সিনেমায় হ্যাপি এন্ডিং থাকলে খুব হ্যাপি হ্যাপি লাগে। যে সিনেমার এন্ডিং থাকে আনহ্যাপি সেটা দেখার পরের কয়েকঘন্টা মন প্রচন্ড খারাপ থাকে। কিছু কিছু ছবিতে অবশ্য আনহ্যাপি এন্ডিং থাকলেই বেশি ভালো লাগে.....এটার মধ্যে একটা শৈল্পিক ব্যাপার আছে।
বাস্তব পৃথিবীতে আমরা প্রত্যেকেই যদি অভিনেতা অভিনেত্রী হই তাহলে প্রত্যেকেই তাদের নিজের জীবনের মূল চরিত্র। যেমন আমাকে ঘিরেই আমার জীবনের চলচ্চিত্র.........রাস্তায় গাড়িতে গাড়িতে পপকর্ন বিক্রেতা ১০ বছর বয়সের শিশুটির জীবনে সেই মূল চরিত্র। সে আর্ট ফিল্ম করছে......আর আমি টেলিফিল্ম। দুজনই প্রানবন্ত অভিনয় করে যাচ্ছি.....আমি ছুটছি.....সেও ছুটছে। আমি আশার পাহাড় গড়ছি ভাঙছি.....সেও তাই করছে। কে পাবে অস্কার পুরষ্কার? মাঝে মাঝে মনে হয় ছেলেটা অনেক বেশি অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছে...তার চরিত্রটা অনেক বেশি গভীর....
পড়ন্ত বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে যখন সিএনজি স্কুটার সিগনালে থামল তখন খালি গায়ে ময়লা হাফপ্যান্ট পরা ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের এক শিশু হঠাৎ এসে বিকট শব্দে চেঁচিয়ে বললো...."আপা পপকর্ন লইবেন?".....তার ডানহাতে একটা প্যাকেট, বাম হাতে অনেকগুলো যেগুলো সে ভালো করে ধরতেও পারছেনা। আমি ভ্রু কুঁচকে মাথা নেড়ে না করে দিলাম.........একটা শব্দও উচ্চারণ করলামনা। পরমুহূর্তেই মনে হল এর সাথে কথা বলা উচিত ছিল.....তাহলে অন্তত এর জীবন চলচ্চিত্রে আমার একটা ডায়লগ থাকত...."পপকর্ন লাগবেনা।"
মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে সেই ফুলওয়ালী মেয়েটি বা পপকর্নওয়ালা শিশুটি বা বাংলা একাডেমীর সামনের ফুটপাথে থালা নিয়ে বসে থাকা পা বিহীন শিশুটির জীবনে কি হ্যাপি এন্ডিং থাকবে? নিজেকে অনেক সুখী ভাবছি কারণ সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেসব কঠিন চরিত্রে অভিনয় করার যোগ্য মনে করেননি.......
থালা নিয়ে বসে থাকা পা বিহীন শিশুটিকে একদিন বলেছিলাম..."এই তুইতো দেখি টুপিও পরিস? নামাজ পড়িস কয় ওয়াক্ত?"
সে কিছু না বলে শুধু একটু হাসলো....কারণ সে জানে আমার প্রশ্নের জবাবের চাইতে একটা পয়সা তার জীবনে অনেক অনেক বেশি মূল্যবান।
এই ছেলেটার জীবন চলচ্চিত্রের এন্ডিং খুব জানতে ইচ্ছে করে......মন বলে আনহ্যাপি কিন্তু আমার কাজই হলো আশা করা। তাই আশা করি সবার হবে হ্যাপি এন্ডিং....সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই নির্দয় হতে পারেননা।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



