আমার রাজ্যে একখান নরসুন্দর আছিল। তার একখানা কাহিনী আজকে বলিবার জন্য মন আনচান করিতেছে। তা হইলে কাহিনীখানা বলিয়াই ফেলি ...
উক্ত নরসুন্দর গ্রামের মধ্যে তাহার বড়ই কদর ছিল, কারণ তাহার ফোঁড়া গালাইবার বিশেষ পারদর্শিতার জন্য। কাহারও ফোঁড়া হইলে সে খুর হাতে অত্যন্ত নিপুণ ভাবে ফোঁড়া খানা কাটিয়া ভেতর হইতে পুঁজ বাহির করিয়া আনিতে পারিত। আজকের দিনে যাহাকে অপারেশন বলিয়া থাকে। দিনে দিনে তাহার সুনাম ফুলের সুবাসের ন্যায় চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল। আশে পাশের গ্রাম হইতে লোকজন তাহার কাছে ছুটিয়া আসিত এবং এইভাবে তাহার আয় উপার্জন বৃদ্ধি পাইল এবং রাজকোষে সময় মত কর পরিশোধ করিল।
কিন্তু বিধি বাম। নরসুন্দরের খ্যাতিতে ঈর্ষান্নীত হইল রাজ্যের কিছু ডাক্তার। তাহার জন্য তাহাদের আয় রোজগার প্রায় বন্ধ হইবার উপক্রম। এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হইল। যথারীতি তাহারা নরসুন্দরকে ডাকিয়া বলিল তুমি যে প্রক্রিয়া উক্ত কার্য সম্পাদন কর তাহা বিজ্ঞান সম্মত নহে আমরা সিন্ধান্ত লইয়াছি তোমাকে ডাক্তারী বিদ্যা শিখানো হইবে এতে তুমি আমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত হইয়া যাইবে। নরসুন্দর তাহাতে রাজী এবং আহ্লাদিত হইল।
ডাক্তার বর্গ তাহাকে শিখাইলো ফোঁড়া এইভাবে কাটা যায় না ওইভাবে কাটা যায় না কারণ এই জায়গায় ঐ শিরা বা ধমনী আছে আর ঐখানে ঐশিরা আছে এইভাবে কাটিলে ইনফেকশন হইবে পচন ধরিবে রোগীর প্রাণ বিপর্যয়ের মুখে পড়িবে ইত্যাদি ইত্যাদি যত নেতিবাচক ভাবে শিখানো যায় তা তাহারা শিখাইয়া দিল। এই শিক্ষা গ্রহন করিয়া নরসুন্দর গর্ববোধ করিতে লাগিল।
তারপর একদিন সে এক রোগী ফোঁড়া অপারেশন করিতে গেল। চাকু লইয়া যেই সে কাটিতে যাইবে তৎক্ষনাত তাহার সম্মুখে ভাসিয়া উঠিল এইভাবে কাটা যাইবে না ওইভাবে কাটা যাইবে না, তাহার হস্ত কম্পিত হইতে লাগিল এবং ছুটিয়া রোগীর কাছ হইতে চলিয়া গেল।
এরপর হইতে আজ পর্যন্ত কেহ তাহাকে আর ফোঁড়ার অপারেশন করিতে দেখে নাই।
ডাক্তারগণ তাহাদের ব্যবসা পুনরায় ফিরিয়া পাইল।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১২ দুপুর ১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



