`জাতীয় ঐক্য রুখবে দারিদ্র্য'-এই শ্লোগান নিয়ে দারিদ্র্য বিরোধী সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মানব বন্ধন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচার-প্রপাগাণ্ডা আর মিডিয়ার নানা রকম আয়োজনে বর্তমানে মুখরিত বাংলাদেশ। ১৯৯২ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতি বছর ১৭ অক্টোবরকে `আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস' ঘোষিত হলেও এতটা ঘটা করে দিবসটি ইতোপূর্বে বাংলাদেশে পালিত হতে দেখা যায়নি। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে গত ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (সাবেক বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দারিদ্র্যবিরোধী জাতীয় সমাবেশ। সেখানে বার বার উচ্চারিত হল প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনপূর্ব সেই মহান বাণী `দারিদ্র্য আমাদের প্রধান শত্রু'। শুধু প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারী দল কেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে এতটাই ক্ষেপা যে, দারিদ্র্য যদি ধরা-ছোঁয়ার মত কোন বস্তু হত তাহলে হয়ত ওটাকে ধরে এনে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হত। আর দারিদ্র্য যদি কোন মানুষ বা প্রাণী হত তাহলে তো কথাই নেই। তার ভাগ্যে নিশ্চিত ফাঁসী নয়তো আলোচিত সমালোচিত `ক্রসফায়ার'।
বিশ্বের ৮ম জনবহুল এবং তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ। সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ দীর্ঘ ৩ যুগেরও বেশি সময় পূর্বে অর্থনৈতিক মুক্তি, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আত্ন-নির্ভরশীল ও বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার দৃঢ় প্রত্যয়ে স্বাধীনতা লাভ করলেও বার বার ক্ষমতার হাত বদল হওয়া ছাড়া এদেশের সাধারণ জনগণের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি।
শতকরা ৮৯ জন মুসলিম অধ্যুষিত এবং এককালে `সোনার বাংলা' হিসেবে পরিচিত এই দেশের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। দিন-রাত নিরন্তর পরিশ্রম করেও যারা পরিবারের সকলের মুখে দু` মুঠো অন্ন যোগাতে হিমশিম খায়। এসব বিপন্ন মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতিটি দলই নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর এসব নিরন্ন মানুষের ভাগ্য `যাহা পূর্বং তাহাই পরং' রয়ে যায়। তখণ দারিদ্র্য বিমোচন শুধু আলোচনা, পর্যালোচনা, পরিকল্পনা, ভাষণ-বিবৃতি, শ্লোগান, লেখালেখি আর গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের `দারিদ্র্য বিমোচন'-এর চটকদার শ্লোগান নিয়ে সরকার ও এনজিওগুলো যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তাতে গুটিকয়েক লোক/গোষ্ঠী আঙুল ফুলে কলাগাছ (স্কুল জীবনে শেখা বাংলা বাগধারাটি ইদানিং অনেকে খানিকটা পরিবর্তন করে ব্যবহার করে থাকেন। `কলাগাছ' এর স্থলে তারা ব্যবহার করেন `বটগাছ'। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষপটে হয়ত এটাই বেশি যুক্তিযুক্ত) হলেও মূলত দেশের দারিদ্র্যাবস্থার তেমন কোন উন্নতি হচ্ছে না। তাই বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য এখন প্রয়োজন প্রচলিত দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে এর প্রতিকার ও বিকল্প কৌশলসমূহ বাস্তবায়ন। (চলমান)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




