ভালোবাসার পূর্ণতা কাকে বলে আপু?বিয়ে করা/ বাকী জীবনটা একসাথে কাঁটানো/আজীবন দুটিহৃদয় দুজনে মুখোমুখি গভীর দুঃখে দুঃখি হয়ে বসে থাকা? কাকে বলে বলতে পারো?
মানুষ যেসব ভালোবাসার পূর্ণতা বলে সেটা কখনই সম্ভব হবেনা আমাদের। হয়তোবা এজীবনে কখনও দুটিহাত এক করা হবেনা। তাই বলে ভালোবাসা বা ভালোবাসার পূর্ণতা হয়নি আমাদের, এটাও আমি মানতে রাজীনা।
আমি জানি কাউকে ভালোবাসলে তার জন্য ঠিক কতখানি ফিলিংস হতে পারে! আমি জানি কাউকে ভালোবাসলে সে ঠিক কি ভাবে অদৃশ্যে বিলীয়মান হয়েও আমাকে ঘিরে থাকতে পারে। সব সময়। শয়নে স্বপনে জাগরনে।
তারজন্য কি রকম কষ্ট হয় বুকের মধ্যে! তাকে দেখার জন্য কি পরিমান চিনচিনে ব্যাথা ঠিক বুকের মাঝখানে।খুব তীব্র একটা ইচ্ছেকে চেপে রাখা। সেটা নিয়ে উথাল পাথাল আকুতি। নিস্ফল আক্রোস সব মিলিয়ে শুধুই ভালোবাসা।
সবকিছু, সবকিছুতেই শুধুই একজনকে চাওয়া। হোকনা না পাওয়া!!
কিন্তু সেই অপ্রাপ্তির নাম ও তো ভালোবাসাই। জানিনা আমি আসলেও দিনদিন সাইকো হয়ে যাচ্ছি।
একটু ইমোশনাল কথাতেই কান্না পায়। একটুতেই আবার রাগ লাগে। আবার একটু তুচ্ছ কারনেই খুবখুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।
তুমি যে অমন করে বললে আপু কালকে........."প্রার্থনা করেছি আমার কোন শুভ-র বিনিময়ে হলেও সৃষ্টিকর্তা যাতে তোদের ভালোবাসার পূর্ণতা দেন। নাহলে এই মানবজীবন, স্নেহ-মমতা সব অর্থহীন হয়ে যাবে।"
কালও কেঁদেছিলাম আজো কাঁদছি আপু।ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে মনিটর!
আমি কি সত্যি পাগল হয়ে যাচ্ছি আপু? একটুতেই আমার কান্না পায় কেনো?
উপরের চিঠিটি ছিলো আমাকে লেখা তাজীন আপুর একটি চিঠির উত্তর।তাজীন আপুর চিঠিটা নিচে দিলাম। এর আগেও আরেকটা পোস্টে এই চিঠিটাই পেস্ট করে দিয়েছিলাম। আবারও দিলাম। পুরোনো মেইল পড়া আমার এক পুরোনো অভ্যাস। বার বার পড়তে ইচ্ছে করে ফেলেআসা দিনের ফেলে আসা ভালোবাসার মানুষ গুলোর লেখার মাঝে বলা কথাগুলো। প্রতিফলন, এ মেইলটা আমি হয়তো জীবনে আরো অনেকবারই পড়বো। ঠিক যেমন এখনও পড়ি তোমার বা অনেকেরই লেখা পুরোনো মেইলগুলো, বারবার ।
তাজীন আপুর মেইলটা...........
তুই কে আমি জানিনা। ব্লগের নিকগুলোর আড়ালে যে মানুষ সেটা থেকেই তোদেরকে, তোদের ভালোবাসাকে জানি। আমার অসম্ভব ভালোলাগা জানাতেই আলাদাভাবে মেইল করতে ইচ্ছে হলো। তোদের আবেগীয় কথাগুলো পড়ে আমি কতটা আপ্লুত হয়েছি, হই তা লিখতে পারবো একদিন আশা করি। তুই বিশ্বাস করবি কিনা জানিনা, আমি কেঁদেছি একটা পর্ব পড়ে। তোদের বিচ্ছেদের পর মানসিক অবস্থার কথা আছে যেটাতে। আর সাথে সাথে প্রার্থনা করেছি আমার কোন শুভ-র বিনিময়ে হলেও সৃষ্টিকর্তা যাতে তোদের ভালোবাসার পূর্ণতা দেন। নাহলে এই মানবজীবন, স্নেহ-মমতা সব অর্থহীন হয়ে যাবে।
তোর মানুষটাকে শুভেচ্ছা জানাস। ভালো থাক দু'জনে।
তুমি তো জানোই প্রতিফলন, সেদিন রাতে যখন এই মেইলটা পড়ি আমি তখন কি ভীষন মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো আমার। আর কি আশ্চর্য্য!!! তোমাকে মেইলটা সেন্ড করতেই তুমিও একি কথাই বললে। বললে মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেলো। আসলে এই পৃথিবীতে নিস্বার্থ ভালোবাসাগুলো আজো যে বেঁচে আছে তাজীন আপুর মেইলটাই ছিলো সেটার প্রমাণ আর তাই তো পড়ার সাথে সাথেই আমাদের দুচোখ ভরে উঠেছিলো জলে।তুমি বলো প্রতিফলন নাহলে কোথাকার কোন বরুনা তাকে এইভাবে একটা মেইল লেখা যায়? কোথাকার কোন প্রতিফলন আর বরুনা আর তাদের ভালোবাসা কোন চুলোয় গেলো এই নিয়ে কেউ এতটা ভাবে?আসলেই এই ব্লগে এসে যে কতগুলো মানুষের ভালোবাসা পেলাম এই ব্যপারটা এই জীবনে কখনও ভোলা হবেনা। তুমি আর আমি আমাদের ভালোবাসার সাথে চীরতরে জড়িয়ে রবে এখানে হঠাৎ কুড়িয়ে পাওয়া এই সকলের ভালোবাসা।
তাজীন আপুর সেকেন্ড চিঠিটার জবাব আমি সেদিন আপুকে দেয়নি। ভেবেছিলাম বসন্তদিনে ঐ চিঠিটার জবাব লিখবো । আমার বসন্তদিনের ভালোবাসার সাথে চিরতরে জড়িয়ে থাকুক আমাদেরকে যারা এখানে ভালোবেসেছিলো তাদের কিছু স্মৃতি!
সেকেন্ড চিঠিতে আপু লিখেছিলো,
পাগলী,
পূর্ণতা বলতে আমি দু'জন ইচ্ছেমত পাশে থাকাটাই বুঝি। এটাকে সহজ বাংলায় বিয়েই বলতে হবে। অন্তত আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিয়েই ভালোবাসার বৈধতা দেয়। আমি জানি তোরা ভালোবাসার সবগুলো সোপান বিয়ে না করেও ডিঙ্গোতে পারবি। অনুভূতির তো কোন বৈধতা দরকার হয়না। কিন্তু আমি তোদের একটা নির্বিঘ্ন ভালোবাসাময় পরিণতি চাই। বিঘ্নগুলো যাতে লজ্জায় দৌড়ে পালায়, তোদের অনুভূতির প্রাবল্যের কাছে যাতে হার মানে।
তোর নামটা খুব সুন্দর, শ্রাবন্তী শারমিন। তোকে, তোদেরকে জানার ইচ্ছা, যোগাযোগের আবেদন আরো বেড়ে গেলো আমার কাছে। ভালো থাকিস।
আপুকে বলছি, আপু তোমার এই চিঠিটার জবাব আমি দেয়নি সেদিন। আসলে জবাব দেবার ভাষা আমার সেদিন ছিলোনা। তুমি এমন করে কথাগুলো লিখেছিলে চিঠিতে যেন কোনো ভালোবাসার দেবী আফ্রোদিতি এর বাণী শুনেছিলাম বুকের কোনো গভীরে। আপু তুমি জানোনা একটা কথা, বিয়ে কেনো দুজনে আজীবন খুব এই ভাবে পাশাপাশি থাকাটাও আমাদের হবেনা।তবে ভালোবাসার সবগুলো সোপান আমরা ডিঙুবো। নিবিঘ্ন ভালোবাসা আমাদের পাওয়া হবেনা হয়তো। তবুও বিঘ্নে নিবিঘ্নেই আমরা যে যেখানেই থাকি ভালোবাসার বারতা ঠিকি পৌছে দেবো। ভালোবাসার বারতা পৌছোবো আমার প্রতিফলনের হৃদয়ে। তুমি ঠিক বলেছো আপু , আমাদের অনুভূতির প্রাবল্যের কাছে হার মানতেই হবে পৃথিবীর সকল বিঘ্নতার।
Click This Link
তোমার জন্য একটা গান।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৮:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



