এর মধ্যে একটা কলেজে ভর্তি হয়ে ইংলিশের উপর ডিপ্লোমা শুরু করি।সপ্তাহে দুদিন ক্লাশ ছিলো ।অনেক বাঙ্গালী বন্ধু ও জোটে যায়।এদের মধ্যে তালাল নামের একজনের সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। বিটুলদার বাসা ছাড়ার আগে তালালের সাথে পরিচয় হয়েছিলো।তালালকে বাসা র কথা বলতেই সে তার বাসায় উঠতে বলে।আমিও কোন উপায় না দেখে তার বাসায় উঠে পরি।তালাল তার গালফ্রেন্ড নিয়ে থাকে দুররুমের এক বাসায়।তারা আমাকে একটা রুম ছেড়ে দেয়।
সত্যিকারের বন্ধুত্ব কাকে বলে আমি বুঝেছিলাম সেদিন।আমি যতদিন তাদের বাসায় ছিলাম তারা আমাকে রান্না করিয়ে খাইয়েছে।একটা পয়সাও বাসাভাড়া নেয়নি।।
দরকারের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসটা যেমন পাওয়া যায়না আমার ও অবস্থা সেইরকম।একটা কাজ দরকার বেচে থাকার জন্য।অনেক ঘুরেও কাজ পাওয়া যাচ্ছিলোনা। পরিচিত সবাইকে ফোন করে সাহায্য চাইলাম।সবাই চেষ্টা করবে বলে সান্তনা দিতে লাগলো।
কিছুদিন পর এক বন্ধু একটা কাজের সন্ধান দিলো।রাস্তায় দাড়িয়ে কম্পানীর কার্ড বিলি করা।এই প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে ঘন্টায় পাচ পাউন্ডের এই কাজ বিপদে না পড়লে কেউই করবেনা।কিন্তু আমার অন্য কোন উপায় নেই।একটা ছোট ইন্টারভিউ দিয়েই পেয়ে গেলাম কাজটি সহজেই।প্রতিদিন পাচঘন্টা করে সপ্তাহে চারদিন।পরের সপ্তাহেই কাজে নেমে পড়লাম।
শীতের কাপড় পড়ে মাথায় কানটুপি দিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কার্ড বিলি করলাম।প্রথমদিন খুব কষ্ট হলো।পা ব্যাথা করলো খুব।কয়েকদিন এই কাজ করার পর বুঝলাম এই কর্ম আমাকে দিয়ে হবেনা ।এর মধ্যে তালাল তার পরিচিত এক রেষ্টুরেন্ট এ ওয়টারের একটা কাজ যোগাড় করে দেয়। খাওয়া থাকার সমস্যা নেই।ভালো বেতনও দেবে।
বহু ভেবে চিন্তে এই কাজটা ছেড়ে রেষ্টুরন্টএ ওয়েটারের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
চলবে...............
{যাদের উৎসাহে পুনরায় এই ধারাবাহিক জীবনকাহিনী লিখতে শুরু করলাম সেই ক্ষ্যাপা ভাই ও রাশেদ ভাইকে ধন্যবাদ।}
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৩:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


