somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***আসুন জেনে নিইঃ আমাদের সমাজে প্রচলিত কতগুলো বিশ্বাস এবং কর্ম যা বাস্তবে শিরক***

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিরকের শিকর আমাদের মাঝে এমনভাবে ঢুকে গেছে যে শিরক করাটাকেই স্বাভাবিক মনে হয়!!! দৈনন্দিন জীবনে আমরা এমন কতগুলো কাজ করি বা এমন কতগুলো বিষয়ে বিশ্বাস করি যার কোন ভিত্তি নেই। এই সব ভিত্তিহীন কাজ এবং বিশ্বাস আমাদের জীবনকে কঠিন করে দেয় যদিও অনেক সময় আমরা এই বিষয়টি বুঝতেই পারি না। আজকে যে দুইটি বিষয় নিয়ে লিখব তাহলো: ভাগ্যগণনা, রাশিফল,গণক এবং কুলক্ষণ।

ভাগ্যগণনা, রাশিফল, গণক এতই জনপ্রিয় যে আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোতে এগুলো নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে থাকে। এই রাশিফলগুলোতে অনেক বিষয় উল্লেখ থাকে যেমন: সপ্তাহে আপনার কোনদিনটি ভাল যাবে, কোন দিনটি শুভ প্রভৃতি। রাশিফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া, অনেকে বলে থাকেন কি করব রাশির দোষ! রাশিফল বিষয়টি বেশী কাজ করে তরুন প্রজন্মের মাঝে বিশেষ করে যারা জোড় করে সমাজ স্বীকৃত প্রেম-ভালবাসায় জড়িত থাকেন। ভাগ্যগণনা এবং গণকের কাছে যেয়ে ভবিষ্যত কর্মপন্থা ঠিক করতে দেখা যায় অনেককেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে আসল, তারপর তাকে [ভাগ্য সম্পর্কে]
কিছু জিজ্ঞাসা করলো, অতঃপর গণকের কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল,
তাহলে চলি−শ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হবে না। (মুসলিম)


“যে ব্যাক্তি গণকের কাছে আসলো, অতঃপর গণক যা বললো তা সত্য
বলে বিশ্বাস করলো, সে মূলতঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যা নাযিল করা হয়েছে তা অস্বীকার করলো।
(সহীহ বুখারি ও মুসলিম)

“যে ব্যক্তি পাখি উড়িয়ে ভাগ্যের ভাল-মন্দ যাচাই করলো, অথবা যার
ভাগ্যের ভাল-মন্দ যাচাই করার জন্য পাখি উড়ানো হল, অথবা যে ব্যক্তি
ভাগ্য গণনা করলো, অথবা যার ভাগ্য গণনা করা হলো, অথবা যে ব্যক্তি যাদু করলো অথবা যার জন্য যাদু করা হলো অথবা যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে আসলো অতঃপর সে (গণক) যা বললো তা বিশ্বাস করলো সে ব্যক্তি মূলতঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যা নাযিল করা হয়েছে তা (কুরআন) অস্বীকার করল।
(বায্যার)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে ‘মারফু’ হাদীসে বর্ণিত আছে, পাখি
উড়িয়ে ভাগ্য গণনা করা শেরেকী কাজ, পাখি উড়িয়ে লক্ষণ নির্ধারণ করা
শেরেকী কাজ, একাজ আমাদের নয়। আল্লাহ তাআলা তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে মুসলিমের দুশ্চিন্তাকে দূর করে দেন।
(আবু দাউদ, তিরমিজী)

অনেকেই তার ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, ব্যবসায় উন্নতির জন্য, কোন রোগ থেকে বাঁচার জন্য পাথরের উপর বিশ্বাস করতে শুরু করে এবং বিভিন্ন প্রকার পাথর পরিধান করা শুরু করে যেমন: রক্ত প্রবাল, ক্যাটস আই প্রভৃতি। রহস্য পত্রিকা, অনেকের নিকটেই হয়তো পরিচিত; এই পত্রিকার প্রতি মাসের সংখ্যায় এই পাথর বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়! এই ব্যাপারটি অনেকটা এই পাথরগুলোকে পূজা করার সামিল। অর্থাৎ পাথরের উপর এমনভাবে বিশ্বাস করা হয় যেমনটি করা উচিত ছিল একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য।

“তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো, তাহলে একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করো।” (মায়েদা : ২৩)

“ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহ তাআলাই
যথেষ্ট।” (সূরা তালাক . ৩)


জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করে তারা গণনা করে ভাগ্য গণনা করা হয় যা স্পষ্ট শিরক।
“তোমরা (নক্ষত্রের মধ্যে তোমাদের) রিজিক নিহত আছে মনে করে
আল্লাহর নেয়ামতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছো।”
(ওয়াকেয়া . ৮২)

এরপর আসি কুলক্ষণের কথায়, আমাদের মাঝে অনেকেই বলে থাকেন আজকে সকালে যে কার মুখ দেখে উঠেছি! দিনটাই মাটি হয়ে গেল। আবার অনেকে বলে থাকেন আমার নিকট সপ্তাহের অমুক দিনটি কুফা, অমুক রংটি আমার জন্য কুফা, অমুক কাজের পর তমুক কাজ অমঙ্গল বয়ে আনে, অমুক কথাটি বললে আমার কাজটি সফল হয় না, অমুকের সাথে চললে আমার বিপদ হয়, অমুক খাবারের পর তমুক খাবার খেলে অমঙ্গল হয় প্রভৃতি। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে বাচ্চাদের কুলক্ষণ থেকে বাঁচানোর জন্য কপালে বেশ বড়করে একটা কালো টিপ দিয়ে রাখা হয়, এই টিপ তাদের বিভিন্ন প্রকার কু-থেকে রক্ষা করবে! (স্পষ্ট শিরক)।

“মনে রেখো, আল্লাহর কাছেই রয়েছে তাদের কুলক্ষণসমূহের চাবিকাঠি। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই তা বুঝে না। (আরাফ: ১৩১)
অর্থাৎ পৃথিবীর কোন জিনিসই কুলক্ষণের কারণ নয়, এই এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত। কাজেই কেউ যদি বিশ্বাস করে অমুক জিনিস কুলক্ষণ বয়ে আনে সে স্পষ্টতই শিরক করবে।


আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “দ্বীন ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি, কুলক্ষণ বা দুর্ভাগ্য, কথার কুলক্ষণ বলতে কিছুই নেই।”
(বুখারি ও মুসলিম)

বুখারি ও মুসলিমে আনাস (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত আছে, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি আর কুলক্ষণ বলতে কিছুই নেই।


আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, ‘কুলক্ষণ বা দুর্ভাগ্যের ধারণা যে ব্যক্তিকে তার স্বীয় প্রয়োজন, দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে
দূরে রাখলো, সে মূলতঃ শিরক করলো।


ফজল বিন আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে طيرة (তিয়ারাহ) অর্থাৎ
কুলক্ষণ হচ্ছে এমন জিনিস যা তোমাকে কোন অন্যায় কাজের দিকে ধাবিত করে অথবা কোন ন্যায় কাজ থেকে তোমাকে বিরত রাখে।” (আহমাদ)


এই বিষয়গুলোর কোন ভিত্তি নেই, একত্ববাদে বিশ্বাসী একজন মুসলিমের কোনভাবেই উপরোক্ত বিষয়গুলোতে বিশ্বাস বা কাজগুলো করা উচিত নয়।

এই বিষয়গুলো থেকে আমরা যে বিষয়গুলো শিখলামঃ
*** গণনাকারীকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং কুরআনের প্রতি ঈমান
রাখা, এ দুটি বিষয় একই ব্যক্তির অন্তরে এক সাথে অবস্থান করতে পারে
না।
***জ্যোতির্বিজ্ঞান তথা তারা গণনা করে ভাগ্য রচনা স্পষ্ট শিরক।
*** দুর্ভাগ্যের ব্যাপারে অস্বীকৃতি (অর্থাৎ দুর্ভাগ্য বলতে ইসলামে কোন
কিছু নেই)
***কুলক্ষণের কারণে কোন ভাল কাজ থেকে বিরত থাকা মোটেই উচিত নয়, এমনটি করতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেননি।
*** কুলক্ষণে বিশ্বাস স্থাপন স্পষ্টত শিরক এবং এথেকে বেঁচে থাকা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।


মহান আল্লাহ আমাদের শিরকপূর্ণ কথা, কাজ ও চিন্তা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।

***শিরক এবং তার ভয়াবহ পরিণাম***
***আসুন জেনে নিইঃ আমাদের সমাজে প্রচলিত কতগুলো কথা যা বাস্তবে শিরক***
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮
১৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×