ব্যাপারটি আমিও আগে বুঝতে পারিনি। আমাদের মেসবাহ য়াযাদ।
আমরা তাকে মেসবাহ ভাই বলেই ডাকি ও চিনি। সদালাপী ও দিলখোলা একজন মানুষ। আড্ডায় একেবারে হা হা করে আকাশ কাঁপিয়ে হাসতে পারে। ওনার শুধু একটাই জিনিস খারাপ ছিল। বেনসনের প্যাকেটটা তার কজ্বায় থাকা চাই। মূলতঃ আড্ডায় বসলে কেউ হয়ত আগেই এক প্যাকেট বেনসন নিয়ে আসে। সেখান থেকেই চলে একটার পর একটা। যখন প্রায় সেখানে পাঁচটি সিগারেট বাকী থাকে তখনই মেসবাহ ভাই হাওয়া হয়ে যায়। যাক এটা আমরা তার একটা ফান করে ধরে নিয়েছিলাম।
কিন্তু কিছুদিন যাবত আমরা তার মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তন দেখছিলাম। কথার মধ্যে কেমন একটু জোড় খাটিয়ে কথা বলে। চায়ের দোকানে বেঞ্চের উপর এক পা তুলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা খায়। তুড়ি মেরে হাতের ঝাঁকুনিতে সিগারেটের ছাই ফেলে। সানগ্লাস কখনও পড়ে না কিন্তু কপালে লাগিয়ে রাখে। মাসখানেক হলো, একটা মোটরসাইকেলে ঘোরাঘোরি করে। আর সেই মোটরসাইকেল চালানোর জন্য একটা ড্রাইভারও আছে। ফোন আসলে ড্রাইভারকে দিয়ে রিসিভ করায়। ঢাকা শহরে যদি দেখেন আপনার সামনে কোন অতি দ্রুত গতিতে চোখের পলকে কোন হলুদ মটোরসাইকেল পার হয়ে যায়, তবে নিশ্চিত ওটাই আমাদের মেসবাহ ভাই।
ইদানিং ঘন ঘন বিদেশ জার্নি করছে। হঠাৎ করেই যায় আবার হঠাৎ করেই ফেরত আসে। হয়ত পরশু রাতেই কথা বললাম আর আজকের আড্ডায় এসে বললো, "কেবলই বিমান থেকে নামলাম, শরীরটা খুব ক্লান্ত, খুব ধকল গেছে"।
কাউকে পারফিউম, কাউকে সোনার চেইন আবার কাউকে দামী কলম। আমরা সবাই বিস্মিত! কি ব্যাপার এত পরিবর্তন মেসবাহ ভাই এর? শুনলাম মেসবাহ ভাই নাকি এখন খালি লাগেজ নিয়ে যান আর ভর্তি নিয়ে ফেরত আসেন। ওনাকে এখন আড্ডাতে সবাই "লাগেজ মেসবাহ" নামেই চেনে। সম্প্রতি উনি মালয়েশিয়া থেকে ঘুরে এসে আমাকে একটা মোবাইল গিফট করেছে। ওটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
যতই হোক আমরা লাগেজ মেসবাহকে চাই না সেই দিলখোলা মেসবাহকে চাই। আমাদের দিলখোলা মেসবাহ ভাইকে ফিরিয়ে দাও!
ফিরিয়ে নাও এ লাগেজ!
বি:দ্র: ইহাকে মোটেও ফানপোষ্ট মনে করিয়া ভুল করিবার প্রয়োজন নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



