ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টে কাজ করতে তেমন খারাপ লাগেনা যদিনা কাজের পরিবেশ খারাপ হয়।কলিগরা ভালো হলে তাড়াতাড়ি কাজ শেখা যায়।।আমার কলিগরা ভালই ছিলো।ওয়েটার সবই ঢাকার লোক।ভিজিট ভিসায় এসে অবৈধভাবে রয়ে গেছেন।অথচ এদের মধ্যে একজন দেশে খুব ভালো কাজ করতেন।এখানে কিসের আশায় পরে আছেন তা আমার জানা নেই।কিচেনের লোকরা বেশীরভাগই অশিক্ষিত।অশিক্ষিত বলেই হয়তো কিচেনে কাজ করে।
আমি সবসময় সবার সাথে মানিয়ে চলি।সুতারাং আমার সাথে কখনও কারো ঝগড়াঝাটি হতো না।উইকডেগুলো মুটামুটি কম বিজি থাকে কিন্তু উইকেন্ড এ খুব বেশী বিজি থাকতো।রাতে বাসায় আসতে দুটা বাজতো।প্রায়ই উইকেন্ডে বাসায় ফিরে ঐ অবস্থায় শুয়ে পড়তাম।ভাবতাম কিছুক্ষণ পর উঠে কাপড় ছাড়বো।ক্লান্ত শরীরে গভীর ঘুমে রাত কেটে যেত কখন টেরই পেতামনা।
সকালে ঘুম ভাঙ্গতো কলিগের ডাকে।সকাল দশটা।আবার কাজের সময় হয়ে গেছে।আড়াইটা থেকে সাড়ে পাচটা পর্যন্ত বিরতি।সেই সময়টাতে গোসল করা কাপড় ধোয়া কিংবা ব্যাক্তিগত কাজে ব্যায় করতাম।এরপরও কিছু সময় বাচলে বই পড়তাম।
এইরকমভাবে যখন দিন কাটছিলো তখন ঘটলো এক দূর্ঘটনা ।এক উইকেন্ডে বিজির সময় কাজ করতে গিয়ে ফ্রনট ডোরের সাথে ধাক্কা খেলাম সামনাসামনি।ছিটকে পড়লাম উল্টা দিকে।নাক মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো।সামনের একটা দাতের অর্ধেকটা ভেঙ্গে গেছে।কলিগরা আমাকে ধরে রেষ্টরুমে নিয়ে গেলো।ফাষ্ট এইড লাগিয়ে দিলো।এর মধ্যে কেও একজন এম্বুলেন্স কল করেছিলো।তারা এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দিলো।রক্ত বন্ধ হওয়ায় তারা হাসপাতালে নিলোনা।
এরপরের দিন এই অবস্থায় কাজ করলাম।রাতেই ব্যাথার ঔষধ খেয়ে নিয়েছিলাম অবশ্য।
সম্পর্ণ সুস্থ হতে সপ্তাহখানেক লাগলো।কিন্তু দাত নিয়ে চিন্তায় পড়লাম।ইংল্যান্ডে দাতের চিকিৎসা অনেক বেশী ব্যায়সাধ্য।
চলবে............
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


