বাংলাদেশের কিংবদন্তি, সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ- এর আজ ৬০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে শাহবাগে অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গনে শুধু হুমায়ুন আহমেদের বই নিয়ে একটি ছোটখাটো মেলার মত হয়ে গেল। মেলাটির আয়োজন করেছে সেসব প্রকাশনী যারা হুমায়ুন আহমেদের বই প্রকাশ করে।
আমি খুব আগ্রহ নিয়ে গেলাম সন্ধ্যার দিকে। উদ্দেশ্য ছিল 'মিসির আলি সমগ্র' ক্রয় করা। আমি একটু ধারণা করেই নিয়েছিলাম যে প্রচুর মানুষের ভিড় থাকবে। কিন্তু যাওয়ার পর যা দেখলাম তা আমার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেল। তখন আমার মনে হল যে হুমায়ুন আহমেদের এরকম জনপ্রিয়তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও ঈর্ষান্বীত করত যদি রবিঠাকুর এখনো বেচেঁ থাকতেন। তবে তার মানে অবশ্যই এই নয় যে আমি রবিঠাকুরের সাথে হুমায়ুন আহমেদের তুলনা করছি। এতখানি আস্পর্ধা আমার হয়নি!
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল যখন শুনলাম আমার কাঙ্ক্ষিত বইটির একটি কপিও নেই। সব বিক্রি হয়ে গেছে। স্টলের একজন কর্মচারী বললেন একটু অপেক্ষা করতে কারণ বইটির বেশ কিছু কপি নাকি এখনি চলে আসবে।
তো কী আর করার! প্রায় আধা ঘন্টা অপেক্ষার পর পেলাম আমার কাঙ্ক্ষিত বই- মিসির আলি সমগ্র। দামটা একটু বেশিই মনে হল। যদিও বইটির প্রথমেই হুমায়ুন আহমেদ লিখেছেন যে এই দুর্মূল্যের বাজারে এত টাকা দামের বই বের হওয়াটা কি দু:খের সংবাদ নাকি সুখের সংবাদ- তা তিনি বুঝতে পারছেননা।
তবে আমি সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হলাম যখন দেখলাম বইটি কেনার জন্য হুরোহুরি পড়ে গেল এবং নিমিষেই সবগুলো কপি শেষ হয়ে গেল। তার মানে আমার মত অনেকেই বইটি কেনার জন্য অপেক্ষা করছিল। যাই হোক, আমি খুব খুশি যে আমি একটি কপি নিতে পেরেছি। এটি ছাড়াও আরো দুইটা বই কিনলাম। তারপর কলাভবনের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। সেখান থেকে ধানমন্ডির বাসায় চলে এলাম।
হুমায়ুন আহমেদের প্রতি রইল জন্মদিনের অফুরন্ত শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


