আফ্রিকার সাব-সাহারান পশুপালনকারী এক আদিবাসী জাতির নাম মুর্সাই । ইথিওপিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুদান সীমান্তের কাছাকাছি ওমো নদীর আববাহিকায় তাদের বসতি। জনসংখ্যায় এরা প্রায় ৩৯০০জন। তিনটি নদী আর পর্বত ঘেরা মুর্সাইদের বসতি এলাকা দেশের মধ্যে সবচাইতে বিচ্ছিন্ন ও দূর্গম এলাকা। ১৯৭০ এর দশকের শুরুতে যখন নাকি একজন বৃটিশ নৃবিজ্ঞানী সর্বপ্রথম মুর্সাইদের এলাকায় যান, তখন পর্যন্ত মুর্সাইরা জানতেন না যে, তারা ইথিওপিয়া নামক এক রাষ্ট্রের বাসিন্দা। মুর্সাইদের প্রতিবেশীদের মধ্যে রয়েছে- বোদি, আরি, বান্না,কারা,বুমি, চাই প্রভৃতি জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। জাতির নামানুসারে মুর্সাইদের নিজস্ব ভাষার নামও -মুর্সাই । তাদের মধ্যে অল্পকিছু লোক ইথিওপিয়ার অফিসিয়াল ভাষা -আমহারিক এর সাথে পরিচিত। মুর্সাইদের মধ্যে শিক্ষিতের হার একেবারেই নগন্য। ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে মুর্সাইদের অধিকাংশই জড়োপাসক হলেও খ্রীষ্টান মিশনারীদের কল্যাণে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ খ্রীষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন।
নিচের ঠোটে প্লেট পড়ার জন্য মুর্সাই মহিলার বিশেষ ভাবে বিখ্যাত। এই ধরনের অলঙ্কার পড়ার পেছনের কারণ হলো- দাস হিসেবে কেউ যাতে তাদের ধরে নিয়ে না যেতে পারে। মাটির তৈরি এই প্লেটটি লাগানোর জন্য মহিলারা সাধারণত তাদের ১৫ বা ১৬ বছর বয়সেই নিচের ঠোটের সামান্য নিচে আড়াআড়ি কেটে ফেলেন। তারপর সেখানে প্রথমে মাটির তৈরি ছোট গোলাকার একটা প্লেট বসানো হয়। ধীরে ধীরে এই প্লেটের আকার বড় হতে থাকে। মুর্সাই সমাজে যে নারী যত বড় প্লেট তার ঠোটে ধারণ করতে পারেন বিয়ের ক্ষেত্রে তার চাহিদাও অনেক বেশী এবং এর জন্য পাত্রকে কনেপণ হিসেবে তার হবু শ্বশুড়কে দেয়া গরুও সংখ্যাও বাড়তে থাকে। শুধু ঠোটের নিম্নাংশেই নয় দুই কানেও এই ধরনের প্লেট বসানোর রীতি তাদের মধ্যে প্রচলিত।
তথ্যসূত্র:ওয়েব সাইট অবলম্বনে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


