somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও..............

০১ লা আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন জন্মেছি তখন একদিন মরতে হবেই। হয়ত এভাবেই হঠাৎ কোনদিন হারিয়ে যাবো। বন্ধু হারা হবো। কেউ মনে রাখবে কয়েকদিন। কেউবা কথায় কথায় আমাকে স্বরণ করবে আরো কিছু দিন। তারপর সৃত্মির চাপায় চাপা পড়ে সেই সৃত্মিরও মৃত্যু ঘটবে। বাহ্ কি সুন্দর নিয়ম। এরকম যুগে যুগে মানুষ আসে আর পৃথিবীর আলো বাতাস কিছুদিন ব্যাবহার করে কিছু সৃত্মি রেখে হারিয়ে যায়।

জীবনে অনেক ধাপ পার হয়ে এসেছি। প্রতি ধাপেই পেয়েছি অনেক বন্ধু। কখনও খারাপ আবার কখনও ভাল। এই ভালো খারাপ আর মাঝামাঝি মিশিয়েই জীবনের টুকরো টুকরো সৃত্মিগুলো টক ঝাল মিষ্টি। সেক্ষেত্রে সব বন্ধুই আমার আমার আপন। সবাই আমার প্রিয়।

আমি যখন একা থাকি। মাঝে মাঝে সৃত্মি রোমন্হন করি। ঠিক সেই সময় গুলো কারো সাথে শেয়ার করি না বা আসে পাশে কেউ থাকে না। সৃত্মিগুলো যখন মনে পড়ে তখন আমার চোখের পাতা, চোয়াল, ঠোঁট, গালের পেশী কখনও শক্ত হয় আবার কখনও নরম হয়। মনের অজান্তেই একটু হেসে উঠি। আসলে এগুলো ঠিক সেই মূহুর্তের ভাবনাগুলোর বহিঃপ্রকাশ। যেহেতু নিজেই নিজের সাথে সৃত্মিগুলো শেয়ার করি, তাই এমনটা হয়। আমি কখনও আমার মনের সাথে কথা বলি। কোন সৃত্মি হাসায় আবার কোন সৃত্মি কাঁদায়, কোন সৃত্মি আবার ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে আমার স্বভাববশতঃ দিনের একটা সময় আমি আগের সৃত্মিগুলো রোমন্হন করি। যে মূহুর্তগুলো একান্তই আমার।

যখন স্কুলে যেতাম না তখন কিছু অবুঝ বন্ধু পেয়েছিলাম। তারপর যখন স্কুল গেলাম। সেই দীর্ঘ স্কুলের ১০টি বছর অনেক চড়াই উৎরাই। কত বন্ধু, কত মান অভিমান। তখন বুঝতাম না। জীবনের এই বয়সে এসে ওদের কথা খুব মনে পড়ে। নষ্টালজিয়ায় পড়ে যাই। যেদিন স্কুলে আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছিল সেদিন মনে আছে খুব কেঁদেছিলাম। আজ মনে পড়লে বুঝি সেদিনের চোখের পানির কারণটি কি ছিল?

এরপর কলেজ আর ভার্সিটির জীবন। সেখানেও অনেক বন্ধু। তারপর কিছুদিন বেকার জীবন। সেখানেও আড্ডার আসরের কিছু বন্ধু। তারপরে কর্পোরেটের মেকি জীবন। সেখানেও অজস্র বন্ধু। আর এই ব্লগে যে কত বন্ধু আছে আমার তা অগুনতি।

আসলে এই 'বন্ধু' এমন একটা টপিক যেখানে পাতার পর পাতা লিখে ফেলা যায় অনায়াসে। ছোট কথায় বোঝানো খুবই অসম্ভব।

আমার একটি জন্মগত স্বভাব হলো মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া। আমার একটা নেশা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব পাতানো। সেই বন্ধুত্বের সূত্র ধরে যে অনেক সময় ক্ষতির সম্মুখীন হইনি, তা নয়। কিন্তু লাভের পাল্লাটাই ভারি সবচেয়ে।

আজও আমি সেই আমার ছোট্টবেলার অবুঝ বন্ধু থেকে শুরু করে এই আজকের বয়সের বন্ধুদের সাথে সমান ভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে। কে কোথায় আছে, কে কি করছে সবই খবর রাখি। তবে অনেকের সাথে শত চেষ্টা সত্বেও যোগাযোগ করতে পারি না। খারাপ লাগে ওদের জন্য।

আমি সবসময় বন্ধুত্বের পক্ষে। আমার কোন শত্রু নাই কারণ শত্রুও আমার কাছে বন্ধুতুল্য। আজ এই বন্ধু দিবসে আমার সকল বন্ধুদের জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ভালবাসা। আমার সব বন্ধুরা ভাল থাক, সুস্থ্য থাক।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:০১
১১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×