আমার প্রিয় পোস্ট

পরাঞ্জয়ী...

.....................

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:০৫

শেয়ারঃ
0 2 0

বাবা,

কতদিন হল দেখিনা তোমায়! যখনই "মা" বলে ডাকতে যেন রোদে পোড়া শরীরে এক পশলা বৃষ্টির মত স্বস্তি পেতাম আমি। কতদিন হল সে ডাকটা আর শুনিনা। বাবা, তোমার কি মনে আছে কতদিন আমার মাথায় তোমার হাতটা রেখে চুমুর রেখা এঁকে দাওনি তোমার "মামণি" টার কপালে? তুমি কি জানো বাবা ভাঙছি আমি? প্রতিদিন একটু একটু করে? বাবা, সে ভাঙনে কোন শব্দ হয়না। ছোটবেলায় কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলে "মাগো, মানুষ হোস!" মানুষই হতে চেয়েছিলাম। আমি যে "মানুষ" তার একটা সার্টিফিকেটাল প্রুফও আছে বাবা। কিন্তু মাটি দি্যে যে মানুষ সে আমি কোনদিন হতে পারবনা বোধ হয়!

কেমন আছ বাবা? রাতে ঘুমাওনা আমি জানি। আমিও ঘুমাইনা বাবা। স্রেফ মরে যাই। প্রতিটা রাতে কয়েকঘন্টার জন্য মরে যাই আমি! মৃত্যুর পর নরকে যাই। বীভৎস দুঃস্বপ্নরা আসে "যণ্ত্রনা" হয়ে। আর কত শাস্তি পাব আমি? একটু ঘুমুতে চাই বাবা। ছোট্টবেলাটার মত "আয় আয়" বলে ঘুম পাড়িয়ে দাও না বাবা!! কিংবা ঐ গানটা গেয়ে গেয়ে পিঠ চাপড়ে ঘুম এনে দাও
"ওরে পাষানী, আমার চোখের ও পানি
আঁচল দিয়ে মুছে তখন যাস মামণি
তুই সেদিন হবি পর,যেদিন আসবে রে তোর বর
আমার এ ঘর শূন্য করে যাবি পরের ঘর"
বাবা, যাবার আর কি প্রয়োজন আছে? কোথাও যাব না বাবা। জগৎ সংসার টা বড্ড নীষ্ঠুর!

সারাদিন পর ঘরে ফিরে শূন্য ঘরটায় চোখ পড়লে বুকটা হু হু করে ওঠে। সারা ঘরময় যখন কথাটি কইবার কোন মানুষ খুঁজে পাইনা তখন মনে হয় "বেঁচে থাকার চেয়ে বড় শাস্তি আর কি হতে পারে?" তুমিই বলেছিলে "বাঁচার মত বাঁচতে হবে"। আচ্ছা বাবা, বাঁচার মত বাঁচা কাকে বলে? এমনি করে ছন্নছাড়া জীবনের নামই বেঁচে থাকা?!! আমি জানি হয়তবা আজীবনই আমার শুন্য ঘরটা আর ভরে উঠবেনা, কোনদিন না। তুমি যখন থাকবেনা তখন শুন্য ঘরে কাকে উদ্দেশ্য করে চোখের জলে লিখতে বসবো বাবা?

জানো বাবা আজ ভীষণ নির্মম একটা দিন পার করেছি আমি। খুব গোরস্থানে যেতে ইচ্ছে করছিল। একলা কোন কবরের পাশে বসে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছিল খুব। নাহ, এখন আর কবর ভয় পাইনা আমি। সেই যে আমার আরেকটা বাবা আমারই হাতের উপর মরে গেল সেই থেকে মৃত্যু আমাকে আর আড়ষ্ট করতে পারেনা। অনুভূতির "শূন্য(০)" টা কে অনুভব করতে মন চাইছিল আজ! বাবা, এমন কেন হয়? কি যে ভীষণ এক পাবার তীব্র বাসনা প্রতিটি মুহুর্ত তাড়া করে তোমায় বোঝাতে পারব না। আমার সমস্ত স্বত্তা জুড়ে আরেকটি স্বত্তাকে পাবার কামনায় ছটফট করে।! কিন্তু তখনই বুঝতে পারি সূতোটা যে একবারেই ছিঁড়ে গেছে!

জানো বাবা আমি ইদানীং ঘন ঘন "পনিটেল" করি। তুমি না একদমই পছন্দ করতেনা। আর মা চাইত আমি পনিটেল"ই করি। তোমাদের দুজনের দ্বন্দ্বে পড়ে আমি দু'পাশে দুই বেণী দুলিয়ে স্কুলে যেতাম!! আমার আবার মনটা চায় দু'বেণী ঝুলাতে! রং চটে গেছে বলে স্কুল ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলতাম ক'দিন পর পর। "নুতন ব্যাগ কিনে দাও" বলে চিৎকার করতাম। জীবনের রংটাও চটে গেছে আমার। "আমায় একটা নুতন জীবন এনে দাও না বাবা"!! খাইনা একদম! ছোট্টবেলার মত বকা দাও না কেন বাবা? বকা শুনে পেট ভরে খেতে চাই আমি। ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে বাবা!

এত কথার ভীড়ে জিজ্ঞেস করতেই ভুলে গেছি! কেমন আছ বাবা? আমার ভাঙ্গা চোরা জীবনটার কথা মনে হতেই "চোখে যে কি পড়ল" বলে আড়ালে চোখ মুছ খুব, না? তুমি না বললেও বুঝি বাবা। রক্তেও যে স্রোত থাকে!!

আমিও গভীর শূন্যতায় চোখ বুঁজে আছি, কখনও যদি আবার আলো পাই চোখ মেলব বলে..........

তোমার
বুঁচি

 

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১৩
তাহসিব বলেছেন: আমার বাবা নেই, যে ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।








t.c
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন: আমারও ভীষণ প্রিয় মানুষ, ভীষণ ভীষণ।

২. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১৩
জীবনানন্দদাশের ছায়া বলেছেন:

আমার এক বন্ধু ছিল বা আছে ডাকনাম বুঁচি।

সুন্দর পত্র সাহিত্য।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৩
মনোয়ার পারভেজ বলেছেন: অসাধারণ।

আফসোস, আমি আপনার মত লিখতে পারি না। :(

+++
শুভ কামনা রইলো।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

৪. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৮
কথক পলাশ বলেছেন: এত সুন্দর!
বাবাকে দেখতে পেলাম।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১১

লেখক বলেছেন: আমারও খুব ইচ্চে করছে বাবা টাকে দেখতে।

৫. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫৭
মুকুট বিহীন সম্রাট বলেছেন: ছোট কাল থেকেই আমার মনে হতো আমার বাবাটা বোধহয় কঠিন মনের মানুষ।ওনার মার খেয়ে আমার বড় হওয়া,রাগ ছাড়া মায়ার চেহারা আমি দেখিনি ছোট কালে।
বাবা মানেই দৌড়ে অবেলায় পড়তে বসা, তিত করলা ভাজি খাওয়া, ( যা খেতে খেতে আমি কান্না করতাম),যখন তখন অংক বই নিয়ে বসতে হতো,(যেই বিষয়ে আমি খুব কাঁচা ছিলাম),বাবা মানেই ছিলো আমার সকল অনাগ্রেহে ওনার জোর,। এভাবেই দিনে দিনে বাবাকে আমার ভুল বুঝা হয়ে উঠে।
সেই বাবা আজ কিছু কিছু যায়গায় মমতায় মাকে পিছিয়ে দেয়।

ছোট কালে বাবার সকল বারণ গুলোই ছিলো আমার উপরে উঠার এক একটা ধাপ। পৃথিবীতে আমার সব চেয়ে প্রিয় মানুষ আমার বাবা।


অসম্ভব ভালো লাগলো ফারা।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১২

লেখক বলেছেন: thanks vaia

৬. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:০০
ফাহাদ চৌধুরী বলেছেন: চমৎকার লাগলো চিঠিটা।

জেমসের গানটা মনে পড়লো ।

ছেলে আমার অনেক বড় হবে
মাকে বলতো সে কথা
হবে মানুষের মত মানুষ এক
লেখা ইতিহাসের পাতা ।

...
..
.
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: :(:(:(

৭. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১৩
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: ছুঁয়ে গেল..........ভাল লাগল......খারাপও লাগল..........:(
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১৪

লেখক বলেছেন: আমার মনটাও খুব খারাপ:(

৮. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:২৭
পারভেজ বলেছেন: "....এখন আর কবর ভয় পাইনা আমি।"
ঠিক বলেছেন।
ভালো থাকুন। শুভকামনা।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩০
অরুনাভ বলেছেন: Jesus Christ....... :(:(
ভালো থেকেন সব সময়......

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: ভাল নেই আসলে।

১০. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:১২
সুরঞ্জনা বলেছেন: মন ছুয়ে যাওয়া লেখা। মনের অতল থেকে স্মৃতিগুলো শ্যাওলার মত
জড়িয়ে ধরছে.........

মনে হয় বাবার মত কেউ বলে না, আয় খুকু আয়......

মন ভালো হয়ে যাক!!!
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:১৫

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপু। দোয়া করবেন।

১১. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:০২
রাজসোহান বলেছেন: অসাধরন
প্রিয়তে নিয়ে গেছি।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:০৯

লেখক বলেছেন: এত দেরী হল কেন?!!

১২. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:১৪
রাজসোহান বলেছেন: ক্লাশের চাপ বাড়ছে, :| আর কারেন্ট থাকে না,নেট থাকে না, :( সব মিলায়া কয়দিন হিতিবিচ্ছিরির ভিতর আছি :(( ।আশা করি সব গুছায়া আনবো :-/ :#) :-B
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:১৫

লেখক বলেছেন: :):)

১৩. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:১২
হোদল রাজা বলেছেন: অসাধারন!
বাবা হবার পর মনে হতো আমার সব কিছু আমার মেয়ে! আমার ফিলিংসের কোন তুলনা নেই! রিসেন্টলি বোঝতে পারছি আমার ৬ বছরের মেয়েও খুব মিস করে আমাকে! আপনার পোস্টে মন্তব্যটা লিখে ফোন লাগাবো ওকে!

+
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩৩

লেখক বলেছেন: মামণি টাকে আদর দিবেন আমার।

১৪. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:০৯
হাম্বা বলেছেন: লেখাটা আগেই পড়েছিলাম

এখন হিমেল আবার এই লেখাটারই লিংক পাঠালো।

তাই আবারো পড়লাম।

কিন্তু দুঃখ দুইবার + দেবার অপশন না থাকায় এবার আর + দিতে পারলাম না।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১৫. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:১২
তানিয়া মুন বলেছেন:
আমিও ঘুমাইনা বাবা। স্রেফ মরে যাই। প্রতিটা রাতে কয়েকঘন্টার জন্য মরে যাই আমি! মৃত্যুর পর নরকে যাই। বীভৎস দুঃস্বপ্নরা আসে "যণ্ত্রনা" হয়ে। আর কত শাস্তি পাব আমি? একটু ঘুমুতে চাই বাবা। ছোট্টবেলাটার মত "আয় আয়" বলে ঘুম পাড়িয়ে দাও না বাবা!!

সারাদিন পর ঘরে ফিরে শূন্য ঘরটায় চোখ পড়লে বুকটা হু হু করে ওঠে। সারা ঘরময় যখন কথাটি কইবার কোন মানুষ খুঁজে পাইনা তখন মনে হয় "বেঁচে থাকার চেয়ে বড় শাস্তি আর কি হতে পারে?" তুমিই বলেছিলে "বাঁচার মত বাঁচতে হবে"। আচ্ছা বাবা, বাঁচার মত বাঁচা কাকে বলে? এমনি করে ছন্নছাড়া জীবনের নামই বেঁচে থাকা?!! আমি জানি হয়তবা আজীবনই আমার শুন্য ঘরটা আর ভরে উঠবেনা, কোনদিন না। তুমি যখন থাকবেনা তখন শুন্য ঘরে কাকে উদ্দেশ্য করে চোখের জলে লিখতে বসবো বাবা?

আপু, সব সময় আপনার লেখাগুলো পড়ে বিভ্রমে পড়ে যাই। গল্প ? নাকি সত্য ?
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩৫

লেখক বলেছেন: জীবন থেকে নেয়া। স্বীকার করছি এ চিঠি আমারই, আমার প্রিয় বাবা সোনাটাকে লেখা।

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১১

লেখক বলেছেন: হুমম

১৭. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১৩
ভাঙ্গন বলেছেন: আসলেই ছুঁয়ে গেল।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৫৬

লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কস ভাইয়া।

১৮. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৩
সকাল রয় বলেছেন:

একটা সত্যি বলবো ?
বলি আপনার কিছু লেখা আমার ভালো লাগে ...........
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সত্য বলার জন্য

১৯. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৪৮
মুখ ও মুখোশ বলেছেন:
জীবন কষ্ট!!!! এখানেই সব কিছু হার মানে, থমকে যায়।

বেচে থাকাটা যখন দু:সহ লাগে তখন .............................সবকিছুই অসহ্য, বিরক্তকর লাগে।

দু:সহ, একঘেয়েমীতা সবার জীবন থেকেই কেটে যাক................. নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: অনেক কিউট তো কার্ড টা ভাইয়া। এটা কিন্তু আর কাউকে দিবেন না। :)

২০. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫২
ফেরারী হৃদয় বলেছেন: জীবনে পুর্ণতা অাসে পাবার অানন্দে। না পাবার বেদনা ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃশেষ করে জীবনকে। জীবনের গোধুলী বেলায় বিমূর্ত ছবি গুলো এলবাম জুড়ে পড়ে থাকে স্মৃতি হয়ে অার থাকে প্রিয় মানুষের ইতিহাস....... যে ইতিহাস কখনো কাদায় কখনোবা হাসায়। কিন্তু যে জীবনের সবটুকু প্রেম ভালবাসা সৃষ্টিকর্তার তরে নিবেদিত,সমর্পিত সে জীবনে দুঃখ অাসেনা কারন বিধাতা শুধু ভালবাসে বিট্ট্রে করেনা । এছাড়া সবাই................
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: সবাই বিট্রে করে। আমি জানি সৃষ্টিকর্তা তাঁর সব গুনের সমন্বয়ে মানুষকে সৃষটি করার সময় তার মধ্যে "বিশ্বাসের মূল্য" টা দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। তাই মানুষ এত বেঈমান!

১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সালেহ ভাই।

১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৫

লেখক বলেছেন: :(:(

২৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:১৯
পুরাতন বলেছেন: চিঠি খুব ভালো হইছে +++
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২৪. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:০৭
প্রবাসী রনি বলেছেন: এতোদিন চোখে পড়ল না এমন একটা লেখা তাই প্রবাসীরে মাইনাস।

পোষ্টে সামুর সকল প্লাস একসাথ করে দেওয়া হলো ।
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১১ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:২১

লেখক বলেছেন: পরিশুদ্ধ না হলে কি চলে?!

২৬. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এফ আই দীপু বলেছেন:
বাবার কবরে বসেছিলাম

ইদানিং বেশ ভালো লাগেনা আর
অশ্রু ঝরে, বিমর্ষ চুপচাপ
গগনে দীর্ঘ রজনী যন্ত্রনায় ভুগী।

সমগ্র স্মৃতি সেলফে অস্থিরতা
খুঁজতে খুঁজতে পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া
জাম, জামরুল, কাঁঠাল, কলা
নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত
সাগর-মহাসাগর, মরুভুমি
আকাশ-বাতাস, ঘর-বাড়ী
সিংহাসন অনায়াসে ত্যাগ করি।

অসহায় হৃৎপিন্ড প্রতিনিয়ত ঠুকরে ঠুকরে
শিরা-উপশিরায় মর্মর ধ্বনি
ঝুন ঝুনি বাজিয়ে
বাজতে .................
বাজতে .................
চৌদিক আমি দিশেহারা।

প্রার্থনায় হাত তুলি
বড্ড পিপাসায় কাতর জীবন ঘন্টা
বাবার চুমো খাওয়া কপোল;
দাবদাহ আর খরা কবলিত স্রোতে সাঁতার কাটি
যন্ত্রনার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা
চাঁদ ওঠে .......................
সুর্য ডোবে।

পাইনি বাবা আজো তোমার দেখা
অসহায় শুন্যস্থান হৃৎপিন্ড ঝড়-বাদল
মুষলধারে উজাড় করে মরে ....
যন্ত্রনার ঘন কুয়াশায় বুকে বুক মিলিয়ে।

বাবা তোমার ছোঁয়া বঞ্চিত বেদনার নির্যাস
আমাকে বিষন্ন কাঁদতে শেখায়
অতঃপর ঘুম, শুধু ঘুম;
তুমি কেবলই ঘুমিয়ে আছো
আমি সংগ্রাম করি
তুমিহীন একাকী বালিয়াড়ী।

আজকাল অসুস্থ বিপ্লব
আমাকে নিয়ে অতলে ডুব দেয়,
মগজ কোষ গ্রাস করে গিলে খায়;
যন্ত্রনা বিদ্ধ, জিহবার জীবন কব্জি
চড়াই-উৎরাই চিন্তা ভাবনায় পারাপার,
ভীষন অবহেলিত;
গুল্ম, লতারা সেদিন দেখেছে
বংশধর চৌদ্দ গোষ্ঠি দেখেছে
আমি বসা ছিলাম বাবার কবরে এক ঘন্টা।

হালকা বাতাস ধোঁয়াটে ফোয়ারায় ক্লান্ত ভিজে
নিস্তব্দতা ভেদ করে আমার পথ চলা .......
দুর্গন্ধ ঘাম ঝরা পরিশ্রমে হাহাকার লোকালয়
অন্ধকার অন্তরালে তারপরও তুমি,
বাবা, বাস্তবতার আঘাতে বিরাজমান আমি
জীবন সংসার এতিম;
বুলডোজারের আঘাতে ভেঙ্গে পড়ি
হতাশার লুহাওয়া পায়ে হেঁটে দিগন্ত পেরিয়ে
কষ্ট তান্ডবে বিষন্ন বেঁচে থাকি তুমিহীন অনাদর।




অ.পি: বাবাহীন অনাদরে বেঁচে আছে যারা তাদের জন্য উৎসর্গীকৃত।
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: আবৃত্তি শুনতে চাই।

২৭. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৪২
গরীবের কথা বলেছেন:

মায়া-মমতা, এগুলো বড় বিচিত্র। যতই ভুলে থাকতে চেষ্টা করি, পারি না। ব্যস্ত দিন আর রাতে ঘরে ফেরা - আর ভাল্লাগে না। কিন্তু করার কিছুই নাই, এটাই জীবন, এটাই বেচে থাকা।

অনাগত দিনগুলোতে আপনার পুচ্চিরা আপনার জন্য এমনভাবে ভাববে - এই দুয়া থাকলো। টিকে থাকুক মমতা...
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:০১

লেখক বলেছেন: বিরক্ত হলেন মনে হচ্ছে!

২৯. ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৪০
কিপটে বলেছেন: আপনের মনে সমস্যা আছে
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৩৩

লেখক বলেছেন: সমস্যা আপনার ইমো তে আমার মনে না :)। ওটা তো বিরক্তিই প্রকাশ করে আমি কি করবো তাহলে?!

৩০. ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:০০
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: এমন একখান শিরোনাম দিছোস......কই যে ক্লিক করুম তাই খুইজা পাই না। X(( X((
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:০১

লেখক বলেছেন: =p~ =p~ =p~ =p~ =p~

৩১. ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪০
কিপটে বলেছেন: তাইলে যেই ইমোতে বুঝি নাই বোঝায়, সেইটা বসায়ে নেন
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২৬

লেখক বলেছেন: হুমম। রেটিং বাটন টা চাপতে ভুলে গেছিলেন মনে হয় এর আগে। তাই এবার এসে রেটিং দিয়ে গেলেন। ধন্যবাদ রেটিং দিয়েছেন বলে। আমি মনে রাখলাম।

৩২. ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৫
করবি বলেছেন:
ছূয়ে গেল মন
চোখ ভিজে আসলো.....


বাবা তুমি কেমন আছ??
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৫২

লেখক বলেছেন: জানিনা আমার বাবা টা কেমন আছে!

৩৩. ১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫৬
কালপুরুষ বলেছেন: অনেক টাচি! ভাল লাগলো একটা মেয়ের আকুতি অনুভব করতে।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দাদা

৩৪. ১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৫০
কিপটে বলেছেন: আপনি মনে হয় অনেক অনেক + পান।

কিন্তু আমার মনে হয় কি - পেলে এতটা মন খারাপ করা ঠিক না।

এ জাতীয় লেখাতে হইত আমি +/- কিছুই দেই না কারণ আমি বুঝি না।

আর এই পোষ্টেত - দেবার প্রশ্নই ওঠে না।

আর মানুষ খুব খারাপ জানেন।

বাস্তবে অন্য আর সবাই আপনার আমার মতনই শয়তার মনের।

আপনি ভেবেছিলেন আমি আপনার লেখায় - দিয়েছি। আমি যে কোন রেটিংই দিয়েছিলাম না, সেটা বোঝাবার জন্যই এবার - দিলাম। + দিলে হয়ত এত এত + এর ভীরে সেটা আপনাকে বোঝান যেত না।

যাই হোক পোষ্টে একটা - বিয়োগ করে হিসাব করতে হবে।

অ ট - জীবনকে এতটা জটিল করে ভাবা ছেড়ে দিয়েছি।

ভাল থাকবেন। আপনার জীবনে হইত দুঃখ খুব বেশি কম তাই সামান্য - পেলেই এতটা দুঃখ পান।

পৃতম মনে হয় আপনাদের মতন মানুষদের দেখেই লিখেছিল-

তোমার দুঃখ বড় জোড় ঐ টিপ হারিয়ে ফেলা, তুমি কি আর বুঝবে মেয়ে স্বপ্ন পোড়ার জ্বালা।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন: ভাল করেছেন মাইনাস দিয়েছেন। আপনি আমার সম্পর্কে কিছুই জানেননা। ধাম করে একটা জেনারালাইজ করে ফললেন!


"তোমার দুঃখ বড় জোড় ঐ টিপ হারিয়ে ফেলা, তুমি কি আর বুঝবে মেয়ে স্বপ্ন পোড়ার জ্বালা।" আপনাদের জন্যই প্রীতমরা দুঃখবিলাসের ব্যবসা করে খেতে পায়। আপনার ্/_ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই , আমি জাস্ট এটা শিওর হতে চেয়েছি আমি বাবার কাছে চিঠি লিখলে কার মাথায় আকাশ ভাঙ্গে।

"ভাল থাকবেন। আপনার জীবনে হইত দুঃখ খুব বেশি কম তাই সামান্য - পেলেই এতটা দুঃখ পান।" কমই বলা যায়, কারন সুখের সংজ্ঞাটা জানবার সুজোগ এই জীবনে এখনও পাইনি। তবে আপনার মত দুঃখহীন বা দুঃখবিলাসী নই এতটুকু বুঝলাম।

আশা করি আপনার সাথে আমাকে আর কোন কমেন্ট আদান প্রদান করবার প্রয়োজন হবেনা কোনদিন!



/:) /:) /:) /:) /:) /:)

৩৫. ১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:২২
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: বাবা আমার অনেক দূরের মানুষ, আপু তোমার চিঠি পড়ে আমারও লিখতে ইচ্ছে করছে কিছু। তবে অনেক পিচ্চি বেলায় যখন আব্বু দেশের বাইরে গিয়েছিলেন , আমাকে একটা চিঠি দিয়েছিলেন যখন আমি পড়তেও শিখিনি। আম্মু পড়ে শুনিয়েছিলেন। এখন আছে সেই চিঠি টা। যত্ন করে রেখে দিয়েছি। তেমনই ছোট্টটি যদি থাকতাম এখনও!
১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৪০

লেখক বলেছেন: সেই চিঠিটার জবাব দিয়েছিলে আপুমনি? না দিলে এখন দাও চুপিচুপি, আমরা পড়ি :)

৩৬. ১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫৬
কিপটে বলেছেন: ও ভাই এই ইমোর অর্থ কি?
৩৭. ১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৫৪
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: :) কি দিব! হুম দিব একদিন চুপি চুপি যেন বাবা না জানতে পারে।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:০১

লেখক বলেছেন: আচ্ছা অপেক্ষায় থাকলাম :)

৩৮. ১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:০০
এফ আই দীপু বলেছেন:
কিপটে বলেছেন: বাস্তবে অন্য আর সবাই আপনার আমার মতনই শয়তার মনের।

@ কিপটে : মানুষ নিজেকেই নিজে সবচেয়ে ভালো চিনে। যাক, বুঝতে সুবিধে হলো, আপনি নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন। অনেক উদার আপনি তাই বোঝা গেল। ইস্, আপনার মতো যদি সবাই সত্যবাদী হতো?
১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:০৭

লেখক বলেছেন: =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~

৩৯. ১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৩৮
তিক্ত প্রাণ বলেছেন: মানুষ অনুভুতির এত সুন্দর কিভাবে করতে পারে?
১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬২৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি কে????!!!!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই