সময় কম তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত চলার উপর। সকালে পৌছালাম বান্দারবান। নাস্তা করেই চান্দের গাড়িতে রুমা বাজারের উদ্দেশ্যে। পাহাড়ের উপর দিয়ে চলা এই রাস্তাটা আসম্ভব সুন্দর। আমি কিছু তথ্য নেয়ার জন্য ড্রাইভারের পাশে বসেছি আর দুই বন্ধু বসেছে ছাদে, ইচ্ছা
(নৌকা করে শংখ নদী দিয়ে রুমা বাজার পৌছান)
চারপাশের অসাধারন দৃশ্য দেখা। অনেক উপর দিয়ে আকাবাঁকা পথে চলছে গাড়ি আর অনেক নীচে গাছপালার ফাঁক দিয়ে বসতি। রুমা বাজার পৌঁছে গাইডের খোঁজ করলাম। পেয়ে গেলাম লারামকে। এখান থেকে বগালেক যাওয়ার রাস্তা দুইটা। চান্দের গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায় অথবা ঝিরি পথ ধরে হাটা রাস্তা। কিন্তু এই বিকালে হেটে যাওয়ার মত সময় নেই। আর গাড়ি একটা ভাড়া করাও অনেক খরচের ব্যপার। আর্মি ক্যম্পে রিপোর্ট করতে যেয়ে পরিচয় হলো আরও এক গ্রুপের সাথে তারা মিরপুর থেকে এসেছে। ব্যস সবাই মিলে একটা চান্দের গাড়ি ভাড়া করে ফেললাম। এবার আমি খোলা জিপের পেছনে বসলাম আর দুই বন্ধু বসলো সামনে। পাহার বেয়ে ছুটে চললো গাড়ি। একবার পাহাড় বেয়ে উপরে উঠছে আবার নামছে। গাছ কেটে আর্মিদের তৈরী করা কাঁচা রাস্তা । পেছনে অনেকের মাঝে বসে থাকার জন্য আমি রাস্তার ভয়াবহতা টের পাইনি, সামনের দুই বন্ধু পরে বলেছিল যে তারা জীবনে এই রাস্তা দিয়ে আর গাড়ীতে করে চলবেনা। গাড়ি কেন উল্টে খাদে পড়েনি সেটাই একটা বিস্ময় তাদের কাছে।কিছুদিন আগে একটা গাড়ি উল্টে এখানে কয়েকজন মারা গেছে।
(বগালেকের সকাল। এই ছবিটা আমি গুগল আর্থে দিয়েছি, ওখানে দেখা যায়)
সন্ধ্যার দিকে বগালেকের আর্মি ক্যম্পে পৌছালাম । রিপোর্ট করে সোজা বগালেকে। সেখানে সিরাম দিদি ছোট ছোট কুড়ে ঘর তৈরী করেছেন আমাদের মত টুরিস্টদের জন্য। আমাদের গাইড লারামও থাকে এখানে। তার বৌ বাচ্চা রয়েছে।
(বগালেকে আমরা)
বগালেক একটা অপুর্ব জলাধার। সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু লেক এটা। কয়েকটা পাহারের মাঝে পনি জমে তৈরী হয়েছে। পাড়ে একদল মুরং অধিবাসীর পাড়া।তারা জুম চাষ করে আশেপাশের পাহাড়ে আর শুকর পালে।
সকালে লারামের সাপ্লাই দেয়া খাবার পাহাড়ি কলা আর বিস্কুট আর ডিম ভাজি খেয়ে রওনা দিলাম কেওকারাডংএর পথে উদ্দেশ্য কেওকারাডং হয়ে তাজিনডং যাব ।
চলবে.......
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



