২০০১ সালের টুইন টাওয়ার ধ্বংস বর্তমান শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলা যায়। কেননা, এ ঘটনার মধ্য দিয়েই বিশ্ব রাজনীতি নতুন মেরুকরণ শুরু হয়, সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে চলে মুসলমান নিধন। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী- পশ্চিমা বিশ্বে এমন একটি ধারণা জন্ম নেয়।
তবে, আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর লাগছে যে, এমন একটি মারাত্মক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে আমাদের পবিত্র কুরআন শরীফে। আসুন, আগে আমরা দেখে নিই-পবিত্র কুরআন এব্যাপারে কি বলে-
কুয়েত থেকে একজন বিশিষ্ট গবেষক এফ. রহমান পবিত্র কুরআন গবেষণা করে এক বিস্ময়কর তথ্য বের করেছেন। আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে মহান আল্লাহ তাঁর নাযিলকৃত আয়াত এর মাঝে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের কথা উল্লেখ করেছেন। আয়াতটির বাংলা তর্জমা হল-
"ভেবে দেখো, তবে কি এমন ব্যক্তিই উত্তম, যে নিজ অট্টালিকার ভিত্তি স্থাপন করেছে আল্লাহভীতি এবং তাঁর সন্তুষ্টির উপর, নাকি সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজ অট্টালিকার ভিত্তি স্থাপন করেছে একটি প্রান্তরে অন্ত:সারশূন্য স্থিতিহীন বেলাভূমি বা কোন গর্তের কিনারায় যা ধ্বসে পড়ার নিকটবর্তী; যা তাকে নিয়ে জাহান্নামে পতিত হয়। এ ধরনের জালিম লোকদের আল্লাহ কখনও পথ দেখান না।"- (সূরা আত-তাওবাহ: ১০৯)
গবেষক এ আয়াতের সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন সূরা তাওবাহ-তে ১-১০৯ আয়াত পর্যন্ত মোট অক্ষর সংখ্যা ২০০১টি যা ২০০১ সালকে বুঝাচ্ছে, যে সালে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়েছিল। ধ্বংসের কথা ১০৯ নং আয়াতে উল্লেখ আছে। টুইন টাওয়ারের উচ্চতা ছিল ১০৯ তলা। সূরাটি কোরআন শরীফের ১১ পারায় অবস্থিত যা ১১ তারিখকে নির্দেশ করছে, যে তারিখে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়েছিল। সূরাটির ক্রমিক নং ৯ যা বুঝাচ্ছে ৯নং মাসকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, যে মাসে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়েছিল। যে সড়কটির উপর টুইন টাওয়ার অবস্থিত ছিল, সে সড়কটির নাম "জুরুফিন হার"। সূরা তাওবাহ এর ১০৯নং আয়াত তেলাওয়াত করলে "জারুফিন হার" শব্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গবেষক এর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন কুরআন শরীফ সর্বকালের আধুনিক গ্রন্থ।
এতো গেল কুরআনের অবস্থান। অন্যদিকে, বিশ্ববিখ্যাত ভবিষ্যদ্বক্তা নস্ট্রাডামাস প্রায় ৫০০ বছর আগে টুইন টাওয়ারের ধ্বংস সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন (যারা নস্ট্রাডামাস সম্পর্কে জানেন না, তাদের কৌতুহল নিবৃত করার জন্য ভবিষ্যতে তাঁর সম্পর্কে একটি পূর্ণ পোস্ট দেয়ার আশা রাখি)। তিনি তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে বলেছিলেন, "একুশ শতকের শুরুতে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটিতে এমন একটি ঘটনা ঘটবে যা সারা বিশ্বকে আলোড়িত করবে। আকাশ থেকে দুইটি ধাতব ডানা নেমে আসবে, আঘাত করবে সুউচ্চ দুটি পাহাড়ের চূড়ায়। এতে অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। শুরু হবে সারা পৃথিবী জুড়ে অশান্তি, মারামারি, হানাহানি...।"
উপরের উদ্ধৃতি থেকে যা বুঝা যায় তা হল-
ধাতব পাখি- অপহৃত ২টি প্লেন
সুউচ্চ পাহাড়- টুইনটাওয়ার।
এখন আমি ভাবছি যে, এ দুটো ব্যাপারকে আমরা কিভাবে দেখতে পারি? পবিত্র কোরআনে যেভাবে এটিকে গবেষণা করে দেখানো হল, সেটা কি কোন কাকতালীয় ব্যাপার নাকি মানবজাতি কুরআনের রহস্য উদ্ঘাটনে এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে? অন্যদিকে, নস্ট্রাডামাস যেভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, তাও এক কথায় বিস্ময়কর। কেননা, তাঁর জীবদ্দশায় প্লেন আবিষ্কারই হয় নি। আর এত বড় সুউচ্চ দালান তো কল্পনার অতীত।
আমার খুবই জানতে ইচ্ছে করে যে, আমাদের নাস্তিক ব্লগাররা কুরআনের এ ব্যাপারটিকে কিভাবে দেখেন এবং একই সাথে আস্তিক ব্লগাররা নস্ট্রাডামাসের ভবিষ্যদ্বাণীকে কিভাবে দেখেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


