঙ্গে নেব না।”
“বললাম তো বাইরে তুষার ঝরবে।”
“না, ঝরবে না। আবারো সূর্য হেসে উঠবে, আর সেই যুবকটা তার লাল সোয়েটার গায় ফিরে আসবে এখানে।”
ভাঁড়ারের মেঝে জুড়ে জড়ো করা জ্বালানি কাঠের দিতে চেয়ে থেকে যিরাইস মাথা ঝাঁকাতে লাগল। একটা লাঠি তুলে নিয়ে হেটে হেটে চলে এলাম আমি।
“সাবধানে থেক যিরাইস,” বললাম আমি, “সিগারেটের শেষটুকু কাঠের স্তূপে ছুড়ে ফেল না।”
“একথা বলার আগে তোমার লজ্জা হওয়া উচিত ছিল,” সে বলল, “যিরাইস এমন কোন লোক নয় যে তাকে পোড়াতে, হনন করতে, অথবা ধ্বংস করতে বারণ করবে। আমিই আমার জীবনের হর্তাকর্তা। তুমি কী দেখতে পাওনি, এইখানটায় প্রতিদিন কেমন করে আমার ছেলের ফেরার অপেক্ষায় আমি বসে থাকি ?”
“বিশ্বাস করো, আমাকে একটি বারের জন্য বিশ্বাস করো,” এই বলে সে দাড়িয়ে পড়ল এবং আর তর্জনীটা আমার মুখপানে তাক করল।
“হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দনে যদি আমি ওদের অপেক্ষায় না থাকতাম তাহলে কখনোই ওরা আর ফিরে আসতো না। কিন্তু ওরা ফিরে এসেছে এবং বরাবরই ফিরে আসে, এবং আমরা সেই যুদ্ধের মুখে থুতু ছিটাই।”
“চলো যুদ্ধের গায় থুতু ছিটাই,” আমি বললাম।
যিরাইস নাচতে শুরু করে দিল।
হালকা কুয়াশা, একেবারে মাটি ছুঁয়ে আছে। চার্চের শূন্য উঠানে সামান্য নুয়ে হাতে থাকা বেতটা রাখলাম। চারদিকের বেশ কয়েকটা সবুজ গাছ: বসন্তের আগাম বার্তা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। অনেক দূরথেকে একটা গাড়ির ইঞ্জিন শব্দ আর লাউডস্পিকারে চিৎকার ভেসে আসছে, “যোদ্ধারা, তোমাদের নিজেদের বেঁচে থাকার স্বার্থেই হত্যা কর। মৃত্যুর শিল্পকে জেনে নাও। আর তাহলেই কেবল তোমরা জীবনের শৈল্পিকতার স্বাদ পাবে। যোদ্ধাগণ.......।” ভয়ানক সেই শব্দটা কুয়াশার মাঝে মিলিয়ে গেল।
“নবী জেরিমিয়াহ কে আমি অনুকরণ করতে পারিনা। আপনা থেকেই আমি-স্বতঃস্ফূর্তভাবে-হত্যার বিরোধী। আরো স্পস্ট করে বললে নিজেকে বিসর্জন দেবারও বিরোধী আমি। আদর্শের খাতিরে আমি স্বদেশের পক্ষে আবার সেটা না থাকলে আমি দেশ বিরোধী। সত্যি বলতে কী, যে স্বদেশ তার নাগরিক আর প্রতিবেশীর রক্তপাত ঘটায় তার বিপক্ষে আমি। গৌরব করি সমস্ত মানব জাতীর জন্যে, শুধু মাতৃভূমির জন্যে নয়। যে কারণেই হোক, গৌরব আসলে কাচের গ্লাসে ভরা মদের আরক ছাড়া আর কিছুই নয়, যা এক সময় ফুরিয়ে যায়। আর পেটে থাকার সময় টুকুতেই কেবল আমাদের মাতাল করে রাখতে পারে।”
এতসব শুনেও ও’ গৌরবের গান গাইতে লাগলো।
চার্চের দেয়ালের ওপর আমি শুয়ে রইলাম। মনে হচ্ছিল দেয়ালটা এই বুঝে ভেঙ্গে পড়ে। নিজেকে আমি বললাম, “চার্চের মাটির দেয়ালটা ভেঙ্গে পড়ছে, এখানে ঈশ্বর নেই।”
যুদ্ধকে চার্চ বৃত্তিরও ঊর্ধ্বে গণ্য করেন ঈশ্বর। সেটা তাঁর একচ্ছত্র অধিকার। কী সেই একচ্ছত্রতা ? মহিলারা তাদের সাদা, কালো, নাল, নীল, হলুদ, সবুজ দামি রুমাল দিয়ে রঙের ঝরনা ধারায় তাকে সাজিয়ে তুললেও, ঈশ্বর চার্চে থাকেন না। এই মাত্র কমাস হল, তারা এসে একে সাজিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও আবার সেই যুদ্ধ বাঁধলো, আর সেটা থামাতে ঈশ্বর এখানে আর ফিরে আসেনি।
আমি চার্চের ভেতরে ঢুকলাম। তার ভেতরটা শীতল। সাজানো প্রতীক গুলো শীতল। মূর্তি গুলো শীতল। পাথরের বেঞ্চি গুলো শীতল। চুপচাপ বসে পড়লাম আমি। কথা বলার কেউ আর নেই সেখানে। সবকিছু শূন্য পড়ে আছে। ভেতরে ক্রমশই গুলির শব্দ বাড়ছে। বন্দুকের থেকে খুবই আলাদা এই চার্চ, তারপরও সে গুলির শব্দ শুষে নিচ্ছে, আর তার দেয়ালে গুলো সেই শব্দের প্রতিধ্বনি নিয়ে খেলা করছে। খেলা করছে, কথাটা কি আমি বলে ছিলাম ? এর ভেতরে কি খেলার থেকেও আরো জঘন্য কিছু থাকতে পারে ? আমরা যে খেলা খেলি সেটা আসলেই খুব জঘন্য একটা বিষয়। খেলায় জেতার জন্য আমরা কি মরণ পণ লড়াই করি না ? খেলা জিতে নেওয়াই সেখানে উদ্দেশ্য, সেই বিজয়ের বদলে বিজয়ী কি অন্য কিছুর প্রতি আর এতটা লোলুপ হয় ?
যুদ্ধও একটা খেলাই, লালের হোলি খেলা, রক্তের উৎসব, সে শুধু মারতে জানে। অন্যকথায়, এই নির্বুদ্ধিতা আমাদের শূন্যতার দিকে নিয়ে যায়। জীবনের চেয়ে সুন্দরতম আসলে আর কিছুই নেই। টানটান হয়ে বেঞ্চিতে শুয়ে পড়লাম আমি। তখনো ধোয়ার গন্ধ পাচ্ছিলাম, এবার তাতে চারিধার ছেয়ে গেল। চোখ বুজে রইলাম আমি। হঠাৎ বুঝতে পারলাম একটা হাত আমাকে তীব্র ঝাঁকি দিচ্ছে। চোখমেলে তাকাবার পর, আমার ওপর দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার কালো জামার পেছন দিকটা, আমি দেখতে পেলাম।
“চার্চ তোমার ঘুমাবার জায়গা নয়,” সে বলল।
“চার্চ স্বাধীনতার চর্চার স্থান,” আমি বললাম।
“কিসের স্বাধীনতা ?”
“স্বাধীনতা: কথা, কাজ আর চিন্তার স্বাধীনতা।”
“সেটা অবিশ্বাসীদের কথা। ভদ্রভাবে থাকো নতুবা বিদেয় হও এখান থেকে !”
“ঘুম কি অভদ্রতার চিহ্ন, ফাদার ?”
“হ্যাঁ, ঈশ্বরের সামনে ঘুমান অভদ্রতারই সামিল।”
“ঈশ্বর ! কিন্তু ঈশ্বর তো সর্বত্রই রয়েছেন। কারো বিছানাতেও তিনি আছেন।”
“চুপকর ! আমাকে তোমার দর্শন বোঝাতে এসো না। স্বাধীনতা, দর্শন-এসব অর্থহীন কথা !”
নুয়ে, বেত খানা নিয়ে বেরিয়ে এলাম। ঈশ্বর চার্চ ছেড়েছেন ঠিক, ভৃত্যের হাতে দেখাশোনার ভারদিয়ে বাড়ি ত্যাগী মালিকের মত। মালিক ছাড়া কেউই তার সম্পত্তির সঠিক পরিচর্যা করতে পারে না।
আমি ওর সঙ্গে দেখা করার জন্য ছুটলাম। সবদিকে যুদ্ধ বেধে আছে, সেই আগাম বসন্ত কোথায় ? দরজা খোলাই ছিল। আমি কড়া নাড়িনি। সেও সবখানেই ছড়িয়ে আছে।
“কী হয়েছে তোমার ?”
“ঈশ্বরের ঘর থেকে আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে।”
“কিসে তোমাকে ঈশ্বরের ঘরে যেতে টানলো ?”
“ওদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম।”
“তুমি মিথ্যা বলছো।”
“সত্যি বলছি, চার্চের ভেতরে আমি শুয়ে ছিলাম। এক সময় ঘুম চলে এলো। আর সেকারণেই বিশপ আমাকে বের করে দিয়েছে।”
“সত্যিটা এবার খুলে বলো দেখি।”
“কসম করে বলছি, আমার কথাই সত্যি, প্রার্থনা করতেই সেখানে যাওয়া।”
“কেন।”
“সেরে ওঠার জন্য।”
“কিসের থেকে ?”
“আমার আশা ভরসা আর জীবনে আমার ভূমিকার থেকে।”
ও’ আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।
“আমার ইচ্ছে,” আমি বলে চললাম, “সবার কাছে বিনা মূল্যে সত্য পৌঁছে দেয়া এবং পতিত বিশ্বের প্রতি নির্লোভ নজরদারিই হবে আমার ভূমিকা।”
“আর তুমি সেই প্রার্থণাই করেছ ?”
“না, তবে সেই প্রার্থনাই করবো। সেই কালো যুবকটাকে খুঁজে বের করবো আমি।”
“তুমি একটা পাগল।”
“সেই লাল সোয়েটার পড়া কালো যুবকটাকে খুঁজে বের করবো আমি। সেটা খুলে নিয়ে পড়ার জন্য আমার জামাগুলো দিয়ে দেব তাকে। ওরা ওকে দেখে ফেলবে আর দেখে ফেললেই মেরে ফেলবে।”
“আমার সঙ্গে থাক। আরো কিছু ক্ষণ এখানে থাক।”
“না।”
“কালো যুবকটাকে তার স্বপ্ন নিয়েই একা থাকতে দাও। তার সেই স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দিওনা।
যারা বিশ্বাস করে না কেবল তাদের কাছেই মৃত্যু সব কিছুর শেষ। বিশ্বাসীদের কাছে এটা খুব সহজ।
ওকে একা থাকতে দাও। ওর গান নষ্টকরে দিওনা।”
বসলাম আমি, চারদিকে দেখতে লাগলাম। একেবারে সত্যিকারের একটা ঘর, জীবন্ত: আধা কাপ কফি, সোফার ওপর ছড়ানো ছিটানো রেকর্ড, খোলা বই, এসট্রে ভরা সিগারেটের গোরা, এক জোড়া স্লিপার, জীবনের মতই সব কিছু এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। জীবন যেমন তেমন করে কী এসব বিশৃঙ্খল হতে পেরেছে ? এমনও কী হতে পারেনা, যে নিয়মের এই আকুলতা আসলে অবচেতনভাবে মৃত্যুর জন্যেই ব্যাকুলতা প্রকাশ ?
আমি রয়ে গেলাম এই জন্য ও’ হাসছে। রেকর্ড গুলোর মাঝ থেকে সে আমার প্রিয় গানগুলো বাজতে দিল। প্রিয় গানটা বেজে ওঠার অপেক্ষায় রইলাম আমি। তারপর সেটা শুনতে লাগলাম। মনে হচ্ছিল অনন্তকাল ধরে বাজবে সেটা, কিন্তু এক সময় ঠিকই থেমেগেল। অন্য আরো যে সব গান বাজলো, সেগুলোর কোন গুরুত্বই ছিলনা বলতে গেলে।
প্রয়োজন বলতে সময় নেয় না। লাঠিটা মুঠো করে ধরে আমি উঠে দাঁড়ালাম।
“কোথায় যাচ্ছ তুমি,” মেয়েলি কণ্ঠে ও বলে উঠল।
“লাল সোয়েটার পড়া কালো সেই যুবকের নাগাল ধরতে। ওকে ধরে আমি ওর লাল সোয়েটারটা খুলে নেব, তারপর আমার জামাগুলো পড়তে দেব।”
“আমার সঙ্গে থাক।”
“না।”
“তাহলে কি বুঝব তুমি আমাকে ভালোবাসো না ?”
“এখন সেটার কোন দরকার নেই।”
“তুমি কি পাগল হয়ে গেলে ?”
“.....”
“অন্য লোকেদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাই এই চলে যাওয়া ?”
“আমি কারো দখলের ঊর্ধ্বে।”
“কারণ তুমি হেরে গেছ। এখন স্বাধীনতার কথা আওড়াচ্ছ এই হেরে যাবার কারণেই।”
“অবশ্যই, আরো হারবো, আবারো হারবো, কারণ আমি একটা কাপুরুষ। কালো যুবকটার মত আমি জানিনা কী করে ভালোবাসাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে হয়।”
“আর এখন তুমি সেই চেষ্টাটাই করে দেখতে চাইছো ?”
“হ্যাঁ !”
“ঋষির মত করে।”
“একটা শয়তানের মতকরে, যে কীনা ঈশ্বরের আরাধনা করে।”
“তুমি যাবে না, তোমার যাওয়া হবে না।”
“আমাকেও তোমার সঙ্গে সেখানে, সেই ভোজ উৎসবে নিয়ে চলো,” আমার মেয়ে আকুল হয়ে বলতে লাগল। আমি হাটতে শুরু করে দিলাম, তবু মুঠোকরে সে আমার হাত ধরে রইলো।
“কেন তোমাকে দেওয়া দালালের সেই ভোজের কী হলো ? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“দয়াকরে, আমাকে তোমার সঙ্গে নিয়ে চল।”
আমি ওকে সঙ্গে নিলাম।
এখানে আমি বসন্তের দাগ ওয়ালা সেই দালালের সাথে রাতের খাবার খেলাম। সে তার কালো নীল চোখ, পুরুষ্ট ঠোঁট, মোটা আঙ্গুলের সাহায্যে খাচ্ছিল। দুই ধরনের ক্ষুধা নিয়ে সে খাচ্ছিল। এমন করে তাকিয়ে ছিলেন যেন সে তার চোখজোড়া দিয়েও খাচ্ছে।
সপ্তাহ খানেক আগে সে পাইকারি ব্যবসায়ের এক কসাইয়ের কাছে আমাকে বিক্রয় করে দিতে চেয়েছিল। খাবারের টেবিলটা খুব লম্বা, ঠিক যেমনটা আশ্রমে দেখাযায়। আমার ডানে সোনালি চুলের একটা তরুণী, আর বামে মোটা এক শ্যামাঙ্গী। সোনালি চুলের সেই তরুণী পাশে বসেছেন রাষ্ট্রদূত। ভূস্বামী বসেছে সেই শ্যামাঙ্গীর পাশে। টেবিলের ঠিক মাথা বরাবর আছেন সম্মানিত অতিথি, আইনজীবী, তার মোজার রঙের মত নীল একটা জপমালা হাতে জড়ানো রয়েছে। তার ডানে বসে আছেন আতিথ্যকর্তী:তার ডানে আছেন কালো কোট আর অসট্রাখান হেট পড়া ব্যবসায়ী। তার পাশে বসেছেন রাষ্টদূতের বউ, তারপর বসেছেন খাকি পোশাকের অবসরপ্রাপ্ত সেনা এ্যাটাসে। মনেহয় অবসরে গেলেও এখনও তিনি তার খাকি পোশাকের কথা ভুলতে পারেননি। টেবিলের ওপর মাথায় বিনয়ী ভঙ্গিতে বসেছেন আতিথ্যকর্তা নিজে। ব্রোকার আতিথ্যকর্তার কাছে বিক্রি করতে চেষ্টা করছেন, সে নিজেও একজন ব্যবসায়ী, প্রেরণের সময় চুরি যাওয়া টাইলস এর ব্যাপারে কথা বলছিলেন তারা। আইনি ঝামেলার নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ব্রোকার সেসব দেখাশোনার জন্য সঙ্গে করে একজন আইনজীবীও নিয়ে এসেছেন। আতিথ্যকর্তা চুরির মাল কিনবেন না। কেন ? কারণ। সোনালি চুলের তরুণী আইনজীবীর দিকে তাকালেন। “আসলে টাকার বিশেষ কোন ঘ্রাণ নেই।” এই বলে সে গভীর নিঃশ্বাস নিলেন। “টাকার কোন দেশ নেই,” জবাবে ব্রোকার বললেন। “টাকার কোন ধর্মও নেই,” ব্যবসায়ী বললেন। আতিথ্যকর্তা চাপ অনুভব করলেন। তারা যা বলছেন তার সবই তিনি জানেন, তবে চুরির মাল তিনি কিনতে রাজি নন, কারণ তিনি এসব ভয় করেন। তিনি জানালেন তিনি সেই “ক্লাবের”, সদস্য নয়, কেবল সদস্যদের পক্ষেই সেই মাল নিয়ে বাইরে যাওয়া সম্ভব।
আতিথ্যকর্তার রান্না ঘরে যাবার পর তার খালি চেয়ারের উপর ঝুঁকে আইনজীবী ব্যবসায়ীকে ফিসফিস করে কিছু একটা বললেন।
“আমি আন্দাজ করতে পারছি তাকে নিয়ে আপনারা কী বলাবলি করছেন,” হাতে তালি দিয়ে আমি বলে উঠলাম, “আতিথ্যকর্তাকে আপনারা কাপুরুষ বলেছেন।”
“আমি তাকে কাপুরুষ বলিনি।”
“হ্যাঁ, আপনিই বলেছেন।”
“শুধুমাত্র ধারনা করে এমন কথা বলা আপনার উচিত হয়নি,” জপমালা গুটাতে গুটাতে তিনি বললেন।
“শুধু ধারনা করে বলবো কেন, আমি শুনেছি, স্পষ্ট শুনেছি,” তালি বাজিয়ে আবারো বললাম।
ট্রে ভরা নানান ধরনের ফল নিয়ে আতিথ্যকর্তা ফিরে এলেন। তখুনি কথোপকথনটা গেল থেমে। ঘরটা ছিল উষ্ণ। গরমে দম আটকে আসছিল। ব্যবসায়ী খুব ঘাম ছিলেন, কিন্তু তারপরেও তিনি তার কোট বা টুপি খুলে ফেলেননি।
কথোপকথনে শীতলতা চলে এলো। “আজকে রাতে টাইলস গুলো তাদের বাক্সেই থাকছে,” বিড়বিড় করে বললাম, “শীতল ওয়্যার হাউজেই তারা পড়ে থাকবে, খুবই খারাপ কথা।”
আইনজীবী আমার পরের চেয়ারটায় বসে থাকা ব্রুনেইটির দিকে বারবার তাকাচ্ছেন। নিজেকে জাহির করার সুরে সে গতানুগতিক উদাহরণ টেনে একটানা বলেই যাচ্ছে-কোনটা বিচার আর কোনটা বিচার না। ব্রোকার আইনজীবীর কথাটা গিলেনিয়ে, ওগুলো থেকে কেমন মুনাফা করতে পারবেন সেটাই বলতে লাগলেন তিনি। ব্যবসায়ী ন্যায্য লাভের কথা বলছিলেন, সামরিক বাহিনীর লোকটা যুদ্ধক্ষেত্রের মহত্বের সম্পর্কে বলল। রেডিওর খবরে যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের কথা বলা হলো। রাষ্ট্রদূত যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করলেন, যদিও আইনজীবী দ্বন্দ্বময় কথা বললেন। তার গলার স্বরটা ছিল চমৎকার।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১২ রাত ১২:১৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×