somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে-২

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বনলতা চ্যাটিং করার সময় একটা ছেলের সাথে পরিচিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই ও ছেলেদেরকে চ্যাটিংএর সময় অ্যাভয়েড করত। যাই হোক, এই ছেলেটাকে সে এড়াতে পারেনি। কারন, ওর চমৎকার সব মেসেজ ওকে অভিভূত করে দিত। এবং যখনই ও সাইন ইন করতো, প্রায় সময়ই অফলাইন মেসেজ পেত। শেষে নামটা থাকতো ছেলেটির। ভাল কথা, ছেলেটির নামটিই তো বলা হয়নি। ওর নাম স্নিগ্ধ। একটি প্রাইভেট ভার্সিটিতে কম্পিউটার ইন্জিনিয়ারিং পড়ে।
বনলতার পক্ষে স্নিগ্ধকে অ্যাভয়েড করা কঠিন হয়ে দাড়াল। স্নিগ্ধ যে ধরনের মেসেজ পাঠাত, তার সবই ছিল ফানি মেসেজ। এগুলোতে বনলতা বেশ মজা পেত। বনলতা ওকে ভাইয়া বলে ডাকা শুরু করলো।
এরপর শুরু হল তাদের জমজমাট আড্ডা। স্নিগ্ধ আগে থেকেই একটি প্রেম করত। কিন্তু কিছুদিন হল ব্রেক আপ হয়েছে। তাই, তার বিশেষ মন খারাপ। এ ঘটনাটি সে বনলতাকে জানাল। এখন ব্যাপারটা এমন দাড়াল যে, স্নিগ্ধর মন ভালো করার সব দায়িত্ব যেন বনলতার উপর পড়ল।
বনলতাও বেশ ভালোভাবেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতে লাগলো। সারা দিনরাত তারা নেটে বসে থাকতো। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হত। কখন খেতে হবে, সেটা পর্যন্ত তাদের মনে থাকতো না। এমন অবস্থা দাড়াল যে তারা একে অপরকে ছেড়ে যেতে প্রস্তুত ছিলনা, তা যে কোন অবস্থাতেই। নেটেই যেন তাদের বসতবাড়ি ।
ওরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মজা করত। বনলতা চেষ্টা করত যাতে স্নিগ্ধ তার কষ্টগুলো ভুলে থাকতে পারে। কিন্তু ও খুব বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করল স্নিগ্ধ কোন ভাবেই মন থেকে সেটা মুছে ফেলতে পারছেনা।
এভাবে প্রায় দুই বছর কেটে গেল। বনলতা কিন্তু এখনো তাকে ভাইয়া বলেই ডাকছে। অন্যদিকে স্নিগ্ধ তার স্বভাববশত মজা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে স্নিগ্ধ একদিন বনলতার সেল নাম্বার জানতে চাইলো। সাথে এও বলল কখনো তাকে কল দিবেনা। শুধু এসএমএস করবে। বনলতা প্রথমে কিছুটা অবাক হল। কারন, এতদিন তো কেউ কারো সেল নাম্বার নেয়নি। সে কোন রকম দ্বিধা ছাড়াই সেল নাম্বার দিয়ে দিল।
এর মধ্যে বনলতা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেল। সাবজেক্ট নিল আইন। স্নিগ্ধ যেন মজা করার আরো সুযোগ পেল। একটু হলেই ওকে লইয়ার না বলে লাইয়ার বলত।
-বনলতা শোন, তুমি কিন্তু আমার ডিভোর্সের সময় উকিল থাকবা।
- তা থাকতে পারি ভাইয়া, কিন্তু আমার ডিমান্ড কিন্তু অনেক।
- হায় হায়! কয় কি?!! আরে তুমি তো আমার জন্য ফ্রি সার্ভিস দিবা। অবশ্য চাইলে এককাপ লিকার খাওয়ার পয়সা দিতে পারি।
-কিপ্টুস কাকে বলে, দেখো!! এইসব আশা বাদ দাও। মাইনে তো তোমাকে দিতেই হবে। তবে যেহেতু স্নিগ্ধ ভাইয়া বলে কথা, সেহেতু কিছু কনসিডারেশন করতে পারি।
এভাবে নানা বিষয় নিয়ে ওদের মজা হত।
কিন্তু হঠাৎ স্নিগ্ধর আচরণে পরিবর্তন ঘটলো। বনলতা সেটা আচঁ করতে পারছিল কিন্তু ধরতে পারছিলনা। তবে একদিন একটা ঘটনায় ও বুঝতে পারলো সামথিং রং। ওরা দুজনে প্রায়ই আড্ডা দিত। খাওয়ার সময় স্নিগ্ধ যদি বনলতাকে খেতে বলত, বনলতা তা গায় মাখতনা। স্নিগ্ধও আর কিছু বলতনা। ব্যাপারটা যেন এমন, একবার বলা উচিৎ, তাই বলা।
কিন্তু ওইদিন স্নিগ্ধ তাকে বারংবার অনুরোধ করছিল। বনলতা যতবারই না বলছে, ততবারই সে খেতে বলছে।
-বনলতা, খেতে যাও।
-আমার খেতে ইচ্ছে করছেনা।
-তুমি বললেই হবে? যাও বলছি। আমি ওয়েট করছি। যাও।
-বললাম তো আমি এখন খাবনা।
-না খেলে কিন্তু মার লাগাবো।
-ওকে, ভাইয়ার হাতে মার খেলে প্রবলেম নাই। বরং এতে আমার পেট ভরে যাবে।
তারপরও স্নিগ্ধ অনুরোধ করেই যাচ্ছিল। বনলতা খুবই অবাক হল। এরকম তো আগে ঘটেনি। এরপর স্নিগ্ধর মধ্যে আরো পরিবর্তন এলো। সে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তাকে এসএমএস করত। প্রতিদিন দুইটা তিনটা এসএমএস থাকতোই। এসএমএসের ভাষারও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটলো।
এরই মধ্যে স্নিগ্ধ একদিন একটা কান্ড করে বসল।
-বনলতা, একটা কথা বলব , মাইন্ড করবেনা।
-ভাইয়া, তুমি একটা কেন, একশটা বল, তাতেও মাইন্ড করবনা।
-দেখো, আমি কিন্তু সিরিয়াস। আমি ফান করছিনা।
-ওকে ভাইয়া, আমিও সিরিয়াস।
-আমি তোমাকে বিয়ে করব।
বনলতা বসে পড়লো। একেবারেই অপ্রত্যাশিত একটা কথা।
-দেখুন, স্নিগ্ধ ভাইয়া, আমরা খুব ভাল বন্ধু। কেউ কাউকে কোনদিন দেখিনি। আর তাছাড়া, আমরা তো ভালই আছি। তার মধ্যে এসবের কি দরকার, তাইনা!
-এসবের কি দরকার মানে, তুমি কি আমাকে ভালবাসনা?
-হ্যা, বাসি। তবে তা ভাইয়া কিংবা বন্ধু হিসেবে। এর চেয়ে বেশি কিছুনা।
-বা! বা! ভালই বলছ। এতদিন পর তাহলে এই কথা!
এই বলে স্নিগ্ধ ফোনটা কেটে দিল।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×