somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমন ভালবাসা তো চাইনি!! - শেষ পর্ব

০১ লা নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে প্রকাশের পর
........................

ভুলটা বুঝতে পারলাম যখন সম্বিত ফিরে পেলাম। কি করতে কি করে ফেললাম। শ্রাবণীও লজ্জা পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে পাঁচটা বাজে। সেদিন আর দেরী না করে শ্রাবণী তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছিল।

যাওয়ার সময় শার্টের কলার ধরে হালকা টান দিয়ে বলল, "তোমার অপেক্ষায় থাকলাম।"

শ্রাবণী চলে গেল। আমি চিন্তায় পড়লাম ও আমাকে কি বলতে চাইলো।

যাই হোক আর মাত্র সাতদিন আছে আমার জাপান যাওয়ার। অফিসে রিজাইন দিয়েছি। এখন শ্রাবণী কাঁদাকাটি করে ফোনে, বলে তাকে বিয়ে করতে। কিন্তু এখন কিভাবে সম্ভব? বিদেশ যাচ্ছি, কবে পড়ালেখা শেষ করতে পারবো, কবে দেশে আসবো? এসব ভেবে কুল পাইনা। পাছে শ্রাবণীর ভেজা ভালবাসা আমাকে তাড়া করে ফেরে। আমি ভুলতে পারিনা ওর ঠোঁট, উষ্ণ শরীর। তবে কি ওকে বিয়ে করে তবে জাপান যাবো, নাকি ফিরে এসে বিয়ে করবো। আবার এত কিছুর পরে কি ওকে বিয়ে করা ঠিক হবে? সমাজ বলেও তো একটা কথা আছে। ওর পরিবার থেকে আমি বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছি।

ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। কি করবো? ওদিকে শ্রাবণী ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। কণা খালাও আমাকে, ও কে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছে। সময় এতই কম যে, ভাল ভাবে চিন্তা করে ডিসিশন নিবো তাও হচ্ছে না।

শ্রাবণী কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করতে চায়। আমি তাকে বুঝাই যে, স্কলারশীপটা শেষ হলেই আমি ফিরে এসে ব্যাবস্থা নিবো। ও কিছুই মানতে চায় না। শুধু কাঁদে আর বলে "একবার তো আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেছে, তোমার সাথে দেখা হয়ে আবার জীবনের যে স্বাদ খুঁজে পেয়েছি সেটা তুমি নষ্ট করে দিও না।"

আমি পড়ে যাই মহাসমুদ্রে, চারিদিকে শুধু থৈ থৈ পানি। একদিকে শ্রাবণী, অন্যদিকে আমার ক্যারিয়ার।

........................

আজ ৩০ তারিখ। আমার ফ্লাইট সন্ধ্যা ৭টায়। সব রেডি। ২ ঘন্টা আগে রিপোর্টিং আওয়ার। বিকেল ৩টায় বেরিয়ে যাবো। ৩ টা লাগেজ হয়েছে। শীতের কাপড় কিনতে হয়েছে। কারণ ওখানে শীত।

শ্রাবণী আমাকে এয়ারপোর্টে বিমানে তুলে দিতে যাবে। ও এখানে আসবে সকাল ১০টার দিকে।

শ্রাবণী এলো সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। ওর মনটা খুবই খারাপ। হওটাই স্বাভাবিক। এক তোরা ফুল নিয়ে এসেছে আমার জন্য। ওকে বসতে বললাম।

বললাম, শ্রাবণী আমার কাছে এসো। তোমার কাছ থেকে আমি যা পেয়েছি তার চেয়ে অনেক অনেক কম তোমাকে দিয়েছি। তুমি মোটেও চিন্তা করোনা। আমি আমার কোন মত একটা ব্যাবস্থা করে দেশে আসবো। তখন সব হবে। একটা কথা মনে রেখো, তুমি আমার ছিলে, আমারই আছো আর আমারই রবে।

ও আমার বুকে মাথা গুঁজে কাঁদছে। আমি ওর মাথায় বুলিয়ে বোঝালাম অনেক কিছুই। আমি জানি শ্রাবণী কেন এমন করছে। কারণ, ও আর ওর জীবনটা এরকম ছন্নছাড়া রাখতে চায় না। আমি সবই বুঝি কিন্তু কিছুই করার নেই এই অল্প সময়ে।

ওকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকলাম বেশ কিছুক্ষণ। ওর চোখের পানিতে আমার শার্ট ভিজে যাচ্ছিল। আমার ভিতরটা যে কত কাঁদছে তা ওকে একবারের জন্যও বুঝতে দেইনি। তাহলে ও আরও ভেঙ্গে পড়বে।

এভাবে দেখতে দেখতে সময় চলে এলো। যাবার জন্য উঠলাম।

শ্রাবণী আমার বুকে হারিয়ে গেলো। ওর উষ্ণ ঠোঁট দিয়ে আমাকে সিক্ত করলো। আমি ওর কপালে একটা আর্শীবাদ এঁকে দিলাম।

রহমত চাচা হলুদ টেক্সিক্যাবে আমার লাগেজ গুলো তুলে দিলো। রহমত চাচার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি আর শ্রাবণী এয়ারপোর্ট এসে পৌঁছালাম।

শ্রাবণীর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ও যে কিভাবে কাঁদছিল তা ভাবলে সত্যিই এখন খুবই কষ্ট হয়।

আমাকে বলল, "ভাল থেকো। তোমার দেয়া উপহার আমি এখন আমার শরীরে বহন করছি। অপেক্ষায় থাকলাম।"

শ্রাবণীকে পেছনে ফেলে আমি আজ অনেক দুরে। জাপানে এসে সবসময় শ্রাবণীর কথা মনে হয়। ওর সাথে একদিন পর পর ফোনে কথা হয়। ভাবি, আমাদের জীবনটাতো অনেক সুন্দর হতে পারতো! হারানো ভালবাসা ফিরে পেলাম ঠিকই কিন্তু অনেক পরে। এমন জীবন তো চাইনি। এমন ভালবাসা তো চাইনি!!

.........................
সমাপ্ত।

আগের পর্ব গুলো পড়তে হলে:

১ম পর্ব.

২য় পর্ব.

৩য় পর্ব.

৪র্থ পর্ব.

৫ম পর্ব.

৬ষ্ঠ পর্ব.

৭ম পর্ব.

৮ম পর্ব.

৯ম পর্ব.
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×