somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার স্কুলের প্রেমগুলো....

২১ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাশ ওয়ানে কথা আমার মনে নেই। মানে ক্লাশ রুমের কথাটা মনে নেই। কিন্তু সেই সময়কার অন্য কথাগুলো আমার মনে আছে। একদম ছোটবেলায় বলতে গেলে আমার তেমন ছেলেবন্ধু ছিল না। তখনতো আসলে মনের মধ্যে বন্ধু ব্যাপারটা আসেনি। যেটা ছিল সেটা হলো, খেলার সাথী। আমাদের বাসার পাশে ছিল সেই বান্ধবীর বাসা। তার সাথেই স্কুলে যাওয়া, বিকালে খেলা এবং সেই আমার সহপাঠী, নাম মৌসুমী। সে ছিল আমার প্রথম শিক্ষয়িত্রীর ছোটবোন। মনের মাঝে একটা টান অনুভব করতাম তার জন্য। তবে কি এটা প্রেম?

ক্লাশ টুতে বন্ধু বলতে এখন যাদের কথা মনে পড়ে তারা হলো বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে একজন হলো মেয়ে। নাম ছিল রুমা। খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল মেয়েটি। মেয়েটির গালে একটা কালো তিল ছিল। আমি ওকে বারবার জিজ্ঞেস করতাম, "এটা কি?" ও বারবারই বলতো "মশা"। তখন খুব হাসতাম। আমি জানতাম না, অনেকজায়গায় তিলকে মশা বলে। তারপর কোন ক্লাশে যেন হঠাৎ করে মেয়েটি নাই হয়ে গেল। মনে হয় ওর বাবা অন্য কোথাও বদলি হয়ে গিয়েছিল। তখন বোধহয় বন্ধু হারানোর কষ্টে পড়েছিলাম খুব। আসলে আমি আগে থেকেই খুবই ইমোশনাল। আমি এখনও মেয়েটিকে খুঁজি ভিড়ের মাঝে। তবে কি এটা প্রেম?

ক্লাশ সেভেনে পড়ার সময় আমাদের স্কুলে একজন নতুন আপামনি (শিক্ষিকা) বদলি হয়ে আসলেন। উনি আমাদের সমাজপাঠ ক্লাশ নিতেন। আমরা ডাকতাম পান্নু আপা। টিফিনের পরে ক্লাশ হতো সমাজপাঠের। তখন মনে হয় ঐ আপামনির বয়স ছিল প্রায় ৩০/৩২। আপামনি ছিলেন বিবাহিতা। কারণ একদিন তার হাসবেন্ডকে স্কুলে আসতে দেখেছিলাম। কেন যেন তাকে দেখে আমার খুব ভাল লাগতো। সব ছেলে মেয়েদের খুব আদর করে পড়াতেন। মানে তার মধ্যে টিচারী স্বভাবটা ছিল না। মনে হতো বড় বোন। দেখতে আপাটা খুব সুন্দর ছিল। ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলতো খুব হাসিমাখা আদর দিয়ে। মূলতঃ ওনার আদরের জন্যই কখনই কোন বাকব্রেঞ্চাররাও ঐ ক্লাশটা পালায়নি। একদিন হঠাৎ করেই শুনলাম আপামনি বদলি হয়ে গিয়েছে। খুব খারাপ লেগেছিল। এখনও আমি সেই পরিচিত মুখ খুঁজে ফিরি। তবে কি এটা প্রেম?

ক্লাশ নাইনে পড়ার সময় একটা মেয়ের সাথে অন্তরঙ্গতা গড়ে উঠে, যদিও সে আগে থেকেই ক্লাসমেট ছিল। ওর নাম কবিতা। ও ছিল হিন্দু। আমরা একই মহল্লায় থাকতাম। একই টিচারের কাছে পড়তে যেতাম। খুবই মিষ্টি দেখতে ছিল মেয়েটি। আমরা একে অপরকে তুই বলে সম্মোধন করতাম। আমাদের বাসাটা ছিল দোতলা, ওদের বাসা একতলা ছিল। বিকেলে আমি বারান্দায় বসলে ওদের ছাদ দেখা যেত। আমাদের পাশেই ছিল ওর দাদার (বাবার বাবা) বাড়ী। বলতে গেলে অনেক সময় একসাথেই স্কুলে যেতাম। আর একসাথেই ফিরতাম, দুজনই সাইন্সে পড়তাম। পড়া আর ক্লাশ নোট গুলো শেয়ার করতাম দু'জন। ও খুব সুন্দর গান গাইতো। সে ছিল ভীষন লাজুক একটা মেয়ে। সে এখন মুসলমান। আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু ওকে বিয়ে করেছে, শুনেছি ভাল আছে। অনেকদিন মেয়েটাকে দেখিনা। তবে কি এটা প্রেম?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০৭
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×