somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাচা নিয়ে টানাটানি, পাখির দেখা নাই......।

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মূর্তি ভাংগা টা ঠিক হয়েছে না কি বেঠিক হয়েছে সে প্রসংগে ষ্টিকি পোস্টেই অনেক কিছু বলা হয়েছে কিন্তু সেই প্রসংগে যাচ্ছি না।

আজকে এটিকে আমাদের সংষ্কৃতির প্রতি এটিকে আঘাত বলে মনে করছেন অনেক দেশপ্রেমি সংস্কৃতিমনা মানুষজন। সংষ্কৃতিতে এদের অনেক পদচারনাও আছে মনে হয়।
আজকের এই পোস্টটি মুলত তাদের উদ্ধেগ নিয়ে। লালনের যে মূর্তি বানানো হয়েছে তাতো ইট পাথরের, কিন্তু আজকে যে বিদেশী সংষ্কৃতি লালনসহ অন্যসব লোকজ সংষ্কৃতিকে ধুয়ে মুছে দিতে উদ্যত হচ্ছে সে ব্যপারে ওনাদের উন্নাসিকতা কেন। শিশুরা বড় হয় বিদেশী কার্টুন দেখতে দেখতে, কিশোর আর তরুনদের মনে স্থায়ী আসন গেড়ে নেয় চটুল হিন্দি ছবি আর গানগুলো। যারা একটু এগিয়ে তারা ঝুকে পড়ে হলিউডের দিকে। বিদেশী সংষ্কৃতির আগ্রাসনে এখন বাংলারও উচ্চারনও বিকৃত করা শুরু হয়ে গেছে। টিভিতে এড দেখলে মাঝে মাঝে দ্বিধা হয় হিন্দি চ্যানেল দেখছি না বাংলা।
আমি যদ্দুর জানি উন্নত বিশ্বের সরকার প্রধানগন জাতিসংঘ ভাষন দেবার সময় সবসময় নিজের দেশের ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু তৃত্বীয় বিশ্বের নেতাদেরই কেবল দেখা যায় চোস্ত ইংরেজীতে ভাষন দিতে। আমাদের দেশের নেতারাও এর বাইরে নন। একবার মুজিব বোধহয় বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন। অথচ রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের জন্মমৃত্যু দিবসগুলো ঘটা করে পালন করা হয়। কিন্তু এখনো কি সম্ভব হয়েছে তাদের বানীকে জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। একুশের সকালে যে বাবা সন্তানের হাত ধরে নিয়ে যান মিনারে ফুল দিতে, সেই বাবাই পরেরদিন সন্তানের হাত ধরে রওয়ানা দেন ইংরেজী মাধ্যমের স্কুলে। ভাল কিছু পড়াশুনা করতে চাইলে আমাদের নির্ভরশীল হতে হয় ইংরেজীতে লেখা বইগুলোর উপর। ইংরেজী না জানলে ভাল কোন চাকুরী মেলে না।

লোক দেখানে ব্যপারে আমরা অভ্যস্ত বলেই লোকজ সংষ্কৃতির ব্যপারে আমাদের আবেগটাও লোক দেখানো।

আমি জাপানে ছিলাম বহু বছর, কিন্তু রাস্তাঘাটে তো কোন মুর্তির চোখে পড়েছে বলে মনে হয় না। নিজের দেশের ভাষা কিংবা সষ্কৃতির প্রতি এদের ভালবাসা আমাদের চাইতে অনেক গুনে বেশি। সংষ্কৃতিকে মানুষ ধারন করে তার মননে, মুর্তিতে না। তাইত লেলিনের আদর্শে গঠিত সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে যখন পড়ল তখন ভেংগে ফেলা হল তার অসংখ্য মুর্তিগুলোকেও। তার নামের শহরগুলোকেও আগের নামে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমি কোথায় যেন পড়েছি স্বংয় লেনিন এসব মুর্তি গঠনের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি হয়ত তখনই টের পেয়েছিলেন যে তার মুর্তিগুলি একসময় ভেংগে ফেলা হবে।

আর আমাদের দেশের কিছু ধর্মীয় গুরু আছেন তারা মনে হয় সবসময় একপায়ে খাড়া আছেন মুর্তি দেখলেই তা ভেংগে গুড়িয়ে ফেলার জন্য।
কিন্তু তাদের মনে যে লোভের মুর্তি, খ্যাতির মুর্তি আর ক্ষমতার মুর্তির যে প্রতিনিয়ত পুজা চলে, তাকি তারা কখনো ভাংগতে পারবেন। এদেরকে দেখলে মনে হয় নবীজি সা: নিজেই লজ্জা পেতেন। অবশ্য প্রয়োজনীয় মানবিক গুনাবলীর অনেক কিছুই নেই এদের মাঝে।
এটাই সহজেই অনুমেয় যে এধরনের কিছু হাংগাম মাঝে মাঝে তারা তৈরি করে এইজন্য যে এরসাথে তাদের স্বার্থপরতা সংষ্লিষ্ট থাকে।

আজকে লালনের মুর্তি ভাংগা নিয়ে যারা খুব বেশি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন, দেখা যাবে তাদের অনেকেই জীবনে একবারের জন্য হলেও লালনের একটি গানও শেষ পর্যন্ত শুনার আগ্রহ দেখাননি। লালনের এই মুর্তি ভাংগাতে তাই একদিকে ভালই হয়েছে, কিছুটা হলে লালন সম্পর্কে জানার আগ্রহ জন্মেছে অনেকের মধ্যে।

কিছুটা অপ্রাসংগিক হলেও একটা প্রসংগে বলার লোভ সংম্বরন করতে পারছি না।
লালনের মুর্তি ভাংগাতে অনেকে আজকে মিছিল নিয়ে ছুটে গেছেন ঘটনার স্থানটিতে।
অথচ কিছুদিন আগে ব্রাকের কর্মীরা যখন একজন জলজ্যান্ত মানুষ পিটিয়ে মারল আর লাশটিকে ঝুলিয়ে দিল গাছে। তখন তাদের কয়জন ছুটে গেছেন ব্র্যাকের অফিসের সামনে তার প্রতিবাদ করতে।

আরেকটি প্রশ্ন হল বেসামরিক বিমান সংস্থাটি ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ করে এটি নির্মান করিয়েছিলেন কোন উদ্দ্যেশে, পর্যটন নাকি সংষ্কৃতির লালন। এটাকা গুলো খরচ করে লোকজ সংষ্কৃতির উন্নতিকল্পে অন্য কিছু করা সম্ভব ছিল নয়কি। গায়ে গন্জে অনেক লোকজ শিল্পী আছেন যাদের না খেয়ে মরার মত অবস্থা। তাদের জন্য কিছু খরচ করলে তা আমাদের লোকজ সংষ্কৃতির জন্য ভাল ফল বয়ে আনত নয় কি?

খাচার ভেতর অচিন পাখি, সে যে কেমনে আসে যায়......খাচাটা ভেংগে গেছে সে ত অনেক বছর আগে কিন্তু সে অচিন পাখি এখনো আসা যাওয়া করে আমাদের মনে। লালন নেই কিন্তু লালনের কথাগুলো এখনো অনুরনিত হয়ে আমাদের মনের মাঝে।
তাই পাখিটিকে ছেড়ে খাচা আগলে রাখার মধ্যে কোন যৌক্তিকতা আছে কি?

আমাদের চিন্তা চেতনাগুলো যদি কেবলিমাত্র ছবি আর মুর্তিগুলো মধ্যে পুন্জীভূত হতে থাকে তাহলে কয়দিন পরে দেখা যাবে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দাড়িয়ে নিজামী আর মুজাহিদেরা স্বাধীনতার মন্ত্রপাঠ নিচ্ছেন কিংবা দিচ্ছেন।
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু তোমারই চলে চাষআবাদ

লিখেছেন নীলপরি, ২৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ৮:২৭



যতই ভাবি ভুলে যাবো
ভাববো না আর কিছু
ততই দেখি দাঁড়ায়ো এসে
তুমি আমার পিছু পিছু ।

সময়ের মাঝে হারায় সময়
ঝরাপাতা মাড়ানো পদধ্বণীর সুর
তাই যেন বাতাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহলে ঘটনাটা কি দাড়াইলো??? এত নাটক কি কারণে????

লিখেছেন শেখ মোঃ জাকির হোসেন দিনাজপুর, ২৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ৯:০৬

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত শুক্রবার রাতে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে আনার পর এক উপকমিশনারের কক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় তাঁকে দুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের কোন "কফি হাউস" ছিলো না

লিখেছেন কল্লোল পথিক, ২৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৩৩



আমাদের কোন "কফি হাউস" ছিলো না।
আমরা শফিকুলের টং চায়ের দোকানে
তিনটা চা পাঁচটা করে পাইলট খেতাম।
রতনের মুখেই আমরা
প্রথম কফির গল্প শুনেছিলাম।
সে বলেছিল
ও জিনিষ খেতে পোড়া পোড়া লাগে
আর স্বাদটা বিটকেলে।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দার্জিলিং ভ্রমণ- খরচাপাতি এবং অন্যান্য

লিখেছেন রুবাইয়াত শোভন, ২৯ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৩:৪১

আমরা তিন জন দার্জিলিং গিয়েছিলাম ২৫ এপ্রিল, ২০১৬। ঢাকা থেকে বুড়িমারী হয়ে শিলিগুড়ি। তারপর দার্জিলিং এ তিন রাত এবং মিরিক এ এক রাত থেকে ৩০ এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২ টায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প : নীনা

লিখেছেন মোঃ জুনায়েদ খান, ২৯ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:৩৭



নীনাকে দেখতে ইচ্ছে করছে ভীষণ। মাঝে মাঝে কোন কারণ ছাড়াই বিশেষ কোন ব্যক্তিকে দেখতে ইচ্ছে করে। খুব জটিল কোন রোগে ধরলে এমনটা হয়। মন আলগা হয়ে যায়, একটা ছটফটানি ভাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×