মানবতাবিরাধী অপরাধের তদন্তে গঠিত তদন্ত সংস্থার প্রধান আবদুল মতিন বলেছেন, আমরা ৩৯ বছরের পুরনো একটি ঘটনার তদন্ত করছি। চলাচলের জন্য গাড়িসহ অবকাঠামোগত কোনো সুবিধাই এখনও পাইনি। দু’একটি সংস্থা তাদের সংগ্রহ করা কিছু কাগজপত্র ও বইপুস্তক আমাদেরকে দিয়েছে। এগুলো দিয়েতো আর তদন্ত শেষ করা যাবে না। দেশের যে কোনো সাধারণ একটি ঘটনা তদন্তেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে যায়। আমরা তো সবচেয়ে কঠিন ও জটিল একটি ঘটনার তদন্ত করছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হলে আমাদেরও দু’এক বছর সময় লাগতেই পারে। গতকাল পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আবদুল মতিন বলেন, কিছু পত্রিকায় আমাদের নিয়ে লেখা হচ্ছে, আমরা নাকি তদন্ত ও নথিপত্রের জন্য জাতীয় আর্কাইভসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছি এবং তদন্ত কাজ অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছি। এ তথ্য সঠিক নয়। গাড়ির অভাবে আমরা এখনও মুভই করতে পারছি না। তদন্ত এগুবে কিভাবে। সংবাদপত্রের অতিরঞ্জিত এসব সংবাদ তদন্ত সংস্থা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা এমনভাবে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিতে চাই যাতে কেউ আমাদের নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করতে না পারে। আমরা জানি, আমাদের কাজের ওপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার দৃষ্টি রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে কোনো সংগঠনই অভিযোগ ও তথ্য নিয়ে আসতে পারে। আমরা এগুলো গ্রহণ করব। তবে এগুলোর ভিত্তিতেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আমরা আমাদের মতো করে তদন্ত করব। তদন্ত শেষ হলেই আমরা আদালতের কাছে রিপোর্ট পেশ করব।
এদিকে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবিদার বিভিন্ন সংগঠন তদন্ত সংস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তদন্ত সংস্থাও তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বক্তব্য দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আবদুল মতিন বলেন, আমাদের কাজ আমরা নিরপেক্ষভাবে চালিয়ে যাব। অনেকেই আমাদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে হয়তো; কিন্তু আমরা প্রভাবিত হচ্ছি কিনা, সেটাই হলো বড় কথা। বর্তমানে তদন্ত সংস্থার হাতে যে পরিমাণ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে তা দিয়ে কাউকে অভিযুক্ত করা যাবে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযুক্ত করলেই তো আর হলো না। আদালতে তো সেটা প্রমাণও করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




