somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সায়াহ্ন যখন হাতের মুঠোয় (পর্ব ১)

৩১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্মের ত্রুটি নিয়ে নাবিলের মনে কোন অনুশোচনা ছিলনা। তাই ছোট্র নাবিল আজ ডা. নাবিল আরমান। বাবার অস্বিকৃতী আর মায়ের অসামর্থ্য একদিন নাবিলকে ঠাঁই করে দেয় ঢাকার শ্যামলীস্থ SOS Children's Village International in Bangladesh এ! পড়াশুনায় বরাবর ভীষণ মনোযোগী নাবিল আজ সুপ্রতিষ্ঠীত চিকিৎসক একজন।সদালাপী, মিশুক এবং অল্পতে সন্তুষ্ট নাবিলের কোনদিন বন্ধুর অভাব হয়নি। বন্ধুরা একে একে একা থেকে দোকা হয়ে যায়। নাবিল দেখে। কেউ যদিবা জিজ্ঞেস করে "কী রে বিয় করিসনা কেন?" ওর সহজ উত্তর "তোরা বিয়ে করে শুধু বউ চাস, আর আমি তো বিয়ে করে বাবা মা ভাই বোন বানাব, তাই সময় লাগবে একটু" সবাই হাসে। নাবিলের ভীষণ সখ একটা পরিবারের, মা বলে, বাবা বলে ডাকার মত দুটি মানুষ!

আজ সকাল সকাল হসপিটালে যাওয়ার জন্য বের হয় নাবিল। খুব সকালে প্রকৃতির নরম ভাবটা নাবিলের খুব প্রিয়! নিজেকে ভীষণ নিষ্পাপ মনে হয় তখন ওর! স্কলারশীপে বাইরে এফ আর সি এস করতে গিয়ে পার্ট টাইম কাজের বদৌলতে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির মালিক নাবিল। সপ্তাহের একদিন বিনামূল্যে চিকিৎসা করে সে, তার নিজের চেম্বারে!এভাবেই অর্থ, পুরুষার্থ, পরমার্থ কোনদিক দিয়েই নাবিল পিছিয়ে নেই আজ! তবুও মনে মনে বড় দরিদ্র নাবিল। একটা ঘর, ঘর ভর্তি মানুষ! সে কোনদিন সেই মানুষ টাকে খোঁজার চেষ্টাও করেনি, যাকে সমাজ বাবা বলে। অধিকার সে অনেক আগেই হারিয়েছে যেদিন সে অনাগত নাবিলের দায়িত্ব অস্বীকার করেছিল। আর মা?! নাবিলের জন্মের লজ্জায় নাকি নিজের শাড়ির আঁচল গলায় পেঁচিয়ে আত্মাহুতি দেন। তার কথা নাবিল ভুলেও ভাবেনা। নাবিলের অস্তিত্বকে যারা অভিশাপ হিসেবে গ্রহন করেছিল তাদেরকে ভেবে নাবিল নিজেকে একদন্ড কষ্ট দিতে চায়না!

গাবতলী-টেকনিক্যাল মোড় ঘোরার সময় নাবিল খেয়াল করলো একজন বয়স্ক মানুষ রাস্তার উপর বসে পড়েছেন। চোখে মুখে যণ্ত্রনার স্পষ্ট ছাপ! নাবিল গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়ে। এগিয়ে যায় লোকটির দিকে।

:আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে আঙ্কেল?
মাথা উচূ করে তাকায় লোকটি। চুল আর দাঁড়িতে মেহেদীর রং চেহারায় একটা আভিজাত্য এনে দিয়েছে। পরনে ট্রাউজার আর টি-শার্ট। হয়ত সকালে জগিং করতে বের হয়েছিলেন। পথিমধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন কিংবা অসূস্থ। ঘন ঘন দম নিচ্ছেন তিনি। নাবিল ওনার কাঁধে হাত রাখলো।

:হ্যা বাবা। হঠাৎ মাথাটা কেমন যেন চক্কর দিয়ে উঠলো।
:আপনার বাসা কোথায়?
:এই তো পাশেই,পাইকপাড়া।
:চলুন আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আসি।
:না বাবা, আমাকে একটা রিকশা ডেকে দাও তাহলেই হবে।
:এ অবস্থায় রিকশায় একা যাওয়া ঠিক হবেনা। চলুন নামিয়ে দিয়ে আসি আপনাকে।
আর উচ্যবাচ্য না করে উনি উঠে পড়েন নাবিলের হাত ধরে। চার তলায় ছিমছাম সুন্দর একটা ড্রয়িংরুমে এসে বসলো নাবিল। টি-টেবিলে একটা খোলা ল্যাপটপ। বাংলা কোন ওয়েবসাইট খোলা। একটা লেখা "যে রাতে আসবে তুমি" শিরোনাম। চার-পাঁচটা লাইন দেখা যায় """" কথা দিয়েছিলে কোন এক নিঃশব্দ রাতের বুক চিরে আসবে তুমি। তোমার এক হাতে থাকবে শুকতারা অন্যহাতে চাঁদের রুপালী জ্যোৎসা। আমি সেই রাতের অপেক্ষায় রোজ বিকেলে প্রার্থনা করি 'আজ যেন শুকতারা না উঠে'" আর পড়া যায়না। নাবিল এড্রেস বারে তাকিয়ে ওয়েবসাইটের এড্রেসটা মুখস্থ করে নেয়!

ভদ্রলোকটির নাম আশফাকুর রহমান। ভদ্রলোক রিটায়ার্ড সরকারী অফিসার। এক ছেলে এক মেয়ের বাবা। নাবিল ডাক্তার জেনে ভদ্রলোক সেল নাম্বার আদান প্রদান করেন। উষ্ণ আতিথেয়তার পর নাবিল বেরিয়ে আসে।

ওর মনের ভেতর লাইন গুলো ঘুরপাক খায়"""" কথা দিয়েছিলে কোন এক নিঃশব্দ রাতের বুক চিরে আসবে তুমি। তোমার এক হাতে থাকবে শুকতারা অন্যহাতে চাঁদের রুপালী জ্যোৎসা। আমি সেই রাতের অপেক্ষায় রোজ বিকেলে প্রার্থনা করি 'আজ যেন শুকতারা না উঠে'"


(চলবে ৫ পর্বে সমাপ্য)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:০৩
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×