:শুভ্র?
:হুম?
:কথা বলছ না যে?
:ভাবছি
:কি?
:তোমায় আর দূরে রাখতে ভাল লাগেনা। কবে যে আমার ঘরে যাবে!
:খুব দরকার নাকি?
:হ্যা, খুব। হাসে শুভ্র।
গালের সাথে গাল ঠেকিয়ে বসে থাকে সুমনা! সে এক অবারিত সুখ! ন'মাসের অবিরাম যুদ্ধে সুমনা পেয়েছে শুভ্রকে! অনেক পথ একসাথে চলেছে দু'জন। সুমনা বারংবার চোখের ভাষায়, মুখের কথায় জানিয়েছে "ভালবাসি"! সাড়া দেয়নি শুভ্র। অবশেষে জয় হয় সুমনার।
সকাল থেকে টিপটিপ বৃষ্টি ছিল! সুমনার খুব প্রিয় বৃষ্টি। যখনই রিকশায় বসে শুভ্র, এক হাতে ধরে রাখে সুমনাকে, যেন ছোট একটা বাচ্চা, এখনই ঝাঁকি খেয়ে পড়ে যাবে! হুট তুলতে চায় শুভ্র।
:ঠান্ডা লাগবে তো সোনা
:নাহ, লাগবেনা। থাক না!
:এমন করলে কীভাবে হবে জান?
:উফফ! তুমি না!
হুট তুলতে বাধ্য হয় সুমনা। কিন্তু সামনে পর্দা দিতে চায়না িকছুতেই, দেয়ওনা! রাস্তার পাশে আইল্যান্ডে সবুজ বনে যেন মুক্তোর মেলা বসেছে। সুমনা অবাক হয়ে দেখে। বৃষ্টির জলে হাত ভিজিয়ে শুভ্রের গালে ছোঁয়ায়! কিছু বলেনা সে। সুমনার এই ছোট ছোট ছেলেমানুষি বড্ড ভাল লাগে তার! সুযোগ বুঝে দু'একটা চুমু দিয়ে হি হি করে হেসে ওঠে সুমনা। সে হাসির স্নীগ্ধতা ছুঁয়ে যায় শু্ভ্রের হৃদয়!
ঢাকা বিশ্ববি্দ্যালয়ের সামনে এসেই হঠাৎ করেই চেঁচিয়ে ওঠে সুমনা।
:এই মামা থামেন।রিকশাওয়ালাকে বলে। শুভ্র কিছু বুঝে ওঠার আগেই নেমে পড়ে সুমনা। হাত ধরে টেনে নামায় শুভ্রকে। কোন মতে রিকশাভাড়া মেটাতেই হাত ধরে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে যায় ওকে। ঝুম বর্ষা। ভিজে যায় কয়েকমিনিটেই, দুজনেই। অনেকেই শখ করে ভিজছে। তবে তার মাঝে কোন প্রেমিক জুটি নেই। প্রকান্ড বটগাছের একপাশে মাথা নীচু ক রে দাঁড়িয়ে থাকা কদম গাছের তলে গিয়ে থামে সুমনা!
:এই লাম্বু? ফুল পেড়ে দাও
হাসে শুভ্র। "পাগলী" বলে সে! ফুল পেড়ে দেয় শুভ্র। ভেজা চুলে সেই ফুল গুঁজে দু হাত দু দিকে মেলে পাখির মত ডানা ঝাপটায় সুমনা। অনেকেই তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। তবু এই আদিখ্যেতা টুকু সুমনা এত নিঁখুতভাবে করে যে শুভ্র রাগ করতে পারেনা! ঠান্ডায় কাঁপতে থাকে শুভ্র! তবুও ভেজা শেষ হয়না মেয়েটার!
--------------------------------------------------------------------------
ভেজা কাপড়ে ঘরে ফিরে জামা কাপড় বদলে ফোন দেয় শুভ্রকে............ফোন ধরেনা ছেলেটা। সুমনার রাগ লাগে। নিজের বার্বি ডলটা কে বুকে জড়িয়ে বলে "দেখনা, পঁচা ছেলেটা ফোন ধরেনা"। গাল ফুলিয়ে বসে থাকে সুমনা।শুভ্র প্রায়ই এমন করে। বাসায় যাওয়ার পর ফোন ধরেনা! আজকে ঠিকই বকবে সুমনা ওকে। আবার ফোন দেয়। এবার রিসিভ করে কেউ
:হ্যালো
:হ্যা কে বলছেন?একটা নারী কন্ঠ!
:শুভ্র কোথায়? আপনি কে বলছিলেন?
:ইয়ে, আমি ওর মিসেস বলছি। ও বাথরুমে!
ধাক্কা খায় সুমনা! মিসেস?
:শুভ্রর বিয়ে হল কবে! একটু শান্ত স্বরেই বলে সুমনা।
:জ্বী, দু'মাস হল। আপনি কে বলছিলেন বললেন না যে। মেয়েটির কণ্ঠে সন্দেহ। সুমনা সামলে নেয় নিজেকে।
:আমি ওর এক্স কলিগ। আসলে একটা কাজে ফোন করেছিলাম। ও বের হলে বলবেন। আর হ্যা আপনাদের নুতন জীবনের জন্য শুভকামনা!
ফোন রেখে দেয় সুমনা। ওর কি কান্না পাচ্চে? নাহ! তাহলে? হাসি? না তাও না। অনুভূতিটা শূন্য হয়ে গেছে। অসংখ্য ঝিঁ ঝিঁ পোকা মাথার ভেতর ঝিক ঝিক করছে। গা টলছে ওর! শূন্যে ভাসছে যেন সুমনা!সুমনা কাঁদতে পারেনা। জগতের সমস্ত চাতক এসে ওর চোখের পানি শুষে নেয়, কানের ভেতর বাজে সেই সুন্দর কথাটি.............
:"কবে যে তোমায় ঘরে নেব...............
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



