সবসময়েই কোনোখানে থেকে যায় কোনো পুঁটুলি,
একটু ধোঁয়া ছড়াচ্ছে, একটু রক্ত,
একটু বিলাপ আর একটু গান,
তুমি শুনতে পাও পায়ের দাপানি, ঝান্ডার পত্পত্,
একটা বোতাম খুলে পড়ে যায়, কিংবা হয়তো একটা মাথা,
কিংবা অন্য কিছু,
কেউ হাসে,
কেউ বমি করে,
কেউ বলে, উঃ, কীই বা লাভ, বরং এসো একঢোঁক খাই,
কেউ বলে, তোফা, বাহবা,
কেউ বলে, কেনো, আমি যখন ছোট ছিলাম,
কেউ বলে, হালচাল অন্যরকম ছিলো...
পুঁটুলি বন্ধ হয়ে যায়,
আর আবার সেখানে এক ঝনঝন, ঠিক যখন
ঘুষির চোটে উড়ে গেলো দাঁত কিংবা
কেউ ঠকঠক করছে কাঠে,
মাটি খিঁচ ধরে থাকে চাপা-পড়া কুকুরের মতো-
আর এখানে কেউ চলে যাচ্ছে,
বিদ্যুতের ঘা খেয়ে কিংবা কোনো ছুঁচের,
চারকিলো ওজনের পাথরের ঘা খেয়ে,
কোনো কথার ঘা খেয়ে,
কোনো লাঠির বাড়ি খেয়ে,
বিদ্যুতের কোনো প্রশমিত কণার ঘায়ে,
কোনো হাঁদামোর আঘাতে,
বিষের তীর বিঁধে,
পাছায় লাথি খেয়ে,
ঘা খেয়ে শতগুণ কিছুই-না-র।
সে চলে যেতে বড্ড সময় নেয়, একটা রাত আর একটা দিন,
আরো দুটো রাত।
বৃষ্টির পাগলাটে ছাঁটের মতো এদিক-ওদিক এড়িয়ে,
জলের ঝাঁঝরির তলায় সাপের মতো ভয়ে গুটিয়ে গিয়ে,
আক্কেল-হওয়া এক ডন কিহোতের মতো,
চুপ-করে-থাকা কোনো রলাঁ যেন,
যেন পদাধিকারের ফিতে ছাড়াই এক সেনাধিনায়ক,
নেতিয়ে-পড়া চুপসে-যাওয়া ছেঁড়া কাপড়ের মূর্তির মতো
সে খুঁজে বেড়ায় একটা গর্ত, কিংবা কোনো হাসপাতাল,
কিংবা কোনো জাদুঘর,
এদিকে কিন্তু ছ-টা বেজে গিয়েছে, সবকিছু বন্ধ,
উইন্ডসর কাস্ল যেমন
তেমনি সব ইঁদুরদের খামারও।
তার নিজের চোখদুটো
তার নিজের পিঠে বেঁধা এক ছুঁরি,
কোনো ধুকধুকির মতো সে শুনতেই থাকে
নিজের গলার স্বর-
আমাকে বাদ দিয়েই
ওরা করছেটা কী?
কাজেই ঐ দুই রাত্তির
আর একদিন রাত্রির পর
সে ফিরে আসে
আর আবার সেখানে যায়।
এই একটুক্ষণের জন্যে, সে বলে।
কিন্তু এ তো সারা জীবনের জন্যেই।
আমরা জানিনা সে কে।
তাকে বরং, আসুন, আমরা নাম দিই
একজন মানুষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

