[ ১৯৭১-এর দুঃসহ দিন গুলোতে আমার কিশোর ব্য়সটি এমন ছিল যে তা কোনো ভাবেই যুদ্ধে যাবার জন্য উপযুক্ত নয়।তবু মাঝে মাঝে যুদ্ধে যাবার জন্য ঐ বয়সেই রুখে উঠতো মন।মা শুনলেই বুকে জড়িয়ে ধরতেন আমাকে।তখন চুপটি করে রেডিও নিয়ে বসে থাকতাম।শুনতাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।বিজয় দিবসের পূর্ব পর্যন্ত এটিই ছিল আমার অবলম্বন।এই নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলাম,ছাপা হয়েছিল বিজয় দিবস সংখ্যা ইত্তেফাকে।পরবর্তীতে এটি সংকলিত হয় আমার কাব্যগ্রন্থ 'নানা রঙের প্যারাশুট-এ।প্রাসঙ্গিক ভেবে কবিতাটি ব্লগে লিখলাম।]
গোপন বেতার ছাড়া আর কোনো স্বাধীনতা নেই।পা
বাড়ানোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা,যত্রতত্র লাশ-শুধু চার
দেয়ালের ভেতরে রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,নেরুদার গমগমে
কবিতার স্বর।
টলষ্টয়-'ওয়ার এন্ড পিস' অসময়ে একমাত্র প্রিয় স্বজন।
'অল কোয়ায়েট অন দ্য অয়েস্টার্ণ ফ্রন্ট'-বারবার পড়েও
সশ্রদ্ধ-অশ্রুরোধহীন। আকাশে বিচরণশীল শকুন
আর চিল-ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
তাজা বুলেটের অপচয় রোধে অসংখ্য মানুষকে ওরা
বেয়নেট বিদ্ধ করেছে। স্বজনের লাশে অনায়াসে হাঁটছে
বিষ পিঁপড়ে। গোর খোদকেরাও ত্রাসের ভেতর। ওরা
পড়ে আছে উপুড় হয়ে-কে যাবে জানাযায়?
বারুদে পুড়ে যাচ্ছে শস্যক্ষেত। পানি আর সেচের
বন্দোবস্ত না থাকলেও রক্তের প্রস্রবণ বন্ধ নেই। পুকুরের
তাজা মাছ আর কালো গাইয়ের দুধ মাখা বাংলাদেশ
ক্রমশ পান্তা ভাতের স্বপ্ন দেখতেও ব্যর্থ হচ্ছে। ধুলো উড়ছে
রাস্তায়,শরণার্থী মানুষের পদতলে দলিত হচ্ছে মুথোঘাস।
অথচ এখনো পৃথিবীর অধিকাংশে সমুদ্রবায়ু ও হাওরের
হাওয়া বইছে। রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে চুমো খাচ্ছে
প্রেমিক-দম্পতি। গ্লেসিয়ার ফাটিয়ে ছুটে আসা বরফের
চাঁইয়ের ওপর হাঁটছে শাদা-কালো পালক- পেঙ্গুইন।
কোথাও না কোথাও চাষ হচ্ছে গোলাপ। পাপড়ির
রঙের চেয়েও সৌরভে আমোদিত হচ্ছে খোলা হাওয়া
আর লোকালয়। আর কোথাও না কোথাও দানা বেঁধে
উঠছে,ক্রোধ। দানা বেঁধে উঠছে প্রতিবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



