আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

সভ্য বিশ্বের নতুন ডাম্পিং গ্রেভইয়ার্ড-চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি > জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতির নিদারুন বিপর্যয়!!

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২২

শেয়ারঃ
0 33 1



ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশটিতে যেদিকে তাকাই শুধু মানুষ আর মানুষ। আজ থেকে চার দশক আগের চোখ দিয়ে দেখি কেবলই গ্রেভইয়ার্ড । একটা নিরীহ গোবেচারা ধরণের সমাজ এখন ক্ষুব্ধ ক্রুর! গাছগাছালিময় আনআরবান প্রায় গ্রাম্য ঢাকা এখন কসমোপলিটন। আরবানাইজড। সাঁই সাঁই করে হাইরাইজ দাঁড়িয়ে গেছে। ঝাঁচকচকে জেল্লা আর বিত্ত-বৈভবের প্লাবনে জঞ্জালময় ঢাকার রাজপথ প্লাবিত। চারিদিকে সুখের পায়রা পতপত করে উড়ছে। সুখ,স্বস্তি আর শান্তির দেবদূতেরা ডলার-পাউন্ডের ভেলায় চড়ে এই দেশে নেমেছে। তাদের শুভাগমনে সারা দেশে দুধের নহর আর ক্ষীরের পাহাড় গড়ে উঠেছে! সেই নহর আর পাহাড়ের কোণায় শেয়াল-কুকুরের মত একজিসট্যান্স করে চলেছে কিছু পোকামাকড়! খুব কাছে গিয়েই শুধু ঠাওর করা যায়-তারা মানুষ! হোমো স্যাপিয়েন্স! এদেরকে ডাম্প করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগুনোর খতিয়ান রাখায় ব্যস্তসমস্ত হচ্ছেন পরিসংখ্যানবিদগণ। ডাটাবেজে ডিজিট উঠছে.....জিডিপি-সাড়ে পাঁচ!কিছু দিন পরেই ছয়...সাত!

দেশকে সাঁই সাঁই করে টার্বো গতিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান কারিগর ধরা হয় তৈরি পোশাক শিল্পকে। আসলেই, কি দেয়নি এই গার্মেন্ট? একটা রাইজিং ক্লাস দিয়েছে, যারা কর্পোরেট কালচারকে ”সর্বজনগ্রাহ্য” করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একটা বিশাল সংখ্যক হা-ভাতে আনস্কিল্ড শ্রমিককে খাওয়া-পরা দিয়েছে। পথের ধারের টাউট-বাটপাড়দের প্রায় বিনে পয়সায় নারী সম্ভোগের সুযোগ দিয়েছে! তালাসংস্কৃতি চালু করে ইঁদুরের মত পুড়িয়ে মানুষ কমানোর ত্বরিকা দিয়েছে। আর সরকারকে বুকে আঙ্গুল ঠুকে এত কোটি ডলার রেমিট্যান্স মওজুদ দেখানোর ক্ষমতা দিয়েছে। এত দেওয়ার পরও এই হতভাগা হা-ভাতে জাতির শনৈ শনৈ উন্নতির চাকায় আরো খানিকটা মবিল দিয়ে আরো সচল করার জন্য এবার চালু হয়েছে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প। এবার এই নতুন শিল্পের ল্যাজ ধরে পাপী-তাপী সব স্বর্গে পৌঁছে যাবার নিঃষ্কণ্টক পথও পেয়ে যাব আমরা!

“বছরে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অপার সম্ভাবনা আছে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি ডলারের বাজার উন্মুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪০০ কোটি ডলারের বাজারও যদি বাংলাদেশ ধরতে পারে, তাহলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ২ থেকে ৩ শতাংশ। কর্মসংস্থান হবে লক্ষাধিক দক্ষ ও অদক্ষ বেকার যুবকের। একটি সুষ্ঠু নীতিমালা করেই সরকার বদলে দিতে পারে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের চিত্র। আর এটি সম্ভব হলে এ শিল্পের উদ্যোক্তারা উন্নয়নের পরশ দিয়ে পাল্টে দিতে পারবেন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেহারা। এই শিল্পের বিকাশে সব ধরনের সম্ভাবনা ইতিমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতে আন্তর্জাতিক নজরও পড়েছে বাংলাদেশের প্রতি।”
ব্যাস! আর আমাদের চিন্তা নাই! আমাদের জিডিপি এবার একলাফে ৮এ উঠে যাবে। চট্টগ্রামের টাকা ম্যাগলেভ ট্রেনে চেপে ঢাকায় এসে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে সাঁই সাঁই করে আমাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। আমরা রাতারাতি এলডিসি থেকে পৌঁছে যাব ডেভেলপিং কান্ট্রিতে। এই পরাবাস্তব স্বপ্ন দেখার পরেও পাওয়া যাবে। তার আগে দেখা যাক ইউরোপিয়ান দেশগুলো যেমন, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর কেন আমাদের দেশে জাহাজ নির্মাণে আগ্রহ দেখাচ্ছে? ইউরোপিয়ান দেশগুলো তো নিজেরাই বছরের পর বছর জাহাজ নির্মাণ শিল্পে পৃথিবীর সেরা। গত প্রায় এক শতাব্দীধরেই তো তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাহাজ, ফেরি বোর্ট, টাগ বোট রপ্তানি করে আসছে, এখন কি এমন হলো যে তারা আমদানী করতে চাইছে? তাদের কারখানাগুলোকি বাঁজা হয়ে গেছে? নাকি তারা সব ভুলে গেছে? না। সবই ঠিক আছে।

তারা তাদের দেশের গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দায়বদ্ধ। তাই তাদের নিজের দেশের মানুষদের দিয়ে যে অমানবিক এবং বিপজ্জনক কাজ করাতে পারে না তা-ই আমাদের মত লেস ডেভেলপ্ড দেশে করিয়ে নেয়। তাদের পারমানবিক বর্জ্য জাহাজে ভরে সারা ইউরোপের কোথাও ফেলতে পারেনা। গ্রীণপিস কর্মীরা তেড়ে আসে। সেই সব জাহাজ একসময় এসে ভেড়ে এই বাংলাদেশে। মারাত্মক বিষাক্ত পারমানবিক বর্জ্য, বিষাক্ত রাসায়নিক,টক্সিন, প্রাণঘাতি যৌগ ডাম্প এবং রিসাইক্লিং করার মোক্ষম জায়গা এই বাংলাদেশ, কেননা এখানে সস্তায় মানুষ মেলে! নামমাত্র দামে এই যুগেও দাস পাওয়া যায়! এরা ঝাঁকে ঝাঁকে মরলেও তেমন কোন সামাজিক প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হয়না।বড় অংকের ক্ষতিপুরণ দিতে হয়না।
ভাটিয়ারী। এমনিতেই এক দুর্গম্য স্থান। এখানে মিলিটারী একাডেমী হওয়ায় এর আসেপাশে সবার জন্য অবারিত নয়। এই ভাটিয়ারীতেই গড়ে উঠেছে জাহাজ ভাঙ্গার গ্রেভইয়ার্ড! জায়গাটা আপাতদৃষ্টে বাংলাদেশের মনে হলেও প্রকারন্তরে “নোম্যানস ল্যান্ড”! এখানে সাধারণ মানুষ তো বটেই কোন সাংবাদিকের প্রবেশ নিষেধ। বাছাইকৃত এবং মুচলেকা দেওয়া শ্রমিক, মালিক, মালিকের পোষ্য আর বেনিফিশিয়ারী ছাড়া আর কারোই এখানে প্রবেশাধিকার নেই। বাংলাদেশ সরকারের কোন আইনও এখানে বলবৎ নয়! গত দুই দশক ধরে এই জাহাজ ভাঙ্গা ভাগাড়ে যা হচ্ছে তা শিউরে ওঠার মত। উন্নত দেশগুলোর যে সব বিষাক্ত পরিত্যাক্ত জাহাজ তাদের কোন বন্দরে ভেড়ার সুযোগ পায় না সেই সব হ্যাজার্ড কার্গো চলে আসে বাংলাদেশে। ভাটিয়ারীর বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে তারা নোঙ্গর ফেলে বসে থাকে। কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি, ব্রেকিং গিয়ার, ফাইটোস্যানেটারি সার্টিফিকেট, মুচলেকা, প্রাণহানীর দায়বদ্ধতা ছাড়াই মাত্র ৪ হাজার থেকে ৫ শ টাকার শ্রমিক দিয়ে জাহাজ ভাঙ্গা শুরু হয়। এই পুরোনো –পরিত্যাক্ত জাহাজ এক অদ্ভুত বিড়ম্বনা! একটা নতুন জাহাজ যেমন ওই মালিকের ইনভেস্টমেন্ট, তেমনি একটি পরিত্যাক্ত জাহাজ তার গলার কাঁটা। সেটিকে কোথাও ডাম্প করার উপায় নেই! কোথাও নোঙ্গর করে দিনের পর দিন রেখে দেওয়ারও সুযোগ নেই। পুড়িয়ে ফেলাও যাবেনা। তাই তাকে সেটা ভাঙ্গতেই হবে। আর ভাঙ্গার জন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রেভইয়ার্ড।

জাহাজভাঙ্গা শিল্প বিকাশের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে কি কি উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে তা নিয়ে শিটের পর শিট ডাটা দিয়ে ডেভেলপমেন্ট গ্রাফ একে দেওয়া যায়, কিন্তু এই কাজে দেশের মানুষের কি কি ক্ষতি হচ্ছে, পরিবেশের কি কি ক্ষতি হচ্ছে, সত্যিকার অর্থে জাতীয় অর্থনীতিতে কতটুকু অবদান রাখতে পারছে সেই খতিয়ান কোথাও পাওয়া যাবেনা। এবার দেখি কি কি ডিজাস্টার ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে, এবং এখনো ঘটে চলেছেঃ

SOS-arsenic.net জানাচ্ছে..... গত ১৮ বছরে “মাত্র” ৩০০ শ্রমিক মারা গেছে!(আমরা এই সংখ্যাকে গণায়ই ধরি না!)
Some 45,000 workers of the ship-breaking industry in Chittagong are now working in hazardous atmosphere risking life in handling of old equipment used to break ships and dealing with toxic chemicals in their daily routine work. In the absence of any protective measures at least 300 workers of the yards had so far died and about 550 were handicapped in accidents in harness in the last 18 years. At present the workers of 30 ship-breaking yards in Chittagong are working at high risk of accident particularly explosion of gas cylinder and oil tanker.
Sources said, one worker at a ship-breaking yard was killed and three others were injured in a gas explosion in a scrapped ship on April 9 this year at Shitalpur area under Sitakundu upazila in the district. The dead worker was the cutter man of the Lalbagh shipyard and identified as Sagar (21). The three injured were identified as Babul, Anwar and Suvash
In another workplace accident, two workers at a ship-breaking yard were killed and six others injured when they were struck by a scrapped steel plate in August last year at Kadam Rasul area under Sitakundu upazila. The two victims were the cutter men of Ahmad Mujtaba Steel Industry and identified as Humayun (28) and Md. Belal (30). Another worker Selim Uddin (28) died in a similar accident in July last year.

GreenPeace জানাচ্ছে Shipping industry must strip ships of toxic materials before sending them for scrapping
Highest court in Netherlands says scrap ship is toxic waste

June 19th 2002 - The Highest Court in the Netherlands, the Council of State in The Hague, has today ruled that a ship destined for scrapping in India which contains asbestos, heavy metals and other toxic materials, should be classified as toxic waste.
এই ধরণের বিষাক্ত জাহাজগুলি ইউরোপে ঠাঁই না পেয়ে চলে আসবে বাংলাদেশে। সস্তায় জাহাজগুলো ভাঙ্গার পর যার যার টাকা দিয়ে, টাকা নিয়ে চলে যাবে। রেখে যাবে বছরের পর বছর ধরে বিষাক্ত কেমিক্যালসের মরণ ব্যাধি। চেরনোবিল পারমানবিক বিষাক্ততার পাশ্বপ্রতিক্রিয়ায় এখনো সেখানে বিকলাঙ্গ শিশু আর প্রাণীর জন্ম হয়। আর এখানে জন্ম হবে বিশ্বের অভূতপূর্ব সব রোগব্যাধী আর ভাইরাস!!
Brain+Release_Valve সাইটটি বলছেঃ where immense ocean freighters and tankers are torn apart by hundreds of gritty, lean, strong, bronze-skinned, men–by manual labor. Using blow torches, sledgehammers and wedges they carve the mammouth steel whales into chunks just off shore. After the huge pieces crash into the water like glaciers calving, they are winched onto shore where they are cut up into bite-size pieces weighing hundreds of pounds then lifted and loaded by teams of guys–who sing in rhythm as they walk lock-step carrying the very heavy inch-thick steel plates–onto trucks to be sold (very profitably by the owners who live in huge mansions in town) as scrap metal across the country and Asia (with some reworked into ‘new’ ships).
Ship breaking is done from 7 AM to 11 PM (same crew) with two half hour breaks and an hour for lunch (supper is eaten after they go home at 11); 14 hours a day, 6-1/2 days a week (off half day Friday for Muslim observations). They are paid $1.25 per day. কত টাকা প্রতি দিন? মাত্র ৮০ টাকার মত!

DEMOTIX news এর বর্ণনায়-Ship breaking Yard Chittagong : Darkness life of labors.
JAZJAZ.NET এর বর্ণনা এরকম: Hell on Earth – The Ship Breaking Yards of Alang and Chittagong

These hell holes are not just a killing ground for old vessels; thousands of hapless, but able-bodied young men have lost their lives doing back-breaking work in one of most hazardous working conditions in the world. Not only do they have to work without any basic safety equipment, they have to also endure prolonged exposure to toxic chemicals and waste matter during the course of work. Lung cancer and asbestosis is quite common among these poor souls কি অদ্ভুত ভাবে “গরিব আত্মার” করুণ মৃত্যু ঘটে চলেছে!

Click This Link এর খবরটা কি ভয়াবহ দেখুনঃ

The main Chittagong ship breaking area called Fauzdarhat is located on a 10-mile (16km) stretch of the Bay of Bengal that was once covered by a mangrove forest. It is the second-largest ship breaking operation in the world after Alang, India, employing around 100,000 people directly and indirectly. With a tidal flux ideal for the beaching of large vessels, Chittagong scraps around fifty percent of the world’s large-scale ships. Since the number of end-of-life tankers is expected to grow in coming years, this business and its hazards are also expected to rise.

Click This Link এই সাইটটির দেওয়া তথ্য আরো ভয়াবহ!
Shipbreaking Boom
The Freighter Graveyards of South Asia
By Joachim Hoelzgen
When times were good, shipping companies ordered huge numbers of new steel behemoths to ply the oceans. Now though, many of those same container lines are eager to get rid of their ships. The scrapping business in South Asia is booming.
The sandy beaches north of Chittagong in Bangladesh look like giant steel graveyards. Ships line the banks ready for dismantling. Others are so far disassembled that their hulls are all that is left protuding morosely from the water, according to shipping industry journal Lloyd's List. All kinds of vessels get broken down here: bulk carriers, container ships, vehicle transporters and oil tankers.

আমাদের এখন অনেক টাকার দরকার! আমাদের ১৫ কোটি মানুষকে খাইয়ে-পরিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হচ্ছে, তাই আমাদের যেকোন উপায়েই হোক টাকা কামাতে হবে। পৃখিবীর সকল বিষাক্ত জাহাজ, ট্যাঙ্কার, ভেসেল আর পারমানবিক বর্জ্যবাহী জাহাজও আমরা ভেঙ্গেচুরে শিটের আকার দিয়ে দিতে পারি! তাতে আমাদের প্রাণের ছোঁয়া লাগানো সবুজ বেষ্টনি ধ্বংস করে, পরবর্তী প্রজন্মকে বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে পঙ্গু করে হলেও আমরা বাঁচতে চাই! বাঁচার জন্য আমাদের এলিটরা আমাদের গার্মেন্ট দিয়েছে, বিষাক্ত চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণের ট্যানারি দিয়েছে, এখন দিয়েছে জাহাজ ভাঙ্গার কাজ। একাজ করেই আমরা বছরে ৪০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য করতে পারব । এখানকার শ্রমের রক্ত-ঘামে-মৃত্যুতে মাখানো ষ্টিল শিট দিয়ে আমরা জাহাজ বানিয়ে ইউরোপে রপ্তানি করে ওই ৪০ হাজার কোটি ডলারের বাজার ধরতে পারলে বাংলাদেশকে আর পায় কে? কোরিয়া-জাপানকেও পেছনে ফেলে দিলাম বলে........!!

কিন্তু আমরা দেখেছি এই শিল্প হোক আর গার্মেন্ট হোক, ভাগ্য বদলেছে ওপর তলার এলিটদের, তাদের চামচাদের, বরকন্দাজদের, মধ্যস্বত্তভোগী দালালদের আর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক-বীমা এবং এই সংক্রান্ত বেনিফিশিয়ারীদের। ১.২৫ ডলারের শ্রমিক আঠারো বছর আগেও যে অশিক্ষিত আনস্কিলড ডেইলি লেবার, এখনো সে সেই অবস্থায়, একই ভাগ্যবিড়ম্বনা নিয়ে ধুকে ধুকে মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করার জন্য কোন এক অপার্থীব নির্দেশে ছুটে চলেছে! বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে চোখের নোনা জল মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে.....কিছুতেই আলাদা করে বোঝানো যাচ্ছেনা যে ওইটুকু আমাদের চোখের জল! আমাদের শরীরের ঘাম! আমাদের ধোঁয়াটে ভবিষ্যৎ!

এক সময়ের সবুজ উপকুলের এখনকার হাল!

এমন মৃত্যু নিয়ত সাথী!

ওরা কি জানে এর মধ্যে কি আছে?

আগুনের শিখায় নাম না জানা গ্যাসের উদ্গিরণ!

এই ছেলেগুলির বয়স কত?

কৃতজ্ঞতা এবং দায় স্বীকারঃ
Click This Link
Click This Link
http://environmentalartilces.wordpress.com/ship-breaking-industry-environmental-disaster/
View this link
View this link
View this link

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জাহাজভাঙ্গাসস্তা শ্রমের পোদ্দারি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৪৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৮
অলস ছেলে বলেছেন: চিটাগাং এর জাহাজ কাটা ব্যাবসায়ীদের পরিবারগুলো কি পর্যায়ের বিলাসী জীবন যাপন করে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না সম্ভবত।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৫

লেখক বলেছেন:
ঠিক তাই। কল্পনা হয়ত করতে পারব। এরাই তো এই উন্নতিকে দেশের উন্নতি বলে চোঙা ফুকে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে ফেলে! ওদের ব্যক্তি উন্নতি আর বিত্ত বৈভব আরো বৃদ্ধি করার জন্য সরকারও ওদের পাশে। নিও ডেমোক্র্যাটিক মেথডে বলা হয়ঃ এদের বিত্তের ছিটেফোঁটা মানি ফ্লেয়েশনের নিয়মেই নাকি দরিদ্রদের হাতেও পৌঁছে!!

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনার কথার সুত্র ধরেই দেখলাম এই লিঙক গুলোয় মালিকদের জীবন-যাপনের বিলাসীতার বহর!!

২. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৪
মুনশিয়ানা বলেছেন: বছরের পর বছর ধরে তো এই সবই চলছে, মনজু ভাই...

ভাবতে অবাক লাগে দুনিয়ার যে কোন শিল্প যখন আরও বেশি যান্ত্রিক ও নিরাপদ হতে চলেছে, তখন এই জাহাজ ভাঙা শিল্পে এখনো ভরসা শারিরীক শক্তি আর সম্ভবত আল্লার উপর ঈমান।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৪

লেখক বলেছেন:
এখানে রিলিফে গরিব মানুষ পাওয়া যায় বলেই তো শুক্রবারের জুম্মার নামাজের সময়টুকু বাদে সপ্তাহের সাড়ে ছয় দিনই কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে! বিনিময়ে খরচ করতে হয় মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা!

আর সরকার বা এদেশের কোন সংস্থাও তো হ্যাজার্ড কার্গো বা বিপজ্জনক ভেসেলকে ভিড়তে বাধা দেয়না!

এমন গ্রেভইয়ার্ড বিশ্বের আর কোথায় মেলে?

৩. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৮
মদন বলেছেন: অনেক অজানা জিনিস জানলাম
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৫

লেখক বলেছেন: আমি লিংকগুলো পড়তে পড়তে শিউরে উঠেছি!!

৪. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫২
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: ভয়ঙ্কর ভাইয়া। কি হচ্ছে এসব !!!
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: ব্যাকফায়ার অব ইকোনমিক্যাল ডেভেলপমেন্ট!!

৫. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৮
'লেনিন' বলেছেন: ২০০৬ এবং ২০০৭এ অনেক অনেক বার যাওয়া পড়েছে ভাটিয়ারি, তখন দেখেছি এমন বিধ্বস্ত উপকূলের চেহারা।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৬

লেখক বলেছেন: এখন আরো বেশি বিধ্বস্ত আর বিপর্যস্থ।

৬. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৫
গ্যাঁড়াকল বলেছেন: কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার স্যাপার অথচ দেশের অনেকেরই এইগুলা অজানা।
আমাদের প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডয়াগুলো এই ব্যাপারে এত নিরব কেন??
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন:
মিডিয়ার লোকজনকে ওখানে ঢুকতে দেওয়া হয়না। যদিওবা কাউকে ডেকে নেওয়া হয়, তাকে প্রতিজ্ঞা করে আসতে হয় যে সে উন্নয়নের কথাই লিখবে!!

৭. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৬
ওসমানজি২ বলেছেন: জানার আছে অনেক কিছু। পোষ্টটি স্টিকি করা হোক।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৪

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ ওসমানজি২। আপনাকে আমার পোস্টে স্বাগতম।

৮. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৩
মুনশিয়ানা বলেছেন: ৯৪-৯৫ সালের দিকে একবার ভাটিয়ারীতে গিয়েছিলাম, ছিলাম প্রায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত। অমানুষিক কাজকারবার। স্রেফ গায়ের জোরই ভরসা। কয়েক টন ওজনের লোহার টুকরা দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে আনছে ১০/১২ জন মানুষ। আর এক দল আগুনের শিখা দিয়ে কেতে চলেছে লোহার পাত।

যদি এটাকে ইন্ডাষ্ট্রি হিসাবে দাড় করাতেই হয়, তবে সে অনু্যায়ী শারীরিক নিরাপত্তা বিধান, বেশী করে যন্ত্রায়ন, এসব তো করাই যায়। নিরাপত্তা পোষাক, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শের ব্যবস্থা--এগুলো করা যেতে পারে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪১

লেখক বলেছেন:
সে সব করার জন্য আগে জায়গাটাকে অবারিত করতে হবে। আর সেটি করলে খবর হবে। ভেতেরের বিষয়গুলি জনসমক্ষে আসবে। এক পর্যায়ে পরিবেশবাদীরাও হাজির হবে। তারা দাবী তুলবে অমুক জাহাজ বিষাক্ত টক্সিন বহন করত, তাকে ভিড়তে দিও না! টাকার কাছে এইসব দাবিটাবি কি গ্রহনযোগ্য?

যে কারণে কোরিয়া-জাপান ইপিজেড এ ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয়না, সেই কারণেই এই "শিল্প" জনসমক্ষে আনা হবেনা। আধুনিক করা হবেনা। সস্তা শ্রমের ঘাম নিংড়েই যদি কাড়ি কাড়ি ডলার আসে তাহলে কে যায় সেই ডলার অশিক্ষিত দরিদ্রদের পেছনে খরচ করতে? অন্তত বাঙালি শিল্পপতিরা তা জীবনেও করবে না।
সামন্তবাদী নতুন করে শিল্প মালিক হলেই তার সামন্তবাদীতা মুছে যায়না! সে আধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট হয়না।

৯. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫০
সরকার সেলিম বলেছেন: অ্যাডমিশন টেষ্ট দিতে চিটাগাং গিয়েছিলাম। উঠেছিলাম ভাটিয়ারিতে আমার সম্পর্কের এক চাচার বাসায়। ছিলামও সেখানে কয়েকদিন। দেখেছিলাম জাহাজ কাটা শ্রমিকদের কষ্টের জীবন। চাচার পাশের রুমেই দেখিছিলাম জাহাজ কাটতে গিয়ে আহত পংগু এক শ্রমিক।
তাকে দেখে খুব খারাপ লেগেছিল।

জানি না, লোকটা সেরে উঠেছিল কি না! সে যেখানেই থাকুক আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৭

লেখক বলেছেন:
প্রতি মাসে গড়ে ১০/১২ জন করে মানুষ মারা যায় স্রেফ লোহালক্কড়ের তলে চাপা পড়ে! আর আগামীতে বিষক্রিয়ায় ধীরে ধীরে কত মারা যাবে সেই খতিয়ান আমার কাছে নেই। তবে মারা যে যাবেই সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকা যায়। টক্সিনের বিষক্রিয়া খুব ধীরে ধীরে ছড়াতে থাকে।

১০. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩২
নাজিম উদদীন বলেছেন: দুনিয়ার ২য় বৃহত্তম শীপব্রেকিং ইয়ার্ড, খুবই লাভজনক ব্যবসা,জাহাজের কোনকিছুই ফেলনা যায় না।

আধুনিকায়ন করলে এতে মত্যুর হার অনেক কমত।

Click This Link
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন:
কমেন্ট রি-পেস্ট করলাম নাজিম।

যে কারণে কোরিয়া-জাপান ইপিজেড এ ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয়না, সেই কারণেই এই "শিল্প" জনসমক্ষে আনা হবেনা। আধুনিক করা হবেনা। সস্তা শ্রমের ঘাম নিংড়েই যদি কাড়ি কাড়ি ডলার আসে তাহলে কে যায় সেই ডলার অশিক্ষিত দরিদ্রদের পেছনে খরচ করতে? অন্তত বাঙালি শিল্পপতিরা তা জীবনেও করবে না।
সামন্তবাদী নতুন করে শিল্প মালিক হলেই তার সামন্তবাদীতা মুছে যায়না! সে আধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট হয়না।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: মা.মো.র পোস্টের মত পোস্ট আরো আসা দরকার।

১১. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৮
মুছাব্বির বলেছেন: মডারেটরদের দৃস্টি আকর্ষণ করছি, পোস্টটি অবিলম্বে স্টিকি করা হোক।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুছাব্বির। আপনারা পড়েছেন এটাই অনেক কিছু।

১২. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৬
অ্যামাটার বলেছেন: চমৎকার। আপনার প্রায় সব লেখাই অনুসন্ধানী। এখানেও আলোর নীচের আঁধার তুলে এনেছেন। আপাতত শুধু দেখে গেলাম, পরে পড়ে মন্তব্য করব।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৬

লেখক বলেছেন: আচ্ছা। আপনার সুচিন্তিত মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম।

১৩. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪২
পরোপকারী বলেছেন:
ভয়ন্কর ব্যাপার।

ধিক্কার জানাই আমাদের সরকার গুলোকে যারা এতবছর থেকে এতবড় ক্ষতির কোন খবরই রাখে নাই।


মডারেটরদের দৃস্টি আকর্ষণ করছি, পোস্টটি অবিলম্বে স্টিকি করা হোক। সহমত @ মুছাব্বির

পোষ্টের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৮

লেখক বলেছেন:
আপনাকেও পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমরা আর কতদিন শুধু ধিক্কার জানিয়ে যাব?
জানিনা আমাদের আর কি করতে হবে! তবে আমি এ নিয়ে লিখতেই থাকব.... লেখা চাড়া আর কিছুই তো করার ক্ষমতা নাই!!

১৪. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০১
মনির হাসান বলেছেন: ভয়াবহ ! ! এটা ধারনাও করতে পারিনি পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ... সমুদ্র উপকূলের পানির চেহারা দেখলাম ... থকথকে ... হাহ .. এই না হলে আমাদের এলিট শ্রেণী ...

মনজু ভাই বরাবরের মতো ... অসাধারণ একটা ব্যাপার তুলে ধরেছেন সেই সাথে যন্ত্রনা'টাও বাড়ায় দিলেন ... সৈকতের পানিতে নামতে এখন চিন্তা করতে হবে ।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন:
এমনিতেই লেখাটা বিশাল হয়ে গেছে। হাতে আরো যে সব ম্যাটরিয়ালস আছে তা আসলেই আঁতকে ওঠার মত! আমি চার চারটা দিন ধরে লিংকগুলো পড়ছি আর মাথা ঝিমঝিশ করে উঠছে!!কপালে দাগ ফেলে দেওয়া মালিকের কিছু স্বক্ষাতকার আছে, জায়গার অভাবে দিতে পারিনি।

কি আছে মনির! টানা ঘুম দিয়ে ওঠো, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা প্রতিমুহূর্তে সবকিছু ভুলে যেতে চাই। ভুলে যেতে পারা একটা জুৎসই পদ্ধতি। মোক্ষম ক্ষমতা!!

১৫. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১১
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
বস , জাহাজ ভাঙা শিল্পের এই পাশবিক অবস্থাকে নিয়ে লিখেছেন, অনুরোধটা রেখেছেন বলে ধন্যবাদ।
কিছু কমেন্ট করার নাই, ক্ষোভে দুঃখে হাত কামড়ানো ছাড়া। জাহাজভাঙা এলাকায় সহজে কাউকে প্রবেশ করতে দেইয়া হয় না, হলে হয়ত মানুষের মনে এই প্রশ্নটা
জাগানো যেত, মানুষের রক্ত-ঘাম-জীবনকে পিষে ভর্তা বানিয়ে তার উপর যে প্রবৃদ্ধি- সেটা দরকার আছে কিনা?
প্রচন্ড ক্লান্ত, তাই পুরনো কমেন্ট কপি-পেষ্ট দিলামঃ

>>>

বস লেখেন। আমরা যারা এই সিস্টেমের চাপে পড়ে নিজেকে কিছুটা হলেও বিসর্জন দিচ্ছি তাদের মাঝে মাঝে আয়না দেখানোর জন্য হলেও এই ধরনের পোষ্ট দরকার। পথ যদিও বা কিছুটা ভিন্নতর (যেমন আমি হয়ত পুঁজিবাদকে অনিবার্য বাস্তবতা বলে তার কন্ট্রোল্ড রেগুলেশান চাই আপনি হয়ত অন্যভাবে সিস্টেমটাকে দেখতে চান ) বিবেক আর বোধ তো ধ্রুব । অবশ্যি যাদের জন্য এই সিস্টেমটাই মোক্ষ, তাদের জন্য কিছু বলে লাভ নাই।


কয়েকদিন আগে আমার ছোটভাই গিয়েছিলো সীতাকুন্ড শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের তো যাই হোক 'বায়লজিকাল মেশিন' বা ব্রাত্য শ্রমিক হিসাবে গণ্য করা হয়। কিন্তু সেখানকার শ্রমিকদের মূল্য
রড কাটার বা অন্যন্য যন্ত্রগুলোর চাইতে আরেকটু কম। কোন সাংবাদিক এর প্রবেশাধিকার নাই সেখানে, যতটুকু শুনেছি মাসে নিহতের সংখ্যাই মাঝে মাঝে দশ ছাড়িয়ে যায়। একটাই প্রশ্নঃ আমাদের কি এই গ্রোথ এর আদতেই দরকার আছে এতো প্রাণের আর অমানবিকতার বিনিময়ে?

গত সপ্তাহে একটা অন-সাইট করতে গিয়ে সার্ভারের কোনা লেগে পিঠ পুরো চিরে গিয়েছিলো। সাথে সাথে সেখানকার সুপারভাইজারের দৌড়াদৌড়ি দেখে হঠাৎ মনে পড়ল আমার ছোটভাইয়ের বর্ণনা, আগের দিনের ছয় ইঞ্চি কাটা আর জ্বর নিয়ে একজন শ্রমিককে পাইপ আলাদা করতে দেখার গল্প। শিউরে উঠলাম।

আগুন টাগুন কিছু না । আমি নেহাতই নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।
অদ্ভুতভাবেই সমাজের সবগুলো লেয়ারের সাথেই মিশতে হয়, তাতে একটাই লাভ - সবগুলো ভিউ দেখা যায়। আর সমস্যা - অস্বস্তি। আমার সবচাইতে প্রিয় ছাত্রীটির বাবা যখন শুনেছিলাম শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের নামকরা এক ব্যবসায়ী, তখন প্রাপ্য মাসিক সম্মানীটিতে রক্তের দাগ দেখতে পেয়েও নিতে হয়।:(
আমরা যে কাগুজে বাঘ। :(


>>>
আমার সেই ছাত্রীর বাবার সাথে একবার প্রবল বাকবিতণ্ডার পর এখন যোগাযোগ বন্ধ;
খুব অদ্ভুত লাগে চট্টগ্রামের নামকরা একজন ব্যবসায়ীর এই ভাই প্রচুর দান-ধ্যান করেন, পিতা-স্বামী হিসাবে বেশ স্নেহময়, বড়োলোকদের ফুটানি ও নাই তার মাঝে -
শুধু তার ব্রেকিং ইয়ার্ডের শ্রমিকগুলোর এই পরিণতি অমানবিক শ্রম আর নিস্পেষনকে উনি 'নিয়তি' , 'বাস্তবতা' এই শব্দগুলো দিয়ে ব্যাখা করতে চান।
এটাকে ও যে যথাযথ নিরপত্তা আর প্রশিক্ষণ, আর আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে শ্রমনির্ভর একটা আধুনিক শিল্পে পরিণত করা যায় , সেটা এদের মাথায় নাই। খালি দ্রুত লাভ তোলার চেষ্টা,
যে কোন 'মূল্যে'।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩১

লেখক বলেছেন:
আপনার এই মন্তব্যটি অনেক আলোচনার শর্ত ধারণ করে আছে, কিন্তু আজ আর এনার্জিতে কুলাচ্ছে না! কাল এ নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে আশা করি।

ভাল থাকুন।

১৬. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২০
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: আমিও একবার গিয়েছিলাম। ভয়াবহ, অমানবিক, নৃশংস। শরীর ভেঙে যাওয়া মানুষগুলো, কিশোরগুলোর মুখের দিকে তাকাতে পারিনি। এইরকম কষ্টের কাজ আমি আমার জীবনে আর দেখিনি। এই বাণিজ্য মানবতার অপমান। সবচেয়ে আতঙ্কজনক তথ্য হল, এতো বাদ-প্রতিবাদের পরও এই ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে না, বরং ক্রমেই পরিধি বাড়ছে এর।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন:
ব্যবসার পরিধি কিভাবে বাড়ছে দেখুনঃ

মূলত ইউরোপিয়ান দেশগুলোই বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ করতে আগ্রহী। এর মধ্যে আছে ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও জাহাজ নির্মাণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। জাহাজ নির্মাণের অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে আইএসও সনদকে। জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব, ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া ও বিদেশে কাউন্টার গ্যারান্টি দেওয়ার অর্থনৈতিক সামর্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় আনে তারা। বাংলাদেশে যে ক'টি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ করছে, তারা এখন এসব শর্ত পূরণ করেই অর্ডার পাচ্ছে।
জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও সম্প্রসারণ করতে সরকার সম্প্রতি এটিকে শতভাগ রফতানিমুখী বন্ডেড ওয়্যারহাউস করার ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের ২৯ জুলাই এ ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগকারীদের সুদের হার কমানো হয়েছে। এ খাতে সুদের হার আরও কমানোর সুপারিশ করেছে সরকার গঠিত একটি কমিটি।

আর এই ণির্মানটা হবে ওই ভাঙ্গা জাহাজের লোহালক্কড় দিয়ে, যার গায়ে লেগে থাকা রক্ত আর অমানবিক শোষণের গন্ধ ব্লোয়ারের বাতাস দিয়ে শুকিয়ে ফেলা হবে! স্প্রে করা হবে পারফিউমড কালার!!

১৭. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৩
শয়তান বলেছেন: লেখাটা কি পত্রিকার জন্য ?
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: না। এটার কথাই কাল বলছিলাম...চার দিন ধরে খাটছি....

১৮. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৫
ত্রিশোনকু বলেছেন: কিছুদিন আগেই হাইকোর্ট থেকে জাহাজ ভাংগার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছিল। বাংলাদেশেরই এক/একাধিক এনজিওর করা মামলায়। সে মামলাটি পরিচালনা করেছিলেন একজন মেয়ে আইনজীবি। সেটার খবর কি? যদ্দুর মনে পড়ে, ডেইলি স্টারে প্রথম/শেষ পাতায় সে রায়ের খবর ছাপা হয়েছিল বিরাট শিরোনামে।
______________________________________________

মডারেটরদের দৃস্টি আকর্ষণ করছি, পোস্টটি অবিলম্বে স্টিকি করা হোক।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন:
সেই রায় এখন ফাইলের তলে চাপা পড়ে গেছে! নতুন উদ্যোমে এখন সরকারও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে বদ্ধপরিকর। এমনকি শ্রমিক বিদ্রোহ করলে বিশেষ পুলিশের যোগানও হয়ে যাবে।

১৯. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৬
ত্রিশোনকু বলেছেন: প্রসংগান্তর:

আজ বসার কথা।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৩

লেখক বলেছেন:
জগতে একমাত্র আমি ছাড়া আর সকলেই ব্যস্ত, মহা ব্যস্ত! যেহেতু আমিই অফুরন্ত অবসরের মালিক, তাই আমিই আসছি। সাড়ে সাতটার দিকে আসছি। আপনি নয়টার আগেই ফ্রী হয়ে যেতে পারবেন। বিকেলে ফোন করে স্থান জেনে নেব।

২০. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৮
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: এক কথায়, ভয়াবহ। চরমের সীমাও ছাড়িয়ে গেছে।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৯

লেখক বলেছেন: কি আর করা যাবে! এটাকেই নাকি উন্নতি বলে!! এভাবেই মানুষের রক্ত চুষেই তো দেশ এগেয়ে যায়!!

২১. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১৩
অরণ্যদেব বলেছেন: কি ভয়াবহ ব্যাপার! এগলি দেখার কেউ নাই?
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: না। কেউ নাই।

২২. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৫
মুসতাইন জহির বলেছেন: ''লোহাখোর'' নামে শাহীন দিলরিয়াজ একটা ডকু বানাইছিলো বছর দুয়েক আগে। তাতে দেখলাম এত ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হয়, মারাত্মক দুর্ঘটনা প্রায়ই যেখানে ঘটে সেখানে একজন সাধারন ডাক্তার পর্যন্ত নাই। কত লোকের যে হাত-পা গেছে শুধু সময় মতো প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে.... মৃত্যুতো আছেই।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৯

লেখক বলেছেন:
এই লেখার মূল ব্যাপারটা এখানে- আমরা দেখেছি এই শিল্প হোক আর গার্মেন্ট হোক, ভাগ্য বদলেছে ওপর তলার এলিটদের, তাদের চামচাদের, বরকন্দাজদের, মধ্যস্বত্তভোগী দালালদের আর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক-বীমা এবং এই সংক্রান্ত বেনিফিশিয়ারীদের। ১.২৫ ডলারের শ্রমিক আঠারো বছর আগেও যে অশিক্ষিত আনস্কিলড ডেইলি লেবার, এখনো সে সেই অবস্থায়, একই ভাগ্যবিড়ম্বনা নিয়ে ধুকে ধুকে মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করার জন্য কোন এক অপার্থীব নির্দেশে ছুটে চলেছে! বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে চোখের নোনা জল মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে.....কিছুতেই আলাদা করে বোঝানো যাচ্ছেনা যে ওইটুকু আমাদের চোখের জল! আমাদের শরীরের ঘাম! আমাদের ধোঁয়াটে ভবিষ্যৎ!

২৩. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৪
জাতেমাতাল বলেছেন: শ্রমিকের জীবন বরাবরই আমানবিক, অবিকশিত পুজিঁবাদে এসে তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এসব কেতাবি কথার এর যে ভাল প্রমাণ আর হয় না।

যে কারনে কোরিয়া তাইওয়ান বা থাইল্যান্ডে যা করা সম্ভব হয় না, বাংলাদেশে তা খুবই সম্ভব। এই অমানবিক শ্রম শোষন কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না...

মনজুভাই, এটা নিয়ে কি আরও সিরিজ লিখবেন...?

এই গুরুত্বপুর্ণ পোষ্টটা স্টিকি তো হতেই পারে, মডারেটরদের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলো।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৪

লেখক বলেছেন:
ইচ্ছা আছে। এই লেখাটি তৈরি করতে চার-পাঁচ দিন খাটতে হয়েছে। ঠিক এখনই পারছিনা। আশা আছে সপ্তহ খানেকের মধ্যে এই ঘটনার আর একটি পর্ব লিখতে পারব।
সব চেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে সরকারের কোন মহলেরই এই বিষয়ে কোন মাথাব্যথা নেই, বরং সরকারের কাছে এই মালিকরা জোর দাবি জানাচ্ছে সকল ধরণের জাহাজ ভেড়ার অনুমতির জন্য!

সরকারকে আরো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে এই লোহার শিট দিয়েই জাহাজ বানিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় হতে পারে!!

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: আপনাদের অনুরোধে পোস্ট স্টিকি হয়েছে। এবার বিষয়ে আপনার বিশ্লেষণ চাই।

২৪. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০১
মেটালিফেরাস বলেছেন: এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। স্টিকি করার জন্য মডারেটরদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ মেটালিফেরাস।

২৫. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৮
মিলটনরহমান বলেছেন: আমার নিজের এলাক। এ নিয়ে কতবার যে লিখেছি তার কোন হিসেব নেই। আপনার লেখাটা বিস্তারিত। দরকারী।

Click This Link
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ মিলটন রহমান। আপনার লিংক ধরে গিয়ে দেখলাম সাহিত্যালোচনা! আমি তো ভাই কবি-সাহিত্যিক নই, তাই অংশ নিতে পারলাম না। শুধু একটা প্লাস দিয়ে চলে এসেছি।

২৬. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৭
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: বেশ ভালো একটা শীল্প উদ্যোগ, যদিও সমালোচকের অভাব নেই।
টাকা যারা ইনকাম করছে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে তো তারা সুখেই আছে। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিশ্চয়ই বঞ্চিত হচ্ছে না। ক্ষতি তো কিছু দেখি না! কিছু কামলার ব্যপারে চিন্তা না করলেও চলবে। আর পরিবেশ? ধুর, এটা নিয়ে বাংলাদেশে কেউ ঝামেলা করার আছে নাকি!

এভাবে আরো কিছু উদ্যোগ যুথবদ্ধভাবে নিতে হবে। তাহলে দেশের জনসংখ্যা কমবে। বাংলাদেশটাকে শক্তিধর দেশগুলোর কাছে পারমানবিক পরীক্ষার জন্য বিক্রি করা যেতে পারে। সব দেশ এখানে এসে পরীক্ষা করবে বিনিময়ে টাকা দেবে। আমরা শনৈ শনৈ বড়লোক হবো।


পোস্ট প্রিয়তে......
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৪

লেখক বলেছেন:
এত চমৎকার মন্তব্য করেন আপনি! সত্যি আমি অবিভূত! খু অল্প কথায় একেবারে শেষেরটুকুও বলে দিলেন।

অনেক ধন্যবাদ।

২৭. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪০
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: পোস্ট স্টিকি করা হোক।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৪

লেখক বলেছেন:
মাথা নিচু করেই আপনি অসাধারণ সব কথা বললেন! এবার মাথা তুলুন। আপনার কী-বোর্ড থেকে আরো কিছু বেরিয়ে আসুক। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

২৮. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০১
অপ্‌সরা বলেছেন: হায় হায় ভাইয়া।কিছুই বলার নেই।

আমি তো কোনোদিন জানতামই না এইটা না পড়লে।
কি আশ্চর্য্য। মানুষগুলো হয়তও জানেইনা।কি বিভৎস্য দিন কাটাচ্ছে তারা। নরকও মনে হয় এর চাইতে সুখের। ওরা না জেনেই নরকবাস করছে।

তুমি তো রাত দুপুরে আমার মন খারাপ করে দিলে। কারণ আমাদের তো কিছুই করার নেই।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১২

লেখক বলেছেন:
"তুমি তো রাত দুপুরে আমার মন খারাপ করে দিলে। কারণ আমাদের তো কিছুই করার নেই"!

হ্যাঁ, আবার না। আমরা অনেক কিছু করতে পারি। সবচেয়ে আগে যেটা পারি তা হলো সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুরোধ করতে পারি কাজের পরিবেশ বিপদমুক্ত করার জন্য, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য।

২৯. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৭
*পাগলা জগাই* বলেছেন: এই প্রসঙ্গে কথা বলা বিপদ্জনক! যে কয়জন মানুষ এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের হাতের দৈর্ঘ্য ১৬ দুগুণে ৩২ কোটি হাতের চেয়ে বেশি। খুব খিয়াল কৈরা।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৫

লেখক বলেছেন:
দিলেন তো ভয় ধরিয়ে! এমনিতেই লেখক-ফেখকরা ভীতু মানুষ!!

৩০. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৫
বিডি আইডল বলেছেন: লেখক বলেছেন:
এই লেখার মূল ব্যাপারটা এখানে- আমরা দেখেছি এই শিল্প হোক আর গার্মেন্ট হোক, ভাগ্য বদলেছে ওপর তলার এলিটদের, তাদের চামচাদের, বরকন্দাজদের, মধ্যস্বত্তভোগী দালালদের আর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক-বীমা এবং এই সংক্রান্ত বেনিফিশিয়ারীদের। ১.২৫ ডলারের শ্রমিক আঠারো বছর আগেও যে অশিক্ষিত আনস্কিলড ডেইলি লেবার, এখনো সে সেই অবস্থায়, একই ভাগ্যবিড়ম্বনা নিয়ে ধুকে ধুকে মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করার জন্য কোন এক অপার্থীব নির্দেশে ছুটে চলেছে! বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে চোখের নোনা জল মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে.....কিছুতেই আলাদা করে বোঝানো যাচ্ছেনা যে ওইটুকু আমাদের চোখের জল! আমাদের শরীরের ঘাম! আমাদের ধোঁয়াটে ভবিষ্যৎ!

স্যালুট....
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০০

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ বিডি আইডল। দেশে আসবেন নাকি?

৩১. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫২
রাহামনি বৃষ্টি বলেছেন:
আমার এক কাকা বারআওলিয়ায় নাকি ভাটিয়ারিতেই এ কাজ করতো।


পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৫

লেখক বলেছেন:
আপনাকেও ধন্যবাদ।
আপনার কাকা কি মালিক পক্ষ ছিলেন?

৩২. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৪
দ্রোহি বলেছেন:
"সামন্তবাদী নতুন করে শিল্প মালিক হলেই তার সামন্তবাদীতা মুছে যায়না! সে আধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট হয়না।"

আপনার এই কথাটিই সত্যকে বহন করছে। তাই পজিটিভ পরিবর্তনের আশা করাটা হয়তো তিমিরেই থেকে যাবে।

সামন্তবাদের রূপ বদলায়, তাঁরা নিজেরা বদলায় না।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১০

লেখক বলেছেন:
চমৎকার বলেছেন-"সামন্তবাদের রূপ বদলায়, তাঁরা নিজেরা বদলায় না।"

হয়ত এই জগাখিঁচুড়ি সোসিওইকোনমিক স্ট্রাক্চার নিয়েই আমাদের বাকি জীবনটা কেটে যাবে! হয়ত এই সামন্তুপ্রভুরাই কখনো মিল মালিক হিসেবে, কখনো বিচারক হিসেবে, কখনো বা আইন রক্ষা বাহিনীর কর্তা হিসেবে দন্ডমুন্ডের অধিকর্তা হয়ে ছড়ি ঘুরিয়েই যাবেন! আর আমাদের মাথায় মাথায়, নিউরেণে কিলবিল করবে ক্ষোভ, হতাশা আর ক্রমাগত ব্যর্থতার ডাই পিঁপড়েগুলো..............

৩৩. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮
রাহামনি বৃষ্টি বলেছেন:
না, কাকা ছিলেন শ্রমিক... দৈনিক ১০০ টাকা হাজিরার।
আরো বছর ৭/৮ আগের কথা। এখন আরব আমিরাত থাকেন।
তখনতো বুঝতাম না... আসলে উনি কি করেন। জানতাম জাহাজ ভাংার শ্রমিক। আপনার পোস্ট পড়ে ভয়াবহতা দেখলাম।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭

লেখক বলেছেন: আপনার ঐ কাকাই ভাল বলতে পারবেন এই শ্রমিকদের কষ্টের কথা। তিনি বিদেশে গিয়ে বেঁচে গেছেন।

৩৪. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫
ওসমানজি২ বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ মডুদেরকে পোষ্টটি স্টিকি করার জন্যে।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন:
কিন্তু বড্ড অসময়ে হয়ে গেল ব্যাপারটা! ঈদের আমেজে এধরণের পোস্ট গুরুত্ব পাওয়ার কথা নয়।

আপনাকে ধন্যবাদ।

৩৫. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৯
পারভেজ বলেছেন: বিরাট শক্তিশালী মাফিয়া গোষ্ঠী এর সাথে জড়িত। শতকোটি টাকাও এখানে ছেলেখেলা। সব রাজনৈতিক নেতারাই আপাদমস্তক বিক্রি হয়ে আছে এদের কাছে।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৩

লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ, দেখুন এদের সম্পর্কে আরো একটি সকর্তবাণীঃ "*পাগলা জগাই* বলেছেন: এই প্রসঙ্গে কথা বলা বিপদ্জনক! যে কয়জন মানুষ এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের হাতের দৈর্ঘ্য ১৬ দুগুণে ৩২ কোটি হাতের চেয়ে বেশি। খুব খিয়াল কৈরা।"

এখন সব নেতারাই যদি আপাদমস্তক কিক্রি হয়ে থাকে তাহলে এদের উর্দ্ধার করার আর কে আছে? কেউ নেই!!

আপনি চট্টগ্রামের মানুষ, হয়ত কাছে থেকে দেখেছেন।

৩৬. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৭
কালপুরুষ বলেছেন: চমৎকার পোস্ট। প্রিয়তে রেখে দিলাম।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দাদা।

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কুচ্ছিত হাঁসের ছানা।

৩৮. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৯
রাজর্ষী বলেছেন: এই শিল্পের মালিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক ঘৃনা আন্দোলোন কর্তে হবে। এদেরকে মানব সমাজে অচ্ছুৎ করে দিতে হবে।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮

লেখক বলেছেন:
সেটাও বোধহয় করা যাবে না। এরা সমাজের মাথাদের পকেটে রাখে! এই লেখার মূল উদ্দেশ্য এই শিল্পে জড়িত মানুষদের প্রতি যেন মনুষ্য সুলভ আচরণ করা হয়। যেন তাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করানো হয়। যেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

৩৯. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৩
ফালতু মিয়া বলেছেন: ষ্টিকি না করলে তো গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট পড়াই হতো না। এজন্য মডারেটর ও পোষ্টদাতাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সভ্যতা হয়তো এভাবেই গড়ে উঠেছে। +
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪২

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৪০. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১২
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন।

কিন্ত কিছুতেই কিছু হবে না ভাই..................এভাবেই চলবে।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫

লেখক বলেছেন:
আমারও তাই মনে হয়। এই শেষ সিদ্ধোন্তে আমরা চলে আসি যে হতাশা থেকে, তার থেকে আমাদের মুক্তি নাই। চোখের সামনে অন্যায় দেখেও যখন কিছুই করতে পারি না, তখন আত্মগ্লানী ছাড়া আর কি থাকে আমাদের!

তার পরও কেন লিখি? হয়ত আমি বা আপনি যদি এধরণের কোন উদ্যোগ নিতে চাই তখন এই লেখাটা মনে থাকলে আমরা ওই মাত্রার শোষণ করার আগে একটু ভাবব।

৪১. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫১
মাছিমারা কেরানি বলেছেন: logged in from mobile to mark your post minus. the industry needs some regulation, this is true, but the part they are playing in the countrys economic development cant be and should not be forgotten. do u think that Bangladesh should not make any development and ppl should not have cheap iron for constructions? as a metter of fact, in one months ppl killed in road accident is much higher than your mentioned agregated total in the ship breaking industry.. so shall we close down all the roads thinking the roads are killer?
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: মগজে যেটুকু ধরেছে তাতে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সেটাই আপনার জন্য যধাযথ । সম্ভব হলে আর একটা মাইনাসও দিতে পারতেন। থ্যাংকস।

৪২. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৭
নীরজন বলেছেন: এইসব দেখলে আমার ইদানিং বাঁচতেই ইচ্ছা করে না....................


প্রিয়তে এবং +++++++++++
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: না বেঁচে কি উপায় আছে? বাধ্য হয়েই আপনাকে-আমাকে বাঁচতে হচ্ছে। হবেও মৃত্যু না আসা পর্যন্ত।

ধন্যবাদ এবং শুভকামনা।

৪৩. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০৫
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: আমি যদি রাখাল বালক হতাম, চিৎকার করে তাদের গালি দিতাম.......
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮

লেখক বলেছেন: আমি যদি রাখাল বালক হতাম, চিৎকার করে তাদের গালি দিতাম.......

আমিও!

৪৪. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫২
শেরজা তপন বলেছেন: দারুন দু:সাহসী প্রতিবেদন! স্যালুট আপনাকে
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫০

লেখক বলেছেন:
আমি স্যালুট পাওয়ার মত কিছুই করিনি। শুধু নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছি মাত্র।
আপনাকে ধন্যবাদ।

৪৫. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৬
জোবাইর বলেছেন: তথ্যসমৃদ্ধ পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।
যতদিন এদেশে ক্ষুধা, দরিদ্রতা ও বেকারত্ব থাকবে ততদিন এঅবস্থা চলতে থাকবে। স্বল্পবেতনে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ আইন দিয়ে বন্ধ করলেও ক্ষুধার্ত মানুষ এসে বলবে, "আমাকে একটা কাজ দেন, ফজরের আজান থেকে শুরু করে এশারের আজান পর্যন্ত কাজ করব, বেতন আপনি যা দেন।" বহুজাতিক কোম্পানী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, ওপর তলার এলিট, তাদের চামচারা, মধ্যস্বত্তভোগী দালাল এবং এই সংক্রান্ত বেনিফিশিয়ারীরা এই সুযোগ নেবেই।
"নিও ডেমোক্র্যাটিক মেথডে বলা হয়ঃ বিত্তবানদের বিত্তের ছিটেফোঁটা মানি ফ্লেয়েশনের নিয়মেই নাকি দরিদ্রদের হাতেও পৌঁছে!!" এইসব বিত্তবানদের সেবা, আমোদ-ফুর্তি ও বিলাসী চাহিদার যোগান দিয়ে গড়ে উঠতে পারে নতুন শিল্প যেখানে আরও কিছু দরিদ্র লোকের কর্মসংস্থান হবে। ধর্মীয় ও বামপন্থী ইগোর কারণে এই সুযোগটিও আমরা নিতে পারছি না! আরাম-আয়াশের জন্যই হোক বা উত্তরাধিকারীর নিরাপত্তার জন্যই হোক এই বিত্তবানরা এদেশের দরিদ্র মানুষের রক্ত-ঘাম-অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত টাকা ব্যয় করে বিদেশে।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৫

লেখক বলেছেন:
"যতদিন এদেশে ক্ষুধা, দরিদ্রতা ও বেকারত্ব থাকবে ততদিন এঅবস্থা চলতে থাকবে। স্বল্পবেতনে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ আইন দিয়ে বন্ধ করলেও ক্ষুধার্ত মানুষ এসে বলবে, "আমাকে একটা কাজ দেন, ফজরের আজান থেকে শুরু করে এশারের আজান পর্যন্ত কাজ করব, বেতন আপনি যা দেন।" বহুজাতিক কোম্পানী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, ওপর তলার এলিট, তাদের চামচারা, মধ্যস্বত্তভোগী দালাল এবং এই সংক্রান্ত বেনিফিশিয়ারীরা এই সুযোগ নেবেই।"

এই বাস্তবতার মধ্যেই আমরা সাড়ে সাত কোটি থেকে এখন ১৫ কোটি হয়ে গেছি! আর সেই বাস্তবতার কারণেই বিষ খেয়েও হজম করে ফেলতে হচ্ছে এই জনপদের অসহায় মানুষদের। ক্ষোভ, বিদ্রোহ...শেষে নির্লিপ্ত হতাশা!

৪৬. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৬
বলশেভিক বলেছেন: এই যুদ্ধে একা না আপনি।বাটে পড়লে লম্বা হাত কাটা পড়ে।স্স্টাটেজি
লড়াই লড়তে হবে এদের বিরুদ্ধে।

http://www.greenpeaceweb.org/shipbreak
Another VICTORY!
Bangladeshi government does net let toxic SS Norway enter its waters

Brussels, 17 February 2006 - Greenpeace and the European NGO Platform on shipbreaking celebrate a further victory in the battle to prevent toxic end-of-life ships being sent to developing countries for shipbreaking. Following the French government's decision to take back the asbestos laden ex-aircraft carrier Clemenceau, the Banglashi Minister of Environment announced February 16th that his government will not let another notoriously contaminated ship, the SS Norway, enter his country's waters before it has been fully decontaminated. Read the full news story here.
VICTORY! Justice for the environment
as French Government takes back the Clemenceau
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০

লেখক বলেছেন:
যুদ্ধের শুরুটা একাই, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে সাথীরা এসে পাসে দাঁড়ায়, আপনার মত। তারপর আশাবাদ আর প্রতিজ্ঞা জমাট বাধতে থাকে............................

আপনার দেওয়া সাইটটার কিছু তথ্য মূল পোস্টেও আছে। এই সাইটের ছবিটা দেওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পোস্ট এমনিতেই অনেক লোডেড হয়ে গেছিল।


এখানে এই বর্জ্যবাহী জাহাজটিকে পয়েন্ট আউট করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে।

৪৮. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৮
অ্যামাটার বলেছেন: ভয়াবহ্! জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প নাকি আমাদের অর্থনীতির অন্যতম ভীত। (জানিনা, কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা, আর যারা প্রচার করে, তারা তো সুবিধাভোগী, পক্ষপাতি); দেশের উন্নতি হোক, শিল্পায়ন হোক; এটা সবাই চায়, তাই বলে তা মানবতা ভূলন্ঠিত করে নয়! বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশনও নাই, যে এ'সব মনিটর করবে।
কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, স্টিকি করার জন্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা অন্তত দৃষ্টিগোচর হবে, কিন্তু যাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হওয়া জরুরি, তাদের কি ঘুম ভাঙ্গবে আদৌ?
শুনেছি, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের মত যে চিংড়ি শিল্প নিয়ে আমরা গর্ব করি, এর পেছনেও লেখাহয় এক করুন ইতিহাস, যা কখনও আলোর মুখ দেখেনা। দুবলোরচরেও নাকি ঘের শ্রমিকদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়, সেখানেও নির্যাতন-নিষ্পেষনে শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করে। কী জানি, নিজে গিয়ে তো আর দেখিনি, অবশ্য গিয়েও মনেহয় ফায়দা হবেনা, কেননা সেখানেও নাকি 'ভেরিফাইড' লোকজন ছাড়া মালিকপক্ষ কাউকে ঢুকতে দেয়না!
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১০

লেখক বলেছেন:
....আর এইসব মালিকেরা নিয়মিত শ্রম শোষণ করে চলে, শ্রমিকদের মানবেতর জীবনে বাধ্য করে। তার পর দিনের পর দিন পার হলে সেই সব শ্রমিকরা যখন অন্যায়-অবিচারে অতিষ্ট হয়ে বিদ্রোহ করে বিক্ষোভ করে তখন তাদের ঠ্যাঙানোর জন্য সরকার এই মালিকদের রক্ষা করার জন্য পুলিশ পাঠায়, রেব পাঠায়। এরা খুব প্রফেশনালি ঠ্যাঙানোর ব্যাপারটা দেখে। সেই শ্রমিকদের কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বল প্রয়োগের পথ ধরে। তখন সমাজের নামদেনেওলারা ওদের নাম দেয় "সন্ত্রাসী"। তারপর কোন এক মাহেন্দ্রক্ষণে সেই "সন্ত্রাসী"রা ক্রসফায়ারে মৃত্যুবরণ করে! আমরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলি। মিষ্টি বিলাই। শেষে দুহাত তুলে ঈশ্বরের দরবারে শোকরানা আদায় করি- আল্লাহ মহান, আমাদের হেফাজত কর্তা।

৪৯. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৫
মোতাব্বির কাগু বলেছেন: কি বিচিত্র এ দেশ সেলুকাস!!!!!!!!!!!!
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৪

লেখক বলেছেন:
বিচিত্র তো বটেই, তবে সেলুকাসের আমলে "বিচিত্র" মানে এত খারাপ ছিল না!

৫০. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪০
বাঙ্গাল বলেছেন: জীবণেরই দাম নাই, আবার পরিবেশ। ঢাকার পাশেই গড়ে ঊঠছে শিপইয়ার্ড...মেঘনার বুকে চিরে ড্রাই ডক। এইলাইনে আমার একটা লেখা ছিল...দেখতে পারেন।

জাহাজ নির্মান শিল্প,স্বাপ্নিক ডঃবারির ৭০ হাজার কোটি টাকা
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০

লেখক বলেছেন:
এখন একটু ঘুমাতে হবে। সারা রাত জেগে ছিলাম! আপনার পোস্টে পরে মন্তব্য করছি।

ওই ডা. বারির ৭০ হাজার কোটি তো আছেই, এখন বলা হচ্ছে এই জাহাভাঙ্গা শিট দিয়ে আমরা জাহাজ বানিয়ে আরো ৪০ হাজার কোটি টাকার ইউরোপিয় বাজার ধরতে যাচ্ছি।

খালি দরকার সরকারি সাহায্য, মানে বন্ডেড সুবিধা। মানে সরকারি ট্যাক্স-টুক্স না দেওয়ার অধিকার!!

৫১. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
আমার এক চিত্রসাংবাদিক বন্ধুকে( আগরতলার) আলাঙ( ভারতের ঐ একই জিনিস) থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল, প্রায় খুন হয়েগিয়েছিল। হোটেল থেকে জিনিসপত্রও আনতে পারেনি, এতেই বোঝা যায়। সে অবশ্য ফটো তুলেছিল ঠিকঠাকই।

ঐ যে বল্লেন, সাংবাদিককে প্রতিজ্ঞা করতে হয়........... \




Click This Link

Click This Link


Click This Link

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬

লেখক বলেছেন:
দিপা আমি আলাং এর কাহিনী টানি নাই। ওটা আরো ভয়াবহ। এখন পর্যন্ত আলংই হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জাহাজ গার্বেজ।

টাটা-মিত্তালদের যাবতীয় স্টক ওই এক আলংই দিতে পারে! ভারত এই কাজে সর্ববৃহৎ হওয়ায়, আর ওখানে প্রফেশনালিজম গড়ে ওঠায় ওখানকার লেবররা কিছুটা হলেও ম্যাকানাইজড। কিছুটা ইক্যুইপড। সেই তুলনায় আমাদের দেশে এখনো সব কিছুই গতরখাটা।

উপরে "মাছিমারা কেরাণী" বলছিল...আপনি কি চান না দেশে লোহার দাম কমুক, লোগা সহজলভ্য হোক?

ওকে বলতে ইচ্চ্ছা করেনি--- এত এত শিট কাটার পরও বিলেট, ইঙ্গট আমদানীর পরও এমএস রড কখনো ১৬ হাজার টাকা টন, কখনো ৭৬ হাজার টাকা! এটা কারা নির্ধারণ করে তা যদি কেউ না বোঝে তাকে আর কে বোঝাবে?

বাংলাদেশের সিন্ডিকেট ব্যাপারিরা তাবৎ আম পাব্লিককে আবাল এবং স্টুপিড মনে করে! ফুল কপির দাম বাড়িয়েও বলে--আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে!!!!

৫২. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৩
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন: পাগলা জগাই* বলেছেন: এই প্রসঙ্গে কথা বলা বিপদ্জনক! যে কয়জন মানুষ এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের হাতের দৈর্ঘ্য ১৬ দুগুণে ৩২ কোটি হাতের চেয়ে বেশি। খুব খিয়াল কৈরা।

>>>

এইটার সাথে দ্বিমত। মালিকপক্ষের হাত কত বড়ো জানি না, কিন্তু আমি জনতার শক্তিতে বিশ্বাস করি। জাহাজভাঙা শিল্পের এই পরিস্থিতি যদি সবার সামনে আসে, কি সব রক্ত আর মাংসের স্তুপের উপর তাদের প্রতিপত্তি নির্মিত, তা যদি সবাই জানে আর প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে, তাহলেই আস্তেধীরে একতা রেগুলেশান এর মাঝে নিয়ে আসবার আশা করতে পারি আমরা। না হয় এই মধ্যযুগীয় পাশবিক নিস্পেষণ চলতেই থাকবে।

ছোট একটা উদাহরণ দেই। আর আগের কমেন্টেই বলেছি যে এই শিল্পের দুজন মালিক আমার বেশ পরিচিত, তার মাঝে একজন আমার ছাত্রছাত্রীর বাবা। উনার এক ভাতিজী ইউকে তে ব্যারিস্টারী পড়ছে, তার অনেক স্বপ্ন (!) দেশে এসে বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করবে। অনেকবারই এ নিয়ে বিদ্রুপ প্রতিবাদ করেছিলাম আমি , ঘা করে সেই ঘা শুকানোর নীতি নিয়ে, কিন্তু বাবা আর মামাদের এই ব্যবসা তার কাছে নাকি স্বাভাবিক!

শনিবার মঞ্জুরুল ভাইয়ের এই পোষ্টের লিঙ্ক পাঠিয়ে আমি মতামত জানতে চেয়েছিলাম, আজ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া হচ্ছে , আমি অনলাইনে আসলে সে অফলাইন হয়ে যায়। বুঝতেই পারছেন, প্রতিবাদ আর সত্যপ্রকাশের শক্তি অতো কম নয়।

চোরকে জানিয়ে দিতে হবে সে চোর, মহান কোনো সুশীল নয়; খুনীকে জানিয়ে দিতে হবে সে খুনী মহান কোনো শিল্পোদ্যোক্তা নয়, আর কেউ যদি ভালো থাকে তাকেও শ্রদ্ধা জানিয়ে দিতে হবে।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২০

লেখক বলেছেন: অ্যাপোলজিঃ ঘন্টাদেড়েকের জন্য ব্রেক নিচ্ছি.......ফিরে আপনার কমেন্ট বিষয়ে আলোচনা হবে।

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৬

লেখক বলেছেন:
.........ভয় পাই, তবে এখন আর আতংকিত হই না। যাপিত জীবনে এই ধরণের বিপজ্জনক কাজে প্রচ্ছন্ন-অপ্রচ্ছন্ন হুমকি তো কম পাইনি! এরশাদ বিরোধী আন্দোলসের সময় শাহবাগ কন্ট্রোলরুমে পায়ের জয়েন্টে জয়েন্টে রুলের বাড়িগুলো আজো জানান দেয়। সে সময় ক্রসফায়ার জমানা থাকলে হয়ত ভবলীলা সাঙ্গই হয়ে যেত।

খালেদার প্রথম এবং পরের টার্মে পূর্ণিমাদের নিয়ে কাগজে লেখালেখির জন্য বিশেষ ভবন থেকে, বিশেষ দপ্তর থেকে রক্ত হীম করে দেওয়া হুমকিও পেয়েছি। সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে কথা বলে যে দলের পক্ষে পরোক্ষ ভাবে সর্মন চলে গেছে তারাই এখন ক্ষমতায়। তারাও একবিন্দু কৃপা করবেনা জানি।

এগার বছর বয়সে প্রায় শরীরের ওজনের সমান রাইফেল হাতে বাঙ্কার পাহারার সময় ঘুমে চোখ লেগে এলেও ঘুমাতে পারিনি! মাথায় করে গুলির বাক্স বয়ে তিন-চার মাইল হাঁটার সময় মনে হতো আমি ছোট হয়ে যাচ্ছি! আর বুঝি বড় হতে পারব না! প্রচন্ড গোলাগুলির ভেতর খালে ঝাপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর পর মৃতদেহ ভেসে যেতে দেখেছি......... মোটেই গা-গুলিয়ে ওঠেনি! তার পরও কি অদ্ভুত ভাবে বেঁচে আছি!! এবং জানি, এই জীবন সারপ্লাস।

এখন আর ভয় পেয়ে কি হবে? জীবন তো প্রায় শেষই...বাকি জীবনে আর কোন কিছুই তো চাইবার নেই কারো কাছে। তাই আরো যতদিন বাঁচতে হবে ততদিন আমার এই লেখার ক্ষমতটুকুতেই আমায় ভরসা করতে হবে। আর কোন কিছু তো তেমন পারিনা।

ভাইরে ক্লাস খুব মারাত্মক ব্যাপার। আর আমাদের এই মধ্যবিত্ত মানুষেরা যুগপত দুই ধরণের বৈপরীত্য বহন করে চলেছি। এই আমরাই মানুষের মুক্তির জন্য নিজের শ্রেণীর না হলেও গরিব খেটে খাওয়া শ্রেণীর মানুষের জন্য জীবন দিতে পারি, আবার এই মধ্যবিত্ত আমরাই চরম বিশ্বাসঘাতকতায় খেটে খাওয়া মানুষদের সাথে বেঈমানীও করতে পারি।

আমি বুঝি, যেহেতু আমি বুঝেছি সুতরাং আমার ওপর অলঙ্ঘনীয় দায়িত্ব এসে পড়েছে সেই বোধ কাজে লাগিয়ে খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া। তা যদি না-ই করতে পারি তাহলে আমাকে-আপনাকে বোধীশূণ্য হয়ে যেতে হবে। তা কি পারব? নিশ্চই নয়।

৫৩. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৮
হাবিব রাজু বলেছেন: কেন জানি অনেক আগে দেখা একটি নাটক এর কথা মনে আসছে। দানব/ দহন/ এই জাতীয় নাম ছিল। বাবু , মামুনুর রশীদ, তারিকানাম অভিনয় করেছিল।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: ভাটিয়ারির এই জান্তব দৃশ্যের চেয়ে জমকালো নাটক আর কি হতে পারে!

৫৪. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৫
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
তাদেরও একই অবস্থা, প্রতিমাসেই ইজ্ঞিনিয়ার খুন, ইত্যাদি লেগেই থাকে , সব খবর বেরও হয় না।

আর গতরখাটা লোকতো মানুষই না।

কোনও দিন এলে আমার বন্ধুটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেব, রক্ত হিম করা কারবার, তাও সে সামন্যই দেখেছে।

বাঙাল ঠিক বলেছে, রাস্তা, ইত্যাদিতে বিনিয়োগের কথা বলে না।

ফুলকপি জানেন এখানে কত ? ১০০ টাকা কেজি এখন?

সর্বত্র এক, সুতরাং কমরেড আমাদেরও এক না হলে চল্বে না।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৩

লেখক বলেছেন:
নিপীড়িত মানুষের কোন সীমানা নেই, থাকে না। তারা সীমানাহীন, নো ম্যানস ল্যান্ডের মানুষ।

আর সে কারণেই সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম বলি আর গণতন্ত্রের যুদ্ধ, সর্বব্যাপী তার অংকুরোদ্গম না হলে বিকাশ নেই।

সহমত কমরেড।

৫৫. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২২
আহমাদ অব্দুল্লাহ বলেছেন: চোরকে জানিয়ে দিতে হবে সে চোর, মহান কোনো সুশীল নয়; খুনীকে জানিয়ে দিতে হবে সে খুনী মহান কোনো শিল্পোদ্যোক্তা নয়, আর কেউ যদি ভালো থাকে তাকেও শ্রদ্ধা জানিয়ে দিতে হবে

সহমত
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৫

লেখক বলেছেন: নির্মম নির্মোহ সত্যকে সামনে আনতেই হবে, তা সেই সত্য শুনতে যতই শ্রুতিকটু হোক না কেন।

৫৬. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৫
সত্যান্বেষী বলেছেন: কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: সর্বত্র এক, সুতরাং কমরেড আমাদেরও এক না হলে চল্বে না।


সহমত।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৮

লেখক বলেছেন:
নিপীড়িত মানুষের কোন সীমানা থাকে না। হারাবারও কিছু অবশিষ্ট থাকে না। জয় করবার জন্য থাকে সারা বিশ্ব, আর বিলানোর থাকে সত্যিকারের মানবিকতা।

৫৭. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৪
আজম বলেছেন: হুম...ব্যাপারটা আগেও জানতম,নিজের এলাকা।এজন্য একটু কষ্টও হচ্ছে।আপনি দারুন একটা কাজ করেছেন।অসংখ্য ধন্যবাদ।

কিযে হবে এই দেশে...মানুষের কোন মূল্যও নাই।আমাদের গ্রামেও একজন আছে।শত কোটি টাকা এদের জন্য ব্যাপার না।তারা আবার দান করে,টাকা দিয়ে পরলোক কিনে নেয়।

কোন ক্ষেত্রেই আমাদের কোন দীর্ঘ্যমেয়াদী পরিকল্পনা নাই।দলাদলিতে দেশটাই শেষ।উন্নত বিশ্ব সেটার শুবিধা নেয়।
হয়তবা এটা চলতে দেয়ার পেছনে তাদেরও হাত আছে!

এটা নিশ্চিত যে,এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশের তো বারোটা বাজবেই জন্মহবে অস্পূর্ন শিশু।
এই শীপইর্য়ার্ডে থামাতেই হবে....
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫২

লেখক বলেছেন:
না ভাই আজম, এটা অত সহজে থামবে না। এর পেছনে আছে মাফিয়া, আছে সরকারের পাওয়ারফুল আমলা, নেতা, জনপ্রতিনিধি। আরো আছে আন্তর্জাতিক চক্র।
এটা হচ্ছে উন্নয়নের শুরু, আবার বিদ্রোহেরও শুরু। এভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে করতে মানুষ একসময় বিদ্রোহ করবেই। আগুন জ্বলবেই।

ল' অব এ্যাভারেজ অনুযায়ী এই দেশে শোষণ-নিপীড়নের জজবায় বিদ্রোহ ফান্ডামেন্টাল ডিমান্ড হয়ে আছে। এখন যেকোন দিন একটা ছোট্ট স্ফুলিঙ্গ হলেই দপ করে জ্বলে উঠবে চরাচর..........তখন আর সেই দাবানল ঠেকানোর চেষ্টাই হয়ে উঠবে সুবিধাভোগী মানুষের একমাত্র চিন্তা।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন: আপনাদের যার যার ক্ষেত্র থেকে সাধ্যমত সাড়া দেওয়া দরকার। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার।

৫৮. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫০
মুবাশ্বির বলেছেন: কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ লেখাটি স্টিকি করার জন্য।

আর মনজুর ভাই আপনাকেও ধন্যবাদ এমন একটি সুন্দর পোষ্টের জন্য, যদিও পড়তে পড়তে গা মাঝে মাঝে কাঁটা দিয়ে উঠে। এভাবেও মানুষ জীবন যাপন করে!!

প্লাসের কথা বলে আপনাকে আর ছোট করতে চাইনা।
ভাল থাকুন। ঈদ মুবারাক।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০২

লেখক বলেছেন:
আপনাকেও ধন্যবাদ এই ঈদের আনন্দঘন সময়ে আনন্দ পোস্ট রেখে এই নিরস পোস্ট পড়ে সহমত জানানোর জন্য।

ভাল থাকুন। পাশে থাকুন।

৫৯. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৮
রণদীপম বসু বলেছেন: যে ভয়ঙ্কর কাহিনী শোনালেন মনজু ভাই ! কিছু কিছু জানতাম, তবে এতো বিস্তারিত জানা ছিলো না। সময় নিয়ে হলেও আপনাকে এটা সিরিজ করতে হবে। বদমাইশদের চেহারাগুলো একটু একটু করে ফোকাসে আনতেই হবে। ওই ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী লম্পটরা তা চাপা দিতে চাইবেই। কিন্তু আমাদের কলম তো আর কারো কাছে বাগা দিয়ে বসি নাই ! আমাদের সীমিত সাধ্যটুকুই না ব্যয় করলাম।

ক্ষমতাবানরা যত শক্তিশালীই হোক, তাদের দাঁড়াবার মাটিটা কিন্তু কখনোই কংক্রিট হয় না বলেই জানি। এরা যদি ভীতই না হয়, এলাকা রেস্ট্রিক্ট্যাড করবে কেন ? রেস্ট্রিক্টেড মানেই তো দুই-নম্বরী আখড়া ! এটা যে দুই-নম্বর, বারবার সাধারণের নজরে আনতে হবে।

আর শাসক যদি বেজন্মা মানসিকতার হয়, জাতির ভাগ্যে আরো কিছুকাল দুর্ভোগ চেপে থাকবে, এই আর কী। টক্সিনের একশান যে ছড়াতেই থাকে ছড়াতেই থাকে, এ থেকে আমরা যে কয়েকশ' মাইল দূরে থেকেও কিছুতেই নিরাপদ নই, তা সবাইকে বুঝতে হবে। ঠেকে বুঝলে তার জন্য বহুৎ কড়া মাশুল দিতে হবে......। দুর্ভাগ্য যে আমাদের অসহায় জনগোষ্ঠিই শুরুতেই চুড়ান্ত মাশুলটুকু দিয়ে দেয় ওই বেজন্মা কুত্তাগুলোর কারণে !
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৩

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ দাদা। অসামান্য লিখেছেন। আপনার লেখাটুকুই রিপিট করা ছাড়া কিছু করার থাকল না।
"ক্ষমতাবানরা যত শক্তিশালীই হোক, তাদের দাঁড়াবার মাটিটা কিন্তু কখনোই কংক্রিট হয় না বলেই জানি। এরা যদি ভীতই না হয়, এলাকা রেস্ট্রিক্ট্যাড করবে কেন ? রেস্ট্রিক্টেড মানেই তো দুই-নম্বরী আখড়া ! এটা যে দুই-নম্বর, বারবার সাধারণের নজরে আনতে হবে।

আর শাসক যদি বেজন্মা মানসিকতার হয়, জাতির ভাগ্যে আরো কিছুকাল দুর্ভোগ চেপে থাকবে, এই আর কী। টক্সিনের একশান যে ছড়াতেই থাকে ছড়াতেই থাকে, এ থেকে আমরা যে কয়েকশ' মাইল দূরে থেকেও কিছুতেই নিরাপদ নই, তা সবাইকে বুঝতে হবে। ঠেকে বুঝলে তার জন্য বহুৎ কড়া মাশুল দিতে হবে......। দুর্ভাগ্য যে আমাদের অসহায় জনগোষ্ঠিই শুরুতেই চুড়ান্ত মাশুলটুকু দিয়ে দেয় ওই বেজন্মা কুত্তাগুলোর কারণে !"

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০১

লেখক বলেছেন: দাদা সাথে থাকবেন। পরবর্তীতে সিরিজ নামাব।

৬০. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩১
পল্লী বাউল বলেছেন: আমার জানা মতে বেশ কয়েক বার বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটেছে জাহাজ কাটার সময় ভাটিয়ারিতে, হয়েছে বেশ কিছু প্রাণহানি। তখন হয়তো মিডিয়া, প্রশাসন একটু নড়াচড়া দিয়েছে পরবর্তীতে অথৈবচ। আসলে এর পিছনে এক বিরাট চক্র জড়িত। আমি একজনকে জানি শীর্ষ স্থানীয় ধনী রাজনীতিবিদ যিনি অশ্লীল কথাকার হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।

পোস্টের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
ঈদ মুবারক।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১১

লেখক বলেছেন:
ওই অশ্লীল কথাকার এমন কোন ক্ষমতা বলয়ে নাই? তাকে তো কোন সরকারই কিছু করতে পারেনি, পারবেও না। চিট্গাংয়ের অর্ধেকই তো তার।

ভাল থাকবেন। ঈদের শুভেচ্ছা।

৬১. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১১
দ্যা ডক্টর বলেছেন: আমার বাড়ির পাশেই এমন বিশাক্ত কবরখানা!
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: আস্তে আস্তে এটা ছড়িয়ে সবার বাড়ির কাছেই চলে যাবে!!

৬২. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০
দি ফ্লাইং ডাচম্যান বলেছেন:
ঈদের খুশী প্রাণে প্রাণে ছড়িয়ে দিক শান্তির অনুরণ...
ঈদ মুবারক
৬৩. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৩
মহাকালর্ষি বলেছেন: ডিটেইল এখন পড়তে পারলাম না, তুলে রাখলাম। আপনার প্রতি অনুরোধ, যদিও প্রাসঙ্গিকতা ভালো করে না ভেবেই বলছি, বলতে ইচ্ছে করছে- বেশ কয়েক বছর আগে 'ভূপাল এক্সপ্রেস' নামে একটা হিন্দি মুভি দেখেছিলাম, সেটি আপনি সুযোগ করে দেখে নেবেন। হয়তো খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন। নাসিরুদ্দীন শাহ আর আমার অপিরচিত কিছু মানুষ ছিল অভিনয়ে।
পোস্টের জন্য স্যাল্যুট!
ঈদ শুভেচ্ছা।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি মুভি দেখি অনেক, কিন্তু নাম মনে রাখতে পারিনা খুব একটা। বেশ ক'বছর আগে একটা মুভি দেখেছিলাম। ইউনিয়ন কার্বাইডের সেই ভূপাল ডিজাস্টার নিয়ে। সেটিতেও নাসিরউদ্দীন শাহ ছিল। আপনি সেটির কথা বলছেন?

আপনি কি ইঙ্গিত করছেন ধরতে পারিনি সম্ভবত। তবে যদি আপনি যা ভাবছেন বলে আমি মনে করছি, তাই যদি হয় তাহলে ওই প্রসঙ্গে ৫২ নম্বর কমেন্টের উত্তরে বলেছি।

হিতাকাঙ্খী হিসেবে আপনার মত মানুষ পাশে থাকায় বল পাই।
ঈদ শুভেচ্ছা।

৬৪. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৫
পি মুন্সী বলেছেন: মনজু, প্রকৃতি আপনাকে জন্ম দিয়ে নিজের ক্ষমতার একটু নজীর দেখিয়েছে অথবা, অন্যদিকে থেকে বললে, আপনি নিজেই নিজের জন্ম-সাফল্য অনিবার্য করে তুলেছেন। মানুষ চাইলে সব পারে।
আমি কী লিখলাম নিজেই বুঝতে পারছি না, গোলমাল পাকিয়ে যাচ্ছে। আপনি নিজেই কী প্রকৃতি, নাকি প্রকৃতির এক প্রকাশের নাম মনজু? পরিস্কার করতে পারছি না।
আসলে আমার এই গন্ডগোল পাকানোর পিছনে আপনিই দায়ী, আপনার শিরোনাম দায়ী। শিরোনামটা পড়ার পর ভাল পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। ভাবছিলাম আমি লিখলে আমার আরও পছন্দসই করতে শিরোনাম দিতাম, "জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতি"। কিন্তু সে যাই হোক, আপনার দেয়া শিরোনামটা পড়ার পর থেকে আমার মাথায় গন্ডগোল লেগে গেছে --- মনজু মানে কী? মানুষ নাকি প্রকৃতি? নাকি দুটো শব্দের কারণে আলাদা দেখাচ্ছে, অথচ আসলে একাকার? একাকার হয়ে মনজু নাম ধরে স্পষ্ট ধরা দিতে চাচ্ছে? আমি যদি কোন মৌলবী হতাম তবে কী বলতাম, "দুনিয়ায় আল্লাহ র প্রতিনিধি মানুষ; পয়গম্বরদের রাস্তা ধরে দুনিয়ায়কে দেখেশুনে রাখা, বিচিত্র প্রাণের সমাহার বজায় রাখা ও তার শর্ত বুঝেশুনে অম্লান জারী রাখা তাঁর কর্তব্য - মনজু তুমি সেই পক্ষে কাজ করিয়াছ"?
নাহ্ আর ভাবতে পারছি না, পরে আবার লিখব, এখন থাক।

মনজু আপনার মানুষ-জীবনের সফলতা আমার কামনা করার অপেক্ষায় নাই। আপনি সফল হবেন। কেন হবেন জানেন? আপনার কোন ঘটনাকে দেখার যাত্রাবিন্দুর কারণে; কোনদিক থেকে দেখছেন বা দেখবেন - যেটাকে আমরা পারস্পেকটিভ বলি। আমরা জনগোষ্ঠিগত স্বার্থে, কমিউনিটির কথা মাথায় রেখে অনেক কথা বলি, মন্তব্য করি, অবস্হান জানাই। আমরা যে ঠিক বলছি, একপেশে বলছি না, তা বুঝার একটা সহজ পথ বা থাম্ব-রুল () হলো, রক্তমাংস পানি করে গরীব খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থের জায়গায় দাড়িয়েও ঘটনাকে দেখা - একে ঘটনা দেখার যাত্রাবিন্দু বানানো।
গরীব খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থের কথা বলে ফেললাম। অনেকে হয়ত পছন্দ করবেন না। অস্বস্তিবোধ করবেন। আচ্ছা ঠিক আছে, গণতন্ত্রের ভাষায় মিন করে বলি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থে জায়গায় দাড়িয়ে ঘটনাকে দেখার যাত্রাবিন্দু বানাতে হবে। চিন্তার একটা অভ্যাস লাগবে। তবে, একটু সাবধানবাণী: এটা মানবতার বিষয় নয়, ঠিক মানবিকতারও নয়। স্বার্থের প্রশ্ন।
আপনি মনজু আপনার চিন্তা এতে অভ্যস্ত। আমি বিশ্বাস করি, তাই আপনি সফল হবেন।

ওদিকে নিক "মাছিমারা কেরানি" র মন্তব্যে মজা পেয়েছি। কষ্ট করে মোবাইল থেকে উনি লিখছেন,
"the industry needs some regulation, this is true, but the part they are playing in the countrys economic development cant be and should not be forgotten."
উনার the industry মানে জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ের কথা বলছেন। এই জাহাজভাঙ্গা কবে থেকে industry হলো? এমন কী সরকারী খাতায় বাছবিচারছাড়া যেসব ঘোষণা দেয়, বলেও, দেশের আইনী অর্থে বাণিজ্যিক সংগঠন অধ্যাদেশেও এমন ঘোষণার কথা আমার জানা নাই। সম্ভবত: মাফিয়া মালিক হুজুরেরা নিজেরা নিজেরা একে industry বলে জাহির করে কথা চালাচালি করতে ভালবাসেন ও করেন। সেই অভ্যাসে এখানে বলে ফেলেছেন। এটা হয়ত, ঐ বিষাক্ত ভাগাড়ের গরীব 'মানুষ'দের কথা ভুলতে তাদের সাহায্য করে। কারণ ভাগাড়ের সর্দারদের নিজেদের সুন্দর সাজানো সুগন্ধিময় অফিসে বসে ঐ 'মানুষ'দের কথা মনে করতে ভাল লাগার কথা নয়। যাই হোক খুচরা প্রসঙ্গ রাখি।
মাছিমারা কেরানি, তিনি 'বুদ্ধিমানে'র মত মানছেন, তাঁর সাধের industry "needs some regulation, this is true"। কিন্তু needs যদি উপলব্দিই করে থাকেন তবে (জাহাজভাঙ্গা ভাগাড়ের সর্দারদের একটা মালিক সমিতিও আছে) তাঁদের সমিতি তাদের industry এর সুন্দর অফিসের মত ভাল মানুষ হয়ের নিজেরাই একটা regulation করে মেনে চলেন না কেন? অথবা তা সরকারের কাছে প্রস্তাব করেন না কেন? আমি বিষাক্ত ভাগাড়ের সর্দারদের কাছে এটা চাচ্ছি না, আশাও করি না। জনস্বার্থের রাষ্ট্র ও তার ডান্ডা ছাড়া মুনাফাসর্বস্ব হীনস্বার্থ বিষাক্ত ভাগাড়ের সর্দারদের সোজা করা যায় না। এটা কুকুরের লেজের মত। ছেড়ে দিলেই আবার বাকা হয়ে যায়।

মাছিমারা কেরানি এর পরের বাক্য এবার সত্যিই তাঁর নামের মাহাত্ব্য রেখেছেন। বলছেন, but the part they are playing in the countrys economic development cant be and should not be forgotten .। তামাশা দেখেন। আমাদের শিখাচ্ছে cant be and should not be forgotten। একথা যে আসলে তাঁরই হীনস্বার্থ অবস্হানের বিপক্ষে গেছে সে খেয়ালই নাই। আবার CPD মার্কা শেখা কথায় বলছেন, country's economic development এর জন্য এটা দরকার। অথচ হীনস্বার্থের লোভে ভুলে গেছেন 'country's economic development' at the cost of what? গরীব মানুষগুলোর কথা নাহয় বাদ দিলাম। ঐ জাহাজভাঙ্গা ভাগাড়ের বিষ নিজের বাড়ীতে, নিজের ছেলেরমেয়ের পাতে, নিজের আকাশে বাতাসে যে পলিউশন ঘটাচ্ছেন সেদিকে তিনি বেখবর। এটা নিজের সন্তানকে বিষ খাওয়ানোর বিনিময়ে ব্যবসায় টাকা কামানো ছাড়া আর কী? ঘৃণিত এরা, টাকার লোভে বিশ্ব-সংসারে সব করতে পারে।

আবার দেখেন প্রশ্নচ্ছলে বলছেন, people should not have cheap iron for constructions। এ কোন people? জাহাজভাঙ্গায় সেখানে বছরে ৩০০ জন মৃত্যু বরণ করে, অসংখ্য পঙ্গু হয়ে যারা জীবন শেষ করে - এরা কোথায়? এরা কী people এর বাইরে?

সত্যিই মাছিমারা কেরানির নার্ভ খুব বেকায়দা শক্ত। নিজেই নিজের মানুষটাকে শক্ত হাতে না মারতে পারলে এভাবে কেউ কথা বলতে পারে আমি বিশ্বাস করি না।
ভাবছি, নিজেকে মারতে, মাছিমারা কেরানি, আপনাকে কতই না কষ্ট কসরত করতে হয়েছে। সত্যি আপনার সেই কষ্টের জন্য মায়া লাগছে, আবার করুণাও জাগছে।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৮

লেখক বলেছেন:
মুন্সী,
আমারো ঠিক একই দশা! মাথাটা গুলিয়ে যাচ্ছে। আপনাকে যে আয়নায় দেখতাম তার পেছনে দেখার ইচ্ছে জাগেনি কখনো। আজ দেখলাম সেই আয়নার পেছনের বাঙময় মানুষটিকে। অবিভুত হলাম কেবল। আপনি সেই বিরল মানুষদের একজন, যে মাত্র কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়েও শত মাইল দূর অব্দি দেখার ক্ষমতা রাখে। একটা ভজগট পাকানো জটিল বায়োস্কোপকে থরে থরে আলাদা আলাদা করে বেছে রেখে তা থেকে "দেখতে হবে" বস্তুটিকে দেখে। দেখতে ভালবাসে।

জন্ম থেকে এ অব্দি মানুষ আর প্রকৃতি ছাড়া আর তো কিছুই পাইনি দেখার! মানুষ মহান না প্রকৃতি? এই সমীকরণে মানুষই মহান একারণে যে সে প্রকৃতিকে সাজাতে পারে। প্রকৃতি যে তাকে বাঁচিয়ে রাখে, বিকোশিত করে এই বোধ সে ধারণ করে বলেই প্রকৃতি সুন্দর।

আমার একটি সস্তা গল্প ছিল- এই ব্লগেই বোধহয় পোস্ট করেছিলাম, মনে নেই। তেমন কিছু না। ওই গল্পের একটি দৃশ্য আজো, এবং আগামিতেও আমার স্মরণে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সেলুলয়েডবন্দি দৃশ্য।......মা সারাদিন ঘুরে ঘুরে ভিক্ষে করে শেষ বেলায় কিছু ভাত পেয়েছিল। ঘরে ফিরে অনাহারি বাচ্চাদের নিয়ে খেতে দিতেই তারা গোগ্রাসে খেতে শুরু করে....মুখোমুখি উবু হয়ে বসা বাচ্চাদুটোর খাওয়া দেখে তার দুচোখ বেয়ে আনন্দাশ্রু গুড়য়ে পড়ে..... মা অনুভব করে, এটাই তার জীবনের সবচেয়ে মধুরতম দৃশ্য! আর ওই মায়ের গড়িয়ে পড়া অশ্রু এঁকে বেঁকে ঠোঁটের কাছটিতে আসার সময় তার কষ্ট-খুশিতে হাসার ভান করার দৃশ্যটা আমার জীবনের এযাবত কালে দেখা সেরা ছবি! এই খোদাই হয়ে যাওয়া ছবিটা কখনো বিস্মৃত হই না! কোনভাবেই ফেডআউট করতে পারিনা।

আমি জানি কোথায় হাত দিয়েছি। আমি জানি আমার বা আমাদের ক্ষমতা কতটুকু। সেই ক্ষুদ্র ক্ষমতার বীজ হাতে নিয়ে মাটি খুঁজি....... আমার পোঁড়া দেশে তেমন মাটির যে অভাব নেই! তাই বীজ বুনে চলি...সব মরে ছেড়ে একটি চারাও কি গজাবে না? একটি বৃকক্ষও কি বড় হয়ে উঠবে না? নিশ্চই উঠবে। আমি বিশ্বাসের মরণ চাই না। বিশ্বাসেরা আজো বাঁচে বলেই আমি বাঁচি, আমরা বাঁচি। ইতিমধ্যেই শুভাকাঙ্খীরা সতর্ক করেছেন। আতংককে আমলে নিতে বলেছেন। কি হবে? এই সাইবার হাইটেক যুগও কি মানুষ সামান্য একটা মশার কামড়ে দুম করে মরে না? সামান্য ফ্লুতেও কি মরছে না? স্রেফ বিলাসী বাসের ভেতরেও তো দুমড়ে-কুকঁড়ে মরছে!

যে মানুষগুলো ভাটিয়ারিতে মরছে, আলংয়ে মরছে, বয়লার ফেটে মরছে, ক্লাপ্সিবল গেটের সামান্য তালা খুলে বেরুতে না পেরে জ্যান্ত পুড়ে মরছে। সেই মানুষদের জন্য আর একটা আমি বা আমরা মরলে জগত সংসারের কি যায় আসে?

আমাদের শিক্ষা, আমাদের তথাকথিত সংস্কৃতি, সোস্যাল ভ্যালুজ এমন ভাবে গিলে করে আমাদের মগজে খোদাই করে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা আমাদের চেতনে-অবচেতনে ক্রমাগত খেটে খাওয়া মানুষ আর তার বাঁচার অবলম্বন প্রকৃতিকে আমার করে নেওয়ার জন্য নৃশংস ভাবে ধ্বংস করে চলেছি, দখল করে চলেছি ....তখন আমাদের কাছে সবকিছু এ্যাজ ইউজ্যুয়াল। যেই সেই মানুষ রুখে দাঁড়াচেছ , যেই সেই মানুষ প্রতিকারের জন্য প্রতিশোধ নিতে চাইছে, তখনই আমরা রক্তমাংসের ঈশ্বর, অশরীরী ঈশ্বর আর তাদের পোষা রোবটদের লেলিয়ে দিচ্ছি। রোবটরা আমাদের একটি নিশ্চিন্ত ঘুমের নিরাপদ রাত উপহার দিচ্ছে। আমরা রোবটদের পুরষ্কৃত করছি।

পুঁজি আর সাম্রাজ্যবাদ জানে আমাদের মানুষদের খাদ্য নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, মানুষ হিসেবে পরিচয়েরও উপায় নেই। তাই আমাদের ভাবনায় টক্সিন, কার্বাইড, লিড, নাইট্রিক এসিড কোনই ভাবান্তর ঘটায় না। দুবেলা ভাতের জন্য আমাদের মানুষ চেরনোবিলের পোঁড়া মাটিতেও ইঁটভাটায় শ্রম দিতে পারে। আরিজোয়ানার পারমানবিক বর্জ্য ঘেটে সাফ সুতোর করতে পারে। তাই সারা বিশ্বের অচ্ছুৎ জঞ্জাল নিরাপদে এখানে ভিড়তে পারে। আরো নিরাপদে কেটেকুটে "খালাস" হতে পারে। তার পর যখন তারা দেখে এই দেশের সরকার এবং রুলিং ক্লাস সেই "খালাস" নিয়ে গর্বিত হয়ে বলে- বছরে ৭০ হাজার কোটি ডলারের বাজার ধরতে পারলে আমাদের জিডিপি ২ থেকে ৩ সংখ্যা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তখন এটিকে পার্মানেন্ট হিউম্যান গ্রেভইয়ার্ড ছাড়া আর কি ভাববে তারা?

শেষে ভাবি- মরুক। মরে মরে বাঁচার পথ খুঁজুক। বাঁচতে হলে আগে মরা শিখতে হয়! মরা আমরা শিখেছি। এবার বাঁচার কৌশল শিখতে হবে। কি সেই কৌশল?
যত রোবটই পথ আগলে থাকুক, বাঁচতে হলে রুখে দাঁড়াতে হবে। হবেই।

৬৫. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩০
ওসমানজি২ বলেছেন: @ পি মুন্সি - অসংখ্য ধন্যবাদ "মাছিমারা কেরানীর" বক্তব্য অত্যান্ত সুন্দর ভাবে খন্ডন করার জন্য।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৪

লেখক বলেছেন: পি মুন্সী অসামান্য বলেছেন। তাকে এবং আপনাকে ধন্যবাদ।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪১

লেখক বলেছেন: আউটসাইডার_আউটসাইডার , আপনাকে অভিনন্দন।

৬৭. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩
আউটসাইডার_আউটসাইডার বলেছেন: কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: সর্বত্র এক, সুতরাং কমরেড আমাদেরও এক না হলে চল্বে না।


সহমত।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৭

লেখক বলেছেন: আমারো সহমত।

৬৮. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০২
এস বাসার বলেছেন: জলজ্যান্ত এবং সর্বগ্রাসী সমস্যাটি তুলে ধরার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।আমি আপনার লেখার সুত্র ধরে জাহাজভাংগা এক মালিকের একান্ত কিছু ভাবানা এবং আমলা ম্যানেজের বাস্তব ঘটনা জানানোর ইচ্ছে রইলো।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩২

লেখক বলেছেন:
জানান। সবাই জানুক। সম্ভব হলে আজই জানান। ধন্যবাদ আপনাকে।

৬৯. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৬
এস বাসার বলেছেন: আগামীকাল পোষ্ট টি দেওয়ার ইচ্ছে রইলো।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। অপেক্ষায় রইলাম।

৭০. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৩
সজল শর্মা বলেছেন: কী যে হবে এ দেশের!
ধন্যবাদ আপনাকে।+++++
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৭

লেখক বলেছেন:
কি আর হবে? যা হবার তাতো হয়ে বসে আছে! এর চেয়ে আর কত খারাপ হতে পারে!
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

৭১. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৪
সোনার বাংলা বলেছেন:

অফ লাইনে বইসা প্রথম দিনই আপনার এই লেখাটি পড়েছি।

অসাধারণ লিখেছেন।

এ রকম ব্লগের অনেক লেখা পড়ে নিজেকে নিজের কাছে মানুষ মনে হয় না!! রাগে দুঃখে নিজের মাংসো নিজেকে কামড়াইয়া ক্ষোভ নিবারণ করা লাগে। যার জন্য এমন পোষ্ট গুলাতে আমি মন্তব্য কম করি। প্রায় ভাবি এই দেশের কিছুই হবার নয়..., সব লুটেপুটে নিচ্ছে একটা শ্রেনী। সেটা দেশের তরল সম্পদ থেকে ঘামে ভেজা দিশেহারা মানব যন্ত্রের নিরব ক্ষমতাটুকু পর্যন্ত!! পৃথিবীর প্রায় সব দেশের রাষ্ট্রতন্ত্র তার জনগণ কে সন্তানের ন্যায় দেখে আর আমাদের জাতীয়বাদী, চেতনাবাদীরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে দেশী বিদেশী রাক্ষুস লোভী জানোয়ার পশুদের হাতে তুলে দেয় শুধু দুই বেলার ক্ষুদা দূর করার উন্নায়নের নামে!!

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দুঃখ দূর্দশা কয়েক যুগের। এখন নতুন আরেক শিল্প আবিস্কার হয়েছে জাহাজ ভাঙা শিল্প। সেই একই রকমের শোষনের উন্নায়নের!!

বাংলাদেশের প্রায় সব বেসরকারী শিল্প কলকারখানার উচ্চ ভেতনজীবি শ্রমিক পাশের দেশ ভারত,পাকিস্তান, শ্রীংকার। এই জিনিষটা এই জন্যই উল্ল্যেখ করলাম যে বাংলাদেশের শিল্পপতিদের
দেশপ্রেম এবং দেশের বেকার শ্রমজীবি মানুষের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই!! রাষ্ট্র ব্যবস্হার নিয়ন্ত্রক আমলা এবং রাজনীতিবিদেরা ধনী রাক্ষুসদের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে তাদের কে সেবা দেয় বিনা শর্তে রিন, সল্প সুদে রিন, নগদ সাহায্যো ইত্যাদি। অথচ তার বিনিময়ে রাষ্ট্র সেই শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমজীবিদের সুযোগ সুবিধা আদায়ের ব্যবস্হা করে না!!



আমি মনে করি আপনার এই লেখাটা কোন জাতীয় দৈনিকে দেয়া(প্রথম আলো বাদে) উচিত। কারন দেশের বেশীর ভাগ মানুষ ব্লগ কি সেইটাও জানে না!! সব চেয়ে ভালো হয় কোন টিভিতে আপনার লেখার মাধ্যমে একটা প্রতিবেদন তৈরি করে সমপ্রচার করা।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন একটি লেখার জন্য।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৬

লেখক বলেছেন:
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি এবং এ ধরণের পুঁজিবাদী অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের উঁচু পদে কোন না কোন ভারতীয় আছেই। তাদের প্রেসক্রিপশনে ঋণ আসে, টেকনোলজি আসে, ঋণ কে বাইপাস করে সাইড মানি আসে, বিদেশের বিভিন্ন দেশে মেলা, ফেয়ার-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ আসে। আর সে কারণেই তাদের তথাকথিত প্রফেশনাল এবং এক্সপাটিজদের চড়া বেতনে পুষতে হয়! গার্মেন্ট সেক্টরে আমাদের চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ শ্রীলংকানরা। আগে ওখানেই এই ইন্ডাস্ট্রিজগুলো ছিল। তাই তাদেরকে মনে করা হয় মেজর টুলস অব ইন্ডাস্ট্রিজ। তার তুলনায় আমাদের ওপরতলাকার নব্য এমবিএ/বিবিএ ক্লাসও খুব একটা কম পায় না। তাদের এক এক জনের বেতন লাখের উপরে! আর সেই বিশাল খরচ অ্যাডজাস্ট করা হয় "অশিক্ষিত" শ্রমিকে কম দিয়ে।

ওই সব "প্রডাকশন মেশিন" খুঁজে আনতে হয়। আর আমাদের শ্রমিককে খুঁজতে তো হয়ই না উল্টে ঝাঁকে ঝাঁকে এসে ঘ্যান ঘ্যান করে! সুতরাং অর্থনীতির সেই গোড়ার সূত্রঃ এক্সেস প্রডাকশন = প্রাইস ডিভ্যালুয়েশন।

হ্যাঁ জাতীয় দৈনিকে লেখাটা যাবে হয়ত।

৭২. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৭
সোনার বাংলা বলেছেন:

আরেকটা বিষয় উল্ল্যেখ করতে ভুলে গেছি:(

ভাই আপনার উচিত ছিলো পোষ্টে সেই সব মুখোশ পরা ব্যবসায়ীদের
নাম উল্ল্যেখ করা। হয়তো আপনি সহ আরো দশজন জানেন কিন্তু আমরা তো জানি না!! সমাজের কাছে তাদের দানবীর, সমাজ সেবক হয়ে মন্ত্রী এমপি হওয়ার খায়েশ নিশ্চয় জাগবে শোষনের টাকায়!! অথবা সেই সব জানোয়ারদের ছেলেমেয়ে আমি বা অন্য কারো বন্ধু!

অন্তত এদের কে বুঝতে দিন যে তোমরা মানুষ থেকে পশুতে বিবর্তীত হচ্ছো!! না হলে কোন দিন ও এই পশুরা স্বীকার করবে না যে এদের লোমে লোমে কত মানুষের রক্ত ঝমাটবদ্ধ হয়ে আছে!

জানি এদের হাত ১৬ থেকে ৩২ ইন্চি লাম্বা কিন্তু বিদ্রোহী বীরের কাছে তা কিছুই না!
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন:
প্রায় দুই শ'র উপর মালিক এবং তাদের সিন্ডিকেট এই ব্যবসার রেকেট চালায়। সব নাম তো দেয়া সম্ভব নয়। উপরে ৬০ নং কমেন্টে দেখুন একজনের কথা বলা হয়েছে।

এই সিন্ডিকেটে আমাদের তথাকথিত "জনদরদি দেশপ্রেমিক" প্রধান চারটি দলেরই লোক আছে। তাদের কারো কারো চেহারা মুবারক দেখলে পীর বুজর্গ মনে হবে! কি যায়-আসে তাতে?

৭৩. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৪
সোনার বাংলা বলেছেন:

৬০ নং মন্তব্যের মানুষটি নিশ্চয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।


আপনার লেখাটা যদি আমাদের জননেত্রী(জননেত্রী কইতে যদি ও আমার শরম করে:( ) নজরে পড়তো অথবা আমাদের নব্য শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার পড়ে দেখতো এবং সে অনুযায় একটা কিছু করতো। কতই ভালো হতো। আশা করা আর কি!! জানি কিছুই হবে না:(

ধন্যবাদ।
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৫

লেখক বলেছেন:
কিছুই হবে না বা কিছু একটা হবেই, এই ধন্ধের মধ্যে থেকে আর কি হবে? তারচে এটা ভাবি- কিছুনা কিছু একটা হবেই...

৭৪. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১২
সোনার বাংলা বলেছেন:
যে দুইজন মানুষরুপী পশু আপনার এই পোষ্টে মাইনাস দিয়েছে তাদের জন্ম নির্ণয় জানা দরকার নাম সহ। নিশ্চয় এই দুই ব্লগার ঐ রাক্ষুসদের বীর্যে জন্ম লাভ করেছে। তাদের জন্য ঘৃণা রইলো যদি ভুল করে না দিয়ে থাকে।
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন:
আমি এসবে কান দেই না। যেহেতু মাইনাস নামক একটা বাটন আছে, সুতরাং তার ব্যবহার হতেই পারে।

একজন বলেই দিয়েছে। সম্ভবত তিনি দেশের বাইরে থাকেন। তিনি নিজেরই অথবা তার কোন আত্মিয় এই ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন। পি মুন্সী এ বিষয়ে চমৎকার বলেছেন...........

"সত্যিই মাছিমারা কেরানির নার্ভ খুব বেকায়দা শক্ত। নিজেই নিজের মানুষটাকে শক্ত হাতে না মারতে পারলে এভাবে কেউ কথা বলতে পারে আমি বিশ্বাস করি না।
ভাবছি, নিজেকে মারতে, মাছিমারা কেরানি, আপনাকে কতই না কষ্ট কসরত করতে হয়েছে। সত্যি আপনার সেই কষ্টের জন্য মায়া লাগছে, আবার করুণাও জাগছে।"

৭৫. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
চানমেয়া বলেছেন: পরিস্থিতিটার ভয়াবহতা যথার্থই তুলে ধরেছেন, মনজু ভাই।


পুরো এলাকাটা ক্রমাগত মাফিয়াকৃত হয়ে হয়ে আজ প্রায় আওতার বাইরে গেছে। আর এমন লোকেরা এই সব করছে, এদেশে যারা নিজেদের ভবিষ্যত দেখে না। এ দেশে যারা থাকবে না।
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন:
আপনার নিশ্চই মনে আছে, সিসিলি দ্বীপে মাফিয়া গ্যাংয়ের মূল রেকেট চালায় যারা তাদের অধিকাংশই থাকে মূল ভূখন্ড ইতালিতে। আমাদের দেশের এরাও বিদেশে থেকে এই সব রেকেট চালাবে, অসুবিধা কী?

আগে মাফিয়া বলতে বোঝাতো সন্ত্রাসী গ্রুপ। এরা যে কিসে কিসে অর্থ লগ্নি করে, কোথায় কোথায় ব্যবসা করে সেটা অনুল্লেখই ছিল। মাফিয়া কোথা থেকে কোন পর্যন্ত চেইন অব কমান্ড তৈরি করে তা এখন মোটামুটি পরিষ্কার।

৭৬. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩২
কার্ল মার্কস বলেছেন: লোহাখোর ডকুমেন্টারীটা আমিও দেখেছি। মারাত্নক অবস্থা, ইপসা> না কি একটা নাম যেন ছিল এনজিও টার। তারা এটি িনর্মান করে। মজার বিষয় হচ্ছে এটি বাংলাদেশে প্রচারের আগে ব্যাপক সমাদৃত হয় জার্মানীতে। তারা আমাদের অস্থা দেখে নাক কুচকে, পরিবেশ দূষিত হওয়া নিয়ে আতংকিত হয়। মূর্খ দের দেশ বলে আমাদের অনেক নসিহত দেয়, আর বিনিময় হিেসেবে এনজিও গুলো দেশের সতীত্ত্ব পুনরায় নষ্ট করে। এখানেও ব্যবসা।

ফকিরের দেশে কম শ্রমে জাহাজ ভাংগো, বানাও, বিনোদন করতে যাও. মিডিয়ার নিউজ পাও, ফটোগ্রাফি, ফিল্ম ইত্যাদির রশদ যোগাড় ইত্যাদি অনেক সুবিধা।

উচিত ছিলো লোহখোর/আয়রনইটার ডকুটি ব্যাপক প্রচার করা কিন্তু তা হয় নি হবার নয়। দৃকে কাজ করেন এমন এক জনকে জানি, যিনি এ বিষয়ে সুন্দর জবাব দিয়েছে। এসব কষ্ট, না পাওয়ার বেদনা ,শ্রমিক শোষন ইত্যাদির যত ছবি তুলি না কেন সবগুলোর উদ্দেশ্য আগে নিজেকে উপরে তোলা।

তাই অনেক খাবর/ছবি জানার থাকলেও আমরা জানিনা।

হায় নিয়তি!

জাহাজ ভাংগায় স্বাস্থ্য + পরিবেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ জরুরী, কিন্তু কখন হবে সেটা?
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৭

লেখক বলেছেন:
কতগুলি বিষয় আছে যা আমি এই পর্বে দেইনি। পরের পর্বে আসবে। ভাবলে অবাক হয়ে যাবেন; ইউরোপের পাঠানো জাহাজ, তাদের পাঠানো রিক্যয়ারমেন্ট, তাদের কাছে টাকা ফেরৎ পাঠাবার সিস্টেম, তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের রেমোনারেশন সব তো চলছেই, এমনকি এই জাহাজভাঙ্গায় এখানকার উপকুলীয় জনপদে কি কি ডিজাষ্টার হচ্ছে বা হয়েছে সেই সব ভাবনা নিয়ে "সুররিয়ালিজম" নামে একাধিক ওয়েব সাইটে বিভিন্ন পেইন্টিংসও বাজারে চলে এসেছে!! অর্থাৎ আমাদের কাছে যা রক্তমাংসের থ্যাতলানো কদাকার দৃশ্য, আমাদের কাছে যা জীবনের নিদারুন বিপর্যয়, তা-ই ওদের কাছে "সুররিয়ালিজম"!! এখানেও একপ্রস্থ ব্যবসা! হয়ত আগামীতে এই জাহাজভাঙ্গার ডেঞ্জারপার্ট নিয়ে চিত্র প্রতিযোগীতাও আয়োজিত হতে পারে!! হাহ্!

মানুষ মরে.......মানুষ ছবি তোলে........মানুষ বিখ্যাত হয়...মহান শিল্প গড়ে ওঠে......সেই শিল্প দেখে বোদ্ধারা নেক্রপলিস ঢঙের সুররিয়ালিজমের শিল্প বিশ্লেষণ করে আরো বিখ্যাত হয়!!!!!

৭৭. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫১
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: মনজু ভাই, এই জানোয়ারদের মুখোশ-জোব্বা খুলে ন্যাংটো করে দিতে হবে। আরো বিস্তারিত কিছু তথ্য দরকার। আমি যতটুকি জানি অল্প কয়েকটা ফ্যামিলিই এই ব্যবসার গডফাদার। দেশের মিডিয়াতে খুব স্বাভাবিকভাবেই এদের লম্বা হাত ওৎ পেতে বসে আছে। তবুও এদেরকে এক এক করে চিহ্নিত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। বিদেশি কোন কোম্পানিগুলো এখানে জাহাজ পাঠায় তাদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে। তাদের মুখোশ খুলবার কাজটা করতে পারে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩১

লেখক বলেছেন:
পরের পর্বে এই কাজটি করার চেষ্টা করব। আরো কিছু তথ্য উপাত্ত কালেকশনের চেষ্টা করছি। আপনার হাতে কিছু থাকলে মেইল করলে ভাল হয়।

একাত্মতার জন্য ধন্যবাদ।

৭৮. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৫
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আজ এমন এক দেশে আমরা বাস করি যেখানে সরকার সং সেজে বসে আছে! আমজনতাকেই খোঁজ করতে হচ্ছে কে তার শত্রু - যে কাজটি সরকারের করার কথা ছিল! ওদিকে সরকার ব্যস্ত সেই শত্রুর সাথেই গাটছাড়া বেঁধে দেশের মানুষের সম্পদ শত্রুর হাতে তুলে দিয়ে লুটে-পুটে দু'পয়সা কামিয়ে নিতে!
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৬

লেখক বলেছেন:
সরকার যে শুধু শত্রুর সাথে গাঁছড়া বেঁধে বসে আছে তই নয়, আমরা যখন সেই ঘাঁটছড়ার বিষয়টিকে উন্মোচন করি, আমরা যখন আমাদের শত্রু-মিত্রদের চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হই, তখন আবার সরকার চুপ করে বসে থাকে না। তার কাজ তখন আমাদের টুটি চেপে ধরা, গলা চেপে ধরা। অর্থাৎ ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে সরকার এবং তার বেনিফিশিয়ারীরা ভাল কাজের কাজী নন, আকামের গোসাই!

দেশ-জাতি এসব ছেদো কথায় সরকারের বিশ্বাস নেই। তারা যা কিছুই করে তা তাদের মেয়াদ পর্যন্ত টিকে থাকার কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনে গেষ্টাপো কায়দায় খুন করতেও পিছুপা হবেন না এরা।

৭৯. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১০
শয়তান বলেছেন: মে বি রিলেটেডঃ Click This Link

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ রিলেটেড। প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের বনাঞ্চল কেটে সাফ হওয়ার পর "কঠোর ব্যবস্থা" নিতে বলেন, আর এটার বেলায় ? দেখি তার "কঠোর ব্যবস্থা" শেষ পর্যন্ত কি ব্যবস্থায় রূপ নেয়!

৮০. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৬
বেছু মেম্বার বলেছেন:
প্রিয়তে...


"লোহাখোর" ডকুর লিংক আছে?

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৯

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ। না, আমার কাছে নেই। যারা এই প্রসঙ্গে বলেছেন তাদের কারো কাছে হয়ত থাকতে পারে। তারা যদি অনুগ্রহ করে দেন তাহলে পেতে পারেন।

৮১. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৮
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট মঞ্জুরুল ভাই, চমৎকার পোষ্ট। প্রতিবার কর্মসূত্রে কক্সবাজার যাবার সময় দূর থেকে দেখি। ছবি তুলি। প্রথম বিশ্বের ভাগার হাবার প্রতিযোগীতায় স্থানীয় এলিটের চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে সবসময়ই টিকে থাকবে এটা। এই পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে সহজে কেনা বেচা করা যাবে, খরচ করা যাবে সেটাও সহজেই অনুমেয়।

শুধু একটা পুঁজিবাদী হিসাব মেলানো বড় কঠিন হয়ে পড়ে। সবকিছুর ম্যাক্সিমাইজেশন করা যায় না, সীমা আছে সবকিছুরই এই জ্ঞানটুকু পশ্চিম অনেক আগে বুঝতে শুরু করেছে যদিও পুরো চক্রের হাতে নিজ'কে অর্পণ করে সেই পথেই একটা মধ্য পথ বের করার রাজনীতি করছে। কিন্তু চক্রের সুত্রেই যাদের এই মধ্যপথের বিলাসিতার সুযোগ নেই তারা, মানে আমরা পুঁজিবাদী শর্ত মানলেও তো শেষ পর্যন্ত বোকচোদের মতই কাজ করে যাচ্ছি। কি দিয়া কি পাইতাসি/বা পাইতাসি বইলা ভ্রমে আছি এই সাধারণ জ্ঞান যদি পরিষ্কার না থাকে তাহলে চক্রের সবচেয়ে অলাভজনক অংশে অপূরণীয় ক্ষতির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন রাস্তা তো দেখি না। মজার বিষয় হইল এই ক্ষতি পশ্চিমের পক্ষেই সামলানি সম্ভব না (আমি মনে করিনা তারাই একমাত্র উদ্ধারকর্তা), আমাগো সেই ক্ষতি ফেইস করণের ঝুঁকি নেওন যে কি পরিণাম আনছে/এনে ফেলেছে সেটার সবচেয়ে ভালো উদারহরণ স্বয়ং এই পোষ্ট ই।

প্রিয়তে গেল।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫২

লেখক বলেছেন:
"সবকিছুর ম্যাক্সিমাইজেশন করা যায় না", এইটা চমৎকার বলেছেন। পুঁজিবাদ তা যতই খারাপ হোক তারও একটা সূত্র আছে, প্রকরণ আছে। পুঁজিবাদ সয়ং এক বিপ্লবী পরিবর্তন। পুঁজিবাদ সংগঠিত শ্রমিক শক্তির ধারক। পুঁজিবাদ সমাজকে এগিয়ে নেওয়ারও উপাদান। তবে সেটি হতে হবে পুঁজিবাদই, আধাখ্যাচঁড়া সামন্তবাদের মিশেল বা মুৎসুদ্দি লুটেরা পুঁজিবাদ নয়।

আমাদের ট্রাজিডি হচ্ছে এখানে পুঁজিবাদ তার ধর্ম অনুসারে বিকোশিত হতে পারেনি। তার চালিকা শক্তি বুর্জোয়ারাও জাতীয় বুর্জোয়া হয়ে উঠতে পারেনি। পুঁজিবাদ তার ধর্মমতে লগ্নি থেকে মুনাফা তোলার জন্য শ্রমিকের কর্মক্ষমতাকে এনশিওর করে, শ্রমিককে তার হাতিয়ার হিসেবে রক্ষা করে। সে জানে তার লগ্নি তখনই লাভ তুলে আনবে যখন লগ্নি উপযোগী হয়ে উঠবে। শ্রমিককে মানবেতর অবস্থায় ফেলে দিলে পুঁজি যে স্ট্যাগনেন্ট হয়ে পড়বে সেটা পুঁজিবাদ জানে এবং মানে বলেই তাকে রক্ষা করে।

কিন্তু আমাদের এই আধা পুঁজিবাদী, আধা সামন্তবাদী সমাজ-রাষ্ট্রে শ্রমিককে সহজলভ্যতার শর্তে দাস হিসেবে গণ্য করা হয়। যতটুকু সম্ভব তার থেকেও বেশি করে শুষে নেওয়ার কসরৎ চলে। একদল শ্রমিক পঙ্গু অথর্ব হলে আরেক দলকে নিয়োজিত করার বিলাসীতা আছে এদের। এই সব মালিকেরা নিজেরাই মানুষ হিসেবে পিছিয়ে পড়া প্রাগৈতিহাসিক স্তরের, তাই তাদের কাছে শ্রমের মূল্য টাকায় কিনে নেওয়া ছাগলের মত; শুইয়ে কাটবে না দাঁড় করিয়ে কাটবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুই তারই ধরে নেয় এরা। এদের কাছে শ্রম শক্তি বা শ্রমিক কেবলই এক প্রকারের টুলস। যেহেতু টাকায় কিনে নেওয়া হয়েছে, সেহেতু তার সবটুকুর মালিকই সে ধরে নেয়। সে কারণে চোরের মত আধাঁরে এদের শ্রম শোষণ করে। দিনের আলোয় যে কাজ করা যায়, তা রাতের আঁধারে করা মানেই ওখানে খারাপ কিছু হচ্ছে, যা ঠিক রাষ্ট্র সমর্থিত নয়। যদিও এই জগাখিঁচুড়ি রাষ্ট্র এসবের কোন দায় স্বীকারই করেনা। কিন্তু যেহেতু এই রাষ্ট্র ওই সকল পুঁজির ধারকদের রক্ষাকর্তা, সেহেতু চূড়ান্ত বিচারে এই রাষ্ট্রই মানবিকতার বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

৮২. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
নীল ভোমরা বলেছেন: ভয়াবহ! শিউরে উঠলাম! ভাল পোস্ট!
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬

লেখক বলেছেন:
কেন শিউরে উঠলেন তা তো বললেন না!

৮৩. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪
স্বপ্নরাজ বলেছেন: দারুন পোস্ট। প্লাস।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮৪. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২০
সত্যাশ্রয়ী বলেছেন: গরীবকে অন্ন দেবার নাম করে তার শরীর নিংড়ানো কাজ দিয়ে এসির হাওয়া খাবে, তার নুয়ে পড়া কাধেঁর উপর পা রেখে দেশের জিডিপিতে গুরত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে আংগুল ফুলে কলাগাছ হওয়া মানুষগুলো---- এই ই চলছে, চলবে । পুঁজিবাদের এই করাল গ্রাস থেকে মুক্তি নেই কারও। পোস্টে প্লাস।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪

লেখক বলেছেন:

এখন হয়ত নাই, কিন্তু মুক্তি যে নাই-ই তা নয়। অবশ্যই মুক্তি আছে। কবে তা সময়ই নির্ধারণ কের দেবে।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৮৫. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫২
মন মানে না বলেছেন: প্রথম দিনই পড়েছি । + দিতে আসলাম আবার ।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২২

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে।

৮৬. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
মহসিন৭১ বলেছেন: মালিকের কাছে একদিন বিচারের সম্মুখিন হতে হবে। সেই অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু করার নেই। কারণ এ দুনিয়ায় টাকার কাছে সবাই পরাজিত। আমরাও টাকার নীচে চাপা পড়ে আছি।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩

লেখক বলেছেন:
কিছুই কি করার নেই!?

৮৭. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৬
ম্যাক্স পেইন বলেছেন: অনেক তথ্যবহুল লিখা, ভাল লাগলো। বড় আকারের শিল্পে সাবধানতা রেগুলেশান থাকা খুব জরুরী।
হয়ে যাবে, এইখানেও হয়ে যাবে, একটু সময় তো লাগবেই
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৮

লেখক বলেছেন:
৩০ বছরেও গার্মেন্টে ফায়ার স্কেপ হয়নি। কলাপ্সিবল গেটের তালা ভাঙ্গতে না পেরে প্রতি বছর প্রায় ৬০/৭০ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মরে।

৮৮. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০২
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আর জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক কতখানি? ভাঙ্গা শিল্প বন্ধ করে দিলেও নির্মাণ শিল্প এখানে হতে পারে। উত্তরণটা এভাবে হলেই মনে হয় ভাল।

আরেকটা তথ্য দেই: তত্বাবধায়ক সরকারের সময় যাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে হয়েছিল ব্যতিক্রম একটা নাম ছিল বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন। কোনো অ্যাসোসিয়েশনকে এভাবে জরিমানা দেওয়ার ঘটনা বিরল। ভাঙ্গা শিল্পের মালিকরা চাঁদা তুলে দিয়েছিল অর্থ। কত জানেন? ১৯ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৯ জন।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২২

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ শওকত হোসেন মাসুম । ভাল একটা ফিগারের তথ্য দিলেন। ঘটনাটা জানা ছিল, কিন্তু ফিগারটা কত ছিল তা জানতাম না।

ভাঙ্গা শিল্পের সাথে নির্মাণ শিল্পের একটা যোগসূত্র অবশ্যই আছে। আমাদের লোহার খনি নেই। শিট, বিলেট, ইংগট, এএস, এসএস সবই আমদানি করে আনতে হয়। এই ভাঙ্গা শিল্প থেকে শুধু লোহা নয়, আরো অনেক এলিমেন্টস পাওয়া যায়। আরো বিপজ্জনক আরো একটা কাজ একটু একটু করে শুরু হচ্ছে...............................

বিদেশ থেকে বাতিল মটর, জেনারেটর, বয়লার এখানে এনে স্ক্রাপ হিসেবে রিসাইক্লিং হচ্ছে। চিটাগাংয়ে এমন অনেক কারখানা গড়ে উঠেছে যার আগা থেকে মাথা পর্যন্ত বিদেশি, এবং বিদেশেই ফিরে যায়, অর্থাৎ কেবলই এ্যাসেম্বলিং। তাতে কোন ক্ষতি ছিল না, ক্ষতিটা হলো বাংলাদেশ সরকার এ থেকে আবগারি শুল্ক ছাড়া কিছুই পায়না। সরকার "লাভ" বলতে দেখে এতজন মানুষের কর্মসংস্থান!!

৮৯. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১০
নুশেরা বলেছেন: তথ্যমূলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ মনজুভাই। অনেক পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেছেন।

শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের আশেপাশে বহুবার যাওয়া হয়েছে। চোখের সামনে কয়েক বছরের মধ্যে একটা সবুজ সৈকত জাঙ্কের ভাগাড় হয়ে গেলো। ওখানে শুধু সমুদ্রের পানিই না, সমুদ্রগামী খালগুলোর পানির রঙও বদলে গেছে। একটা ব্যাপার খেয়াল করেছি, আশেপাশে বিশেষ কিছু ইনজুরির ছবিআঁকা সাইনবোর্ডে গড়ে ওঠা ডাক্তারের(?) চেম্বারের মাশরুমগ্রোথ। আমার বোন ঐদিকে সরকারী চিকিৎসক হিসেবে পোস্টেড ছিলো; তার কাছে শুনেছি বীভৎস চর্মরোগে ভোগে ওখানকার লোকজন। শ্রমিকদের কোন দুর্ঘটনা-প্রস্তুতি নেই। বড় দুর্ঘটনা যেমন অগ্নিকাণ্ডের সময় লাশ গুম করার নজিরও নাকি আছে।

জাহাজকাটা কোম্পানির এক মালিকের (রাজনীতিবিদও বটে) তরুণ পুত্রকে চিনি; মেলবোর্নে কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ী-ব্যবসায়ের মালিক; ইন্টারেস্টিং ঘটনা হলো এই টাকার পুরোটাই দেশ থেকে "নগদ অর্থে" আনা।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৫

লেখক বলেছেন:
তোমার দেওয়া এই তথ্যগুলো আমার দ্বিতীয় পর্ব লিখতে অনেক সাহায্য করবে। আমি ওখানকার মানুষদের কাছে ঠিক এই রকম বর্ণনাই শুনেছি।

এদের কাছে শ্রম শক্তি বা শ্রমিক কেবলই এক প্রকারের টুলস। যেহেতু টাকায় কিনে নেওয়া হয়েছে, সেহেতু তার সবটুকুর মালিকই সে ধরে নেয়। সে কারণে চোরের মত আধাঁরে এদের শ্রম শোষণ করে। দিনের আলোয় যে কাজ করা যায়, তা রাতের আঁধারে করা মানেই ওখানে খারাপ কিছু হচ্ছে, যা ঠিক রাষ্ট্র সমর্থিত নয়। যদিও এই জগাখিঁচুড়ি রাষ্ট্র এসবের কোন দায় স্বীকারই করেনা। কিন্তু যেহেতু এই রাষ্ট্র ওই সকল পুঁজির ধারকদের রক্ষাকর্তা, সেহেতু চূড়ান্ত বিচারে এই রাষ্ট্রই মানবিকতার বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

৯০. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৫৪
ফিরোজ-২ বলেছেন: তথ্যমূলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ অনেক পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেছেন।

ভালো লাগলো +++
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪০

লেখক বলেছেন:
শ্রমিক স্বার্থের কোন প্রতিকার হলেই পরিশশ্রম সার্থক হবে।

৯১. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১১
হুতুম পেঁচার নকশা বলেছেন: গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ হাস্য রস করতে করতে জাহাজ ভাঙ্গার এই 'ভাঙ্গারি 'ব্যবসার কথা বলেছিলাম।আপনার লেখায় তাই তথ্য বহুর রূপে উঠে এসেছে।

হাসতে মানা- দুই। ( আধুনিক সভ্যতার সংকট)
Click This Link
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন:
সময় করে পড়ে আসব। ধন্যবাদ।

৯২. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
আহছানউল্লাহ বলেছেন: তথ্যমূলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ অনেক পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেছেন।
................................................................................................

বর্তমান শিল্পমন্ত্রীর দৃষ্টি গোছর হয় কিনা অপেক্ষা থাকলাম।দিলীপ'দা তো আবার শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন:
সিস্টেম মেক এভরীথিং। মিনিস্টার কান্ট চেঞ্জ দেয়ার মেইন ভেন সো কল্ড সিস্টেমস!

৯৩. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১১
ভাবসাধক বলেছেন: শ্রমিকের শ্রম চাই দাসত্ব নয় ! কুলাঙ্গার মালিকের কঠিন শান্তি চাই।

জাহাজ ভাঙ্গা এবং নির্মান শিল্পের জন্য একটি স্বচ্ছ , পরিবেশ এবং শ্রম বান্ধব আইন প্রনয়ন এবং বান্তবায়নের জন্য দ্রুত ব্যবস্হা গ্রহনে সরকারের নিকট দাবী জানাচ্ছি।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন:
সহমত।
ধন্যবাদ।

৯৪. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৭
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: ৮৮ নং মন্তব্যে আমি বলেছি কত জানেন? ১৯ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৯ জন।

এখানে জনের জায়গায় টাকা হবে।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪১

লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ বুঝতে পেরেছিলাম।

৯৫. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২১
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: একটা গল্প বলি, একবার এনবিআরের চেয়ারম্যান গেছেন একজন ব্যাংক এমডির বাসায় দাওয়াতে। ব্যাংকের ভাড়া করা বাসায় থাকেন সেই এমডি। বাসা দেখে তো এনবিআর চেয়ারম্যানের চোখ কমালে। অফিসে এসে দেখেন বাড়ির মালিকের ট্যাক্স ফাইলে এই বাড়ির অস্তিত্ব নেই। তদন্ত করে এরকম ১০টার বেশি বাড়ি পাওয়া গেল। বাড়ির মালিককে পড়ে বাধ্য হয়ে কিছু ট্যাক্স দিতে হয়।
এই মালিক ভদ্রলোক চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের অন্যতম হোতা। ক্লু দেই-তার নামের প্রথম অংশের আমার নামের প্রথম অংশের মিল আছে।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৬

লেখক বলেছেন:
মাসুম ভাই, প্রায় দেড় কোটি "কোটি পতি" র মাত্র দেড় লাখ ট্যাক্স দেয়! এই ঢাকায় মাসে কমপক্ষে পাঁচ লাখ রোজগার করা ডাক্তারদের মাত্র ০.২৫% ট্যাক্স দেয়। তাদের ধরারও কোন উপায় নেই। ১০ টাকা দামের "রূপবান" বা "মীনা" খাতায় তারা টাকা জমা করে! এক একটা কোচিং সেন্টার মাসে পাঁ থেকে দশ লাখ আয় করে। ট্যাকস্ দেয়না এক টাকাও। অথচ "মহামান্য" সইফুর সাব ৫৫ হাজার টাকা আয়ের মুদি দোকান থেকেও ট্যাক্স আদায় করে বিখ্যাত হয়েছিলেন! নিজে ত্বত্তাবধায়ক আমলে ৭৮ লাখ টাকা ট্যাক্স গুণেছিলেন বাঁটে পড়ে!

সেখানে এই সব বড় বড় চাঁই রা ট্যাক্স দেবে আশা করা যায় না। আমরা চাই তেনারা শুধু শ্রমিকদের কাজের পরিবেশটা যেন মনুষ্য পরিবেশে করেন। তাদেরকে যেন শেয়াল কুকুর না মনে করে মানুষ মনে করেন।

০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪১

লেখক বলেছেন:
কি বলতে চাইছিলেন?

৯৭. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
মাছিমারা কেরানি বলেছেন: আমার এর আগের করা কমেন্ট টা করেছিলাম মোবাইল থেকে, তাতে যা বলতে চেয়েছিলাম, তা পুরো ফোটেনি। দেখতে পাচ্ছি, অনেকেই আমাকে রক্তচোষা শ্রেনির মুখপাত্র হিসাবে ধরে নিয়েছেন। প্রথমেই একটা কথা বলে রাখি, জাহাজভাংগার এই ব্যবসাটি একটি রিসাইক্লিং ইন্ডাষ্ট্রি..তবে খুবই খারাপ ভাবে ম্যানেজ করা শিল্প। মনজুর ভাই শ্রমিক দের দুর্দশা নিয়ে যা বলেছেন, তা যথার্থ। আমি নিজে বহুবার চিটাগং গিয়েছি, ভাটিয়ারি তে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড এ ও গিয়েছি দু-তিন বার। আমাদের শিপব্রেকাররা এই ব্যবসা থেকে অনেক আয় করেন, কিন্তু সামান্য কিছু টাকা খরচ করলেই যে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ আরো নিরাপদ হয়ে ওঠে, সে ব্যপারে তারা উদাসিন। কয়েকটা হেলমেট, গামবুট, আর গ্যাস মাস্ক কিনতে কতটাকাই বা খরচ হয়? কিন্তু এ বিষয়ে মালিক, সরকার ও কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলো (সাইটগুলোতে কোন ট্রেড ইউনিয়ন এর অস্তিত্ব আছে বলে আমার জানা নাই), এবং তথাকথিত সুশিল সমাজ নামের ভণ্ড বুদ্ধি ব্যাপারিদের কারোই কোন মাথা ব্যথা নেই। এ ছাড়া, শিপব্রেকিং সাইটের বিচিং পয়েন্ট গুলোর সামনে একটু রাস্তা বানালে আর কিছু গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করলে শ্রমিক দের গাধার মত লোহা টানার কাজটা করতে হতোনা।

দুখের বিষয়, এ ব্যপারগুলো যাদের দেখার কথা, তারাই এখন এ শিল্পের ভাগিদার এবং যথারিতি উদাসিন।

কথা হচ্ছে মজুরি নিয়ে। এখানে সরকার ন্যুনতম মজুরি ঘোষনা দিতে পারে এবং মনিটর করতে পারে যেন শ্রমিকরা সেই ন্যুনতম মজুরি পায়। কিন্তু উপযুক্ত নীতিমালার অভাবে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি থেকে সুবিধা নিচ্ছে... শ্রমিকরা তার শ্রমের উপযুক্ত মুল্য পাচ্ছেনা। কিন্তু আমি বিষয়টিকে একটু অন্য কোন থেকে দেখি। বাংলাদেশের শ্রমিকরা কোন আকামা (মধ্যপ্রাচ্যের নিয়োগ পত্রের নাম) ধরনের কোন ডকুমেন্ট এর অধিন নন, তারা স্বাধিন, তার মানে তারা স্বেচ্ছায় যে কোন স্থানে কাজ করতে পারেন বা পছন্দ না হলে কাজ ছেড়ে যেতে পারেন। ভাটিয়ারিতে যারা কাজ করছেন, তারা স্বেচ্ছায় ওখানে কাজ নিয়েছেন। কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক আছে যাদের বিষয়ে তাদের বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, এবং তারা তাদেরকে ওখানে পাঠান। ভাটিয়ারির শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকেরা কাউকে জোর করে কাজ করাচ্ছেন না... বিষয়টা এরকম যে, ওখানে , ওই অসহ্য পরিবেশেও, শ্রমিক হবার জন্য এত প্রার্থি যে তাদের কাউকেই জোর করে রাখার প্রয়োজন পড়েনা, প্রতিটি ভ্যাকেন্সি সাথে সাথেই পুরন হয়ে যায়। যেহেতু সরকার এ বিষয়ে উদাসিন (কারন সরকারের মাথারাই কেউ কেউ এর সাথে জড়িত) তার সুযোগ নিচ্ছে মালিকরা......পুঁজির স্বাভাবিক একশন।
এসব শ্রমিক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মার্জিনাল শ্রেনির প্রতিনিধি। তাদের প্রায় ক্ষেত্রেই অন্য কোথাও যাবার যায়গা নেই। ভাটিয়ারিতে ঝুকি বেশি, আয় কম তা তারাও বোঝে, কিন্তু যেহেতু তার অন্য কোন কাজের সংস্থান নেই, তাই সে বাধ্য হয়েই এখানে শ্রম দেয়। এ অবস্থায় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারি উদ্যোগ সবচেয়ে জরুরী।
এ পরযন্ত আমার সাথে মঞ্জুর ভাই এর কোন দ্বিমত নেই। তবে এর চেয়ে আরো খারাপ অবস্থায় আমি বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেখেছি... মধ্যপ্রাচ্যের ৫০-৬০ ডিগ্রির রোদের মাঝে পাথর ভাংগা শ্রমিক, দুবাই এর পথে ক্লিনার দের উপর মালিক, পুলিশ এবং সাধারন লোকজনের অত্যাচারের কথা আপনারা কতটুকু জানেন, আমি জানিনা। তবে আমি নিজের চোখে দেখেছি, দেখে কেদেছি। আমার এক নিকটাত্মিয় মালেশিয়াতে নিরযাতনের শিকার হয়েছে। ইরাকে এখন প্রচুর বাংলাদেশি আছে, যারা দাশের ও অধম জীবন যাপন করছে, সারাদিনে একবেলা খাবার পায় আর ১৫-১৬ ঘন্টা শ্রম দেয়। এরা দেশে ফিরতে চায়, খালি হাতে যেতে হলেও রাজি, শুধু বেচে থাকার জন্য। কিন্তু যেতে পারেনা, কারন পাসপোরট রাখা আছে মালিকের কাছে আর পুলিশও ওই মালিকদের পক্ষে। তাদের স্বারথ দেখার কথা বাংলাদেশ দুতাবাসের, কিন্তু দুতাবাসের নিয়োগপ্রাপ্তরা নিজেদেরকে এ সব দেশ এ বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে মনে করেন, সামান্য শ্রমিকদের সমস্যা দেখার মত সময় তাদের নেই। বুঝতেই পারছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস যে প্রবাশী শ্রমিকরা, তাদের প্রতি সরকার যে পরিমান উদাসিন, তাতে জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকরা সরকারের কাছে কি আশা করতে পারে।
এখন আসছি অরথনীতির বিষয়ে।
আপনারা জানেন কিনা, কোন কোন হিসাবে ভাটিয়ারি এখন বিশ্বের এক নম্বর শিপ ব্রেকিং স্পট, আলাং ২য়। যতদুর মনে পড়ে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কোন একটা আন্তরজাতিক চুক্তি হয়েছিল যাতে আনক্লিন শিপ স্ক্র্যাপিং এর জন্য বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ি আনা হয়। সে সময় ভারতীয় পত্রিকা গুলোতে দেখেছিলাম হাহাকার পড়ে গেছে আলাং এ। কারন আলাং এর শিপ ব্রেকার রা বাংলাদেশের শিপ ব্রেকার দের সাথে জাহাজ এর নিলামে পেরে উঠছে না, সব বড় বড় জাহাজ বাংলাদেশ এ চলে আশছে। যেহেতু চুক্তিটির কারনে জাহাজ বিক্রয় সাময়িক ভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছিলো, ভারতের ব্যবসায়িরা আসলেই অল্প সংখ্যক জাহাজ এর নিলামে বাংলাদেশিদের সাথে পেরে উঠছিলনা। তখন, কাকতালিয়ভাবে( হয়তবা, তবে আমি এটাকে কাকতাল মনে করিনা) এর পরপরই আমাদের পরিবেশবাদিরা লাফিয়ে উঠলেন, কোরট এ গেলেন এবং এমন এক রায় বের করে আনলেন তাতে আমাদের শিপ ব্রেকিং বন্ধ হবার যোগাড়। যখন এ নিয়ে চারদিকে তুমুল তোলপাড়, তখন আরেকটা চুক্তি হল যার মাধ্যমে আগের চুক্তিটা অকারযকর হয়ে পড়ল, আবার পুরনো জাহাজ বেচা কেনা অবাধ হল। ভারতিয় দের আর জাহাজ কিনতে আর তেমন বড় প্রতিবন্ধকতার সামনে পড়তে হচ্ছেনা, সুতরাং তারাও খুশি, আর আমাদের পরিবেশ বাদিরা ঘুমাতে গেলেন।

এই পরিবেশ বাদি দের সুবিধাবাদ নতুন না। একটা উদাহরন দেই। মনজুর ভাই যেহেতু চার দশকের কথা বললেন, আপনার নিশ্চয়ই ৭৬-৭৭ এর শাহবাগ থেকে রমনা পেট্রল পাম্প (এখন মৎস ভবন এর পাশে) এর সরু রাস্তাটার কথা মনে থাকবে। জিয়াউর রহমান তখন এই রাস্তাটা চওড়া করার কাজ শুরু করেন, এ জন্য রমনা পারক আর সোহরাওয়ারদি পারক দুটোর পাশ থেকে কিছু গাছ কাটা হয়েছিল। ফলাফল আজকের ভাসানি এভিনিউ। কিন্তু এ জন্য তাকে পরিবেশবাদিরা খেতাব দিয়েছিল বৃক্ষহন্তা প্রেসিদেন্ট। নিকট অতিতে, গুলিস্তান পারকের একেশিয়া গাছ (যেগুলো হাপানি আর এলারজি রোগ গুলোর প্রমানীত উৎস) বাচানোর জন্য এদের লম্ফঝম্ফ আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু তার পরপরই যখন আওয়ামী লিগ সরকার গত মেয়াদে সোহরাওয়ারদি পারক এর ২৫০০০+ গাছ কেটে ঢাকার দুটো ফুসফুস এর একটা কেটে নিলেন স্বাধিনতা স্তম্ভ করার জন্য, তখন এদের কারো টিকিটার দেখা পাওয়া যায়নি। কারন টা সহজেই অনুমেয়।
আমি বুঝি যে, ভাটিয়ারির ইয়ারড গুলো বন্ধ করলে ভারতিয়দের দুভাবে লাভ হয়। ১। জাহাজ সংগ্রহে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি আপাততঃ থাকছে না। ২। এই শিল্পের কারনে বাংলাদেশ লোহার দিক থেকে মোটামুটি স্বয়ংসম্পুরন, রড বা শিট বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়না। তাতে টাটা, মিত্তাল দের অনেক ক্ষতি। যদি এই শিল্প বন্ধ করে দেয়া যায় তবে ভারত বাংলাদেশ এর এই শেষ বানিজ্যিক দুরগ শেষ করে দিতে পারবে... আমাদের বিকাশমান অরথনীতির সুযোগ নিতে চলে আসবেন টাটা ও মিত্তাল, আমাদের বাড়ি বানানো হবে ভারতীয় লোহায়, তথাকথিত পরিবেশ বাদিরা ভাটিয়ারিতে হাওয়া খেতে যাবেন, আর বেকার শ্রমিকদের কান্না তাদের কানে ঢুকবেনা, কারন, পেটের টানে ঐ শ্রমিকরা তখন ভিক্ষুক হয়ে শহরের রাস্তায় ভিক্ষা করবে, তাদের তরুনি মেয়েরা ভাটিয়ারি বিচ এর পরিবেশবাদি ট্যুরিশট দের কামনা বাসনার উপকরন হবে।


২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন:

আপনার সম্পর্কে বেশ কৌতুহল ছিল। একটা পোস্টে আপনাকে কোমর বেঁধে সিভিক সেন্স নিয়ে একজনের সাথে বিতর্খ করতে দেখেছিলাম। যা হোক, আপনার এই বিশাল মন্তব্য নিশ্চিত ভাবেই কিছু আলোচনার শর্ত পুরণ করে। যদিও নিচে "ভাল-মানুষ" তার অনেকখানিই বলে দিয়েছেন, তবুও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যাকঃ

প্রথমত এই পোস্ট জাহাজভাঙ্গা "শিল্প" উচ্ছেদ করার আবেদন নয়। এখানে দেখানো হয়েছে আমাদের নব্য টাকাঅলা চিনে জোঁক স্বভাবের মালিকরা কিভাবে শ্রম শোষণ করে, কিভাবে মানবেতর ব্যবস্থায় কাজ করিয়ে নেয়, কিভাবে শ্রমিকের নায্য পাওনা ফাঁকি দেয়, কিভাবে ক্ষতিকর রাসায়নিক যৌগ পরিবেশে ছড়িয়ে আগামী প্রজন্মের ক্ষতি করে এবং রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিকার করতে পারে বা পারত, অথবা পারা উচিৎ।

বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের অসহায় অবস্থার যে বর্ণনা দিয়েছেন তা নিয়ে তো কোন দ্বিমত নেই! আপনি এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ পড়লে দেখতেন বিদেশ থেকে হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ওই শ্রমিকরা যে রেমিট্যান্স পাঠায় তা নিয়ে এই লেখকের অবজারবেশন কি?

আপনি বলছেনঃ "বাংলাদেশের শ্রমিকরা কোন আকামা (মধ্যপ্রাচ্যের নিয়োগ পত্রের নাম) ধরনের কোন ডকুমেন্ট এর অধিন নন, তারা স্বাধিন, তার মানে তারা স্বেচ্ছায় যে কোন স্থানে কাজ করতে পারেন বা পছন্দ না হলে কাজ ছেড়ে যেতে পারেন। ভাটিয়ারিতে যারা কাজ করছেন, তারা স্বেচ্ছায় ওখানে কাজ নিয়েছেন। কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক আছে যাদের বিষয়ে তাদের বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, এবং তারা তাদেরকে ওখানে পাঠান। ভাটিয়ারির শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকেরা কাউকে জোর করে কাজ করাচ্ছেন না... বিষয়টা এরকম যে, ওখানে , ওই অসহ্য পরিবেশেও, শ্রমিক হবার জন্য এত প্রার্থি যে তাদের কাউকেই জোর করে রাখার প্রয়োজন পড়েনা, প্রতিটি ভ্যাকেন্সি সাথে সাথেই পুরন হয়ে যায়। যেহেতু সরকার এ বিষয়ে উদাসিন (কারন সরকারের মাথারাই কেউ কেউ এর সাথে জড়িত) তার সুযোগ নিচ্ছে মালিকরা......পুঁজির স্বাভাবিক একশন।
এসব শ্রমিক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মার্জিনাল শ্রেনির প্রতিনিধি। তাদের প্রায় ক্ষেত্রেই অন্য কোথাও যাবার যায়গা নেই। ভাটিয়ারিতে ঝুকি বেশি, আয় কম তা তারাও বোঝে, কিন্তু যেহেতু তার অন্য কোন কাজের সংস্থান নেই, তাই সে বাধ্য হয়েই এখানে শ্রম দেয়। "

কেন এমন ঘটে বলে আপনার মনে হয়?
এই যে প্রতিটি ভ্যাকেন্সি সাথে সাথে পুরণ হয়ে যাচ্ছে, কেন? কারণ কি শ্রমের সহজলভ্যতা নয়? শ্রমিকের অফুরন্ত যোগান নয়? তা কেন? কারণ সাড়ে কোটি শিক্ষিত-আধা শিক্ষিত বেকারের দেশে কাজ পাওয়াই যেখানে সোনার হরিণ সেখানে কাজের ক্ষেত্র নিয়ে ভাববার সময় আছে? নাই। দেখুন...............

পুঁজি আর সাম্রাজ্যবাদ জানে আমাদের মানুষদের খাদ্য নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, মানুষ হিসেবে পরিচয়েরও উপায় নেই। তাই আমাদের ভাবনায় টক্সিন, কার্বাইড, লিড, নাইট্রিক এসিড কোনই ভাবান্তর ঘটায় না। দুবেলা ভাতের জন্য আমাদের মানুষ চেরনোবিলের পোঁড়া মাটিতেও ইঁটভাটায় শ্রম দিতে পারে। আরিজোয়ানার পারমানবিক বর্জ্য ঘেটে সাফ সুতোর করতে পারে। তাই সারা বিশ্বের অচ্ছুৎ জঞ্জাল নিরাপদে এখানে ভিড়তে পারে। আরো নিরাপদে কেটেকুটে "খালাস" হতে পারে। তার পর যখন তারা দেখে এই দেশের সরকার এবং রুলিং ক্লাস সেই "খালাস" নিয়ে গর্বিত হয়ে বলে- বছরে ৭০ হাজার কোটি ডলারের বাজার ধরতে পারলে আমাদের জিডিপি ২ থেকে ৩ সংখ্যা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তখন এটিকে পার্মানেন্ট হিউম্যান গ্রেভইয়ার্ড ছাড়া আর কি ভাববে তারা?

এটা আমার ভাবনা। এটাই আমি মনে করি । আমি আরো মনে করি.................
আমাদের এই আধা পুঁজিবাদী, আধা সামন্তবাদী সমাজ-রাষ্ট্রে শ্রমিককে সহজলভ্যতার শর্তে দাস হিসেবে গণ্য করা হয়। যতটুকু সম্ভব তার থেকেও বেশি করে শুষে নেওয়ার কসরৎ চলে। একদল শ্রমিক পঙ্গু অথর্ব হলে আরেক দলকে নিয়োজিত করার বিলাসীতা আছে এদের। এই সব মালিকেরা নিজেরাই মানুষ হিসেবে পিছিয়ে পড়া প্রাগৈতিহাসিক স্তরের, তাই তাদের কাছে শ্রমের মূল্য টাকায় কিনে নেওয়া ছাগলের মত; শুইয়ে কাটবে না দাঁড় করিয়ে কাটবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুই তারই ধরে নেয় এরা। এদের কাছে শ্রম শক্তি বা শ্রমিক কেবলই এক প্রকারের টুলস। যেহেতু টাকায় কিনে নেওয়া হয়েছে, সেহেতু তার সবটুকুর মালিকই সে ধরে নেয়। সে কারণে চোরের মত আধাঁরে এদের শ্রম শোষণ করে। দিনের আলোয় যে কাজ করা যায়, তা রাতের আঁধারে করা মানেই ওখানে খারাপ কিছু হচ্ছে, যা ঠিক রাষ্ট্র সমর্থিত নয়। যদিও এই জগাখিঁচুড়ি রাষ্ট্র এসবের কোন দায় স্বীকারই করেনা। কিন্তু যেহেতু এই রাষ্ট্র ওই সকল পুঁজির ধারকদের রক্ষাকর্তা, সেহেতু চূড়ান্ত বিচারে এই রাষ্ট্রই মানবিকতার বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

এখানে "ভারত কার্ড" খেলার কোন সুযোগ নেই। সব কিছুতে ভারত কে জড়িয়ে যা করতে চাওয়া হয় তা শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় একধরণের ধর্মাশ্রয়ী ফ্যালাসিতে। টাটা-মিত্তালরা আলাং থেকে লোহা না পেলেও তাদের লোহার কারবার চলবে। বেশি দূরে যাবার দরকার নেই, শুধু এক রানীগঞ্জের খনিতে যে পরিমান লোহা পাওয়া যায় তা দিয়েও ওরা চলতে পারে। এই একই ব্যাপার দেখা যায় গার্মেন্ট শিল্পে। সেখানে বিক্ষোভ-টিক্ষোভ হলেই ভাসুরের নামের মত ফিসফিস করে বলা হয়"একটি প্রতিবেশী দেশ চায় না আমাদের শিল্প বিকাশ, তাই তারা নাশকতা করছে"!!
ঠিক এই কথাটিই বলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পোষা দেশের গোয়েন্দারাও। কেন এই সামান্য অভিযোগ করার জন্য ওদের এত টাকা দিয়ে পোষা হয়? এতো আপনি-আমিও বলতে পারছি!! ব্যাপারটা কেমন জানেন? অনেক উঁচুতে চিকন দড়ির ওপর হাঁতে গিয়ে পড়ে গেলে কাউকে না কাউকে দোষারোপ করতেই হয়, তা না হলে যে দড়াবাজের ডিসক্রেডিট!

একটা জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত লম্পট দুশ্চরিত্র রাজনীতিবিদদের, অসৎ আমলাদের এবং সামন্তবাদী চরিত্রের তথাকথিত শিল্পমালিকদের নাপ্তামি, বজ্জাতি, লুটপাট, জোঁকের মত রক্ত চোষা, বেশুমার কর ফাঁকি দেওয়া, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি আর চুরি-চামারির ব্যাক ফায়ার আর একটি দেশের ওপর চাপানোয় আপাত সুখ মেলে বটে, তবে তা কোন সমাধান নয়।

৯৮. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৩
ভালো-মানুষ বলেছেন: মাছিমারা কেরাণি আপনে মিয়া আসলেই কেরাণিসুলভ কথা কইছেন। আপনে খালি একটা কথার উত্তর দেন ভাটিয়ারীর ইয়ার্ডগুলো বন্ধ করতে কে কইসে?
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৯

লেখক বলেছেন:
আমরা কেউ তো তা বলিনি।

৯৯. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৫
মাছিমারা কেরানি বলেছেন: @ ভালো-মানুষ : না, আসামির সরাসরি মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়নি, তবে পরিবেশবাদিরা কোর্টের কাছে তার খাবার বন্ধ করার নির্দেশ চেয়েছিলো.. তাতে যদি আসামি মরে যায় যাক.. আমরা ভাটিয়ারি বিচ এ হাওয়া খাবো..

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৬

লেখক বলেছেন:
এই কথার সূত্র দিতে পারবেন? আমরাও কিছুটা উপকৃত হতাম।

১০০. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৫
ভালো-মানুষ বলেছেন: @কেরানি সাব,

তাতে কি বুঝা গেল? পরিবেশবাদীরা সব ইন্ডিয়ার দালাল?

এখন আবার পরিবেশবাদীরা টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতা করতাসে, আর আওয়ামীলিগ প্রচার করতাসে পরিবেশবাদীরা সব পাকিস্তান-সৌদি লবির দালাল!

আসল কথা হৈল আপনেগো লুঙ্গিতে টান পরছে!

আপনে এখানে পলিটিশিয়ানদের মত অকারণে এন্টি-ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট আমদানি করার অপচেষ্টা করছেন, সেইটারে দুয়ো দিলাম।

ভাটিয়ারীতে জাহাজ ভাঙার শিল্প বিকশিত হোক, বেশি বেশি জাহাজ এখানে আসুক, ভাঙা হোক - সেইটাতে কারো কোন দ্বিমত নাই।

মূল অবজেকশন হইতাসে, সেই জাহাজগুলা কেন টক্সিক ওয়েস্ট হইতে হইব? কেন সেই দেশ-বিনির্মাণ শিল্পের শিল্পীরা সোয়া ডলার বেতনে আপনেগো পাছায় পুরু গদির ব্যবস্থা করব? কেন তাগো এম্প্লয়মেন্টের এবং স্বার্থ সংরক্ষনের কোন গ্রহণযোগ্য নীতিমালা থাকবো না?

ভারতের বানিজ্য বাড়লে-কমলে ঐ মানুষরূপি শ্রমদাসদের দেহ-মন-জীবনের কি লাভ-ক্ষতি সেইটা একটু কৈতে পারেন?
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩১

লেখক বলেছেন:
"আপনে এখানে পলিটিশিয়ানদের মত অকারণে এন্টি-ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট আমদানি করার অপচেষ্টা করছেন, সেইটারে দুয়ো দিলাম।

ভাটিয়ারীতে জাহাজ ভাঙার শিল্প বিকশিত হোক, বেশি বেশি জাহাজ এখানে আসুক, ভাঙা হোক - সেইটাতে কারো কোন দ্বিমত নাই।

মূল অবজেকশন হইতাসে, সেই জাহাজগুলা কেন টক্সিক ওয়েস্ট হইতে হইব? কেন সেই দেশ-বিনির্মাণ শিল্পের শিল্পীরা সোয়া ডলার বেতনে আপনেগো পাছায় পুরু গদির ব্যবস্থা করব? কেন তাগো এম্প্লয়মেন্টের এবং স্বার্থ সংরক্ষনের কোন গ্রহণযোগ্য নীতিমালা থাকবো না?

ভারতের বানিজ্য বাড়লে-কমলে ঐ মানুষরূপি শ্রমদাসদের দেহ-মন-জীবনের কি লাভ-ক্ষতি সেইটা একটু কৈতে পারেন?"

অসাধারণ বলেছেন আপনি ভাল-মানুষ।

১০১. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৭
ভালো-মানুষ বলেছেন: পরিবেশের কথা আপনেরে আর না কইলাম! আপনে যে পরিবেশ সংরক্ষণরে 'বুল শিট' মনে করেন সেইটা তো পরিষ্কার!
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২১

লেখক বলেছেন:
অনর্থক।

১০২. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৪১
মেটালিফেরাস বলেছেন: পোস্টটি কার্যকর ভাবে আলোচিত হচ্ছে। সেই আলোচনায় আমরা সবাই কম বেশি উপকৃত হচ্ছি। কর্তৃপক্ষ এই পোস্টটি স্টিকি করে চমৎকার অবদান রেখেছেন, সে জস্য তাদের ধন্যবাদ।

শ্রমিক মালি এর সম্পর্কের বিষয়টা শ্রেণি দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

লেখক কে আবারও ধন্যবাদ।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৭

লেখক বলেছেন:
সমস্যা হলো এই মালিকরা মোটেই ব্যাপারটাকে পুঁজিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে কোন শিল্প হিসেবে দেখছে না। তারা এটিকে দেখছে তাদের প্রভুসুলভ মানসিকতা দিয়ে, ওয়ার্কিং ক্লাসকে দাস রূপে গণ্য করে। সুতরাং মালিক আর দাসের যে সম্পর্ক এখানেও ঠিক সেটাই বিরাজ করছে। এর বাইরে যে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ দেখতে পারত, দেখা যার কর্তব্য সেই সরকার ঠুঁটোজগন্নাথ হয়ে বসে আছে। তাই-ই বা বলি কেন, বসে নেই, তারাও ভাগ-বাটোয়ারার অন্যতম হিস্যাদার।

১০৩. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৫
ভালো-মানুষ বলেছেন: @মেটালিফেরাস

ভাইজান শ্রমিক মালিকের দৃষ্টিতেই সবাই দেখতাসে তো! সমস্যা হইল শ্রমিক দেখতেসে শ্রমিকের দৃষ্টিতে মালিক দেখতেসে মালিকের দৃষ্টিতে। একবার এরা যদি উল্টা কৈরা দেখতো মানে শ্রমিক মালিকের দৃষ্টিতে আর মালিক শ্রমিকের দৃষ্টিতে আরকি, তাইলে নাটকীয় ফলাফল পাওয়া যাইত!

শ্রমিকগো ঘৃনার আঁচে বঙ্গোপসাগরের পানি তার রং বদলায়া লাল কৈরা নিত আর মালিক সাবেরা লজ্জায় ন্যুজ হৈয়া পরিতাপ করতে করতে মরত।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০

লেখক বলেছেন:
শ্রমিকগো ঘৃনার আঁচে বঙ্গোপসাগরের পানি তার রং বদলায়া লাল কৈরা নিত আর মালিক সাবেরা লজ্জায় ন্যুজ হৈয়া পরিতাপ করতে করতে মরত।

এমন একটি সম্ভবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

১০৪. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৭
পি মুন্সী বলেছেন: শওকত হোসেন মাসুমের প্রশ্ন: "জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আর জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক কতখানি?" - এটাকে আমি আর একটু উস্কে দেই। আমার কাছে এই প্রশ্নটা জেনুইন; অন্তত টেকনোলজির দিক থেকে ইস্পাত সম্পর্কে যতটুকু বুঝি তা থেকে বলছি।
জাহাজ নির্মাণ শিল্পের একটা অন্যতম উপাদান ইস্পাত, কোয়ালিটি ইস্পাত। লক্ষ্য করবেন আমি লোহা বলিনি, বলেছি ইস্পাত। স্মৃতি থেকে হাতড়ে পাঠকের জন্য ছোট্ট করে লোহা-ইস্পাতের টেকনোলজি নিয়ে কিছু কথা বলি।

লোহা আর ইস্পাতের ফারাক অনেক। গলিত তরল লোহাতে কার্বন মিশানো ও নিয়ন্ত্রণ করে এর গুণাগুণে মারাত্মক অদল বদল ঘটান যায়। তৈরি করা যায় ইস্পাত, আরোপ করা যায় ইস্পাতের উপর হরেক গুণাগুণের। কার্বনের ভাগ খুবই কম, হতে পারে সর্বোচ্চ ৫%, স্টিল বা ইস্পাতের ক্ষেত্রে সম্ভবত ৩% )। এছাড়া ঠান্ডা করার পদ্ধতি কী হবে, পানিতে চুবিয়ে, বাতাসের ঝাপটা নাকি কোন তেলে; কতক্ষণ ব্যাপী - তাড়াতাড়ি না ধীরে ধীরে এটাও আর একটা ইস্পাতের গুরুত্তপূর্ণ গুণাগুণ নির্নায়ক। এছাড়া, এভাবে তৈরি ইস্পাতের আবার হিট ট্রিটমেন্ট বলে আরও কিছু কাজকারবার আছে যা তৈরি ইস্পাতের উপরি তলে আরও কিছু গুণাগুণ আরোপ করা যায়। যেমন, কেবল উপরি তলে কার্বনের হার একটু বেশি করে দেওয়া, অথবা মেলিবডেনাম বলে আর এক শক্ত ধাতুর আস্তর লাগিয়ে দেয়া, ইত্যাদি। ইস্পাত টেকনোলজি নিয়ে যত সহজে উপরে লাইন কয়টা লিখলাম এর টেকনোলজি ততই কঠিন ও জটিল। একটা ধারণা দেই। অনেকের লেনিনের নাম শুনতে ভাল লাগতে পারে, তাই বলছি, তাঁর যুগেও শিল্পায়িত দেশের অগ্রগতি মাপা হত কোন জাতি কত সুক্ষ গুণাগুণের ইস্পাত বানাতে পারে বা দক্ষ - তা দিয়ে। আশির দশকে পর্যন্ত এক্ষেত্রে জার্মানির নাম ছিল সবার উপরে। ১৯৪৭ এর পরে ভারতে নেহেরুরও ইস্পাত নিয়ে বিশেষ আগ্রহ ছিল। ফলাফলে, বন্ধু জামসেদজী টাটার সঙ্গে সরকারী উদ্যোগে জার্মানির সাথে জয়েন্ট ভেনচারে ইস্পাত টেকনোলজি ট্রানসফারের ইস্পাত কারখানার নাম হলো টাটা স্টিল কোম্পানি। এরই লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি হলো মার্সিডিজ ডিজাইনের টাটা গাড়ি কোম্পানী।

পুরানো ব্যবহৃত বা আকরিক লোহা গলিয়ে অনেক বা সবকিছুই করা সম্ভব কিন্তু এতে ইতোমধ্যে মিশে থাকা কার্বনের পারশেনটেজ নিয়ন্ত্রণ এর সবচেয়ে সুক্ষ (Precision) টেকনোলজির অংশ। বলা হয়, বল বেয়ারিং যে বানাতে পারে সে কোম্পানী বা দেশ ঐ গোত্রের অংশীদার। শুখের বিষয় হল, বাড়ি তৈরির ইস্পাত রড, এঙ্গেল বার বা বিভিন্ন পুরুত্ত্বের শিট বা ইস্পাতের চাদরের - ইস্পাত টেকনোলজি সবচেয়ে তুলনায় একেবারে সহজ অংশ। এধরণের প্রোডাক্ট হলো ইনগট, মানে মাইল্ড ষ্টিলের বা তাল তাল লোহার লম্বা সলিড বার। আবার কাঁচামাল ইনগট পাওয়া গেলে তা থেকে তৈরি রি-রোলিং(re-roling বা আবার আকার দিয়ে বাড়ি তৈরির ইস্পাত রড, এঙ্গেল বার বা বিভিন্ন পুরুত্ত্বের শিট বানানো) ইস্পাত কারখানা বলে এগুলোকে আমরা দেশে চিনি। এগুলো MS বা মাইল্ড ষ্টিল গোত্রের কায়কারবার। ইস্পাতে কার্বনের পরিমাণ ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে এটা মাইল্ড, তাই এই নামকরণ।
দেশে আগে এই রি-রোলিং (re-roling বা আবার আকার দেয়া) শিল্পের কাঁচামাল ইনগট (মাইল্ড ষ্টিলের বা লোহার লম্বা তাল) আসত একমাত্র সরকারী ষ্টিল ইনজিনিয়ারিং করপোরেশন থেকে। সরাসরি লোহার খনি আকরিক ছিল এর কাঁচামাল। জাহাজভাঙ্গার ভাগাড় চালু হওয়াতে সেঈ এখন কাঁচামাল। অনুমান করি জাহাজভাঙ্গা থেকে এমএস ইনগট তৈরি ও রিরোলিং করে বাড়ি তৈরির ইস্পাত রড, এঙ্গেল বার বা বিভিন্ন পুরুত্ত্বের শিট বানানো এখন একসাথে হচ্ছে।

তার মানে জাহাজভাঙ্গা থেকে জাহাজ গড়ায় যেতে গেলে প্রয়োজনীয় মাইল্ড স্টিলের, ইস্পাতের রড, চাদর আমরা সরবরাহে সক্ষম হলেও যেখানে বিভিন্ন কোয়ালিটির ইস্পাত বা সুক্ষ-গুণের ইস্পাতের প্রয়োজন দেখা দিবে তা মিটাতে অক্ষম, আমদানি ভরসা। যেসব যন্ত্রাংশ বা জাহাজের অংশ ঘাত সহ্য করার ক্ষমতা, সহজে ক্ষয় রোধক বা ছিড়ে যাওয়া ঠেকানো সম্পন্ন গুণের দরকার তা মিটাতে সুক্ষ-গুণের ইস্পাতের প্রয়োজন হবেই।
নতুন হাকডাকের জাহাজ শিল্প এগুলো কি করে মোকাবিলা করছে - এমন সুনির্দিষ্ট মাঠের তথ্যগুলো জানা দরকার।

ফলে মাসুমের মত সন্দেহ আমারও।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৭

লেখক বলেছেন:

কোন সন্দেহ নেই মুন্সী। জাহাজভাঙ্গা ভাগাড় থেকে যা যা মেলে তা দিয়ে আর যা-ই হোক ওসান গোয়িং ভেসেল হয় না। এরা যারা নিজেদের শিপ মেকার্স বা শিপ এক্সপোর্টার বলছে এরা আসলে বানাচ্ছে ফিডার ভেসেল হিসেবে চলাচল করার কার্গো ভেসেল। যাতে এএস দিয়েও কাজ চালানো যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা প্রাপ্ত
লোহা তরল না করে প্রাপ্ত শিটগুলোই পেস্ট করে দিচ্ছে।

"জাহাজভাঙ্গা থেকেই জাহাজ তৈরি" এমন কোন প্রজেক্ট চলছে না। এরা মূল লাভ করতে চাইছে ভাঙ্গার পারিশ্রমিক থেকে। তারপর বাড়তি আসছে কাঠ, প্লাইউড, ফ্রেম, ফার্নিচার, টুলস, লাইটিংস, ফোম, সিলিন্ডার,ওয়্যার,বাল্ব আর এই ধরণের তাল তাল খুঁচরো জিনিসপত্র।

ইস্পাত বা টেম্পার্ড আয়রণ করার মত কারখানা আমাদের নেই। ষ্টিল রিরোলিং মিলে আর্ক কার্বন দিয়ে ইনগট গলিয়ে, তাল তাল আকর গলিয়ে বিভিন্ন আকারের এমএসই করা যায় কেবল। এসএস শিট বিলেট সবই আমদানিনির্ভর। আর্ক কার্বনও আমদানিনির্ভর। তার পরও জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ের পাশে ছোট ছোট ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে, উঠছে। সে সব গড়ে তোলার জন্য বেশুমার বনায়নের বারটা বাজানো হচ্ছে। সদ্য কাটা গাছ নিয়ে একটা পোস্টও এসেছে ব্লগে.....http://www.somewhereinblog.net/blog/dynamic/29014394

যেহেতু মিঠা পানি, প্রাকৃতিক গ্যাস আর সস্তা ম্যান পাওয়ার ছাড়া আর কিছু নেই আমাদের, তাই এখানে শ্রমঘন কোন ভারি শিল্প গড়ে উঠবে এটা আশা করা যায় না।

১০৫. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৯
প্রজন্ম একুশ বলেছেন:
বছরখানেক আগে দৈনিক প্রথম আলোয় ছোট্ট খবরটা দেখেছিলাম যে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারী জাহাজ 'নির্মাণ' শিল্পে প্রবেশ করেছে আর যা থেকে আমরা কোটি কোটি টাকা আয় করতে পারব। খবরটা এতো ভালো লেগেছিল যে আমি আমার প্রায় সব বন্ধুকে এস এম এস করে খবরটা জানিয়েছিলাম। এস এম এসের শেষে লিখা ছিলঃ গুড লাক বাংলাদেশ।

এই পোস্টটি পড়ে আর বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্যগুলো দেখে আমি বুঝতে পারছি, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আর জাহাজ নির্মাণ শিল্পের পার্থক্য। কারা আছে এইসবের পিছনে। আর অনুভব করতে পারছি, কি চরম অমানবিকতা লুকিয়ে আছে এর ভেতর। আমার মত কম বুদ্ধির মানুষের চোখ অনেকটা খুলে দিয়েছে এই পোস্ট।

মডারেটরবৃন্দকে অনুরোধ করছি, হুট করে যেন এই পোস্টটাকে নন-স্টিকি না করা হয়।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন:
শুধু কি এটা? এমন প্রায় সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের রক্ত এভাবেই একটু একটু করে নিংড়ে নেওয়া হচ্ছে। আস্তে আস্তে তারা মৃত্যু পানে ধাবিত হচ্ছে। তাদের বেঁচে থাকার আলো-বাতাস, খাদ্য-পানীয় ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে! তারা সরতে সরতে শহর মানে এই কসমোপলিটন ছেড়ে ১৫/২০ মাইল দূরে চলে যাচ্ছে। সেখান থেকে এসে আমাদের নিত্য প্রয়োজন মিটিয়ে আবার ছাপড়া ঘরে ফিরে যাচ্ছে। আর ওদের এই "আলাদা ক্লাসের জন্য আলাদা বসবাসের স্থান" ব্যাপারটাতে শক্তি যোগাচ্ছে, ওদের শোষণের নিত্য নতুন কলাকানুন শেখাচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত ওদের পীড়নকারী হিসেবে কারা চিহ্নিত হচ্ছে জানেন ?-----------আমরা। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণী। দ্য প্যারাসাইটস‍!

১০৬. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৮
এস বাসার বলেছেন: লেখক দুঃখিত। বলেছিলাম একটি পোষ্ট দিব। মনে মনে গুছিয়ে ও এনেছিলাম। কিন্তু লিখার ইচ্ছেটা মরে গেছে।

কি হবে এসব লিখে? জাহাজ ভাংগা মালিকেরা থেমে যাবে? অসৎ, লোভী আমলারা কি জেনে ও না জানার ভান করবেনা? বন বিভাগ একটা লোক দেখানো মামলা হয়তো করবে, কিন্তু তার রায় হবে ২০ বছর পরে, তাই নয় কি?

পরিবেশ অধিদপ্তর? এ পর্যন্ত কোন বনটাকে বা পাহাড়টাকে বাচাতে পেরেছে?

সীতাকুন্ডের এসিল্যান্ড সাহেব কি বলেছিলেন মনে আছে? সব নাকি ব্যক্তিমালিকানার সম্পত্তি!!! সরকারী খাস জমি কিভাবে ব্যক্তির হয়ে গেলো?


এসপি, ওসি কার প্রটেকসানে ব্যস্ত? মালিকের নাকি আন্দোলনকারীর?


একটা তথ্য দিই, আগামী ২/৩ বছরে সীতাকুন্ডে কোন সবুজ বেস্টনী থাকবেনা, পুরুটাই জাহাজ ভাংগার ভাগাড়ে পরিনত হবে। বড় বড় অনেক শিল্প গ্রুপ আসছে, হাংগরের মতো, সব প্রস্তুত!!!!!!

একটা মাঝারী আকারের জাহাজ থেকে কত লাভ হয় ?

অনুমান করুন? কত?....... পারবেন না, তাই না?


আমি বলছি, ৭০/৮০ লাখ টাকা!!!!!!!!!!!!!

অতএব....................




২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৯

লেখক বলেছেন:
আপনার মন্তব্য পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আপনি যা যা বলেছেন সবই জানি, অনেক দিন থেকেই জানি, কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছিল, সব সরকারী কর্মকর্তারা তো
দুর্নীতিপরায়ন নন, সব নেতারা তো দুশ্চরিত্র নন! হা হোতষ্মি!! আমরা কি বোকার স্বর্গে বাস করছি!

আপনি যে তথ্য দিলেন ওরা মানে এসি ল্যান্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর তার চেয়েও খারাপ। আরো খারাপ এদেশের পুলিশ। যাদের দায়িত্ব অসহায়কে সহায় দান করা, যাদের দায়িত্ব বিপদগ্রস্থ কে বিপদমুক্ত করা। কিন্তু আমরা আমাদের অতিত ইইতহাস ঘেটে দেখেছি এর কিছুই হয়না, হবেনা। তাই বলে কি আমরা হতাশ হয়ে গুম মেরে থাকব? আমরা কি চেষ্টাটাও করব না?

ওরা জানে সাধারণ নাগরিকরা এখন সবকিছুতেই হতাশ। তাদের এই হতাশাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারলে যে নতুন প্রজন্ম টগবগ করে ফুটছে তারাও একসময় হতাশ হতে বাধ্য। আর এই ফর্মুলাতেই ওরা ক্রমাগত হতাশা বিতরণ করে চলেছে।
দেখন না, আপনি আশাবাদী হতে হতে হঠাৎ "কি হবে লিখে" ভেবে হতাশ হয়ে পড়লেন। ঠিক এটাই কি ওরা চাইছে না!!

আর একবার ভাবুন। ভয় পেলে আমার আইডিতে মেইল করুন।

১০৭. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২২
হরিণ বলেছেন: কিছুদিন আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন এবং পরিবেশ আইনজীবী ফোরামের প্যাডে কম্পিউটার কম্পোজ করা ২০ পৃষ্ঠার একটি প্রেস রিলিজ পেয়েছিলাম। সম্ভবত এটি সব পত্রিকা অফিসে পাঠানো হয়েছিল। প্রেস রিলিজের তথ্যগুলো কেবল চমকে উঠার মতো নয়, পড়ে আৎকে উঠেছিলাম। ভয়াবহ ব্যাপার। এই জাহাজ ভাঙা শিল্প নিয়ে কত মারাত্মক দুর্নীতি চলছে! স্থানীয় প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের নাকি লাখ লাখ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তব প্রতিফলনও দেখা যায়। অর্থাৎ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা কখনোই পত্রিকায় জাহাজ ভাঙা শিল্পের নেতিবাচক সংবাদ পাঠায় না। শ্রমিক মারা গেলে কেবল দুর্ঘটনা হিসেবেই নিউজটি দেয়।

আপনি এই তথ্যটি পেয়েছেন কি? স্থানীয় সাংসদ আবুল কাশেমের ছেলেই নতুন করে দুটি শিপ ইয়ার্ড গড়ে তুলছে। আর গাছগুলো কাটার পেছনেও রয়েছে তার হাত!

আমি দুইবার গিয়েছি। শ্রমিকগুলোর সাথে কথা বললে মনে হয়, আহারে! বাংলাদেশ! আমার দেশ!

আপনি কি এখনো চট্টগ্রামেই আছেন?
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৫

লেখক বলেছেন:
"এই জাহাজ ভাঙা শিল্প নিয়ে কত মারাত্মক দুর্নীতি চলছে! স্থানীয় প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের নাকি লাখ লাখ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তব প্রতিফলনও দেখা যায়। অর্থাৎ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা কখনোই পত্রিকায় জাহাজ ভাঙা শিল্পের নেতিবাচক সংবাদ পাঠায় না। শ্রমিক মারা গেলে কেবল দুর্ঘটনা হিসেবেই নিউজটি দেয়।"
------------------------------------------------------------------------------

এটাই একটা দলিল। ঠিক এভাবেই সবাইকে চুপ করিয়ে রাখা হয়।

অনেক ধন্যবাদ তথ্যগুলো শেয়ার করার জন্য।

১০৮. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১১
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে, এ নিয়ে লেখালেখি করে আসলে কিছুই হবে না। অতীতে হয়েছে- এরকম কোনো নজির আমার জানা নেই। শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকরা অকল্পনীয় টাকার মালিক। মাসুম ভাইয়ের মন্তব্যেই বুঝতে পেরেছেন ইতিমধ্যে। তাদের হাতও অনেক লম্বা।
ব্লগ থেকে একটা কাজ করা যায়, সেটা হল- মানববন্ধন। ১০-২০ হলেই চলে। কয়েকদিন আগে আমাদের সীতাকুন্ড প্রতিনিধিকে ফোন করে জেনেছি, ইপসা নামে একটি এনজিও শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির কাজ করছে। তাদেরকে জানালে তারাও আপনাদের সহায়তা করবে নিশ্চয়ই।

সেদিন দেখলাম, ভারতেও ব্লগাররা কী একটা ইস্যুতে অবস্থান ধর্মঘট করেছে সেখানে।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২২

লেখক বলেছেন:
কিসে যে কী হয় সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি.......

১০৯. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৮
রুবেল শাহ বলেছেন:
আমরা সব দিক থেকে অসহায় ....... কিছু করা নেই আমাদের ?


====

অনন্য অসাধারণ পোষ্ট .....

====

ভাল থাকা হয় যেনো ভাইয়া...........
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৩

লেখক বলেছেন:
মনে তো হচ্ছে কিছুই করণীয় নেই। সাধুজনেরা বলেছেন, তাকি মিথ্যে হতে পারে?

১১০. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫
দিনমজুর বলেছেন: + এবং প্রিয়তে ......
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৪৪

লেখক বলেছেন:

আর যথারীতি কৃতজ্ঞতা।

১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৩৬

লেখক বলেছেন:
you too.

১১২. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪৩
মনজুরুল হক বলেছেন:

সংবাদপত্রঅলারা এখন বলছে- ওখানে নাকি প্রতি বছর শত শত শ্রমিক মারা যায়, ওখানে নাকি মানবতার অবমাননা হচ্ছে!

এই বাপধনদের কাছে আমার জিজ্ঞাস্যঃ তা বাছারা এতদিন কি মরেনি? এতদিন আপনারা কেন এদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ছিলেন? নেগোসিয়েশন কি রিন্যু হয়নি এবার ?
৩০ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: দেখলাম। ধন্যবাদ।

১১৪. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:১৮
র হাসান বলেছেন: ভালো পোষ্ট! প্লাস++++++

Bangladesh travel information
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:৫৫

লেখক বলেছেন: বেশ।

১১৫. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:৪০
কাশিফ বলেছেন: র হাসান বলেছেন: ভালো পোষ্ট! প্লাস++++++
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:৫৭

লেখক বলেছেন:
আচ্ছা ঠিক আছে।

১১৬. ১১ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৫৯
মুভি পাগল বলেছেন: ভাগাড়/মৃত্যুপুরী

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৬১৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ