somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফাঁসি...........................

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফাঁসির কাষ্ঠ প্রস্তুত ছিল । সেটা অসাধারণ কিছু ছিল না, তবু কেন জানি আজ ওটাকে অসাধারণ লাগছে । ফাঁসির আসামী ভীত কিংবা চঞ্চল হয়েও উঠেনি । কেমন যেন নিরুত্তাপ এবং সুখি দেখাচ্ছিল তাকে । তার মত সৌভাগ্য অর্জন করার মত মানুষ পৃথিবীতে কমই আছে । জেলার থেকে শুরু করে সবাই তার ভাগ্যে ঈর্শান্বিত কিংবা ভীত । শুধুমাত্র বিচারক ছিল অটল । বিচারককে সবাই অন্ধ মনে করলেও বিচারক ভেবেছিল এটাই তার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক পথ হয়েছে । ঐ নিরুপদ্রবকারী নপুংশকরা তার ভয়ে কিছু বলতে পারবে না । কারন সে যে এখানের সৃষ্টিকর্তা । তাকে অমান্য করার সাহস সবার নাই । সবাই পারে না । তাই অবৈধ সৃষ্ট অসঙ্খ্য সারমেয়দের চেচামেচি থামাতে তাকে মাংস দিতেই হত ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিচারক । আজ স্বস্তির দিন । আরামের দিন । নিশ্চিন্তে ঘুমানোর দিন ।

সে সারাজীবন নিরুত্তাপ ছিল । গ্রামের সবচেয়ে সুবোধ যুবক ছিল । ছিল ভালবাসার পাত্র । হঠাৎ করেই তার পরিবর্তন । না ! আবার হঠাৎ করেও বলা যায় না । তার পরিবর্তন হয়েছিল তার মায়ের আত্মাহুতির পর । যে মাকে ধর্ষন করেছিল প্রতাপশালিরা , যারা পালিয়েছিল তাদের কার্য উদ্ধারের পরেই । নিজের জীবন বাঁচাতেই । যুবক ঘুরে ফিরেছিল বিচারকদের দ্বারে দ্বারে । কাজ হয়নি বা হতে দেয়নি সেই সব জারজ প্রতাপশালিরা । তখন বিচারক সহমর্মিতা জানায়নি তার জন্য তার মায়ের জন্য । যুবকটি এসবও মেনে নিয়ে মাকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিল । তার মা প্রায় ভুলে যেতে বসেছিল পুরোনো অধ্যায় । কিন্তু প্রতাপশালিদের ফেলে যাওয়া বির্যে জন্মানো নপুংশকের দল আবার পুরোনো গীত গেয়ে চলছে । তারা পুরোনো ক্ষত আনার প্রচেষ্টায় ছিল । তারা নিজেদের স্বার্থে গুনগান করে যাচ্ছিল সেইসব জারজদের । যাদের কারনে এই নপুংশক গুলো আজ জারজ । হয়ত প্রতাপশালিরা নপুংশকদের বির্য দানের কথা বলেছিল বলে আজ তাদের এত আস্ফালন । সে এটাও মেনে নিয়েছিল অনেক কষ্টে । তার বাঁধ ভাংতে শুরু করে যেদিন থেকে নপুংশকের দল তার মায়ের পিছনে লেগেছিল । তার নতুন রঙ্গিন মাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল আর অবজ্ঞা করে যাচ্ছিল প্রতিনিয়ত তখন সে মেনে নিতে পারে নি মায়ের দুঃখ । কোন সত্যিকারের ছেলে তা পারে না । তাই ধারালো দা নিয়ে ছুটে গিয়েছিল সে । দা'কে রক্ত পান করিয়ে তবেই সে শান্ত হয়েছিল । সে সব কষ্ট মেনে নিতে পারে যেমন সে মেনে নিয়েছিল তার প্রিয় মানুষগুলোর হারানোর ব্যাথা, তবে সে মানতে পারেনি, কখনোই পারবেনা তার মায়ের অপমান ।

এর পরেও সে খারাপ হয়ে যায়নি কারো কাছে বরং তার প্রতি মানুষের ভালবাসা বেড়েছেছিল এবং ভীত হওয়ার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেই সুবিধাবাদি নপুংশকদের জন্য । তার প্রতিশোধস্পৃহাকে সাধুবাদ জানিয়েছিল সবাই । তার মত করে করতে পারে না সবাই । পারে না জঞ্জাল সাফ করতে, পারে না স্বর উচ্চকিত করতে । তাই নিরুপদ্রব নপুংশকের দল চুপচাপ সমর্থন দিয়েছিল । তারপরেও সে আজ কাঠগড়ায় । নাহ ! তাকে এসে ধরতে পারেনি বিচারকের লোকজন । সে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করেছে তার ভায়ের জন্য, কারন তার ভাই ও যে সুবিধাবাদি নপুংশকের দলে ।

তার মৃত্যুদন্ডের দিনের কথা প্রচার করেনি বিচারক এবং প্রভাবশালিরা । কারন তার ভীত । তারা জানে একটা যুবকের লাশ থেকে কয়েকশ কিংবা হাজারের জন্ম হয় । তারপরেও হাজার হাজার জনতা কিভাবে যেন জেনে গেছে, তারা জেল গেটে অপেক্ষায় আছে যুবকের জন্য । কারন তাদের বিশ্বাস সৎ সাহসী মানুষের মৃত্যু হয় না । তারা বরন করে নিয়ে যেতে এসেছে সেই সৎ নির্ভিক যুবককে । তাদের মনে কোন দুঃখ বা ক্ষোভ ছিলনা, ছিল আত্মবিশ্বাস ।


জেলার এই শীতেও প্রচন্ড ঘামছে । সে জানে না এর পরিনতি । তার ভয় হচ্ছে, অজস্র জনতার বিশ্বাস তার মাঝেও সংক্রমিত হচ্ছে দেখে । যুবক এখনো শান্ত । সে যেন জানে তার ভবিষ্যত । জেলারের ভয় যুবকের আত্মবিশ্বাস দেখেও । সে আসলে বুঝতে পারছেনা কি করবে ।

জেলারের ভীত শঙ্কাকে কাটিয়ে যুবক নিজেই এগিয়ে যায় দৃপ্ত পদে ফাঁসিকাষ্ঠের দিকে । তার মনে আজ শান্তি কাজ করছে । তার প্রতি এবং তার মায়ের প্রতি মানুষের ভালবাসা দেখে । সে জানে এটা মৃত্যু নয়, এটা তার জন্য জন্ম । প্রতিটা মায়ের সন্তান হয়ে ।



উৎসর্গঃ প্রিয় লেখক, ব্লগার এবং মানুষ হাসান মাহবুব এবং রাজসোহান কে ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১২ রাত ১২:২১
৬৯টি মন্তব্য ৭০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×