আমার বাবা খুবই সচেতন মানুষ। তিনি লেখাপড়ার প্রতি খুবই অনুরাগী। আমাকে কলেজ পর্যন্ত তেমন উল্লেখযোগ্য (খন্ডকালীন ছাড়া) শিক্ষকের কাছে পড়তে হয়নি। তারমানে তিনিই আমাকে পড়াতেন। ইংরেজী, অংক, বিজ্ঞান ছাড়াও কঠিন কঠিন পড়া গুলো তিনি আমাকে পড়াতেন। এছাড়াও তিনি আমাকে কলেজে উঠার পরে এসব সাবজেক্ট ছাড়া ফিজিক্স, ক্যামিষ্ট্রিও পড়িয়েছেন।
উনি কোনদিনই আমাকে রেষ্ট দিতেন না। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নতুন ক্লাশের বই কিনে নিয়ে এসে সেটার অংক শেষ করতেন। অর্থাৎ দেখা যেত নতুন ক্লাশ শুরু হতে হতেই আমার বই এর ১/৪ শেষ হয়ে যেত। এটার জন্য তখন খুব রাগ করতাম। কোন বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে আমাকে কোন জায়গায় বেড়াতে যেতে দিতেন না। অথবা লেখাপড়া ছাড়া থাকতে দিতেন না।
কখনও কোন আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে বই সাথে নিয়ে যেতে হতো। তখন খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু ক্লাশ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আমার বেশ সুবিধা হতো কারণ ঐ পড়াগুলো আমার আগেই পড়া থাকতো। স্কুল যখন ছুটি থাকতো তখন তিনি আমাকে তার অফিসে নিয়ে যেতেন এবং সেখানেই পড়াতেন।
উনাকে লাইব্রেরীর লোকেরা খুব ভালো করে চিনতেন। তাই সামনের বছরের জন্য একসেট বই আগেই তারা জোগাড় করে রাখতো। তারা জানতো যে এই একসেট বই এর কাষ্টমার আছে। অনেক সময় দুই সেট বই কেনা হতো।
সেইসব বই গুলোকে তিনি নিজে হাতে মলাট লাগিয়ে সিলাই করে দিতেন। এবং নিজ হাতে রিম কাগজ কিনে খাতা বানিয়ে দিতেন। তার অসীম ধৈর্য্য ছিলো এসবে। ক্লাশে সবার চেয়ে অন্ততঃ বই খাতার দিক দিয়ে আমারটা থাকতো বেশ পরিপাটি। এ নিয়ে অনেককে হিংসা করতেও দেখেছি। উনি ছোট বেলা থেকে খুব কষ্ট করে বড় হয়েছেন। তাই তিনি কখনও চাননি যে তার সন্তান বই খাতা বা পড়ালেখার ব্যাপারে কষ্ট পাক।
আমার বাবা আমার দেখা সব বাবাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাবা। আমি তাকে সালাম জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



