ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর ও লংমার্চ নেতা মুফতী সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু থাকলেও সরকার ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের চক্রান্তে মেতে উঠেছে। মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে ইসলামই হওয়া উচিত এদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। অথচ তা না করে মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের চক্রান্ত কার স্বার্থে? তা দেশবাসী জানতে চায়।
আজ সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। বরিশাল মহানগর সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন খানের সভাপতিত্বে বরিশাল টাউন হলে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্র্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী পীর সাহেব কারীমপুর, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল-ফরিদী, কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মজিদ শিকদার, অধ্যাপক মাওলানা জাকারিয়া হামিদী, মহানগর সেক্রেটারী মুহাম্মদ মনিরুল ইসলামসহ জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সরকার দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্য প্রণোনিতভাবে সুপ্রিম কোর্টের এফিলেট ডিভিশনে দায়ের করা আপিল মামলা প্রত্যাহার ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করতে চাইলে মতাসীনদের পতন অনিবার্য। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ অনাকাংখিত এবং চিরায়ত ইসলামী মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং এই উদ্যোগ মুসলমানদের লালিত ও ধারণকৃত তৌহিদবাদী আক্বিদার চিরন্তন চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে তুরস্কের ভাগ্য বরণ করাতে চাচ্ছে। যারা বাংলাদেশকে সেক্যুলার রাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছে তাদের প্রতি হুশিয়ার উচ্চারণ করে পীর সাহেব চরমোনাই সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি দমনে দেশে ইসলামী রাজনীতির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ধর্মহীন রাজনীতিই যে শোষণের হাতিয়ার দেশ শাসনের ৩৮ বছরে দেশবাসীর কাছে তা বার বার প্রমাণ করেছে। তাই ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় বরং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে ধর্মহীন রাজনীতিই নিষিদ্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে জনগণের কল্যাণের জন্য সংবিধান এবং সরকার। ৯০ভাগ মুসলমানেরর সেন্টিমেন্ট বিরোধী আইন পাশ করে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের পাঁয়তারা করলে তা মহাজোট সরকারের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। তিনি মুসলমানদের চিন্তা-চেতনা বিরোধী যে কোন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারে প্রতি আহবান জানান।
আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী পীর সাহেব কারীমপুর বলেন, সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ, ইসলামী রাজনীতি, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিষিদ্ধ করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে মহাজোট সরকারে প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রোপটে সংবিধান সংশোধন করে দেশকে অনিশ্চিত ও বিশৃংখলার দিকে ঠেলে দেবেন না।
মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেতাবাদের দিকে ফিরে যাওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পাঁয়তারা দেশবাসী জীবন দিয়ে রুখবে। দেশবাসীর আস্থা অর্জন করতে পারলে জনগণই সরকারকে মতায় আনবে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে মতায় যাওয়ার চেয়ে জনগণের রায় নিয়ে মতায় যাওয়া উচিত।
অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন বলেন, সরকারের এক বছরের শাসনের ব্যবধানে সরকার সম্ভব উপলব্ধিকরতে পেরেছে যে, জনগণ আর মহাজোট সরকারকে মতায় আনবে না তাই তারা সংবিধান সংশোধন করে মতায় আঁকড়ে থাকার ফিকির করছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



