somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের প্রসঙ্গে

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি খুবই সাধারন একজন নিম্ন শ্রেণীর মুসলমান। এর অর্থ হলো আমি আমার বাবা-মা, আশে পাশের মানুষকে যা দেখেছি সেই ভাবেই চলি বা ধর্ম পালন করার চেষ্টা করি। আমাদের আশে পাশের মানুষের মধ্যে একটি অংশ কিন্তু এই ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে যাচ্ছে। কেউ তাদের ভালো বলছে আবার কেউ তাদের খারাপ বলছে।

যেমন, আমি বা আমরা আগে জানতাম, যে মিলাদ পড়া ভালো। বাসা বাড়ীর কোন অনুষ্ঠানে আমরা মিলাদ পড়ে সব কিছু শুরু করতাম। কিন্তু কিছুদিন যাবত আমরা শুনতে পাই এই মিলাদ পড়া উচিত নয়। কারণ এর কোন দলিল নেই। আজ থেকে ৬০০ বছর পূর্বে এই সাবকন্টিনেন্টে এই মিলাদ পড়ার রেওয়াজ চালু হয়। কিন্তু মূল ইসলাম ধর্মে এর কোন প্রমান পাওয়া নাকি যায়নি। আমি এই কথা গুলো সবই মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। এর পক্ষে বিপক্ষে তর্কে যেতে চাই না। ঠিক যেমন বির্তক আছে তারাবী নামাজ পড়ার ব্যাপারে।

এখন প্রশ্ন হলো বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন প্রসঙ্গ। পৃথিবীর আকারগত কারনে এক জায়গায় যখন চাঁদ দেখা যাবে তখন অন্য প্রান্তে দেখা যাবে না। এটাই ঠিক। উদাহরন সরূপ, কিছু মানুষের বক্তব্য সৌদি আবরে যখন চাঁদ দেখা যাবে তার তিন ঘন্টা পরে বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা। কিন্তু হয়ত দেখা যাচ্ছে আমরা তার পরের দিন এখানে চাঁদ দেখে রোজা রাখছি। অর্থাৎ একদিন বা দুইদিন পিছিয়ে যাচ্ছি। ঠিক তেমনি ঈদের বেলাতেও তাই। কিন্তু বাস্তবিক ভাবে চিন্তা করলে ওখানকার চাঁদ দেখা গেলে আমাদের এখানে তিনঘন্টা পরেই রোজা রাখার দিন শুরু হয়।

আমার পরিচিত একজন সৌদি আরবের সময়সূচী হিসেবে রোজা রেখেছে এবং ঈদ পালন করেছে। তার কাছে আমি কারণ জানতে চাইলাম, তিনি আমাকে বেশ কিছু যুক্তি দেখালেন যেগুলো আমি অন্যজনের কাছ থেকেও শুনেছি। যুক্তিগুলো হলো, প্রথমতঃ বলা হয়েছে, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং ঈদ পালন করো। দ্বিতীয়তঃ বলা হয়েছে, একজন মুসলমান যদি চাঁদ দেখে থাকে তবে তার কথা বিশ্বাস করে তুমি রোজা রাখো বা ঈদ পালন করো। অর্থাৎ একজন সাক্ষীই যথেষ্ট। আবার ইফতার করার সময় নিয়েও নাকি বিভেদ আছে। যেমন আমরা সাধারনত মাগরিবের আজানের সময় ইফতার করি। কিন্তু সেই ব্যাক্তি (বা একটা বড় অংশ) ইফতার করেন আমাদের ইফতারের সময়ের প্রায় ৩০/৪০ মিনিট পরে। কারণ নাকি বলা হয়েছে, তোমরা ইফতার করো রাত্রির শুরুতে। ঠিক এখনকার এইদিনগুলোতে যখন মাগরিবের আযান পড়ে তখন কিছু হলেও দিনের আলো থাকে।

আসলে আমরা বুঝতে পারিনা, কোনটি ঠিক। বড় বড় ইসলাম বোদ্ধারা এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষনা করছেন। এইরকম মত বিভেদের কারণও আছে অনেক। যেমন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ভাবে এসব ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা বিভিন্ন রকম সমাজ, দেশ ও ভাষার। আমরা এখন যেভাবে ধর্ম পালন করছি ঠিক সেইভাবে যে আমার চৌদ্দপূরুষ আগে ধর্ম পালন করতো তার কোন প্রমান নেই। লক্ষ্যনীয় একটা ব্যাপার, আমি যা দেখবো তা বর্ণনা করার সময় একটু চেইঞ্জ হতেই পারে। এইভাবে কালে কালে ধীরে ধীরে সবকিছু চেইঞ্জ হয়ে গেছে। দেখা যাচ্ছে এখনকার আমাদের ধর্ম পালনের কালচার আর আজ থেকে হাজার বছর আগে ধর্ম পালনের কালচারের মধ্যে হাজারও পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এমনটি হওয়া উচিত নয়।

বলা হয়েছে, তোমরা কোরআন শরীফ ফলো করো। কিন্তু এটার ব্যাখা একেকজন একেকভাবে করছে। মনে হয় তারজন্যই এত সমস্যা। আমরা খুবই কম আছি যারা কিনা কোরআনের সঠিক মানেটা বুঝতে পারি। তবে এখন যারা এটার মানে বুঝে ভুলগুলো (তাদের ভাষায় ভুল) ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন, তারাই ঠিক না আমরা ঠিক (আমরা যারা দেখে দেখে ধর্ম পালন করছি)?

ধর্ম এক, সেটার পালনরীতিও এক হওয়া উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৮
২৩টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×