somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামু কি কর্পোরেট ব্লগ??:::মডারেটরে'র কাছে প্রশ্ন ও সব ব্লগারের দৃষ্টি আর্কষন করছি

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে আরিফ জেবতিকের একটি লেখা পড়ে আমার চোখ আটকে গেল। এবং আমি খুব শংকিত যদি এমনটি হয়..... আরিফ জেবতিকের ঐ লেখা র কিছু অংশ আমি বোল্ড করে দিচ্ছি যে গুলো খুব ই শংকিত হয়ার মত।

আর সবার কাছে অনুরোধ দয়া করে পুরো লেখাটি পড়েন.......

আর সামু মডারেটরের কাছে আমার প্রশ্ন.......

আসলে সামু কোনটি??

আরিফ জেবতিক তার লেখাতে তিনি লিখেছেন::

অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ অপরিসীম সম্ভাবনার দেশ, এখানে কোটি কোটি মানুষ সহজেই মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টানেট ব্যবহার করতে পারে বা পারবে। সুতরাং কয়েক বছরের মাথায় এটি একটি বড় খাত হিসেবে তৈরি হয়ে যাবে। সুতরাং জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলো যাদের দখলে থাকবে, বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের দিকে ঝুকবে।
এই হিসাব থেকেই কর্পোরেট কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের মনোপলি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ব্লগ নিয়ন্ত্রনের দোহাই সেই হিসাবেরই একটি অংশ। তুমি খেয়াল করে দেখবে যে বাংলাদেশের একটি বড় কর্পোরেট ব্লগ সাইট এখানে উদ্যোগ নিয়েছে এবং এই উদ্যোগের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান, সেগুলোও কর্পোরেট এবং তাদের স্বার্থও ইন্টারেস্টিং।


তিনি আরো বলেন::

কর্পোরেটদের সঙ্গে এখানে পলিটিশিয়ানদের স্বার্থও মিলে গেছে। রাজনীতিবিদরা তাদের সমালোচনা পছন্দ করে না। বিশেষ করে সরকারগুলো মুখে মুখে চলে আসা প্রচার প্রপাগান্ডাকে গুরুত্ব দেয়। দেয়াটাই স্বাভাবিক, কারণ জনমত নিয়েই তাদের অস্তিত্ব।
এখন আগে এ ক্ষেত্রে পত্রিকাগুলোকে সরকার মনিটর করত, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে চাপে রাখত, এখন এর সঙ্গে জড়িয়েছে ইন্টারনেট। মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক মতামত সরাসরি ব্লগে ও সামাজিক সাইটে প্রকাশ করছে এবং এর অনেকগুলোই রাজনীতিবিদদের জন্য সুখকর নয়।
এছাড়া এটি বিকল্প সংবাদ মাধ্যম হিসেবেও সরকারকে ভোগান্তিতে ফেলছে। বিএসএফ কাউকে গুলি করলে সরাসরি সে খবর ব্লগ চলে আসছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারকে তুলোধুনো করছে। প্রচলিত মিডিয়া নিয়ন্ত্রন করে খবর ব্ল্যাক আউট করা যাচ্ছে না। তেল গ্যাস বন্দর রক্ষার আন্দোলনটি তুমি দেখবে যে অনেকখানিই ব্লগ ও সামাজিক ওয়েবসাইটগুলোর কল্যানে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে, মার্কিনী প্রভাবে দেশের প্রচলিত মিডিয়াগুলো এ সংক্রান্ত খবর সহজে প্রকাশ করতে চায় না।
তুমি দেখবে যে অনেক সাংবাদিক যারা পেশাগত কারণে নিজেদের পত্রিকায়ও সব প্রকাশ করতে পারেন না, তারাও ব্লগের আশ্রয় নিচ্ছেন।
এখন এসব নিয়ে সরকার এমনিতে হয়তো চিন্তিত হতো কম, কিন্তু সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে সরকার পতনের পর আমাদের দেশের সরকার ও রাজনীতিবিদরাও এ ব্যাপারে সতর্ক হয়ে পড়েছেন।
কিন্তু যেহেতু বেশির ভাগ রাজনীতিবিদদেরই তেমন একটা ধারণা নেই এই নতুন মাধ্যম সম্পর্কে, সেখানে কর্পোরেট গোষ্ঠি তাই তাদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টায় রত হয়েছে। তারাই নিজেদেরকে বাংলাদেশের একমাত্র ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই মার্কেটিংয়ের সূত্র ধরেই তারা মিছিল টিছিল করছে।
তারা এই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার ভালো পারে, ইনফ্যাক্ট যেকোনো কর্পোরেটই পারে, এটা তাদেরকে পারতে হয়।


এখন এসব ব্লগ যেহেতু উন্মুক্ত ও অনেক বেশি করে বাকস্বাধীনতার চর্চা করে, সুতরাং এরাও একটি বড় অংশের পাঠককে পায়। আমারব্লগ-সচলায়তন-নাগরিক ব্লগ-মুক্তমনা-আমরা বন্ধু ধরনের ব্লগগুলো তৈরি হয়েছে সাধারণ ব্লগারদের নিজস্ব উদ্যম ও উদ্যোগে, কিন্তু দেশের একটি বড় ব্লগার অংশ এখানে নিজেদের স্বার্থেই ব্লগিং করছেন, কোনো বানিজ্যিক উদ্দেশ্য থেকে নয়। এরা একটি বড় পাঠক ও লেখক গোষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি কর্পোরেটদের মনোপলি ব্যবসার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সুতরাং এসব ব্লগকে নিয়ন্ত্রন করতে কর্পোরেট ব্লগগুলো একাট্টা হবে, এমনটাই স্বাভাবিক।

এখানে আমার প্রশ্ন যে সামুর নাম নেই কেন উপরে উল্লেখিত ব্লগের মধ্যে??? তাহলে কি সামু কর্পোরেট ব্লগ নাকি?? দয়া করে মডারেটররা একটু বোলবেন......

আইনে সমস্যা হয় না, সমস্যা হয় আমাদের প্রচলিত কাঠামোতে আইনের অপব্যবহারে। মনে রাখতে হবে যে একটি প্রবাদ আছে-আকাশে যতো তারা, পুলিশের ততো ধারা।

তুমি খেয়াল করে দেখবে যে আমাদের পলিটিশিয়ানরা কিন্তু ওয়েব নিয়ে যত বক্তব্য দিচ্ছেন সেগুলোর সবই তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ। অর্থাৎ রাজনীতিবিদদেরকে গালি দেয়া হচ্ছে, তাদের নিয়ে কার্টুন আকা হচ্ছে, এসবই হচ্ছে তাদের অভিযোগ।
এখন এই আইন তৈরি হলে এসব সেখানে গুলিয়ে দেয়া হবে।
তখন ওয়েবে অনেক কিছুই লেখা যাবে না, অনেক কিছুই করা যাবে না। এইচটি ইমাম বলছেন ওয়েবসাইটে কারো কুরূচিপূর্ণ কার্টুন আঁকা যাবে না। এখন বলো কুরূচির সংজ্ঞা কী হবে? হুদা বিএনপির পত্রিকাগুলোতে কার্টুন আকেন, আমার মতে তিনি ভালোই আঁকেন। কিন্তু এইচটি ইমামের কাছে সেগুলো হয়তো কুরূচিপূর্ণ মনে হতে পারে। আবার গোলাম আযমের ছবি ইটসেল্ফ আমার কাছে কূরূচিপূর্ণ, কিন্তু বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে তারা এই আইনের জোরেই গোলাম আযমকে নিয়ে আঁকা সূজন চৌধুরীর মাস্টারপিস কার্টুনগুলোও বন্ধ করে দিতে পারে।


সারা বিশ্বে আসলে সাইবার ক্রাইম বলতে যেসব অপরাধ আলোচিত, সেগুলো নিয়ে এখানে কথাবার্তা হচ্ছে না। সাধারণত হ্যাকিং করা, অন্যের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করা এসবকেই বিশ্বে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
কিন্তু আমাদের এখানে সরাসরি ব্লগ নিয়ন্ত্রনকে সামনে আনা হচ্ছে। হ্যাকিং বা প্রতারণা নিয়ে কথাবার্তা শুনি না। একই ভাবে শিশু পর্ণোগ্রাফি বিষয়ে কথা নেই। অনেক ওয়েবসাইট যে কপিরাইট তোয়াক্কা না করে বই স্ক্যান করে তুলে রাখছে বা গান ডাউনলোডের ব্যবস্থা করছে, এতে করে প্রকাশক-লেখক-শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এসব নিয়ে সাইবার আইন প্রেমীদের কোনো কথা নেই। তাদের যাবতীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে যে ব্লগ নিয়ন্ত্রনের চেষ্টায় রত।এতে করে সরকারের পক্ষে নতুন করে কালাকানুন তৈরি ও প্রয়োগ সহজ হবে।


এছাড়া যে কেউ একটি মনগড়া ওয়েবসাইটে নিজের নামেই অশ্লীল বাক্য লিখে বা ছবি আপলোড করে কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে হয়রানি করতে পারবে। ইতিমধ্যেই এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিছু অশ্লীল সাইটের দায় দায়িত্ব কোনো প্রমান ছাড়াই এমন কিছু ব্লগারের ঘাড়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে যারা সরাসরি অনলাইনে প্রো ৭১ । আইন হলে তখন এসব অনেক বেড়ে যাবে। শিবিরের পক্ষে চট করে একজন সুশীল ভাঁড়কে ভাড়া করে এমন সাইট তৈরি করে সেখানে কিছু ছবি ও অশ্লীল কথাবার্তা লিখে সেই সুশীল ভাঁড়কে দিয়ে মামলা করিয়ে দেয়া সহজ হবে। সোজা কথায় হয়রানিটা চরম হবে।
এমনিতে সাধারণদের উপকারে এই আইন খুব একটা আসবে না। সাধারণ একজন ব্লগার ব্লগে গালি খেয়ে গিয়ে মামলা করবেন, আর সেই মামলার সূত্র ধরে পুলিশ হাইড করা আইপি ট্রেস করে গালিদাতাকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করবেন, এমনটা বাস্তব বিবেচনায় দূরাশা। যদিও এই মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই আইন প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে।


১/১১'র পরদিনই দেশের প্রধানতম কর্পোরেট ব্লগ সাইটটি নিজে থেকে ভয় পেয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল। অথচ সেই সময়েই ব্লগকে বেশি প্রয়োজন ছিল সবার। পরে তারা হাওয়া বুঝে একদিন পরে সাইট খুলে দেয়।
অন্যদিকে অবানিজ্যিক সাইট সচলায়তনকে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন সরকার, যদিও পরে সেটি উন্মুক্ত করতে বাধ্য হয়।

আমি জানি না সামু কি ঐ সময় বদ্ধ হয়েছিল কি না?? সাধারন ব্লগারের দৃষ্টি আর্কষন করছি....

এখানেই কর্পোরেট সাইট আর অবানিজ্যিক সাইটের মাঝে তফাৎ। কর্পোরেটরা নিজেদের স্বার্থ দেখে সবসময়, তারা জরুরি রাজনৈতিক সময়ে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিবে, কারণ তারা বিভিন্ন সূতোয় ব্যবসা দিয়ে বাঁধা। এই সময়ে অবানিজ্যিক সাইটগুলো সাহসী হয়ে উঠবে, জনমানুষ সেখানে নিজেদের কণ্ঠ প্রকাশ করতে পারবে। উন্মুক্ত ব্লগ সাইটগুলোকে তাই লালন ও বিকাশের পথ করে দেয়া তাই গণমানুষের জন্যই প্রয়োজন।


দয়া করে মডারেটররা একটু ব্যাখা করবেন কি..........


সোর্স:::
আরিফ জেবতিকের লেখাটি এই

আজকের প্রথম আলোতে এইচ টি ইমামের কথা দেখুন
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:১৬
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×