
মুক্তিকাল : ২০০০
দৈর্ঘ : ১২০ মিনিট
রঙ : রঙিন
দেশ : চীন, তাইওয়ান, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র
ভাষা : মান্দারিন ও ইংরেজি
পরিচালনা : এঙ লি
প্রযোজনা : লি কং সু, উইলিয়াম কং, এঙ লি
চিত্রনাট্য : দু লু ওয়াং (মূল উপন্যাস), হুই লিঙ ওয়াং, জেমস স্কামুস, কু জাং সাই
অভিনয় : চো ইয়ুন ফাত, মিশেল ইয়ো, ঝ্যাং জিয়ি, চ্যাং চেন
সঙ্গীত : তান দুন
চিত্রগ্রহণ : পিটার পাও
সম্পাদনা : টিম স্কুয়েরেস

কাহিনী সংক্ষেপ : ১৯৩০ সালে ওয়াং দুলু’র লেখা সিরিজ উপন্যাসের চতুর্থ খণ্ড থেকে এ ছবির কাহিনী রূপান্তরিত হয়েছে। কিন যুগের একজন বিখ্যাত যোদ্ধ লি মু বাই। বহুদিন আগে জেড ফক্সের হাতে তারা গুরু মারা যায় এক নারীর হাতে। মু বাই-এর সঙ্গে শো লিয়েনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারা একে অপরকে ভালবাসে, কিন্তু বলে না। মু বাই তার যোদ্ধা জীবনের সমাপ্তি চায়, সে তার বিখ্যাত তরবারিটি শো লিয়েনকে দেয় গ্রিন সাম্রাজ্যের কাছে উপহার হিসাবে পৌঁছে দিতে। স্যার তে’র কাছে এই উপহারটি পৌঁছে দেয়ার পরই তা চুরি হয়ে যায়। এদিকে শো লিয়েনের সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়ে যায় অভিজাত গভর্নর ইউ-এর কন্যা জেন-এর। মু বাই এদিকে স্যার তে’র সঙ্গে দেখা করতে আসে। মু বাই, শো লিয়েন আর স্যার তে’র চাকর বো মিলে আবিষ্কার করে, চোরটি গভর্নর ইউ-এর বাড়ির দিকে গেছে। পরে জানা যায়, জেন কৌতুহলের বশেই এটি চুরি করে।ে সে মু বাইয়ের গুরুর হত্যাকারী জেড ফক্স-এর কাছে যুদ্ধ শিখেছে। জেড ফক্স তাদেরকে যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। এক পর্যায়ে মু বাই আবিষ্কার করে যে জেন গোপনে ওয়াদুং স্টাইলে যুদ্ধ করতে শিখেছে। জেড ফক্স তাকে গোপনে এই বিদ্যা শেখার জন্যে তিরস্কার করে। এদিকে লো নামের এক মরুভূমির দস্যু তাকে ভালবাসে এবং জেনের বিয়ে ঠেকাতে চায়। শো লিয়েন আর মু বাই লো-কে সাহায্যর উদ্যোগ নেয়। জেন বিয়ের আসর থেকে পালায়, আবার সে তরবারিটি চুরি করে। মু বাই ও শো লিয়েন তাকে অনুসরণ করে। শো লিয়েন তাকে বলে, তোমার জন্যে উদাং পাহাড়ে লো অপেক্ষা করছে। কিন্তু শো লিয়ানকে আঘাত করে জেন পালিয়ে যায়। মো বাই তাকে অনুসরণ করে। জেন ও মুবাইয়ের যুদ্ধ হয়। মুবাই জেনকে বলে, তার গোষ্ঠীর হলেই সে গ্রীণ ডাইনেস্টির তরবারি পাবে, কিন্তু জেন তাতে অস্বীকৃতি জানায়। মু বাই তরবারিটি পানিতে ফেলে দেয়। জেন পানিতে লাফিয়ে পড়ে। জেড ফক্স তাকে তাড়া করে, তাকে ঘুম পারিয়ে এক গুহায় ফেলে রাখে এবং তরবারিটি নিয়ে যায়। মু বাই এবং শো লিয়ান মিলিত ভাবে হামলা করে। জেড ফক্সকে হত্যা করে মু বাই প্রতিশোধ নেয়। এদিকে মু বাইও আহত হয়। শো লিয়ানের কোলে তাকে ভালবাসার কথা স্বীকার করে মু বাই মারা যায়। গ্রিন ডাইনেস্টি স্যার তে’র কাছে ফেরত আসে। আর জে ফক্স থেকে মুক্ত জেন তার ভালবাসার মানুষ লো’র কাছে ফিরে যায়।

বিশেষত্ব : কিন যুগের চীনের প্রেক্ষাপটে তৈরি ক্রাউচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন আবহমান চীনের এক গল্প। যে গল্পে যা খুশি ঘটতে পারে, এখানে আত্মা উড়ে আসে, দেবতারা মানুষের সমাজে চলে আসে, মানুষ লাফ দিয়ে দালান, গাছ পার হয়ে যায়। জেন যোদ্ধাদের আমরা এখানে দেখি বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে, পানিতে ভাসতে পারে, গাছের মগডালে গিয়ে যুদ্ধ করতে পারে। কর্ম, দুঃখ, ভালবাসা, আশা আর প্রতিশোধের বাধনে জড়িয়ে থাকা এই পৃথিবীর মানুষের এক লৌকিক গল্পের অলৌকিক রূপান্তর এই ছবি। যে কোন দর্শকের জন্যেই এ ছবি দেখা এক নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে। মাত্র ১৭ মিলিয়ন ইউএস ডলারে তৈরি এই ছবি শুধু মাত্র আমেরিকাতেই ১২৮ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। আমেরিকার ইতিহাসে এই বিদেশি ছবিটি সর্ব্বোচ্চ ব্যবসা সফল ছবি। শুধু তাই নয়, ৪০টির মতো আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে এ ছবি। অস্কারে বিদেশি ছবি হিসাবে সব্বোর্চ্চ ১০টি মনোয়ন পাওয়ার রেকর্ড আছে এ ছবির। সেরা বিদেশি ছবি ছাড়াও সেরা শিল্প নির্দেশনা, সেরা সঙ্গীত ও সেরা চিত্রগ্রহনের জন্যে অস্কার পুরস্কার পেয়েছে এ ছবি। গোল্ডেন গ্লোবে সেরা বিদেশি ছবি ও সেরা পরিচালক, বাফটায় সেরা বিদেশি ছবি, পরিচালক, সঙ্গীত, পোশাক বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। ব্রডকাস্ট ফিল্ম ক্রিটিকস এসোসিয়েশন এওয়ার্ডেও সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে। শিকাগো ফিল্ম ক্রিটিকস এসোসিয়েশন এওয়ার্ডে সেরা বিদেশি ছবি ছাড়াও সবচেয়ে প্রতিশ্র“তিশীল অভিনেত্রী, সেরা সঙ্গীত, সেরা চিত্রগ্রহণের পুরস্কার পেয়েছে। ডিরেক্টর গিল্ড অব আমেরিকায় সেরা পরিচালক, হংকং ফিল্ম এওয়ার্ডে সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা পার্শ্ব চরিত্রাভিনেত্রি, সেরা চিত্রগ্রহণ, সেরা এ্যাকশন কোরিওগ্রাফি, সেরা সুর, সঙ্গীত ও শব্দগ্রহণের পুরস্কার পেয়েছে এ ছবি। এ ছাড়াও ইন্ডিপ্যান্ডেন্ট স্প্রিট, রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা, নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ক্রিটিকস, টরেন্টো ফিল্ম ক্রিটিকস সহ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে এ ছবি। এ ছবি থেকে কমিক বই হয়েছে, এমনকি ভিডিও গেম হয়েছে। রটেন টমেটোতে ৯৭ ভাগ ভাল সমালোচনা হয়েছে এ ছবিকে নিয়ে।
বিশেষ তথ্য :
১. এ ছবির এ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি করেছে ইয়ং উ পিং। তিনি হলিউডে ম্যাট্রিক্সের মতো ছবির এ্যাকশন কোরিওগ্রাফি করেছেন। ছবিতে তিনি উক্সিয়া মার্শাল আর্ট রীতির ব্যবহার করেছেন। এরপরই উক্সিয়া রীতিরে হাউজ অব ফ্লাইং ড্রাগন, হিরো’র মতো ছবি তৈরি হয়।
২. ঝ্যাং জিয়ি এ ছবিগুলোর সুবাদেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়ে যান। পরে তিনি মেমোরিস অব এ গেইশা’তে অভিনয় করেন। তিনি অন্যান্যদের সাথে কয়েকমাস ধরে চীনা ক্যালিগ্রাফি শেখেন। উল্লেখ্য ছবিতে তাকে মার্শাল আর্ট করতে দেখা গেলেও তিনি কখনোই মার্শাল আর্ট শেখেনি, তবে খুব ভাল নাচতে পারেন। তাই মারামারির দৃশ্যগুলোতে তিনি তার নাচের কৌশলই বেশি ব্যবহার করেছেন।
৩. জেট লি’কে এই ছবির লি মু বাই চরিত্রের জন্যে ডাকা হয়, কিন্তু তিনি তখন রোমিও মাস্ট ডাই নিয়ে ব্যস্ত। হংকংয়ের অভিনেতা লিয়ন লাই-ও এ চরিত্র ফিরিয়ে দেয়। পরে চৌ উন ফাতকে নেয়া হয়।
৪. মিশেল ইয়ো মান্দারিন ভাষা বলতে পারেন না। তাকে একজন প্রশিক্ষক দেয়া হয় এবং তার ভাষায় সংলাপগুলো লিখে দেয়া হয়। শুটিংয়ের শুরুতে তার হাটুর পেশী ছিঁড়ে যায়, এ জন্যে আমেরিকা গিয়ে তাকে অপারেশন করাতে হয়। হাঁটু ঠিক না-হওয়া তিনি আমেরিকাতে থেকে এসে মারামারি ছাড়া দৃশ্যগুলো করে যেতেন।
৫. ক্রাইচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন একটি চীনা পুরাণের প্রবাদ। এর দ্বারা বোঝান হয়, তোমার শক্তিকে অন্যের কাছ থেে লুকিয়ে রাখো। ছবির চরিত্রগুলো এ কথাই প্রমাণ করেছে।
৬. একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী এ ছবির সুরকার মাত্র দু’সপ্তাহ পেয়েছিলেন ছবির সুরগুলো করতে।
৭. এটি একমাত্র মার্শাল আর্ট ছবি যা অস্কারে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছিলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



