somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রংতুলি দিয়ে আঁকা বান্দরবান (ছবিব্লগ)

০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাজি ধরে বলতে পারি, সরকার, মিডিয়া এবং অন্যান্য মাধ্যম বান্দরবানের দিকে নজর দিলে বান্দরবান পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটা হবেই হবে। বিধাতা সয়ং যেন রংতুলি দিয়ে একেঁছেন এ বান্দরবান। কাঁচারং এর ভেজা আভা যেন তার সৌন্দর্য্য বাঁকে বাঁকে ফুটিয়ে তুলেছে। যেন স্বপ্নে দেখা সবুজশাড়িতে মোড়ানো কোন এক বধু।



চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে একটু ছোট বা বড় পুকুর। এমন দৃশ্য অনেকই মিলবে ওখানে এখানে সেখানে।



চারিদিকে উঁচু পাহাড় আর মাঝখানে বিশাল এক হ্রদ। এটা মেঘলা। চোখ জুড়ায় কালো শান্ত জল দেখে।



শীতের শেষে গাছের সব পাতা পড়ে গেছে নতুন পাতা উঠবে বলে। কি নতুনের আহবান!! ঐ গাছগুলোর ওপাশেই কিন্তু গভীর খাদ। দেখে বোঝাই যায় না। এটাও মেঘলা।



ইট বিছানো এমন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ এমন পাহাড় দেখে যেকেউ ভয় পেতেই পারেন। ভাববেন না। ঐ পাহাড়ে উঠারও রাস্তা আছে। সেখানে আপনার জন্য অপেক্ষায় আছে কচি ডাবের ফেরিওয়ালা।



এ ছবিটা নীলাচল পাহাড় থেকে তোলা। অর্থাৎ নীল আঁচল। এ নামেরও একটা স্বার্থকতা রয়েছে। দুরের বান্দরবান শহরের দালান-কোঠা গুলোকে মনে হচ্ছে শিশুদের ব্লক দিয়ে সাজানো। এমনটা মনে হতেই পারে। কারণ এ পাহাড়টি অনেক উঁচু।



এটাও নীলাচলের উপর থেকে তোলা। ঐ যে দুরে দেখা যায় পাহাড়ের উপর দিয়ে রাস্তা চলে গেছে কোন এক অজানায়। তাইতো! ওটা নীলগিরি যাওয়ার রাস্তা। তবে যে পাহাড়টা দেখা যাচ্ছে ওটা নীলগিরি নয়। নীলগিরি আরো উঁচু আরো অনেক অনেক দুরে। ওখানে যেতে হলে অনেকটা পাহাড়ী পথ পেরুতে হবে যে!!



নীলাচল পাহাড়ের গায়ে হয়েছে পাহাড়ী কলা, পেঁপে আর শিম। হয়ত কেউ যত্ন করে চাষ করেছে।



এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলতো!!
আসলেই পথ শেষ হতে চায় না, এটা নীলগিরি যাবার পথ। অনেক দুর। বান্দরবান শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দুরে। রোমাঞ্চকর সে পথ। কোন এক নিঝুম অঞ্চলে সে রূপবতী পাহাড়। অনেকটা নিরবে, অভিমানে, নিভৃতে। সমূদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮০০ ফুট উপরে।



"এক পায়ে নূপুর তোমার অন্য পা খালি, এক পাশে সাগর আর এক পাশে বালি" আর এখানে -- একপাশে পাহাড় আর এক পাশে খাদ। সেই পাহাড়ে গা কেটে তৈরী করা হয়েছে রাস্তা। সেই রাস্তা কখনও উঁচুতে উঠেছে আবার কখনও নীচে নেমেছে। এ যেন এক ছেলে খেলা। নীলগিরি যাওয়ার পথে রাস্তার ছবি এটি।



এটা নীলগিরি পাহাড়ের উপরে। অনেকটা জায়গা ধরে নির্মাণ করা হয়েছে সুনিপুর হাতে গড়া কিছু কটেজ। এখানে তিন রকমের কটেজ আছে। যেগুলো আবার ভাড়া একেক রকম। এছাড়া তাবুও আছে। সেখানেও রাত কাটানো যায়। মূলত এই নীলগিরিতে এসে একটি রাত কাটাতে হয়। তবেই পাওয়া যায় আসল মজা। রাত যত গভীর হয়। শুরু হয় বিভিন্ন বুনো পোকা আর প্রানীর ডাক। সে নাকি এক গা ছমছমে অবস্থা!! আর তার সাথে যদি চাঁদও জেগে থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। চাঁদের আলোয় পাহাড়গুলোকে ভৌতিক মনে হওয়ারই কথা।



নীলগিরি পাহাড়ে যাতায়াতের জন্য ওটার পাশের পাহাড়ের মাথা ছেঁটে করা হয়েছে একটা হেলিপ্যাড। মূলতঃ এ পাহাড়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে রয়েছে। তারাই এটার দেখাশুনা করে। এখানে রাতে থাকতে বা কটেজ ভাড়া নিতে চাইলে তাদের সাথে আগে যোগাযোগ করে বুকিং দিতে হয়।



এই মার্কারটি আছে নীলগিরি পাহাড়ের উপর। এখান থেকে দুরের কেওক্রাডং পাহাড় দেখা যায়। আর সেটা ওখান থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার দুরে। মাঝখানে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে কেওক্রাডং যেতে হলে। আর সে পথ বন্ধুর।



কি? দেখে কিছু বোঝা যায়? হ্যঁ ওটা মেঘকণ্যা। পাহাড়ের চুড়াগুলোর অনেক নীচে ঘোরাঘুরি করছে। দেখে মনে হচ্ছে, সব পাহাড়গুলো মেঘকণ্যাকে বন্দী করেছে। এটা চিম্বুক পাহাড়ের কাছাকাছি জায়গা থেকে তোলা। চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩০০ফুট উচু।



দেখে মনে হচ্ছে একটা মেঠো পথ। কিন্তু না, ওটা একটা পাহাড়ী পথ। পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে এসেছে। আমরা হয়ত ও পথে চলতে অভ্যস্থ নই কিন্তু পাহাড়ী উপজাতিরা খুব সুন্দর ভাবে হেঁটে হেঁটে উঠে আসে ও পথ ধরে। এটাও চিম্বুক পাহাড়ের কাছাকাছি একটি পাহাড়ের ছবি।



এটা শৈলপ্রপাতের ছবি। তবে ঠিক সেই সময় ঝর্ণায় পানি ছিল না। কিন্তু এই ক্ষয়ে যাওয়া পাথরগুলোর কোন এক কোণে দাঁড়ালে নিজেকে এতই ক্ষুদ্র মনে হবে যে খুঁজেই পাওয়া যাবে। এটা থেকেই বোঝা যায় যখন এই ঝর্ণার যৌবন থাকে তখন সে কতটা আবেদনময়ী হয়ে উঠে!!



এটাই সেই "চান্দের গাড়ী"। পাহাড়ের মোক্ষম যানবাহন। অনেক পুরোনো জিপগুলোকে এমন একটা গঠন দেয়া হয়েছে। এটাই খুব সম্ভবতঃ পৃথিবীর একমাত্র যানবাহন যেটাতে সবচেয়ে অল্প জায়গায় সবচেয়ে বেশী লোক যাতায়াত করেন। উল্লেখ্য, সামনের বনেটের উপরেও লোকজন বসে অনায়াসে যাতায়াত করে। আসলেই এই গাড়ীটি একটি আশ্চর্য!!

গল্প লিখে বা বলে নয়, কবিতা লিখে নয়, ছবি দেখিয়ে নয়। কোনকিছু দিয়েই বান্দরবানের সৌন্দর্য্য বর্ণনা করা যাবে না আর কাউকে বোঝানোও যাবে না। শুধু নিজে চোখে দেখে তার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হবে। তাই যারা এখনও সেখানে যাননি, অনুরোধ করবো অন্ততঃ একবার নিজে চোখে দেখে আসুন সেই রূপ। আসলে আমি বুঝি যে এই ছবিগুলো দিয়ে ওখানকার সৌন্দর্য্যের পরিমাণ বোঝানোর চেষ্টা একটা ব্যর্থ চেষ্টা। আসলে এসবের সাথে বান্দরবানের আসল রূপের তুলনা অনেকটা--- পর্বতের মুসিক প্রসব।

গতমাসে একটা ট্যুর ছিল বান্দরবানে। সে সময়ই তোলা ছবিগুলো।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৩৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০



গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলী সৈন্যদের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী পাড়ি দিয়ে ফিলিস্তিনের হেবরনে নবী ইব্রাহিম আঃ এর রওজা জিয়ারত

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫



দিলু নাসের
আমাদের গাড়ি ছুটে চলছে পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত ভূমি পিএলও শাসিত ফিলিস্তিনের ওয়েস্ট ব্যাংকের ভেতর দিয়ে। ইসরাইল অধিকৃত ঐতিহাসিক নগরী জেরুজালেম থেকে ইসরাইলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×