বার্থ অব এ ন্যাশন বিশ্বের অন্যতম ব্যবসা সফল ও বিতর্কিত ছবি । ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে ‘দ্য ক্ল্যান্স ম্যান’ নামে এ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছিলো। কিন্তু পরে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে এর নামকরণ বদলে যায়। ছবির প্রধাণ কালো চরিত্রে সাদারাই কালো সেজে অভিনয় করেছিলো। সত্যিকারের কালো নিগ্রোরা কেবল অপ্রধাণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলো। ক্যামেনুনের কাজের মেয়ে চরিত্রে একজন সাদা চামড়ার পুরুষ অভিনয় করেছিলো।

ফিল্মবোদ্ধাদের অন্যতম প্রিয় ছবি দ্য ব্যাটলশিপ পটেমকিন। ১৯০৫ সালে রাশিয়ার জারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জাহাজ পটেমকিনের নাবিকরা বিদ্রোহ করেছিলো। এ সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এ ছবির বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য হলো ওডেসার সিঁড়িতে গণহত্যা। ওডেসার এই গণহত্যার দৃশ্যটি কাল্পনিক। জারদের বিরুদ্ধে প্রচারণা এবং ছবিতে নাটকীয়তা সৃষ্টির জন্যই আইজেনেস্টাইন এই দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। অবশ্য এটুকু সত্য যে পটেমকিন বন্দরে পৌঁছানোর পর বিপুল মিছিল হয়েছিলো। দ্য টাইম এবং স্থানীয় ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছিলো ভিড় কমানোর জন্য ফাঁকা গুলি হয়েছিলো, কোন হতাহতর ঘটনা ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে রজার এবার্ট লিখেছেন, ‘‘আসলে সেখানে জারদের দ্বারা কোন গণহত্যা হয়নি, তবু তাতে ওডেসা দৃশ্যের ক্ষমতা কম নয়... এটা আইরনিকাল যে আইজেনস্টাইন দৃশ্যটি এতো স্বার্থকভাবে ধারণ করেছেন যে ওডেসার রক্তপাত সত্যিই ঘটেছিলো বলে আজ অনেকে বিশ্বাস করে।’’ এটি চার্লি চ্যাপলিনের অন্যতম প্রিয় একটি ছবি ছিলো।
দ্য প্যাশন অব জোয়ান অব আর্ক ছবিতে জোয়ানের হাত কেটে যাওয়ার দৃশ্যে একটা সত্যিকার ক্ষত থেকে রক্ত ঝরানো হয়েছিলো। অবশ্য সেটি জোয়ান চরিত্রে অভিনয়কারী ফালকোনেত্তির নয়, অন্য আরেকজনের রক্ত। এ ছবির প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবতা রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তাই বাজেটের বিরাট অংশ খরচ হয়েছিলো সেট তৈরিতে। তবে মজার বিষয় হলো নিঁখুত এবং ঐতিহাসিক সত্যতা রক্ষা করে তৈরি এ সেট ছবিতে খুব কমই দেখা গেছে। কারণ পরিচালক ড্রায়ার ছবিতে এই পরিমাণ ক্লোজ আপ ব্যবহার করেছেন যে মূল্যবান সেট প্রায় দেখাই যায় না।

উন চিয়েণ্ট আন্দালিউ ছবির প্রথম দৃশ্যে তরুণের যে চোখটি কাটা হয় তা আসলে একটি বাছুরের চোখ। তীব্র আলোর খেলায় বুনুয়েল গরুর লোমশ মুখকে মানুষের ত্বকের মতো দেখাতে সক্ষম হন। মাত্র ১৬ মিনিটের এই নিরীক্ষামূলক ছবিতে বুনুয়েল এবং দালি প্রচুর অদ্ভুত সব দৃশ্য দেখিয়েছে। তবু তাদের তৃপ্তি হয়নি। কারণ, বুনুয়েল শেষ দৃশ্যে দেখাতে চেয়েছিলেন একটি মৃত দেহকে পোকা-মাকড় খেয়ে শেষ করছে। বাজেট সংকটের কারণে চিত্রনাট্য থেকে এই দৃশ্যটি বাদ দিতে হয়। এ ছবি মুক্তির দিন দালি ও বুনুয়েল পকেটে পাথর ভর্তি থলে রেখেছিলো আত্ম-রক্ষার জন্য। তাদের ভয় ছিলো স্যুরিয়ালিস্ট এই ছবি দেখে ফরাসী দর্শক ক্ষেেেপ যাবে। কিন্তু দর্শক যখন ছবিটি উপভোগ করতে থাকলো দালি ও বুনুয়েল ভীষণ মর্মাহত হলেন। দালির মতে, এতে করে তাদের বিকালটাই উত্তেজনাহীন হয়ে গেলো। আসলে প্রচলিত ধারার চলচ্চিত্রের সব রীতি আঙ্গিক ভেঙে দর্শককে আঘাত করার জন্যেই এ ছবি বানানো হয়েছিলো। কিন্তু বানানোর পর থেকে আজ পর্যন্ত তথাকথিত অদ্ভুত, আজগুবি, ছোট্ট এই ছবিকে সবাই সাদরেই গ্রহণ করেছে। শুধু তাই নয়, এ ছবির প্রতিটি দৃশ্যে ভিন্নতর ব্যাখ্যা সৃষ্টি হয়েছে।
হলিউডের চিত্র জগতে গন উইথ দ্য উইন্ড ছবিতেই প্রথম নারী চরিত্রকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এই ছবিতে নবাগত ভিভিয়ান লে’র চোখ দিয়ে গৃহযুদ্ধের আগের ও পরের সময়টাকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ভিভিয়ান লে’কে আবিষ্কার করতে দুই বছর ধরে ১৪০০ অভিনেত্রীর অডিশন নিতে হয়েছিলো প্রযোজক-পরিচালকের। জোয়ান ক্রুফোর্ড, বেটি ডেভিস, পলেত্তা গডার্ড, ক্যাথারিন হেপবার্ন, জিন আর্থার, জোয়ান বেনেটের মতো তখনকার উঠতি অভিনেত্রীরা অডিশন থেকে বাদ পড়েন। তবে এতো বাছাই করে যে নায়িকা নেয়া হলোছিলো তার পারশ্রমিক ছিলো অতি অল্প। এ ছবির নায়ক ক্লার্ক গেবলের পারিশ্রমিক যেখানে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ছিলো, সেখানে ভিভিয়ানের পারিশ্রমিক ছিলো ২৫ হাজার ডলার মাত্র। বিশাল বাজেটের এই ছবিতে শুধু মাত্র আটলান্টা শহর পুড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ধারণ করতে ২৫ হাজার ডলার ব্যয় হয়। এই দৃশ্য ধারণের সময় শহরের নাগরিকরা সত্যি সত্যি আগুন লেগেছিলো ভেবে ফায়ার ব্রিগেড ডেকেছিলো। আটলান্টা শহর পুড়ে যাওয়ার এই দৃশ্য ধারণ করতে পুরনো কিছু সেট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। এ ছবির একটি সংলাপের জন্য প্রযোজককে ৫ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিলো। আপত্তিকর আর মূল্যবান এই সংলাপটি হলো ‘ড্যাম’!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



