জিয়া কর্তৃক তাহের হত্যাকান্ড নিয়া পি মুন্সী’র ‘অবজেবক্টিভ’ ত্যানা প্যাচাপ্যাচি প্রসঙ্গে একখান রি-অ্যাকশান পোষ্ট!
২৫ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:২০
জিয়া কর্তৃক তাহের হত্যা নিয়ে রাগইমনের তোলা আইনি প্রশ্নের ইটের বিরুদ্ধে দাসত্বের ছোড়া পাটকেল এবং এই দুইয়ের মধ্যকার বিতর্ক নিরসনের নামে পি মুন্সী সাহেব তার ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ক: মুজিব-জিয়া অফেন্ডিং বিতর্কে (Click This Link) আইন ও ক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক ত্যানা পেচাপেচি করলেন। তা শখ বেশি উঠলে কেউ ত্যানা প্যাচাইতেই পারেন। কিন্ত মুশকিল হলো ত্যানা দিয়ে নিজস্ব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্যাচাপ্যাচি না করে তিনি নিয়ে পড়লেন বিপ্লবী কর্ণেল তাহের আর সামরিক শাসক জিয়ার ক্ষমতার লড়াইয়ের ‘অবজেকটিভ’ বিশ্লেষণ করা নিয়ে। সেই অবজেকটিভ বিশ্লেষণের বহর দেইখা আমারও একটু খায়েশ হইল ত্যানা প্যাচা-প্যাচি করতে। তাই অধমের এই রিঅ্যাকশান পোষ্ট।
(১) মুন্সী মশাইয়ের মতে “জনগণের ক্ষমতার জন্ম” দেয়ার জন্য “আবু তাহেরে সিপাই বিপ্লব” একটা প্রচেষ্টা, তবে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার কারণে অর্থাত প্রথম পরীক্ষায় ফেল করার কারণে দ্বিতীয়টা, আপনার ভাষায় ”আসল পরীক্ষা। জনগণের ক্ষমতা হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করা”র পরীক্ষা পর্যন্ত যেতেই পারেন নি তাহের। ফলে সেই আসল পরীক্ষায় যাওয়ার ”আগেই জিয়ার কাছে হেরে গেছে, নিজের ক্ষমতা রক্ষা, মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে।”
এখন প্রশ্ন হলো এই ঘটনাটায় তাহের এবং জিয়ার ভূমিকার বিচার কি হবে? তাহেরের ক্ষমতার লড়াই যদি জনগণের ক্ষমতার জন্ম দেয়ার ব্যার্থ প্রচেষ্টা হয়, তাহলে জিয়ার সফল প্রচেষ্টাটি কিসের জন্য? সেটা কি কোন ক্ষমতার জন্ম দিয়েছে নাকি পুরোনো ক্ষমতা সম্পর্ককে জারি রেখেছে? পুরোনো সম্পর্ক জারি রাখার জন্য যদি জিয়ার প্রচেষ্টা সফল হয়, তাহলে সেখানে জিয়ার ভূমিকাটা কি? তার সেই প্রচেষ্টা সফল করতে গিয়ে তাহের আর তার সংগী সাথীদের উপর সেনা কোর্ট মার্শালের আইনের যে প্রয়োগ হয়েছে সেখানে জিয়ার ভূমিকা কি শুধুই হাত পেতে রাখা যে হাত ধরে সেনা কোর্ট মার্শালের আইন তাহেরদের উপর প্রয়োগ হয়েছে?
(২) পি মুন্সী তার ‘অবজেবটিক’ মূল্যায়নের ১ম পয়েন্টে বলেছেন: “সৈনিক সংস্হা থাকার কারণেই জিয়ার জানে বেঁচে যাওয়া ও পরবর্তীতে ক্ষমতায় উত্থান।” আবার ৮ নং পয়েন্টে লিখেছেন: “জিয়াকে সৈনিক বিপ্লবের বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করেন তাহের। এটা নিজের হতাশা ব্যর্থতার কথা। জিয়া তাহেরের সাথে মিলে সৈনিক সংস্হা গড়তে যান নাই। ফলে সৈনিক বিপ্লব কবুলের দায় তাঁর উপর চড়ানো, বিশ্বাসঘাতক বলার সুযোগ আমরা দেখি না।”
তাহের জিয়াকে বিশ্বাসঘাতক কেন মনে করতো?তাহের কি জানতো না যে জিয়া তাহেরের বা তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার আদর্শে বিশ্বাস করে না? তাহেরের আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য নয়, বরং যে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা জিয়াকে জানে বাচায়, ক্ষমতায় আরোহনের পর, নিজে উদ্যোগী হয়ে (মোটেই হাত পেতে রাখার মত প্যাসিভ বা নিস্ক্রিয় নয়) শাসক শ্রেণীর ক্ষমতা সুসংহত করতে, সেই ক্ষমতার প্রতিভু হিসেবে, সেই সৈনিক সংস্থার মূল নায়ক এবং অন্যান্য সদস্যদের ফাসীর দড়িতে ঝুলানোর জন্য সেনা আইন প্রয়োগ করার জন্যই তাহের এবং তাহেরের সহযোগীরা জিয়াকে বিশ্বাসঘাতক বলেছে। এর মধ্যে দিয়ে তাহরের পরিকল্পনা ও হিসেব নিকেশের দুর্বলতা প্রকাশ হলেও তাতে জিয়ার ঘৃণ্য ভূমিকার দুর্গন্ধ চাপা পড়ে না, সিপাহী বিপ্লব কে “নিষ্ঠুর” ,“নিরঙ্কৃশ” ক্ষমতা নিয়ে তাহের-জিয়ার লড়াই এর আকারে হাজির করতে গিয়ে, যে দুর্গন্ধ চাপা দেয়ার ততোধিক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা আপনার লেখার মধ্য দিযে প্রকাশ পেয়েছে। নিশ্চিত ভাবেই “তাহের জিয়ার জান বাঁচিয়ে বলে জিয়াকে তাহেরের রাজনীতির সাথে একমত হতে হবে” এরকম কোন কথা নেই এবং সেরকম কোন দাবীও কেউ করছে না। কিন্ত জিয়ার রাজনীতির সাথে একমত না হয়েও যে তাহের জিয়ার জান বাচিয়েছে, সেই তাহেরের জান বাচানো তো দুরের কথা, ক্ষমতায় আরোহনের পর পর সেই ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যাবহারের মাধ্যমে অচিরেই জিয়ার জীবন বাচানো ব্যাক্তিটিকে ফাসীতে ঝুলিয়ে জিয়া পরবর্তীতে নিষ্ঠুর ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ধরে রাখতে আর যে সব ভয়াবহ হত্যাকান্ড ঘটাবে তার সঠিক পূর্বাভাসই দিয়েছে। তবে আপনার কাছে ব্যাক্তি জিয়ার ভূমিকা কিছুই নয়, কারণ “ক্ষমতা নির্মম, নিষ্ঠুর। ক্ষমতার এসব অনুষঙ্গ কে এড়াতে পারা কঠিন।” আহা! আমার তো আপনার এই লেখা পড়ে জিয়ার জন্য মায়াই হচ্ছে। বেচারা! ক্ষমতায় থাকার জন্য অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও তাকে কত নিষ্ঠুরতাই না করতে হলো!
সন্দেহ নেই ব্যাক্তির ভূমিকার উপর বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো ও আর্থ সামাজিক ব্যাবস্থার ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ্। কিন্ত একই ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে কোন ব্যাক্তি/গোষ্ঠী ক্ষমতা কাঠামোর ধারক বাহক হয়ে উঠে সে ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে অন্যদিকে অন্যকোন ব্যাক্তি/গোষ্ঠী সেই ক্ষমতা কাঠামো পাল্টানোর সংগ্রামের ধারক বাহক হয়ে উঠে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে সেই ক্ষমতা কাঠামো ধরে রাখা বনাম পাল্টানোর লড়াই সংগ্রামের তাতপর্য অপরিসীম, জনগণের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে দেখলে, পাল্টানোর সংগ্রামের পক্ষের শক্তি এবং বিপক্ষের শক্তির ভূমিকাকে “অবজেকটিভলি” দেখার কোন সুযোগ নেই। জনগণ পাল্টানোর পক্ষের শক্তিকে যদি ভালোবাসে তবে বিপক্ষের শক্তিকে ঘৃণা করতে শিখে- এর মধ্যে অবজেকটিবিটি মারানোর কোন সুযোগ কোথায়?
(৩)এই প্রেক্ষাপটটিকে মাথায় রেখে এবার দেখা যাক, রাগইমনের আইনমূলক চোখে তোলা প্রশ্নটি পিমুন্সীর দাবি মত আসলেই অবান্তর কি-না কিংবা পিমুন্সী কথিত সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে নাকি বিশেষ ভাবে তাহেরদের বিচারের জন্য জিয়ার নিজের ক্ষমতায় জরি করা সামরিক ফরামানে তাহেরদের বিচার হয়েছে?
প্রথমত: মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজস্ব এবং গোষ্ঠীগত ইচ্ছা ও স্বেচ্ছ্বাচারিতা চরিতার্থ করার জন্য ৭ই নভেম্বরের পর থেকে অনেকগুলো সামরিকা ফরমান ও আদেশ জারি করেছেন। এমনি একটি অধ্যাদেশ ছিল ৸Special Martial Law Tribunal Regulation 1976৹৷ রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি সায়েম ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের ঠিক ১০মাস পর ১৯৭৬-এর ১৪ জুন এ অধ্য্যাদেশটি জারি করেন। এই অধ্যাদেশ জারির ধান্দা একটিই- ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত ৭ নভেম্বরের সিপাহি বিপ্লবের নেতা কর্ণেল তাহের ও জাসদ নেতৃবৃন্দের বিচার করা। জেনারেল জিয়ার ইচ্ছা ও নির্দেশেই সায়েম এ অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন। কারণ সায়েম রাষ্ট্রপতি হলেও দেশের সর্বময় ক্ষমতা তখন প্রকৃত অর্থে সেনাপ্রধান জিয়ার হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়াও তিনি তখন অন্যতম ডিসিএমএল(উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক) ও ছিলেন।
ঐ সামরিক আইনের আর্টিক্যাল ৩(D) তে বলা হয়েছিল:
ট্রাইব্যুনাল এ বিধি বলবত হবার আগে সংঘটিত হোক বা পর সংঘটিত হোক
ক) দন্ডবিধির(১৮৬০ সালের ৪৫নং) ষষ্ঠ ও সপ্তম অনুচ্ছেদের অধীনে শাস্তিযোগ্য যে কোন অপরাধ;
খ) ১৯৫২ সালের সেনাবাহিনী(১৯৫২ সালের ৩৯ নং) আইন, ১৯৫৩ সালের বিমান বাহিনী(১৯৫৩ সালের ৬ নং) আইন অথবা ১৯৬১ সালের নৌবাহিনী(১৯৬১ সালের ৩৫ নং) অধ্যাদেশ কিংবা এসব আইন ও অধ্যাদেশের অধীনে জারিকৃত যে কোন বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ;
গ) ১৯৭৫ সালের সামরিক আইন বিধির ১৩ বা ১৭ নং বিধির(১৯৭৫ সালের ১নং বিধিসমূহ) অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ; কিংবা
ঘ) এ ধরনের কোন অপরাধ সংঘটন বা তাতে সহায়তা দানের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র অথবা অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি হিসেবে শাস্তিযোগ্য যে কোন অপরাধের বিচার করতে পারবেন।
আটিক্যাল ৪(জ) এ ট্রাইবুনালের ক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ট্রাইবুনালের কোন সিদ্ধান্ত বা রায়ের ব্যাপারে কোন কর্তৃপক্ষের কাছেই আপিল করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত: ৫সদস্য বিশিষ্ট এ ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যানসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী থেকে আগত যাদের আইনগত অভিজ্ঞতা বা চর্চা প্রশ্নের উর্দ্ধে ছিল না। তদুপরি এরা সবাই ছিলেন সামরিক প্রশাসনের অংশ। প্রচলিত রীতিতে সাধারণত মার্শাল ল কোর্টে বিচার বিভাগ থেকে বিচারক নেয়া হয়। এটি হলো বিচারের নূন্যতম নিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন রাখার প্রাথমিক শর্তের একটি। কিন্তু আমাদের আলোচ্য ট্রাইবুনালে প্রচলিত ঐ রীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।
তৃতীয়ত: এ ট্রাইব্যুনালকে তাবত দুনিয়ার আইন শাস্ত্রের ইতিহাসে একটি বিরল আলোচ্য বিষয় হিসেবেই চিহ্রিত করা যাবে। কারণ ট্রাইবুনালকে দেয়া ক্ষমতার পরিধি। মোট ৩ ধরণের অপরাধের শাস্তি বিধানের এখতিয়ার দেয়া হয়েছিল একই ট্রাইবুনালকে- ক) সাধারণ আইনের অপরাধ খ) সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধ গ) সামরিক আইন বিরুদ্ধ অপরাধ। সম্ভবত বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক ব্যাক্তিদের বিচারকার্য একই সঙ্গে সম্পন্ন করার লক্ষেই ততকালীন কর্তৃপক্ষ এই কাজটা করেছিল।
চতুর্থত: ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয় কর্নেল ইউসুফ হায়দার কে যে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে থেকেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দান করেনি। শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নয়, মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিল। অথচ যাদের বিচারের জন্য তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল তারা সবাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এ বিবেচনা থেকেও বিষয়টি যথেষ্ট আপত্তিকর।
পঞ্চমত: সামরিক অধ্যাদেশেই বলে দেয়া হয়েছে ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না, বিচার কার্য চলবে রুদ্ধদার কক্ষে এবং বিচার প্রকৃয়া সম্পর্কে তথ্যপ্রকাশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ থেকে শুরু থেকেই বিচার নিয়ে জনমনে যে সংশয় সৃষ্টি হয়, পরবর্তী মাত্র ৩০দিনে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়।
ষষ্ঠত: বিচার শুরুর দিন অভিযোগগুলো উত্থাপিত হবার পর ট্রাইবুনাল ৮ দিনের জন্য মুলতবি হয়। এই আটদিন ই কেবল আসামি পক্ষের উকিলদের মামলার কাগজপত্র ও আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সময় দেয়া হয়। অথচ সরকার পক্ষ মামলা সাজাতে সময় নিয়েছিল ছয় মাস। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য এত কম সময় প্রদান ইতিহাসে বিরল। অভিযুক্তরা আইনজীবিদের সাথে কথা বলতে পারতেন কেবল কোর্টে থাকার সময়টুকুতেই!
সপ্তমত: সাধারণত সাক্ষীদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য নিরপেক্ষ প্রত্যক্ষদর্শী থাকে। এ মামলায় এ বিধানটিও অগ্রাহ্য হয়। ৩ জুলাই আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রাজসাক্ষী ফখরুল আলমকে বিস্তারিত জেরা করার অনুমতি চাইলে সেটা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
অষ্টমত: যারা এ মামলা সাজিয়েছিল তাদের কথা মতোই সাক্ষীরা মামলা চলাকালে সাক্ষ্য দিচ্ছিল। আর এই বানানো সাক্ষ্য দিতে গিযে মিথ্যাচার আর ভুলের ছড়াছড়ি ছিলো। যেমন রাজসাক্ষী ফখরুল এক পর্যায়ে বলেন, ড. আখলাকুর রহমানের মোহাম্মদপুরুস্থ বাসায় সে কর্ণেল তাহের কে দেখেছে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল ভোরার সাথে টেলিফোনে কথা বলতে। অথচ ড. আখলাকের বাসায় কোন ফোনই ছিল না।
নবমত: তাহের ও জাসদের আহবানে এবং নেতৃত্বে সিপাহীরা খালেদ মোশাররফ ও তার সহযোগী শক্তিকে উতখাত করেছে। সুতরাং একে তো বৈধ সরকার উতখাতের প্রচেস্টা হিসেবেই গণ্য করা যায় না। আবার ৭ ই নভেম্বরের বিপ্লবী প্রচেষ্টা যদি অবৈধ হয়েই থাকে তাহলে জিয়া সরকার সে দিনকে বিপ্লব দিবস হিসেবে ছুটি ঘোষণা করেছিল কেন? আবার দিনটি যদি জাতীয় গৌরবেরই হয়ে থাকে তাহলে কর্ণেল তাহের ও সহযোগীদের তো পরস্কৃতই হবার কথা।
এর আগে ৫ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ ও শাফায়াত জামিললা যাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসালেন- সেই বিচারপতি সায়েম সিপাহি অভ্যুত্থানে খালেদ মোশারফ উতখাত হবার পরও বহালই রইলেন এবং তা জিয়া ও তাহেরর সম্মতিতেই। সুতরাং ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে কোন সরকার উতখাত হয়েছে এমনটি বলা যায় না।
অন্যাদিকে বৈধসরকার উতখাতের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তাও যথার্থ ছিল না। বাংলাদেশ সেনাবাহীনিতে শৃঙ্খলা ভংগের প্রথম ঘটনা হলো ১৫ আগষ্টের ঘটনা। তার ফলে ক্ষমতায় আসা মোশতাক ও তার মেজরাই জিয়াকে এক পর্যায়ে সেনাপ্রধান নিয়োগ করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অফিসারদের শায়েস্তা করার কোন চেষ্টাই নতুন সেনাপ্রধান জিয়া করে নি। ১৫ আগষ্ট থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নৈরাজ্য ও শৃংখলা ভংগের কোন ঘটনার সংগে তাহের ও তার সহযোগীরা কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না বরং সেনাপ্রধান হিসেবে ঐসবের দায় প্রকারান্তরে জিয়ার উপরই বর্তায়।
দশমত: সরকারী পিপি এটিএম আফজাল আসামিদের আইনজীবিদের জানান যে, প্রসিকিউটর হিসেবে তিনি কখনও মৃত্যূদন্ড দাবী করেন নি। তার মতে এরকম সিদ্ধান্ত ছিল সর্ম্পূর্ণ অবাস্তব। কারণ তাহের কে যে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়, তার জন্য মৃত্যদন্ড দেয়া সম্ভব ছিল না- দেশে সে ধরণের কোন আইন ই ছিল না। অবশ্য ফাসির আদেশ কার্যকর করার দশদিন পর আইন মন্ত্রণালয় এই আইনগত অসংগতি দূর করে। ৩১ জুলাই ১৯৭৬ এ আইন মন্ত্রণালয় সামরিক আইনের ২০তম সংশোধন জারি করে যেখানে বলা হয় “বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কোন ধরণের মতাদর্শ প্রচারের অপরাধের শাস্তি মৃত্যূদন্ড।“ কথা আছে, ততকালীন আইন সচিব তাহেরের মৃত্যদন্ড সংক্রান্ত রায়ের ব্যাপারে আইনি অসংগতি জিয়ার কাছে তুলে ধরলে জিয়া সেই ফাইলটি ছুড়ে ফেলে দেন। তিনি নির্দেশ দেন অবিলম্বে আইন মন্ত্রণালয় থেকে অবিলম্বে এ রায় অনুমোদন দেয়ার।
আমার জানার বড় খায়েশ, এরপরও কি, আইনি দিক নিয়া তাহেরের বিচারের বৈধতা নিয়া প্রশ্ন তুললে মুন্সী মশাই সে প্রশ্নতুলাটাকে অবান্তর বইলা উড়ায়া দিবেন আর অন্যদিকে অবজেকটিভিটির দোহাই দিয়া তাহের হত্যার পেছনে জিয়ার ভূমিকাকে passive হিসেবে হাজির করার জন্য বলবেন:”সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে”!!!
তথ্যসুত্র: http://www.col-taher.com/gopon.html
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সাহসী বলেছেন:
আপনে আবার রিঅ্যাকশনারি ত্যানা প্যাঁচাইলেন ! লেখক বলেছেন: প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করা আর প্রতিক্রিয়াশীলতা প্রকাশ করা দুইটা এক নয় বলেই জানি ![]()
লেখক বলেছেন: না রে ভাই, আমি মাদারি-ই!
আপনার "ত্যানা প্যাচাপ্যাচি" ইত্যাদি শব্দ ও শিরোনামে এর ব্যবহার অনেক আক্রমণাত্মক। আমি নিশ্চিত এই শব্দ ব্যবহার না করেও আপনি একই কথা লিখতে পারতেন।
সেকারণে, সকালে আপনার মন্তব্য দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া, আগ্রহ আর এখন রাত ১২টায় আবার দেখার পর তা একেবারেই কমে গেছে টের পাই।
তবু আমার পোষ্টে এসে কষ্ট করে তিনটা মন্তব্য করেছেন তাই আমার জবাব অবশ্যই লিখব, কেবল একটু সময় দিবেন এই আশা করছি, যদিও সবটা ভরসা পাচ্ছি না। কারণ আপনার আক্রমণাত্মক মন্তব্যে আপনাকে অধৈর্য্য-অস্হির মনে হচ্ছে; ধরেই নিয়েছেন আমার কোন জবাব নাই, জবাব দিব না অথবা থাকলেও তা শোনার দরকার নাই, সে জবাব পড়লে সেখান থেকে পাঠকের সাব্সটেনসিভ কিছু পাবার থাকতে পারবে না ইত্যাদি।
এমনকি এমনও তো হতে পারে যে আপনার অনেক কথাই আমার কথা - এমন হয় কী না তা দেখার অপেক্ষা করতেও আপনি রাজি না। সর্বোপরি পুরা বিষয়টাকে একটা পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশে সমাপ্তি টানার কোন দায় যেন আপনি অনুভব করছেন না - এটাই প্রকাশ করছেন।
এসবের প্রয়োজন কী সেটা আমার কাছে পরিস্কার না।
এটা আমাদের কাউকেই এই বিতর্কে সাহায্য করবে না সেটা পরিস্কার।
আশা করি আপনি আমার কথাগুলো বিবেচনা করবেন।
লেখক বলেছেন: আমি কিভাবে কি লিখতে পারতাম সে বিষয়ে আপনার এত বেশী নিশ্চিত হওয়ার দরকার নাই। আমি যা প্রকাশ করতে চাই তার জন্য আরো কড়া কোন শব্দ পাইলে তাও ব্যবহার করতে পারলে আরো বেশি আরাম পাইতাম!
আমি আশা করব আমার মন্তব্যে/লেখায় যা আছে তার মাঝেই আপনার আলোচনা সীমিত রাখবেন। আমি কি ধরে নিয়েছি, আমি অধৈর্য্য আর অস্থির কিনা তার অবান্তর সাইকো এনালাইসিস করে পন্ডিতি না মারাইলেও তো আমার মন্তব্য সম্পর্কে আপনার জবাব পুরোপুরিই দেয়া সম্ভব।
অবশ্য আমি নিশ্চিত না আপনার ধরে নেয়ার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কি-না! তারপরও আশা রাখছি অন্তর্যামির ভাব-ভঙ্গি আর কথার প্যাচ ঘোচ বাদ দিয়ে সোজাসুজি কথা বলবেন। প্যাচ মারা কথা বার্তা দেখলে আমার মেজাজ ঠিক থাকে না। আপনি যদি সোজসুজি বলতেন আপনি তাহের ও জিয়ার ক্ষমতার লড়াই এ জিয়ার পক্ষে আপনার অবস্থান তহলে হয়তো আমার এই আক্রমণাত্মক ভংগি নিয়ে লেখাই হতো না। কিন্তু যেহেতু ইনিয়ে বিনিয়ে অবজেক্টিভ ভাব নিয়ে প্রকৃত পক্ষে সামরিক শাসক জিয়াকে ডিফেন্ড করেছেন, তাই এই ভঙ্গিতে এই লেখা লেখার সিদ্ধান্ত আমার সচেতন ভাবেই নেয়া। এবং এর ভালো মন্দ বিষয়েও আমার ধারণা পরিষ্কার। সুতরাং এই ভংগি নিয়ে জ্ঞান দেবার কোন চেষ্টা করার দরকার নেই।
আপনি দয়া করা সোজা কথা সোজাসুজি বললেই আমার আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ থাকবে না! কারণ রাজনৈতিক আদর্শ একেকজনের একেক রকম হইতেই পারে তার জন্য আমার ক্ষ্যাপার তো কিছু নাই কিন্তু যদি কেউ অবজেক্টিভিটির ভান ধরে তাইলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়- কারণ এই ভান পাঠকের জন্য অনেক বেশী বিভ্রান্তিকর!
াহো বলেছেন:
৭ নভেম্বর : কিছু কথা হাসানুল হক ইনু , লেখক : জাসদ সভাপতিজিয়া-জাসদের সমঝোতার প্রেক্ষাপট লরেন্স লিফশুলজ
Click This Link
লেখক বলেছেন: লিংকটা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনার নিজের মতামত প্রকাশ করলে আরো ভালো হোত।
আপনার দেয়া লিংক এ লরেঞ্জ লিফসুলজ এর লেখার এই জায়গাটা প্রাসংগিক মনে করে এখানে তুলে দিলাম:
"৭ নভেম্বরের ঘটনার এমন অনেক দিক আছে যেগুলোর আরো অনুসন্ধান ও আলোচনা প্রয়োজন। যেমন, সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো বিদ্রোহ যখন দানা বাঁধছে আর ছড়িয়ে পড়ছে ঠিক সেই মুহহৃতরাউ ৭ নভেম্বর জিয়া বন্দি অবস্থান ছিলেন এবং নিজের জীবন রক্ষার্থে তিনি মরিয়া হয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মারফত তাহেরের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যে, তাহের যেন তাকে বের করে নিয়ে আসেন। তারপর তাহেরকে জড়িয়ে ধরে একদল সৈন্যের সামনে জিয়া বলেছিলেন, তাহের তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছে। কিন্তু এই কৃতজ্ঞতা ছিল খুবই স্বল্পস্থায়ী।
এই দুই ব্যক্তির মুখোমুখি হওয়া এবং পরবর্তীকালে এদেরই একজনের বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা আসলে আরো গভীরে বিরোধপূর্ণ শক্তিগুলোর সংঘাতের একটা উপরি-আভাসমাত্র। এখানে খুব জরুরি প্রশ্নটি হলো, এই দু'পক্ষ কেন একটি কৌশলগত সমঝোতায় এলো! সঙ্ষ্ঠতই, প্রত্যেক পক্ষই ভেবেছে, তারা তাদের স্বার্থে, সাময়িকভাবে হলেও, অন্য পক্ষকে ব্যবহার করতে পারবে। জাসদ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যে মূল্যায়ন করেছিল তা বিপর্যয়কর রকম ভুল ছিল। জিয়ার সঙ্গে নিয়মিত লিয়াজোঁ রক্ষার দায়িতে্ব ছিলেন জাসদের এমন এক নেতার মতে: আমরা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছিলাম। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সহযোদ্ধা হওয়ায় এই যোগাযোগ আরো জোরদার হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধের ডামাডোলে প্রতিরোধ তৈরির ক্ষেত্র আমাদের একত্র করেছিল। যুদ্ধের আকস্টি্মকতায় ভবিষ্যতের মতপার্থক্যগুলো চাপা পড়ে গিয়েছিল। জিয়া সম্পর্কে আমাদের হিসাব-নিকাশে যদি ভুল হয়েই থাকে, তাহলে সেটা এজন্য নয় যে, না বুঝে-শুনেই হয়েছে। তার সম্পর্কে আমাদের মূল্যায়নের কিছু ভিত্তি ছিল। একটা দৃষ্ঠান্ত দেই_ ১৯৭৪ সালের এক সন্দ্যায় আমি যখন তার ক্যান্টনমেনাউটর বাসায় বসে কথা বলছিলাম, জিয়া আমাকে ১৯৬০-এর দশকে তার এক ভ্রমণের গল্প শোনালেন। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের এক সিনিয়র সামরিক অফিসারকে নিয়ে নৌকা ভ্রমণে বেরিয়েছেন। এক সন্দ্যায় তারা যখন অর্ধাহারে ক্লিষ্ঠ, শত&চ্ছিম্ন বস্ত্র পরিহিত স্থানীয় লোকদের একটি দল তাদের দিকে এগিয়ে এলো। আমাদের দেশে এ তো আর নতুন কোনো দৃশ নয়। এসব দৃশ্য কে না দেখেছে? তবে পশ্চিম পাকিস্তানের বেশিরভাগ এলাকায় জীবন এতটা দুর্দশাগ্রস্ত ছিল না। এই দরিদ্র লোকদের দুর্বিসহ জীবনে পরির্বতন আনতে কী করা যায়_ এ নিয়ে জিয়া আর তার ঊর্ধত্বন অফিসারের মধ্যে আলোচনা হলো। জিয়া সাবধানে সে সময়ের বহুচচর্িত জাতীয়তাবাদের কথা তুললেন। বললেন, জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের খাতিরে জাতীয় সম্পদে পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য হিস্যা থাকা দরকার। তারপর জিয়া আমাকে বললেন, তবু দেখুন, ওই সব অনাহারি লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে আমার এও মনে হলো, এটা কেবল জাতীয়তাবাদেরই প্রশ্ন নয়। আমি বুঝতে পারলাম আমাদের এই পরিস্থিতিতে একমাত্র সমাজতন্ত্রই এসব মানুষের দুর্দশার পরির্বতন ঘটাতে পারে।"
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন:
হেই বেডা, "মুন্সী মশাইয়ের মতে..." এইডা কি ধরনের সম্বোধন? তর্ক করনের খায়েশ হইছে ভাল কথা, তাইবইলা অন্যরে তাচ্ছিল্য দেখাইয়া তর্ক পাড়তে হবে ক্যা? কবে কোন নিকে তুমি দাবড়ানি খায়ছো, যে আজ অন্য নিকে মেয়েদের মতন ঝগড়া করতে আইচো। লেখা পড়লাম, তুমি যে রাগইমন সন্দেহ নাই।
লেখক বলেছেন: ভাল! ভাল! একজন বানাইল খারেজি আর আরেকজন বানাইল রাগইমন! সামনে আর কোন মেগা মেগা ব্লগার দের উপর সন্দেহ গিয়া পড়ব সেইটা দেখার অপেক্ষায় আছি !
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন:
রাগইমন, কে কি কইলো এইসকল কয়ে তো আর নিজের পরিচয় ঢাকতে পারবানা। প্রমান আছে। তাছাড়া অন্য নিকে লেখা তো অপরাধ না। চালায়ে যাও। দাবড়ানি খাইয়া এতোদিন ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসলা,এতো খাটা খাটনি কইরা মাল মসলা যোগাড় করলা,তো নিজের নিকে পোস্টটা দিলে সমস্যা কি ছিল? যাহোক ,তোমার নারী সুলভ ক্ষোভ আর অস্থিরতা তোমার এই পোস্ট আর কমেন্টেও প্রকাশ পেয়েছে।
লেখক বলেছেন: আহা! আবারও রাগ ইমন!
আরো নতুন নতুন নাম আনলে মজা আরো জমত!
"নারী সুলভ ক্ষোভ আর অস্থিরতা"!!
ব্যাপক মজা পাইলাম!!!
মাদারি বলেছেন:
পি মুন্সী তার পোষ্টে আমার মন্তব্যের জবাবে মূলত দুটি মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন। সেগুলো হলো:১নং মন্তব্যের জবাব:
আপনার মন্তব্যের একটা অংশ এরকম - "তাহেরের ক্ষমতার লড়াই যদি জনগণের ক্ষমতার জন্ম দেয়ার ব্যার্থ প্রচেষ্টা হয়, তাহলে জিয়ার সফল প্রচেষ্টাটি কিসের জন্য? সেটা কি কোন ক্ষমতার জন্ম দিয়েছে নাকি পুরোনো ক্ষমতা সম্পর্ককে জারি রেখেছে?"
আমার "জনগণের ক্ষমতার জন্ম" দিতে তাহেরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ বা অসফল হয়েছে বলার মানেই "জনগণের ক্ষমতার জন্ম" দিতে জিয়া সফল হয়েছেন এমন মানে হয় না; এমন মানে বের করার সুযোগ নাই। এমন কোন দাবীও আমি করিনি।
জিয়ার হাত ধরে
"সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে- আমার একথার মানে একটাই - ঐ সেনা বিদ্রোহ ও ক্ষমতা দখলের মাঠের লড়াইয়ে যে জয়লাভ করবে সে অন্যের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের আইন প্রয়োগের সুযোগ পাবে - এটাই সেই সোজাসাপ্টা কথা।
লক্ষ্য করতে বলব এটা কোন নৈতিক/অনৈতিকতার মামলা নয়। আমিও কোন নৈতিক বিবেচনা আরোপ করে ওর বিচার করছি না।
ক্ষমতা দখল করতে পারার বাস্তব মাঠের লড়াইয়ে কেউ জয়যুক্ত হতে পারবে কী না সেটা সে নৈতিক বা ন্যায্য হলেই প্রতিপক্ষ তাঁকে ওয়াকওভার দিবে না বা জয়ী বলে মানে না। কেউ বিজয়ী হতে চাইলে মুরোদ, সোজাসাপ্টা গায়ের জোড়, অস্ত্রের জোড়ে প্রতিপক্ষের উপরে চড়াও বা ওভারপাওয়ার করে পরাস্ত করতে পারার উপর তা নির্ভর করে। সেভাবে একমাত্র বিজয়ী হতে পারে সম্ভব। এই লড়াই নির্মম, দয়ামায়াহীন (তবে প্রতিহিংসা নয়) হয়, কারণ এটা নৈতিকতার লড়াই নয়। ফলে আমাদেরও একে কোন নৈতিকতার চোখে বিচার করতে বসাও অর্থহীন।
জিয়া বা তাহের, অথবা যে কেউ জনগণের ক্ষমতা তৈরি করতে চাইছে অতএব সে কারণে সে বিজয়ী হয়ে যাবেই এমন ধারণা ভিত্তিহীন, অবাস্তব।
বরং এই বিচারের ভিতর একটা আবেগী বোধ আছে আর এরচেয়ে বড় কথা এভাবে বিচার করতে চাওয়ার ভিত্তি এক নৈতিকতা। ক্ষমতা দখলের লড়াই নৈতিকতার লড়াই নয়, মুরোদের লড়াই।
একথাই আমি বলতে চেয়েছি, আর একবার বলবার সুযোগ নিলাম মাত্র। ফলে জিয়ার ক্ষমতাদখলের প্রচেষ্টাটা ভাল না কী তাহেরের এই নৈতিক বিচারে আমি বসিনি। বরং বলতে চেয়েছি, এটা মাঠে ক্ষমতা দখলের লড়াই, নৈতিকতার লড়াই নয়।
২নং মন্তব্যের জবাব:
যে আমার জান বাঁচিয়েছে তাঁর জীবন আমাকে বাঁচানো আমার কর্তব্য -
উপরে যে কথাটা লিখলাম এই কথাটা দাড়িয়ে আছে নৈতিকতার উপর ভর করা এক বিচারবোধ ও ভিত্তিতে।
আগের মন্তব্যে বলেছি আমি নৈতিক বিচার করছি না। ক্ষমতা দখলের মাঠের লড়াই নৈতিক লড়াইও নয়। এর জয় পরাজয় নৈতিকতা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
ফলে আমার কথাকে নৈতিক বিচারের পাটাতনে দাড়িয়ে দেখার কারণে আপনার মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক ও অবিচার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষমতা জিনিষটা অর্থাৎ ক্ষমতা দখলের কাজটা নৈতিকতা চর্চার বিষয় নয় - সোজাসাপ্টা গায়ের/বন্দুকের জোড়ে মুরোদ দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার বিষয়।
এই হিসাব তাহেরের ছিল। নৈতিকতা দিয়ে নিজের ক্ষমতা শক্তির ওজন মাপতে যাননি। নিজের মাঠ-শক্তির ঘাটতি ছিল এটা তিনি আগেই অনুভব করেছিলেন। তিনি জিয়ার অনুগত সৈনিকদেরকে পক্ষে নিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে চেয়েছিলাম। এর মধ্যে রিস্ক আছে এটাও তাঁর অজানা ছিল না। কিন্তু ঐ সময়ের ক্যু-পাল্টাক্যু এর ঘটনাকালে নিজস্ব সৈনিক সংস্হার সংগঠিত হবার মাত্রায় ঘাটতি আছে বলে একে কোন তৎপরতামূলক নির্দেশ না দিয়ে বসিয়ে রাখলেও তিনি সংগঠন সৈনিক সংস্হাকে অটুট ধরে রাখতে পারতেন না; কারণ সৈনিকেরা বিভিন্ন ক্যু প্রচেষ্টার কারও না কারও সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ত ও সৈনিকেরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ে নিঃশেষ হয়ে যেত, সৈনিক সংস্হা বলেও আর কিছু থাকত না। ফলে এর চেয়ে একটা রিস্ক নিয়ে সৈনিক সংস্হাকে সক্রিয় তৎপরতায় মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত, ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করা ছাড়া তাহেরের কাছে কোন পথ খোলা ছিল না।
খোদ জিয়া নয় জিয়ার অনুগত সৈনিকদেরকে নিজের ক্ষমতার পক্ষে পাওয়াই তাহেরের লক্ষ্য থাকলেও জিয়াকে মুক্ত করার ভিতর দিয়ে সেটা সম্ভব বলে "জিয়ামুক্তি" তাহেরের কাছে বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যা রিস্কের কারণও বটে।
ক্ষমতা দখলের পর তাঁর ক্ষমতার যে অংশটাকে রিস্কি মনে করা হয়েছিল, দূর্বল ছিল সেটাই ক্রমশ বাস্তব কঠিন সত্যি হয়ে উঠেছিল - পরিণতিতে তা তাহেরের ক্ষমতা সংহত হবার বদলে তাঁর পরাজয়ের কারণ হয়ে যায়।
লক্ষ্য করবেন, আমি কোন নৈতিক বিচার এখানে টানিনি বরং সোজাসাপ্টা গায়ের/বন্দুকের জোড়ের ক্ষমতার লড়াই, মাঠের লড়াই ক্ষমতা ভারসাম্যের বিষয় দিয়ে বুঝবার, বুঝাবার চেষ্টা করেছি। ঐ সময় সৈনিক সংস্হা ছাড়াও ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সেনা ইউনিটের সৈনিকেরা সে ইউনিটের কমান্ডারের অধীনে বিভক্ত ছিল। জিয়ার অধীনস্ত সৈনিক দলের মত এরকম বিভিন্ন নামে এরা বিভক্ত ছিল। এমন কী ফারুক-মোস্তাকের অধীনস্ত সৈনিকরাও ছিল এবং সেটাও সংখ্যায় কম নয়। এদের মধ্যে জিয়ার অধীনস্ত সৈনিকরাই তাহেরের বিচারে তুলনামূলক সবচেয়ে কাছের ও বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে হয়েছিল। তাই রিক্স সত্ত্বেও নিরুপায় এদের সাথে এই এক্সটারনাল এ্যলায়েন্স গড়ার চিন্তাটা আসে।
আপনার "অবজেকটিবিটি মারানোর" শব্দটা আপত্তিকর ও অসুস্হ। আশা করব এব্যাপারে আপনার বুদ্ধির পরিপক্কতার পরিচয় রাখবেন। আলোচনা চালিয়ে রাখতে সাহায্য করবেন।
লেখক বলেছেন: পি মন্সীর জবাবে আমার জবাব:
আপনি লিখেছেন: "ঐ সেনা বিদ্রোহ ও ক্ষমতা দখলের মাঠের লড়াইয়ে যে জয়লাভ করবে সে অন্যের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের আইন প্রয়োগের সুযোগ পাবে - এটাই সেই সোজাসাপ্টা কথা।
লক্ষ্য করতে বলব এটা কোন নৈতিক/অনৈতিকতার মামলা নয়। আমিও কোন নৈতিক বিবেচনা আরোপ করে ওর বিচার করছি না।"
এই যে সিপাহী বিদ্রোহকে স্রেফ ক্ষমতার লড়াই হিসাবে দেখানো, শ্রেনী/জনগণের পক্ষ-বিপক্ষ/নৈতিকতার প্রসংগে ঢুকতে না চাওয়া কিংবা ক্ষমতার লড়াই এ যে-ই জিতুক সে-ই অন্যের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল এর আইন প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে জিয়া আর তাহের কে একপাল্লায় মাপার চেষ্টা এইটা মোটেই সোজা সাপ্টা ব্যাপার না। এর মধ্যে জনগনের বিরুদ্ধ ক্ষমতার অনৈতিকতাকে জায়েজ করার ধান্দা আছে।
জিয়া ক্ষমতার লড়াই এ জিতে কোর্ট মার্শাল এর সুযোগ শুধু পায়-ই নি, নিজ উদ্যোগে তার মুক্তি দাতার ফাসীর জন্য পাকা ব্যাবস্থা করেছিল। কিন্তু তাহের ক্ষমতার লড়াই এ জয় লাভ করে কোর্ট মার্শালের সুযোগ পেলেও সেটা কি তাহের প্রয়োগ করত? এখানেই আসে নৈতিকতার প্রশ্ন। তাহের যে রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করত তা কোর্ট মার্শালের পক্ষপাতি না হওয়ার ই কথা এবং সেনাবাহীনিতে থাকা কালীন সময়ে সেনাবাহীনির যেসব সংস্কার তাহের করতে চেয়েছিল সেগুলোর ধরণ ধারণ দেখলেই বোঝা সম্ভব তাহের জিয়ার মত বদমাইশি করত না। বিদ্রোহ বিপ্লবে ক্ষমতার প্রশ্ন তো থাকেই, কিন্তু নৈতিকতা, ভালো মন্দ, জনগণের পক্ষ-বিপক্ষ ইত্যাদি প্রসংগ তার সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত থাকে। আফটার অল জনগনের পক্ষে দাড়ানোর নৈতিকতা যদি তাহের ধারণ না করতো তাহলে তাহের এই বিপ্লবে করতে যাবেই বা কেন?
নৈতিকতা কিংবা জনগনের পক্ষ-বিপক্ষ যাচাই না করে কোন বিচার বিশ্লেষণের বিপদ হলো এতে যে কোন আগ্রাসন/শোষণ নির্যাতন জায়েজ হয়ে যায়। কারণ তখন বলা যাবে-- ক্ষমতা থাকলে তো শাসক শ্রেণী জনগণের উপর অত্যাচার নির্যাতন করবেই, এর মধ্যে গণতন্ত্র, সুশাসন, আইন-মানা না মানার প্রশ্ন তোলা তো অবান্তর- ফলে যতদিন ক্ষমতা দখল করতে না পারছ ততদিন এইসব আইনের শাসন/রেব-পুলিশের নির্যাতন, গুপ্ত হত্যা এইসব তো হবেই!
একই ভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইরাক আগ্রাসন সম্পর্কে বিচার করতে বসলে বলতে হবে নিষ্ঠুর ক্ষমতার লড়াই এ জর্জবুশ সাদ্দাম কে পরাজিত করেছে ফলে সাদ্দামকে এবং সাদ্দামের ইরাককে নিয়ে বুশ যা খুশি তাই করছে এখানে নৈতিকতা, অন্যায়, অবিচার ইত্যাদির প্রশ্ন তোলা অবান্তর।
আরে ভাই ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত নৈতিকতা, অন্যায়-অবিচারেরর প্রশ্ন যদি না-ই তোলেন তাইলে ক্ষমতাবানের বিচার করবেন ক্যামনে, কে কোন ক্ষমতা জনগণের পক্ষে না বিপক্ষে ব্যবহার করছে তা নির্ধারণ ই বা করবেন ক্যামনে এবং জনগণ শত্রু চিহ্নিত কইরা সেই শত্রুর ক্ষমতার পাল্টা ক্ষমতা তৈরীই বা করব ক্যামনে!!!
জানিনা আপনারে বোঝাইতে পারলাম কি-না! বুঝাইতে পারি আর না পারি একটা বিষয়ে সোজাসুজি আপনার অবস্থানটা কন তো- তাহের এর অবস্থান ছিল সংখ্যাগিরষ্ঠ জনগণের পক্ষে আর জিয়ার অবস্থান ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিপক্ষে এই কথাটা আপনি সমর্থন করেন কি-না?
মাদারি বলেছেন:
আমার দশটি প্রমাণ জোগার করা প্রসঙ্গে পি মুন্সীর মন্তব্য:এই পোষ্টে আলোচনায় মূল বিষয় ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ককে বুঝতে চেষ্টা করা।
এখানে আমার সারকথা হলো, আইনের বলে কেউ ক্ষমতা পায় না, ক্ষমতা দখল করা যায় না। ক্ষমতা মানে এখানে বল প্রয়োগের মুরোদ; এক বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে অপরের বলপ্রয়োগ; বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থ শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে থাকা সমাজে বিভিন্ন অংশের নিরন্তর চলা প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য এসব লড়াই একে অপরের উপর বলপ্রয়োগের চেষ্টা, ক্ষমতা দখলের লড়াই। আমি বারবার বলার চেষ্টা করছি, ক্ষমতা বা মুরোদের লড়াইয়ে যে বাকীদের পরাস্ত করে বিজয়ী হয়ে যায় ক্ষমতা তাঁর রাজনীতি বা তাঁর রাজনৈতিক শ্রেণীর ক্ষমতা। এই ক্ষমতা সে কোন নৈতিকতার বলে অথবা কোন আইন বলে অর্জন করেনি। করেছে গায়ের/অস্ত্রের জোড়ে, মুরোদের বলে। এটাই বারবার পাঠককে মনে করিয়ে দেয়া।
এরপর ঐ ক্ষমতা অন্যান্য শ্রেণীর সাথে কীভাবে চর্চা করবে ফলে চর্চার একটা কাঠামো, রাষ্ট্র-কাঠামো, কনষ্টিটিউশনের প্রসঙ্গের উদয় ঘটে। কনষ্টিটিউশন মানে সব আইনের উৎস-আইন। উৎস আইনে উল্লেখ থাকে অন্যান্য শ্রেণীসহ জনগোষ্ঠির সবার নাগরিক হিসাবে কী কী অধিকারের বিষয় এই ক্ষমতা স্বীকার করে। এটা সবাইকে নিজ ক্ষমতার ভাগীদার বানানো নয়। বরং ক্ষমতা যেমন নিজ শ্রেণীর কাছে ছিল তেমনই রেখে জনগোষ্ঠির নাগরিক অর্থে সবার কিছু অধিকারকে স্বীকার করে নেয়া, এভাবে ক্ষমতা চর্চার একটা রাষ্ট্রকাঠামো তৈরি হয়। কিন্তু নিজ ক্ষমতার জন্য হুমকি অথবা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠে এমন যে কোন পাল্টা-ক্ষমতাকে সে দমন করবেই। দমন করার কাজটা আইনিভাবেই ন্যায্য একথা সব কনষ্টিটিউশনই স্বীকৃত বলে লেখা থাকে। এছাড়া কোন ক্ষমতা ওর বিরুদ্ধের পাল্টা-ক্ষমতাকে দমন করবেই, করতেই হয় এটাই ক্ষমতার স্বভাব; তাতে তা ওর কনষ্টিটিউশন ও অনুসারী-আইন বৈধ বলে স্বীকৃতি দেক আর না দেক। আগেই বলেছি, আইন বা কনষ্টিটিউশন বলে ক্ষমতা পাওয়া যায়নি, কোন ক্ষমতা তৈরি হয় না। আইন বা কনষ্টিটিউশন ক্ষমতার বাইরের আলগা বিষয়। আইন বা কনষ্টিটিউশনের ভিতরে থেকেই আইনী বৈধতায় ক্ষমতা চর্চা হচ্ছে - এটাই ক্ষমতা সবসময় দেখানোর চেষ্টা করে। ওদিকে, পাল্টা-ক্ষমতার মুল কাজ উপস্হিত ক্ষমতাকে পাল্টা গায়ের জোড়ে পরাস্ত করে নিজে ক্ষমতা হয়ে উঠা। একাজে সে চেষ্টা করে উপস্হিত ক্ষমতা কনষ্টিটিউশনাল আইনী দিক থেকে অবৈধ প্রমাণ করা যাতে নিজে ক্ষমতা হয়ে উঠতে কিছু আইনী প্রচার সুবিধা পাওয়া যায়। আইনী দিক থেকে বিচারে কোন উপস্হিত ক্ষমতাকে এরশাদের শাসনের মত, অবৈধ প্রমাণ করা সম্ভব কিন্তু এর ফলাফলে পাল্টা-ক্ষমতা বিজয়ী হয়ে যায় না। কারণ সেটা গায়ের জোড়েই একমাত্র অর্জনের বিষয়। এর সোজা মানে এখানে নতুন ক্ষমতা কোন পুরানো আইন বলে অথবা কোন নৈতিকতার বলে পাল্টা-ক্ষমতা হিসাবে নিজে হাজির হতে পারে না, হয় না।
নতুন ক্ষমতা সাধারণত পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে বাতিল ঘোষনা করে নতুন রাষ্ট্র আইন-কনষ্টিটিউশন তৈরি করে নেয়। অথবা পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশন যেন নতুন ক্ষমতাকে বৈধ বলে স্বীকার করে নেয় সেভাবে সংশোধন করে নেয়, একটা আইনী জোড়াতালি সেখানে থাকে।
মুল কথা ক্ষমতাকে অনুসরণ করে আইন নিজেকে বদলায়, খাপ খাইয়ে নেয়। উল্টোটা নয়, এমনকী আইন বলে কোন নতুন ক্ষমতার জন্মও হয় না।
আপনি অনেক কষ্ট করে দশদশটা আইনী পয়েন্ট তুলে ধরে প্রমানের চেষ্টা করেছেন যে জিয়া "বেআইনী" ভাবে তাহেরকে ফাঁসি দিয়েছেন। এখানে "বেআইনী" শব্দের অর্থ কোন না কোন পুরানো কনষ্টিটিউশনের অধীনস্ত আইন অনুসারে "বেআইনী"।
এটা প্রমাণ করা না করা সমান। কারণ আগেই বলেছি, ক্ষমতার স্বভাব হলো প্রথমত গায়ের/অস্ত্রের জোরের বলে নিজে ক্ষমতা হয়ে থাকার বিপক্ষে সমস্ত হুমকি ও চ্যালেঞ্জকে নির্মম হাতে দমন করা এরপর ওই কাজের পক্ষে আইনী বৈধতা জোগাড় করা।
ধরা যাক তাহের ক্ষমতা দখল করে রাখতে লড়াইয়ে জয়লাভ করে গিয়েছিলেন। এই নতুন ক্ষমতাকেও, যেহেতু এটা ক্ষমতা, তাই একেও ক্ষমতার স্বভাবধর্ম মানতে হত। চাইকী পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে বাতিল করে নতুন করে সেগুলো গঠন করতে হত। আর এমনিতেই পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে অটুট রেখে দিয়ে তাহেরের ক্ষমতাকে জনগণের ক্ষমতা হিসাবে আমাদের জনগোষ্ঠির কাছে নিজেকে প্রমাণ করে তোলা অসম্ভব ছিল। বরং পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনককে রেখে দিলে ওথেকে তাহেরের ক্ষমতা কাদের ক্ষমতা, কী বৈশিষ্ট, কী ওর চরিত্র - আমরা বুঝতে পারতাম।
কাজেই পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে স্বাক্ষী মেনে জিয়ার ক্ষমতা অবৈধ, ফাসি দেয়া অবৈধ -এভাবে কোন ক্ষমতাকে বুঝার চেষ্টা করলে ক্ষমতা এবং আইন ও ক্ষমতার সম্পর্ক বুঝা যাবে না। পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশন জিয়াকে ক্ষমতা এনে দেয় নাই, জিয়ার ক্ষমতার উৎসও নয় সেটা। কারণ কোন আইনই ক্ষমতার উৎস নয়। ক্ষমতা মানে গায়ের জোড়, মুরোদ, অপর শ্রেণীর উপরের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা।
তবে আপনার কষ্টকর দশ পয়েন্টের একটা প্রচারমূলক গুরুত্ত্ব আছে। ওদিয়ে একটা পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে স্বাক্ষী মেনে জিয়ার ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটা আইনী একাডেমিক লড়াই ওকে পরাজিত প্রমাণ করে যে প্রচারমূলক সুবিধা পাওয়া যায় ততটুকুই। জিয়া এতদিন যদি ক্ষমতায় থাকতেন তবে এই কাজের ফলে জিয়ার ক্ষমতার পতন ঘটত না। কারণ ক্ষমতাকে পরাজিত করা যায় একমাত্র পাল্টা-ক্ষমতা, গায়ের জোড়ের, বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে।
আর সবচেয়ে বড় কথা আইন দিয়ে, আইনী সমালোচনা করে ক্ষমতা কী জিনিষ তা বুঝতে পারা, আইন ও ক্ষমতার সম্পর্ক বুঝা সম্ভব নয়।
মুল কথা, আইনী বিচার অথবা নৈতিক বিচার দিয়ে ক্ষমতাকে বুঝা এবং আইন ও ক্ষমতার সম্পর্ক বুঝার চেষ্টা আমার এই পোষ্টের লক্ষ্য না।
কোন না কোন কারণে, আমার লেখা উপস্হাপনের দোষ থাকতে পারে, আমাসর লেখার বিষয়, দৃষ্টিভঙ্গি আপনার কাছে পরিস্কার হয়নি। তা থেকেই এসব বিপত্তি।
তবে আপনার কষ্টকরার জন্য আমি আবার অনেক কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, পরিস্কার করার আবার একটা সুযোগ পেয়েছি - সেজন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
লেখক বলেছেন: আমার জবাব:
আমার তৃতীয় অর্থাত এ লেখার ২২ নং মন্ত্যব্যে কষ্ট করে দশটি প্রমাণ জোগার করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচার করে দেখা-১) আইনি প্রশ্ন তোলা অবান্তর কি-না ২) সেনা আইন প্রয়োগে জিয়ার ভূমিকা আপনার দাবী মত প্যাসিভ কি-না।
আপনি এর উত্তরে আবারও আপনার মূল লেখার মতোই যথেষ্ট ভালো ভাবেই ক্ষমতা ও আইনের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করলেন যেটা আবার করার কোন দরকার ছিল বলে মনে হচ্ছে না। অবশ্য আপনার নতুন ব্যাখ্যার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ করা যায়- তা হলো জিয়ার ভূমিকাকে প্যাসিভ হিসেবে হাজির করার কোন চেষ্টা না থাকা।
আপনি বলেছেন আমার অনেক কষ্ট করে দশটা প্রমাণ জোগাড় করে জিয়া কর্তৃক তাহের কে ফাসী দেয়াকে “বেআইনি” প্রমাণ করার চেষ্টা করা না করা সমান। কারণ “ক্ষমতার স্বভাব হলো প্রথমত গায়ের/অস্ত্রের জোরের বলে নিজে ক্ষমতা হয়ে থাকার বিপক্ষে সমস্ত হুমকি ও চ্যালেঞ্জকে নির্মম হাতে দমন করা এরপর ওই কাজের পক্ষে আইনী বৈধতা জোগাড় করা।” আসলেই কি কোন না কোন পুরানো কনস্টিটিউশান অনুসারে নতুন ক্ষমতার নতুন আইনকে বেআইনি কিংবা অবৈধ প্রমাণ করার চেষ্টা করা না করা সমান? হ্যা, এই প্রমাণ আপ্রমাণ করার চেষ্টা করা না করা এক দিক দিয়ে দেখলে অর্থহীন- তা হলো- কেবল এই প্রমাণ/প্রমাণ করে নতুন ক্ষমতাকে পরাজিত করা যাবে না। কিন্তু তারমানে এই না যে, এই নতুন আইন পুরোনো কনস্টিটিউশান অনুসারে আইনি কি বেআইনি সে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। আমি মনে করি এর অন্য আরো গুরুত্ব আছে। ঠিক এই বিষয়টিই আমার আগের মন্তব্যগুলোতে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে সে চেষ্টা পানিতে পড়েছে। আবারও চেষ্টা করি-
ধরা যাক, একটা গণতান্ত্রিক কনষ্টিটিউশানের অধীনে একটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা জারি আছে যেখানে অন্তত পক্ষে গোপনে বিচার করাটা অবৈধ বা বেআইনি বলে স্বীকৃত। কোন একটা পরিস্থিতিতে এক সামরিক শাসক ক্ষমতা দখল করল এবং তার নিজ ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য এবং সম্ভাব্য সব বিরুদ্ধতাকে মোকাবেলা করার জন্য গোপনে বিচার করা জায়েজ করে এক নয়া আইন জারি করল। নতুন ক্ষমতার নতুন আইন অনুযায়ী ‘গোপনে বিচার’ আর বেআইনি থাকল না ফলে আপনার বক্তব্য অনুসারে এটা আইনি না বেআইনি এই প্রশ্ন তোলা বৃথা। আমি বলার চেষ্টা করছি- না, বৃথা না, কারণ, সামরিক আদালতে আমার গোপন বিচারের বিরুদ্ধে আপিল ধোপে না টিকলেও, জনতার আদালতে এর একটা গুরত্ব আছে(একটু নাটুকে হয়ে গেলেও এই শব্দটা ব্যাবহার করতেই হলো)। অর্থাত আইনি প্রশ্ন তোলাটা আইনি অর্থে অবান্তর হলেও রাজনৈতিক অর্থে অবান্তর নয় বরং জরুরী- অন্তত: এইটুকু পরিস্কার করতে যে, দেখ এই নতুন ক্ষমতার নতুন আইন কতটা গণবিরোধী যে জনগণের সামনে প্রকাশ্যে বিচার/আচার করার সাহস পর্যন্ত সেটা ধারণ করে না। তা না করে যদি আমি কেবল বলি, ক্ষমতা পেলে যা খুশি তো করবেই, এটাই ক্ষমতার ধর্ম, তাহলে সেই ক্ষমতার ক্ষমতাটুকুই তো বোঝা হলো না আমার!
একই ভাবে অতীতে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার বিচার করতে গিয়ে, আমি যদি স্রেফ এই বিচারের মধ্যেই আটকে থাকি যে- ক্ষমতা হলো মুরোদের ব্যাপার। জিয়ার মুরোদ ছিল তাই ক্ষমতা দখল করতে পেরেছে এবং ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সে নতুন আইন জারি করে সেই আইন অনুসারে তাহের কে ফাসীতে ঝুলিয়েছে, সেই আইন বৈধ কি অবৈধ ছিল সেই প্রশ্ন তোলা অবান্তর- তাহলে আমি বলবো এই বিচার করতে বসাটাই তো অবান্তর!!! তাহের হত্যাকান্ডের এত বছর পর এই বিচার করার মাজেজা কি- তাহেরের চেয়ে জিয়ার মুরোদ বেশী ছিল তাই জিয়া পেরেছে তাহের পারেনি- এই ‘অবজেক্টিভ’ সত্য আবিস্কার করা? এটাতো নতুন করে আবিস্কার করার কিছু নেই যে ক্ষমতার লড়াইয়ে জিয়া তাহেরকে হারিয়ে দিয়েছিল।
বরং ইতিহাসের কোন ঘটনা বিচার করতে বসে সেই ক্ষমতার উতস কি, কার ক্ষমতা জনগণের পক্ষে আর কার ক্ষমতা জনগণের বিপক্ষে কাজ করেছে, কি ভাবে কাজ করেছে, জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে কি কি অবৈধ/বেআইনী কাজ করেছে(সেটা নতুন আইনে যতই বৈধ হউক না কেন, জনগণের স্বার্থের বিচারে কিংবা পুরাতন আইন অনুসারে সেটা বেআইনি/অবৈধ-ই, তাহেরের বিচার জিয়ার নতুন আইনে যতই বৈধ হউক না কেন, জনগণের স্বার্থের বিচারে পুরাতনের আইনের কিংবা ততকালীন সময়কার আসামীর অধিকারের নিরিখে সেটা অবৈধ/বেআইনি-ই), পুরাতন আইনের কি কি পরিবর্তন কোন কারণে করা হয়েছে এবং তার সুফল ও কুফল কারা কি ভাবে ভোগ করেছে- সে বিচার না করতে যাওয়াটাই, হলো ক্ষমতার এই সব পাপকে আড়াল করার চেষ্টা করা!
আপনার লেখা এবং মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারা কঠিন নয় আপনি এই চেষ্টাটাই করছেন।
লেখক বলেছেন: ধইন্য!
মনজুরুল হক বলেছেন:
দীর্ঘদিন পর
ব্লগে এসে ভাল
একটা লেখা পেলাম।
আন্তরিক ধন্যবাদ।
আপাতত প্রিয় পোস্ট।
প্রয়োজনে পরে কথা হবে।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ প্রশংসার জন্য!
রোবোট বলেছেন:
মাদারি= খারেজি, তর্কের খাতিরে এটা তাও মানতে পারি, মাদারি=রাগইমন মানতে পারছি না। আপনি তুখ্খার লেখেন। পিলাচ।
লেখক বলেছেন: ভাইরে, মাদারিকে কেন অন্যকেউ হইতে হইব? হয়তো আমি ব্লগে নিয়মিত না বইলাই হঠাত কইরা একটা লেখার রিঅ্যাকশান লেখায় খারেজি বা রাগইমন মনে করা হইতাছে।
যাই হোক, প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ।
মগ্নতা বলেছেন:
মনজুরুল হক দীর্ঘদিন পর ব্লগে ফেরত আসছেন শুধু আপনের পোষ্ট পড়বার জন্য।
লেখক বলেছেন: মনজুরুল হক বলেছেন: তিনি ব্লগে এসে লেখা পেয়েছেন আর আপনি বলছেন শুধু আমার পোষ্ট পড়বার জন্য তিনি ব্লগে এসেছেন।
মনজুরুল হকের নিজের কথা ঠিক না আপনারটা?
মগ্নতা বলেছেন:
ইহা মাদারি বেগম বা সাহেবের একখান ব্যাপক তেনা প্যাঁচানি পোষ্ট বুঝিতে পারিলাম।
লেখক বলেছেন: তা এই ব্যাপক তেনা প্যাচানি বুঝতে পারার জন্য ধইন্য!
অলস ছেলে বলেছেন:
খারেজি কে? রাগইমন কে?
লেখক বলেছেন: তাই তো!!
রোবোট বলেছেন:
নাহ আপনি খারেজি বলছি না। হ্য়ত একই ধারার মানুষ। একই ধারার মানুষ হলেই এক মানুষ হবে কেন?আপনি ব্লগে আরো বেশী লিখুন।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















