দারিদ্রের বহুমুখী কুপ্রভাব
দারিদ্র্যের কুপ্রভাব সর্বব্যাপী। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, জাতি, রাষ্ট্র কোন কিছুই এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। সমকালিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ ড. ইউসুফ আল কারাদাভী তাঁর ‘ইসলামে দারিদ্র্য বিমোচন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘‘আল্লাহর নবীর হাদীসসমূহে দারিদ্র্যকে মারাত্নক বিপদ বলে বিবেচনা করা হয়েছে, যার কুপ্রভাব ব্যক্তি, সমাজ, ঈমান-আকিদা, চরিত্র-আচরণ, আদর্শ, সংস্কৃতি, পরিবার ও সমগ্র জাতির উপর পড়ার আশংকা রয়েছে।’
দারিদ্র্য ব্যক্তির মৌলিক ধর্ম বিশ্বাসের ভিতকে নড়বড়ে করে দেয়, তার আচার-আচরণ, স্বাধীন চিন্তা-চেতনা ও নৈতিকতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। কারণ, কথায় বলে, ‘অভাবে স্বভাব নষ্ট’। দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করার পায়তারা চালায়। আল্লাহ বলেন,
‘শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।’ (সূরা আল বাক্বারাহ: আয়াত-২৬৮)
দারিদ্র্যের কারণে পরিবার গঠন বিলম্বিত হয়, পরিবারের বন্ধন ও স্থায়িত্ব দুর্বল হয়। কারণ, অভাব জানালায় উকি দিলে সদর দরজা দিয়ে ভালবাসা পালিয়ে যাওয়ার গল্প তো সবারই জানা। দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে দরিদ্র পিতামাতা কলিজার টুকরা সন্তানকে বিক্রি এমনকি হত্যা করতেও কুণ্ঠিত হয় না। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটি সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘মাত্র ২০০ টাকায় নবজাতককে বিক্রি করলেন অভাবী মা’। খবরে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা নামে এক মহিলা ছেলে সন্তান প্রসবের পর হাসপাতালের আয়ার কাছে সদ্য প্রসূত বাচ্চাটি মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেন। কারণ, তার দিনমজুর স্বামী অনেক দিন যাবত নিখোঁজ এবং পিতৃহীন ফাতেমা নিজেই বর্তমানে তার ভাইয়ের সংসারে ‘বোঝা’ হয়ে বসবাস করছেন। বাচ্চা নিয়ে এখন আর ‘বোঝার উপর শাকের আঁটি’ চাপাতে চাচ্ছেন না। (বিস্তারিত খবরটি দেখুন এইখানে)] ([link|http://http://www.dailynayadiganta.com/2008/09/11/fullnews.asp?News_ID=103315&sec=1|এরকম খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই প্রকাশিত হতে দেখা যায়। দারিদ্র্যের কারণে সন্তান হত্যার বিষয়টি পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন,
‘তোমাদের সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না। তাদেরকে আমিই রিয্ক দিই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ। (সূরা বনী ইসরাইল: আয়াত-৩১)
দারিদ্রের কারণে মানুষের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়, বহু সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়। নিঃস্ব জাতি কখনও বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনা। সমাজ, দেশ, মানবতা এমনকি ধর্মের প্রতি একজন সচেতন মানুষের যেসব দায়িত্ব রয়েছে তা পালন করতে পারে না। দারিদ্র্য স্বাস্থ্যের উপরও মারাত্নক প্রভাব ফেলে। অভাবের কারণে মানুষ অখাদ্য-কুখাদ্য খেতে এবং অস্বাস্থ্যকর স্থানে বাস করতে বাধ্য হয় যা শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। একইভাবে দারিদ্র্য সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
দারিদ্র্য সামাজিক শান্তি, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে। ক্ষুধা যে মানুষকে সার্বণিক তাড়া করে ফেরে সে ব্যক্তি স্বদেশ ও স্বজাতীর মর্যাদা রায় উদ্দীপ্ত হবে কিভাবে? তাই দারিদ্র্য যে কোন দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকী হয়ে দাঁড়ায়। (চলমান)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




