somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বসন্তদিন-৩১

১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডক্টর আমাকে বললেন, কোনো কিছুই ভুল নয় আবার কোনো কিছুই শুদ্ধ নয় এই জগতে। মানুষ মানুষের নিজ সুবিধার্থে সৃষ্টি করেছে এই ভুল ও শুদ্ধ দুটি শব্দ।
তবে আমাকেই ভেবে বের করতে হবে। ডিসিশন নিতে হবে , আমার জন্য, আমার প্রিয়জনদের জন্য কোনটা ভালো, কোনটা সঠিক? ডক্টর আরো বলেছিলেন, পৃথিবীটা শুধুই যদি নিজেদেরকে নিয়েই ভাবাভাবি মানুষে ভর্তি হয়ে যেত। পৃথিবিটা কি টিকে থাকতে পারতো স্বার্থপর মানুষের বিচরণে?
ডক্টর আরো একটি কথা এতটাই সুকৌশলে বলেছিলেন যে আমার প্রায় পাগল হবার অবস্থা, সেই প্রশ্নের উত্তরটা ভাবতে ভাবতে। ডক্টর বলেছিলেন সবার আগে আমাকে ভাবতে হবে তোমাকে নিয়ে প্রতিফলন। তোমার জন্য কোনটা ভালো? এই আমি একাকে নিয়ে তোমার পৃথিবী চলবেনা আর চললেও তোমার জন্য কি সত্যি সেটা খুব সুখকর হবে?
মাই গড!!!!!!! আমি এত সব ভাববো কি করে? আমার মনের অবস্থা তখন কি এত সমস্যা নিয়ে ভাবনার উপোযোগী ছিলো বলো? আমার সারা মনটা জুড়েই শুধু তো ছিলে তুমি প্রতিফলন।তুমি কষ্ট বা বিপদে পড়ো সে আমি কখনও চাইনি। এত শত সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে আমি তো আবার পাগলপ্রায়।
আর সাথে ছিলো আমার মনটাকে কেটে কুটে রক্তাক্ত করে দেওয়া তোমার সেসব মেইল।

তুমি লিখলে,
জানো? এখনও আমি সারাটাদিনই ঘুরে ফিরে শুধু তোমাকেই খুঁজে ফিরি।একটু কি বদলেছো? একটু, এতটুকুও কি ভুলতে পেরেছো আমাকে?হয়তোবা হ্যা । হয়তোবা না।তোমার নিকটা হাত দিয়ে ছুতে গেলে এখনও চোখে পানি চলে আসে।মাঝে মাঝে অনেক কষ্ট পাই। ভাবি কত রুড হয়ে গেছো তুমি!

জানো, ড্রাগ এ্যডিকশনের একটা প্রবলেম হয় শুনেছি।যখন কেউ ড্রাগ খাওয়া ছেড়ে দেয়।এটা কে বলে উইথড্রয়াল সিনড্রম।সারাশরীরে খিঁচুনী দেখা দেয়। ইমব্যলান্সড হয়ে পড়ে মানুষ।এই জন্য, they need additional support , mental strength, etc
এই জন্য আমার মনে হয় ডক্টর হারামী বুইড়া তোমাকে বা আমাকে কখনও বলবেনা close tha contact! he will rather say, continue, but reduce the doz।
যেমন ধর, আমি হলে বলতাম, বরুনা তুমি আগে সকাল ৬টায় ঘুম ভেঙেই প্রতিফলনের সাথে কথা বলতে শুরু করতে রোজ রোজ । কিন্তু এখন থেকে দেরী করে উঠবে।৭ টায়।আর উঠেই সবার আগে এসএমএস , কল করবেনা ওকে। আরাম করে নাস্তা টাস্তা খেয়ে তারপর চেয়ারে বসে ফোন টা করবে। আর ভুলেও রাস্তায় যেতে যেতে মিনিটে মিনিটে মেসেজ দেবেনা। কথা তো বলবেইনা। দুপুরে ফিরে গোসল সেরে, ভাত খেয়ে, নিউজপেপার পড়ে তারপর।কম্পুটারের দিকে তাকাবেনা খবরদার।

বিকেলে ধীরে সুস্থ্যে কম্পু তে আসতে পারো। প্রথমেই প্রতিফলনের সাথে কথা বলবেনা। মেইল চেক করবে । অন্যান্য কাজ থাকলে সেসব সারবে। অফফলাইন থাকলে ভালো নতুবা তুমি নিজে থেকে দেবেনা। চুপ করে থাকবে। আর কিছু বলতে ইচ্ছে করলে বলে ফেলো। বেশিক্ষন অপেক্ষা করোনা । যদি কেউ না থাকে।
এই ভাবে প্রতিফলন একদিন হারিয়ে যাবে কোন আস্তাকুড়ে!!!!!!!!!

আমি জানি শেষ শব্দটা তুমি অনেক অনেক রাগ আর ক্ষোভ থেকেই লিখেছিলে প্রতিফলন।

আরো লিখেছিলে............
বরুনা একটা গান শুনো,
বহুদূর যেতে হবে , এখনও পথের অনেক রয়েছে বাকী।

ভালোবাসায় বিশ্বাস রেখো।

ডক্টর আমাকে এ্যাডভাইস করলো, কিছুদিন কোথাও গিয়ে ঘুরে আসতে। বন পাহাড় সমুদ্র যেখানেই হোক। এই পরিচিত গন্ডি, লোকালয় ছেড়ে। দূরে কোথাও।

আমি গেলাম পাহাড়ের কাছে, সমুদ্রের কাছে , শুধু তোমার থেকে অনেক দূরে।সব রকম যোগাযোগ ছিন্ন করে দিয়ে আমি কিছুদিন হারিয়ে গেলাম।

কিন্তু জানো পরতিফলন? আমি একটা মুহুর্তের জন্যও সত্যি ই তোমার থেকে এক বিন্দু দূরে থাকতে পারলাম না। সেই যাত্রা শুরু থেকে লং জার্নীটার পুরোটা সময় জুড়ে, পাহাড় বনানীর যত মনমুগ্ধকর দৃশ্যই দেখেছিলাম আমি, সব খানে তুমি নিশব্দে ছিলে আমারি পাশে পাশে। আমার হাতটি ধরে। কেউ জানেনি। কেউ দেখতে পায়নি।

১২ দিন ঘুরে বেড়ানোর পর একটা আশ্চর্য্য পরিবর্তন ঘটলো আমার।
আমি সত্যি সব ব্যাথা বেদনা গ্লানি, সব ভুলে গেলাম। জেগে উঠলো পুরোটা মন জুড়ে শুধুই ভালোবাসার চর। আর সেই চরের বাসিন্দা শুধুই দুটি প্রাণী। তুমি আর আমি।আর কোথাও কেউ নেই।

তোমাকে যে গানটা প্রথম শুনিয়েছিলাম আমি।তার দুটো লাইন .....
http://www.mediafire.com/?ymmzntmjwe2 Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৮:২৯
৩১টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×