গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ প্রসঙ্গে।।
২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩
অনেক নামজাদা লেখকেরও আজেবাজে ধরনের লেখা থাকে। একটা কিবা দুইটা বই ভাললাগাই যথেষ্ট। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজই আমার কাছে সেই লেখক যার বেশির ভাগ বই নির্দিধায় পড়া যায়। গাবোর গল্পবলার ঢং ভয়ানক রকমের আগ্রাসী। তার বই পড়তে পড়তে বিহ্বল হয়ে যেতে হয়। তার যে বইটা প্রথম পড়ি সেটা No One Writes to the Colonel মহান অনুবাদক মানবেন্দ্র দা কৃত অনুবাদ কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখেনা। এটাকে বড় গল্প কিংবা গাবোর ভাষায় নভেলা বলা যায়। ছোট একটা বই কিন্তু কী শক্তিধর! একটা মহাকাব্যিক আবহ আছে বইটায়। আহা সে বুড়া কর্নেল দিনের পর দিন এমন এক চিঠির প্রতীক্ষা করে যা কখনো আসবেনা তার কাছে। আর সে ভাবতে থাকে এই তো এলো । শেষ হল আমার দুর্দশার। এরপর হাতে আসে মানবেন্দ্রদার অনুবাদে ইনোসেন্ট ইরিন্দিরা ও তার নিদয়া ঠাকুমার কাহিনী। এটা মূলত একটা গল্প সংকলন। কিন্তু বিশেষ করে ইরিন্দিরা গল্পটা পড়ে বিহ্বল হয়ে যেতে হয়। পুরা বইটার পরতে পরতে কবিতার আমেজ। ইরিন্দিরা ও তার রাক্ষসী ঠাকুমার অন্তহীন অভিযাত্রা ভয়ানক। ঠাকুমার হারানো সম্পদের টাকা তুলতে ইরিন্দিরাকে যে ভাবে সারা দেশের মেলায় মেলায় বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য করে ঠাকুমা। এ এক হৃদয় বিদারক গল্প। আর সেই ছেলেটি যে ইরিন্দিরার প্রেমে পড়ে আর তার ছুয়ায় সব জলভরা গ্লাসগুলো নীল হয়ে যেতে থাকে। মা তাকে জিজ্ঞেস করে তুমি কি প্রেমে পড়েছো অসম্ভব সুন্দর এই দৃশ্যটা। এর পর পর্যাক্রমে One Hundred Years of Solitude , এই যুগান্তকারী বইটি সম্পর্কে লিখতে গেলে ১০০ পৃষ্টা লেখা যায়। সেটা পড়ে নি এমন পাঠক সম্ভবত দুনিয়ায় বিরল। Love in the Time of Cholera , আরেকটি অসাধারণ উপন্যাস। এই বইটি মার্কেজের বাবা মায়ের প্রেমের কাহিনী বলে গুজব আছে। The Autumn of the Patriarch, Chronicle of a Death Foretold, The General in His Labyrinth , Of Love and Other Demons, Memories of My Melancholy Whores, এই শেষ বইটি ছাড়া অন্যান্য সবগুলো বই-ই মার্কেজীয়। শেষ বইটি আমার কাছে মার্কেজের বই বলে মনে হয়নি। সম্প্রতি পড়ছি Living to Tell the Tale। যাইহোক মার্কেজের একটাই শক্তি সেটা হচ্ছে গল্প বলার শক্তি। তার ধারণা সমূহ সমর্থন করি বা না করি তার লেখা পড়তে ভাল লাগে সেটাই হচ্ছে আসল। সমালোচকরা একজন সফল লেখক পেলেই সে কোন ঘরানার তাকে চিহিৃত করতে উঠেপড়ে লাগেন। মার্কেজকে ম্যজিক রিয়ালিজম লেখক হিসাবে তকমা মারা হয়। হয়তো সেটা ঠিক। অন্যদের কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা। কিন্তু সর্বোপরি গল্পকার মার্কেজ একজনই। তার অধিকাংশ বই প্রকাশিত হবার সাথে সাথেই ক্লাসিক হবার মর্যাদা লাভ করেছে। কিন্তু মার্কেজের এতগুলো বই পড়ার পর আমার কাছে মনে হয়েছে মার্কেজ যেন যৌনতাকে তার লেখায় শিল্পের বা তার লেখার দাবির চাইতেও বেশি ব্যবহার করেছেন। মার্কেজের কিছু কিছু বই পড়তে পড়তে পর্ণোগ্রাফি পড়ার অনুভূতি হয়। তলস্তয় তার what is art বইতে লিখেছিলেন। প্রত্যেক মৌলিক লেখকরাই এক সময় তার লেখার মুখোমুখি দাড়ায়, দাড়াতে হয় বলে। সে খুঁজে ফেরে তার লেখার উদ্দেশ্য। কেননা তার আছে প্রতিশ্রুতিশীলতা মানবজাতির তথা সভ্যতার কাছে । সে অর্থে এখন উপলব্ধি করি মার্কেজ মহত লেখক নন কিন্তু অসাধারণ লেখক।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
জয় সরকার বলেছেন:
ভালোই লাগল পড়তে।জানার আছে অনেক কিছু।
আফসার নিজাম বলেছেন:
আসসালাম।গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ আমার প্রিয় লেখক। তাঁর লেখার আলোচনা করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মা'আসসালাম
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
এর পর পর্যাক্রমে One Hundred Years of Solitude , এই যুগান্তকারী বইটি সম্পর্কে লিখতে গেলে ১০০ পৃষ্টা লেখা যায়।আমার মনে হয় এই লেখাটা পইড়াই সমরেশ তার অনিমেশ নামের বিপ্লবী চরিত্র বানাইছে!
লেখক বলেছেন: আপনার কেন মনে হল একটু তুলনামূলক আলোচনা করলে পরিস্কার হয়।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
পরে পড়বো।
বলশেভিক বলেছেন:
অসাধারন লেখক।of love and other demons দিয়ে তার লেখার সাথে পরিচয় ।one hundred years of solitude তার লেখা প্রিয় উপন্যাস।
সৌম্য বলেছেন:
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ কলেরা দেখছি। মোটামুটি লাগছে।
লেখক বলেছেন: ছবিটা দেখা হয়নাই। কোথায় পাওয়া যেতে পারে?
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
ভালো লেগেছে।
মাশা বলেছেন:
সবাইকে ধন্যবাদ। যদিও অনেক আগে সামহোয়ারে নিয়মিত লিখতাম। মাঝখানে অফ ছিলাম। এখন ভাবছি আবার নিয়মিত হব।
সুবিদ্ বলেছেন:
লিখুন নিয়মিত
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২ বলেছেন:
++
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















