আমাদের অফিসের গাড়ীর ড্রাইভার আনোয়ার সাহেব। কথা একটু বেশী বলে। তবে নিজেকে খুব চালাক মনে করে। সেটা আমরা বুঝতে পারি। সে মাঝে মাঝে গাড়ী চালাতে চালাতে আনমনা হয়ে তার অনেক কথাই বলে। তার পরিবারের কথা, তার নিজের কথা। তবে একটু দুষ্ট লোকটা। চেষ্টা করে এর কথা ওর কাছে বলার জন্য। খুবই খারাপ স্বভাব, আমার ভাল লাগেনা। একটু সর্তক ভাবে চলি তার সাথে। মুখ ফসকে কখনও যাতে কিছু না বলে ফেলি। তখন দেখা যাচ্ছে আমার সেই কথাটা আরেকজনকে বলছে অন্যভাবে।
আজ সকালে আমি গাড়ীতে বসে বসে পেপার পড়ছিলাম। গাড়ীটা সিগন্যালে গিয়ে দাঁড়ালো। তখন সে হঠাৎ করে বলল, "স্যার, এই যে দেখেন উনিই আমার ভাই, চাচাত ভাই।"
দেখলাম, একটা সাদা টয়োটা করোলা এক্স। ভিতরে পিছনে বসা আয়েসি ভঙ্গিতে একজন মধ্যবয়সী ভদ্রলোক, একটা বই পড়ছেন। সামনে সম্ভবতঃ তার পিএস হতে পারে, চোখ মুখ শক্ত করে বসে আছে, যেন একটা রোবট। এবং ড্রাইভিং সিটে ড্রাইভার। আমি আনোয়ার সাহেবের কাছ থেকে আগে তার চাচাত ভায়ের কথা শুনেছি। ভদ্রলোক একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বা সেই লেভেলের কেউ হবেন হয়ত। নিজের বাড়ী, গাড়ী ছাড়াও অনেক পয়সার মালিক হয়েছেন।
আমাদের ড্রাইভার মাঝে মাঝে তার সেই ভায়ের উদাহরন দিয়ে বলে। "সে আজ কোথায় আর আমি কোথায়।" অথচ দুজনই একই ফ্যামিলি থেকে এসেছেন। পড়ালেখা করেনি বলে তার আজকে অবস্থান কোথায়। অথচ তাদের দুই পরিবারের টাকা পয়সা বা সুযোগ সুবিধা নাকি একই রকম ছিল। দেখলাম আমাদের ড্রাইভার ইচ্ছা করেই তার চাচাত ভায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করলো না। এতে হয়ত সেই ভদ্রলোক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারেন।
যাইহোক, এই ঘটনাটা হয়ত খুবই ছোট কিন্তু ব্যাপ্তিটা বিশাল। এই পড়ালেখা বা তার সাথে আরো কিছু নিয়ামকই হয়ত একটা মানুষের সামাজিক অবস্থান ইন্ডিকেট করে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



