আসলে অনুভুতিটা একটা আপেক্ষিক বিষয়। আমার একটা বিষয়ের আজকের অনুভুতি আর একই বিষয়ের দশ বছর পরের অনুভুতি যে একই রকম হবে তার কোন মানে নেই। আলাদা হওয়াটাই সমীচিন। ঠিক তেমনি ঈদের আনন্দ। ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ আর আজকের ঈদের আনন্দ কিন্তু ভিন্ন রকম। কিন্তু সেই একই ঈদ এই একই আমি। কিন্তু অনুভুতি বা মজাটা আলাদা। শুধু সময়ের পার্থক্য। এই পার্থক্যই মানুষকে অনেক পার্থক্য করে দেয়।
ছোটবেলার ঈদ:
মনে পড়ে রমজানের ঈদের কথা। তখন খুব আশায় থাকতাম কত তাড়াতাড়ি ঈদ আসবে। খুব আশায় থাকতাম ২৯টি রোজা হবে। কিন্তু ২৯ রোজা শেষে যদি চাঁদ না দেখা যেত তবে মনটা খুব খারাপ হয়ে যেত। কিন্তু আবার ঈদের দিন বিকেল বেলাতে মনটা খুব খারাপ লাগতো যে ঈদ শেষ হয়ে গেল।
বাবার সাথে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম জায়নামাজ হাতে করে। নামাজ শেষে বাবা আমার সাথেই প্রথম কোলাকুলি করতেন। তারপর যে রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতাম অন্যরাস্তা দিয়ে ফিরে আসতাম বাসায়।
কবে নতুন জামাকাপড় পড়বো? সেই জামাকাপড় জুতা গুলো লুকিয়ে রাখা। আর মাঝে মাঝে বের করে দেখা। আর মনে মনে চিন্তা করা আমাকে এই গুলো পড়লে ভালো লাগবে তো? যদিও কোন প্রতিযোগীতা করা আমার বাবা-মা মোটেই পছন্দ করতেন না, তবুও ছোট মন থেকে ওগুলো টেনশন চলে আসতো। যদিও আমাদের পরিবার ভাল সচ্ছল ছিল কিন্তু বাবা-মা কোনদিনই এমন কোন পোষাক কিনে দেননি যেটা বাহুল্য বুঝায়। যেটা দিয়েছেন সেটাই নিয়েছি। কখনও বাড়তি আব্দার করিনি তা স্পষ্ট মনে পড়ে।
ঈদের দিন ১০/৫ টাকা করে সালামী পেতাম। এটা ওটা কিনে নষ্ট করতাম। তবে মনে পড়ে ছোটবেলায় বন্ধু বান্ধব মিলে দুরে কোথাও গিয়ে সিগারেট খেতাম। ওটা ছিল ঈদের দিনের একটা বাড়তি আকর্ষন। এখন মনে পড়লে হাসি পায়।
এবেলার ঈদ:
এখনকার ঈদের আনন্দটা অন্যরকম। কাকে কত বেশী খুশি করা যায়-এমন ভাবটা থাকে ভিতরে। অন্যের জন্য জামাকাপড় কিনা, নিজের জন্য কেনাকে কখনই প্রাধান্য দেই না। বাসার কাজের মানুষদের বেশী খুশি করার চেষ্টা করি। ঈদে ওদের বোনাস দেই। প্রায় পুরো বেতনটা ডবল দেই। ওদের জন্য শাড়ী, লুঙ্গি কিনে দেই। ওরা খুশী হলে ভালো লাগে। আমার আম্মাকেও দেখেছি, সকাল বেলাতেই খিচুড়ী আর মিষ্টি জাতীয় খাবার করে আশেপাশের ঘরে দিতে (যাদের অন্তত ভালো করে ঈদ উৎযাপন করার সামর্থ নেই), আমার স্ত্রীও তাই করেন এখন দেখতে পাই। যাতে তারা নামাজে যাওয়ার আগেই খেয়ে যেতে পারে।
ছোট ছোট কাজিনদের, শ্যালক, শ্যালিকাদের সালামী দেই। আর যারা দুরে থাকে তাদের ফ্লেক্সি করে টাকা পাঠিয়ে দেই সালামী হিসেবে। মাঝে মাঝে পরিচিত কারো বাসায় বেড়াতে যাই, তবে কম। মোবাইলে এসএমএস শুভেচ্ছা দেই। কারো সাথে মোবাইলেই শুভেচ্ছা বিনিময় করি। সন্তানকে নিয়ে খেলাধুলা করি। সারাক্ষণ বাসাতেই থাকতেই পছন্দ করি। কারণ আমরা যারা চাকুরীজীবি সাধারণত ছুটি পাই না, তাই ছুটির দিনটা বাসার মানুষদের সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। টিভি ইদানিং তেমন দেখা হয় না। তবে দুই একটি ভালো অনুষ্ঠানের অংশবিশেষ হয়ত কখনও দেখি।
এভাবে একটি ঈদ আমার শেষ হয় আবার কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ি ঈদের ছুটি কাটলেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



