ইদানিং লক্ষ করা যাচ্ছে যে ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইলে এখন অনেকেই অবলীলায় যা ইচ্ছা বলে যাচ্ছেন, অনেকে আবার এ ধর্মের বিভিন্ন বিশ্বাস নিয়ে হাসি মসকরা করে নিচ্ছেন সুযোগ বুঝে। যা গোটা কয় বছর আগেও অবিশ্বাস্য ছিল।
ইসলাম এখন ঘরে বাইরে দুদিক থেকেই আক্রান্ত। কিন্তু এই সুযোগ ঘটেছে কিভাবে।
এর কারন হিসেবে অনেকেই হয়ত বলতে চাইবেন আগের চাইতে আরো উদার পরিবেশে বেড়ে উঠার সুযোগ হয়েছে আমাদের, চিন্তা চেতনায় আমরা আরো উন্নত হয়েছি। কিংবা আধুনিক বিশ্বে ইসলামের কপট চরিত্রটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে শুরু করেছে।
তাই যদি হয়ে থাকে আমাদের চাইতে আরো উন্নত আরো অগ্রসর এবং সর্বোপরি ইউরোপীয় ধারায় বেড়ে উঠা তুরষ্কে ইসলামের আবার উত্থান ঘটছে কিভাবে। বিবিসি আর নিউজউইকের মত প্রচার মাধ্যমের সমীক্ষায় পৃথীবির সবচাইতে প্রসারমান ধর্ম ইসলাম হয় বা কিভাবে।
আর আমাদের চিন্তা চেতনা আর মননের আসলেই কি উন্নতি ঘটছে?
আগে শিক্ষকরা ছিলেন কেবলই শ্রদ্ধার পাত্র, এখন বিশববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার সহকর্মীকে অবলীলায় খুন করছেন সম্পদ আর যশের লোভে। রাজনীতিকরা দেশের সম্পদ লুটপাট করছেন সবার নাকের ডগায়। বিক্রেতারা খাদ্যে জীবননাশক বীষ মেশাচ্ছেন মুনাফার লোভে। চিকিতসকরা রোগীর চাইতে রোজগারের দিকে মনোযোগী হয়েছেন। ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের ধ্র্মবানিজ্য এখন পর্বতের চুড়ায়।
তাহলে সুযোগটি ঘটছে কিভাবে?
এরজন্য অপপ্রচার কি দায়ী নয়। এই ধারনাটি অনেক আগে থেকেই প্রচার হয়ে আসছে যে ইসলাম একটি পশ্চাৎপদী ধর্ম যার অবস্থান বরাবরই প্রগতির বিরুদ্ধে।
আবার গ্লোবাল এজের সুবাধে পশ্চিমা সমাজের আচার আচরনের আর সংষ্কৃতির অনেক কিছুরই আমদানী ঘটেছে আমাদের দেশে যা সাময়িকভাবে খুবই চিত্তাকর্ষক কিন্তু এখন যা অনেকটাই প্রমানিত যে লাগামহীন এই সংষ্কৃতি খোদ পশ্চিমাদের জীবনে সামাজিক অবক্ষয়ের কারন হয়েছে। আবার এ সংষ্কৃতির সাথে বানিজ্য জড়িয়ে আছে ব্যাপকভাবে। পুজিবাদী সমাজে পুজিবাদীরা কোনকিছুরই তোয়াক্কা করেনা। মুনাফা অরজনের জন্য সবকিছুকেই তারা পক্ষে বিপক্ষে দাড় করাতে পারে। তাই পশ্চিমা সংষ্কৃতির বিপরীতে ইসলামকে দাড় করানে হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি হিসেবে। তাদের এক্ষেত্রে সাহায্য করছে কিছু মিডিয়া আর তথাকথিত কিছু প্রগতিশিল বুদ্ধিজীবিরা। ইসলামকে দেশের আর সমাজের সমৃদ্ধির পথে অন্তরায় প্রমান করতে তারা বিভিন্নভাবে প্রচারনা চালাচ্ছেন কৌশলের সাথে।
বিশ্ব মিডিয়ার ভুমিকাটিও এক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে, যার প্রায় সবটাই ইহুদি আর খিরটানদের নিয়ন্ত্রনে। নাইন এলাভেনের পর পরই সিএনএনএ দেখানো হল ফিলিস্থানে মুসলমানেরা বিজয় উতসব করছে যা ছিল একেবারেই মিথ্যে।
টোকিওর রাস্তায় এক গাড়িচালক আমার পরিচয় মুসলমান বলে জানতেই বললেন, তোমরা ত শুধু যুদ্ধবিগ্রহ নিয়েই ব্যস্ত থাক। ইরাক ইরান যুদ্ধের প্রসংগ টেনে আনলেন তিনি।
আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম পৃথিবীতে যে দুটি বিশ্ব যুদ্ধ হয়েছিল তার পক্ষে এবং বিপক্ষে কোন ধর্মের লোকেরা ছিল। ভদ্রলোক চুপ মেরে গিয়েছিলেন।
ইসলাম এখন কাদের চোখে হুমকি এবং সভ্যতার অন্তরায়। গত কয়েক শতক ধরে এবং এখন প্রযন্ত সারা বিশ্বের যেসব সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো বিশব্ব্যাপী লোটপাট আর অরাজকতা চালিয়েছে তাদের। তারাই বলতে চাইছে ইসলাম সভ্যতার একমাত্র শত্রু।
কিন্তু কেন। কারন সোভিয়েত ইউনিয়ন আর প্রতিপক্ষ হিসেবে অবশিষ্ট নেই। লাদেন নামক ফ্রাঙ্কেষ্টাইন কার স্রষ্টি। এখন লাদেনকেই ইসলামী মুল্যবোধের ধারক আর বাহক হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কাজটি ছড়িয়ে দেয়া হচ্চে সারা বিশ্বে।
এক্ষেত্রে ইসলামের ব্যপারে অজ্ঞতাটিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। একটি আমেরিকান ষ্কুলে একটি আমেরিকান ষ্কুলছাত্রি তার শিক্ষককে প্রশ্ন করেছিল ইসলাম কোন মহাদেশে অবস্থিত। বেশিরভাগ আমেরিকান্রাই মনে করে মুসলমান মানেই আরব দেশের লোক।
অথচ মুসলমানদের কেবল ১৫ ভাগের কিছু বেশি আরব দেশগুলোতে থাকে।
এমনকি আমাদের দেশেও কিছু জ্ঞানপাপী আছে যারা ইসলামের প্রসংগ এলে ইচ্ছেকৃতভাবে জামাতকে টেনে আনে। এই বাংলাদেশে আমেরিকা ফেরত এক বাংলাদেশী ভাইয়ের কাছ থেকে আমাকে শুনতে হল যে মুসলমানের চারটি বিয়ে করা নাকি সুন্নত।
সারা বিশ্বে (কাশ্মীর, চেচেনিয়া, ফিলিস্তিন) মুসলমানেরা নির্যচিত হচ্ছে আর তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে অপ্রপ্রচারের মাধ্যমে আখ্যায়িত করা হচ্ছে জিহাদ হিসেবে। বিপরীতে পুর্ব তিমুর স্বাধীন হতে পেরেছে খুব কম সময়ের মধ্যে।
এটি অবশ্যই অনশ্বীকার্য যে আধুনিক রাজনইতিক প্রেক্ষাপটে যেসব ইসলামী দলের আবিরভাব ঘটেছে তার সিংহভাগই ছিল সুবিধাবাধী, যার ফলে এর কোনটিরই কোন উল্লেখ্যযোগ্য ভুমিকা রাষ্ট্রে ছিল না। আমাদের দেশে এখনো কোন ইসলামী দলের আবিরভাব ঘটেনি যারা রাষ্টীয় ব্যবস্থায় ইসলামকে প্রিতিষ্ঠিত করতে পারে। জামাতের সমর্থক শতকরা মাত্র ৪ জন। অথচ কোন না কোন ভাবে ধর্মীয় আচার আচরনে নিজেকে সংপৃক্ত করেন এমন মানুষের সংখ্যা শতকারা অর্ধেকেরও বেশি। বিএনপি আর আওয়ামীলীগের ভোট সংখ্যা শতকরা চল্লিশেরও বেশি।
এ পরিস্থিতিতে ইসলাম আমাদের দেশের পক্ষে হুমকি হয় কিভাবে?
তাই সময় এসেছে ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচারনার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




