আমি খুবই সাধারন একজন নিম্ন শ্রেণীর মুসলমান। এর অর্থ হলো আমি আমার বাবা-মা, আশে পাশের মানুষকে যা দেখেছি সেই ভাবেই চলি বা ধর্ম পালন করার চেষ্টা করি। আমাদের আশে পাশের মানুষের মধ্যে একটি অংশ কিন্তু এই ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে যাচ্ছে। কেউ তাদের ভালো বলছে আবার কেউ তাদের খারাপ বলছে।
যেমন, আমি বা আমরা আগে জানতাম, যে মিলাদ পড়া ভালো। বাসা বাড়ীর কোন অনুষ্ঠানে আমরা মিলাদ পড়ে সব কিছু শুরু করতাম। কিন্তু কিছুদিন যাবত আমরা শুনতে পাই এই মিলাদ পড়া উচিত নয়। কারণ এর কোন দলিল নেই। আজ থেকে ৬০০ বছর পূর্বে এই সাবকন্টিনেন্টে এই মিলাদ পড়ার রেওয়াজ চালু হয়। কিন্তু মূল ইসলাম ধর্মে এর কোন প্রমান পাওয়া নাকি যায়নি। আমি এই কথা গুলো সবই মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। এর পক্ষে বিপক্ষে তর্কে যেতে চাই না। ঠিক যেমন বির্তক আছে তারাবী নামাজ পড়ার ব্যাপারে।
এখন প্রশ্ন হলো বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন প্রসঙ্গ। পৃথিবীর আকারগত কারনে এক জায়গায় যখন চাঁদ দেখা যাবে তখন অন্য প্রান্তে দেখা যাবে না। এটাই ঠিক। উদাহরন সরূপ, কিছু মানুষের বক্তব্য সৌদি আবরে যখন চাঁদ দেখা যাবে তার তিন ঘন্টা পরে বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা। কিন্তু হয়ত দেখা যাচ্ছে আমরা তার পরের দিন এখানে চাঁদ দেখে রোজা রাখছি। অর্থাৎ একদিন বা দুইদিন পিছিয়ে যাচ্ছি। ঠিক তেমনি ঈদের বেলাতেও তাই। কিন্তু বাস্তবিক ভাবে চিন্তা করলে ওখানকার চাঁদ দেখা গেলে আমাদের এখানে তিনঘন্টা পরেই রোজা রাখার দিন শুরু হয়।
আমার পরিচিত একজন সৌদি আরবের সময়সূচী হিসেবে রোজা রেখেছে এবং ঈদ পালন করেছে। তার কাছে আমি কারণ জানতে চাইলাম, তিনি আমাকে বেশ কিছু যুক্তি দেখালেন যেগুলো আমি অন্যজনের কাছ থেকেও শুনেছি। যুক্তিগুলো হলো, প্রথমতঃ বলা হয়েছে, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং ঈদ পালন করো। দ্বিতীয়তঃ বলা হয়েছে, একজন মুসলমান যদি চাঁদ দেখে থাকে তবে তার কথা বিশ্বাস করে তুমি রোজা রাখো বা ঈদ পালন করো। অর্থাৎ একজন সাক্ষীই যথেষ্ট। আবার ইফতার করার সময় নিয়েও নাকি বিভেদ আছে। যেমন আমরা সাধারনত মাগরিবের আজানের সময় ইফতার করি। কিন্তু সেই ব্যাক্তি (বা একটা বড় অংশ) ইফতার করেন আমাদের ইফতারের সময়ের প্রায় ৩০/৪০ মিনিট পরে। কারণ নাকি বলা হয়েছে, তোমরা ইফতার করো রাত্রির শুরুতে। ঠিক এখনকার এইদিনগুলোতে যখন মাগরিবের আযান পড়ে তখন কিছু হলেও দিনের আলো থাকে।
আসলে আমরা বুঝতে পারিনা, কোনটি ঠিক। বড় বড় ইসলাম বোদ্ধারা এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষনা করছেন। এইরকম মত বিভেদের কারণও আছে অনেক। যেমন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ভাবে এসব ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা বিভিন্ন রকম সমাজ, দেশ ও ভাষার। আমরা এখন যেভাবে ধর্ম পালন করছি ঠিক সেইভাবে যে আমার চৌদ্দপূরুষ আগে ধর্ম পালন করতো তার কোন প্রমান নেই। লক্ষ্যনীয় একটা ব্যাপার, আমি যা দেখবো তা বর্ণনা করার সময় একটু চেইঞ্জ হতেই পারে। এইভাবে কালে কালে ধীরে ধীরে সবকিছু চেইঞ্জ হয়ে গেছে। দেখা যাচ্ছে এখনকার আমাদের ধর্ম পালনের কালচার আর আজ থেকে হাজার বছর আগে ধর্ম পালনের কালচারের মধ্যে হাজারও পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এমনটি হওয়া উচিত নয়।
বলা হয়েছে, তোমরা কোরআন শরীফ ফলো করো। কিন্তু এটার ব্যাখা একেকজন একেকভাবে করছে। মনে হয় তারজন্যই এত সমস্যা। আমরা খুবই কম আছি যারা কিনা কোরআনের সঠিক মানেটা বুঝতে পারি। তবে এখন যারা এটার মানে বুঝে ভুলগুলো (তাদের ভাষায় ভুল) ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন, তারাই ঠিক না আমরা ঠিক (আমরা যারা দেখে দেখে ধর্ম পালন করছি)?
ধর্ম এক, সেটার পালনরীতিও এক হওয়া উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



