পরে আশ্রয় পায় আরেকটি বাড়ীতে। আবারও সেই গৃহপরিচারিকা হিসেবে। সেখানে বেশকিছুদিন কাজ করার পর সেই বাড়ীর গৃহীনির বোনের বাড়ী মিরপুরে স্থান হয় মেয়েটির। সেখানে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় শেফালীকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। লোহার গরম বড় দিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। এতে শেফালী মৃত্যুর মুখোমুখি হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে শেফালীকে কয়েকদিন বাথরুমে আটকে রাখা হয়। হায়রে কি নির্মম পরিহাস।
এরপর শেফালীকে ভর্তি করা হয় রাজধানী থেকে দুরে সাভারের গনস্বাস্থ্যনগর হাসপাতালে। সেখানকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর করেও তার অভিভাবক হিসেবে কাউকে খোঁজ করে পায়নি। শেফালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। তার ঢাকায় আসার পর থেকে আদ্যাপান্ত ঘটনা জানতে পারে কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এরপর শেফালী মারা যায়। অদেখা থেকে যায় তার বাকী জীবনে হাসি আনন্দগুলো। অদেখা থেকে যায় তার সুন্দর পৃথিবী।
মামলাটি পরে ট্রান্সফার হয়ে রাজধানীর মিরপুর থানায় আসে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে গ্রহণ করা হয়। হারানো মেয়েকে লাশরূপে ফিরে পায় শেফালীর বাবা মা। যে মেয়েকে নয় বছর বয়সে হারিয়েছিল, সেই মেয়েকেই ফিরে পেল তারা। কিন্তু তাতে নেই কোন প্রাণ, তাতে নেই কোন অনুভুতি। সে আর কখনই খেলবে না। মা বাবা বলে ডাকবে না।
তাদের আর্তনাদ গুলো শুধু এখন বাতাসে ভেসে দূর কোন দেশে চলে যায়।
ফিরবেই যদি, তবে লাশ হয়ে কেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ৭:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



