২০০৬ সালের নভেম্বরে যখন নিউিয়র্ক শহরে এলাম তখন তীব্র শীত।গাছপালার শাখাগুলো পত্রহীন ন্যাড়া হয়ে আছে।চারদিকে শৈত্যের আবহের মতো কেমন জানি একটি ক্ষয়াটে ও মরাটে দৃশ্যের ছড়াছড়ি।মাঝে মাঝে পেঁজা তুলোর মত কিংবা ঝকঝকে শুভ্র কেশের মতো তুষার ঝরছে।রাস্তায়,ফুটপাতে,কার্ণিশে,ছাদে এবং পত্রহীন শাখায় শাখায় জমে যাচ্ছে বরফ।ঝরে পড়ছে বরফের কুচি।তাপমাত্রা কিছুতেই আট ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠছেনা।পুরনো যারা তারা অনায়াসে এর মধ্যেই বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে হুটহাট।আর অনভ্যস্ত আমি জবুথবু বসে আছি হিট দেয়া ঘরের ভেতর।এই হিটের মধ্যেও মাথায় পরে আছি গরম টুপি,গরম জামা।ওরা হাসছে আমার অবস্থা দেখে।ওরা মানে আমার ভাই কামাল,তার বিদেশিনী বউ স্ট্যাইসী আর আমার ছেলে মেয়ে।এই যখন অবস্থা তখন আমার শ্যালিকা নিলুফার ও ভায়রা সাদিক ভাই বললেন আপনি ফ্লোরিডা চলে আসুন এখানে বাংলাদেশের মতোই আবহাওয়া ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।আমি মনে মনে খুশী হলেও সদ্য এসেছি বলে সঙ্গত কারণেই মৌন হয়ে থাকলাম,কিন্তু তারা আমার এই মৌনতাকে সম্মতির লক্ষণ ধরে নিয়েই অন লাইনে নিউইয়র্ক-ফ্লোরিডা বিমানের টিকিট পাঠিয়ে দিলেন
জেট ব্লু বিমান সংস্থার বিমানটি যখন নিউইয়র্ক ছাড়লো তখন হাড় কাঁপানো শীত।অবশ্য বিমানের ভেতরে সহনীয় তাপমাত্রা উপভোগ করতে করতে প্রায় তিন ঘন্টা বিমান জার্ণি করে যখন ফোর্ট মায়ার্স বিমান বন্দরে এসে নামলাম তখন ফ্লোরিডার চারদিকে ঝকঝকে রোদ।ঠান্ডার নাম গ্ন্ধও নেই।ফোর্ট মার্স ফ্লোরিডার একটি শহর।বিস্তৃত জমি চারদিকে খালি পড়ে আছে তারই মধ্যে ফাঁকা ফাঁকা ঘরবাড়ি,সুপ্রশস্ত ও সুদৃশ্য রাস্তা দুপাশে নানা ধরণের বৃক্ষরাজি চোখ কেড়ে নেয়।সাদিক ভাই ও নিলুফার নানা কথা বলে যাচ্ছিলেন কিন্তু আমার মন এবং চোখ পড়ে রইল এই অসাধারণ ঝকঝকে তকতকে দৃশ্য আর সৌন্দর্যের প্রতি।আর আবহাওয়া ঠিক যেন বাংলাদেশের বসন্তকাল।মুহূর্তে আমার মন ফুরফুরে হয়ে গেল।
পরদিন কাজ থেকে দুজনই ছুটি নিল।তারা বললো এখানে কাছাকাছি দুটো দ্বীপ আছে,আছে অনেকগুলো ছোট বড় সমুদ্র সৈকত,ওগুলো থেকে বেড়িয়ে আসা যায়।আমি তো একপায়ে খাড়া,মনে মনে নতুন জা্যগা দেখার উৎসাহ।অতঃপর বেরিয়ে পড়া গেল।চমৎকার আব হাওয়া,ঝকঝকে রোদে ভেসে যাচ্ছে চারদিক।আবারো দুপাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আমরা এসে পৌঁছলাম সেনিবাল নামের দ্বীপটিতে।মূল শহর ফোর্ট মায়ার্সের সাথে সমুদ্রের উপর দিয়ে সেতু তৈরী করে সংযোজিত করা হয়েছে দ্বীপটিকে।দ্বীপটির উপর গালফ অব মেক্সিকোর পানি আছড়ে পড়ছে নিয়ত।সমুদ্রের পানি অসাধারন নীল।এই নীলের প্রত্যাশা আমার অনেক দিনের।না,আমরা এই নীল কখনো পতেংগা কিংবা কক্সবাজারে দেখতে পাইনা।সৈকত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন,লবণের মতো ঝকঝকে শাদা বালি,বিস্তৃত সৈকতে ও পানির কিয়দংশ জুড়ে নারী-পুরুষেরা হেঁটে যাচ্ছে।কোথাও কোথাও বড়শী হাতে বসে আছে মৎস্য শিকারিরা।নীল পানি ভেদ করে তীব্র বেগে ছুটে যাচ্ছে স্পিড বোট।তাতে বসে আছে বিকিনি ও ব্রা পরিহিতা অসাধারণ এক রমণী আর তার সাথী সোনালী চুলের যুবক।খানিক দূরে হেঁটে আসতেই নজরে পড়লো সৈকতে যেখানে পানি এসে আছড়ে পড়ছে তার কাছাকাছি বালির মধ্যে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে প্রায় নগ্ন এক যুবতী।যার ঊধ্বাংশে কিছুই নেই শুধু নিম্নাংশে এক চিলতে কাপড়ের নামকা ওয়াস্তে প্যান্টি।তার দুটি স্তনের কিয়দংশ ব্যতীত বাকিটুকু সেঁধিয়ে আছে বালির মধ্যে।উন্মুক্ত তার পিঠের বালিগুলো সূর্যের আলোতে চিক চিক করছে।আর তার পাশেই শুয়ে আছে তারই মতো প্রায় বসনহীন তার সাথী যুবকটি।
সৈকতের কাছাকাছি ৬৩০০ একর জায়গা জুড়ে তৈরী করা হয়েছে ন্যাশনাল ওয়াইল্ড লাইফ রেফিউজ বা আশ্রয় কেন্দ্র।যার নামকরণ করা হয়েছে পুলিৎজার পুরষ্কার বিজয়ী কার্টুনিষ্ট ও পরিবেশবাদী জে.নরউড ডার্লিং-এর নামে।এখানে রয়েছে ২৩৮ প্রজাতির পাখি,৫০ ধরণের সরীসৃপ আর ৩২ শ্রেণীর স্তন্যপায়ী প্রাণী।রয়েছে পাখি পরিদর্শন স্পট।বাইক ও হাঁটা পথ,ট্রেইল,চার মাইল দীর্ঘ নৈসর্গিক শোভামন্ডিত ড্রাইভ-যার পুরোটাই সামুদ্রিক ঝোপ,চির হরিৎ গুল্ম,লাল গরাণ,পাম এবং অন্যান্য নানা ধরণের স্থানীয় গাছপালায় বেষ্টিত।দেখতে দেখতে মুগ্ধতা যেন আর শেষ হতে চাইছিলনা।(চলবে)
আলোচিত ব্লগ
পাখি মন

রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।