আমি ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্রই কেঁপে উঠেছিল দ্যুলোক-ভূলোক
স্বকীয় সে শিহরণে সমগ্র জগতে পড়েছিল সাড়া
উত্তরমেরু থেকে দক্ষিণমেরু সেই অনিবার্য তরঙ্গ
মুদ্রিত রেখেছে তার অস্তিত্বের অক্ষয় স্বাক্ষর নিপুণ নিষ্ঠায়
বহতা বায়ুর অমলিন মসলিনে থরে থরে সাবলীল
বিবৃত আছে সেই নিভৃত নিনাদের সুচারু সীবন
বিধৃত হয়ে আছে কালের কোরকে উৎকীর্ণ সৌরভে
মহাকাশে প্রকীর্ণ তার প্রফুল প্রসূন বিজুলি লেখায়
মহাসমুদ্রের সমুদয় প্রাণে জলের ভাঁজে ভাঁজে প্রাঞ্জল
অবিকল আঁকা আছে তার অভিব্যক্তির অভিজ্ঞান বৈভব
আমার প্রথম নিঃশ্বাস একদিন তুমুল তুফান হয়ে
বয়ে গেছে বিস্তীর্ণ মহাদেশজুড়ে উত্তাল কলোল তুলে...
অথচ আজ তোমরা কিভাবে এমন অগাধ অজ্ঞতায়
আমাকে অস্বীকার করার বৈহাসিক দুঃসাহস দেখাও!
উড়িয়ে দিতে চাও আমার অব্যয় অভিঘাত অদ্ভুত অবজ্ঞায়
সামান্য প্রজাপতির তুচ্ছ পক্ষবিধুনন বলে?
আমার রঙ ছাড়া নীলিমা হতো না এতোটা নীল
কিম্বা গাছেরা এতোটা সবুজ এতোসব জেনেও
বর্ণিল ভুবনের জঙ্গম জলসায় আমার প্রাতিস্বিক অবদান
অস্বীকার করার স্পর্ধা দেখালে বুঝে নেবো
তোমরা বিবর্ণতার অভিষেক চাও এই চরাচরব্যেপে।
দেখো, আমি না হলে দিগন্তছোঁয়া এই নিসর্গের চেহারা
কস্মিনকালেও কিছুতেই এমন হতো না।
কে না জানে আমার উদ্ভব আমূল বদলে দিয়েছে
মহাবিশ্বের জীবাজৈব ভারসাম্যের চালচিত্র বারংবার?
আমার আবির্ভাব না হলে স্তব্ধ হয়ে পড়তো ধাবমান গতি
থমকে দাঁড়িয়ে যেতো সময়ের সনাতন চাকা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




