যুদ্ধ উত্তর বাংলাদেশে জন্ম আমার। তাই যুদ্ধের ভয়াবহতা আর স্বাধীনতার তৎক্ষনাত আনন্দটা দেখার ভাগ্য হয়নি। তাই যা বুঝি তা না দেখেই। শুনে অথবা বই পড়ে। চোখের অগচরের কোন জিনিস অনুভব করা পুরোপুরি হয়ে উঠে না। তাই সত্য-মিথ্যার দোলনার দুলেই চলেছি।
৩৯ তম বিজয় দিবস চলে গেলো আজ। মুক্তির আনন্দ একেক জন একেক ভাবে প্রকাশ করছে এখন। তবে আজ শহর জুড়ে অনেক কিছুই দেখলাম। মোড়ে মোড়ে মানুষের জটলা দেখেছি। বিভিন্ন চেহারার বিভিন্ন বেশভূষার মানুষ। তবে এতটুকু শিওর যে, যে মানুষ গুলো বিজয়মিছিলের জন্য জন্য জটলা পাকিয়েছিল তারা বেশীর ভাগই এই বিজয়ের ইতিহাস জানে না, এই যুদ্ধের ইতিহাস জানেনা বা কোনদিন জানার চেষ্টাও করেনি। নিছক রাজনৈতিক দলের সমর্থন যোগনের জন্য জড়ো হয়েছিল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যাইহোক এটা নিয়ে অনেক কথাই বলা যায়।
দুরে মাইকে দেশের গান শুনতে শুনতে হঠাৎ “রূপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া” গান যখন বেজে উঠে আর সেই গানে যখন দর্শকদের তুমুল হাততালি পড়ে, তখন আমি যুদ্ধ উত্তর প্রজন্ম হয়ে একটু হচকিত হয়ে পড়ি।
আজ বিজয় দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার শ্বশুর সাহেবকে একটা “একাত্তরের চিঠি” বইটা উপহার দিয়েছি। উনি একজন বয়স্ক। মুক্তিযোদ্ধা। কম্পিত হাতে বইটা ধরে কয়েকটা পাতা উল্টিয়ে উনি দীর্ঘশ্বাসের সাথে বিড় বিড় করে বললেন,”কেন যে যুদ্ধ করেছিলাম?”
হয়ত উনি জানেন না, যে আমি কথাটা শুনে ফেলেছি। কিন্তু আমি ঠিকই শুনেছি। আমি কোনদিনও তার মুখে যুদ্ধের কথা শুনিনি বা তাকে সেসব নিয়ে জাহির করতেও শুনিনি। অনেকটা নিরবেই কাটিয়ে চলছেন তার জীবন। উনি সার্টিফিকেট নিয়ে কাগুজে যোদ্ধা হিসেবে কারো কাছে পরিচিত হতে চাননি।
হয়ত নিরবে নিভৃতে এমনই করে অনেক মানুষ লুকিয়ে আছে যাদের বুকে চাপা কষ্ট আছে। যারা এখনকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের দেখে মনের অজান্তেই প্রশ্ন করে, “কেন যে যুদ্ধ করেছিলাম”।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



