উল্কির ইংরেজি শব্দ `Tattoo’ এসেছে পলিনেশিয় টোঙ্গান বা তাহিতিয়ান শব্দ `Tatau’ থেকে যার অর্থ -কোন কিছু চিহ্নিত করা। ১৭৬৯ সালে ক্যাপ্টেন জেমস কুক প্রথম ট্যাটু শব্দটির প্রচলন করেন। সে সময়কালে কুক তার সমুদ্র যাত্রার সময় তাহিতিয়ান জাতির সাক্ষাত পান যারা তাদের দেহ উল্কিতে সাজিয়েছিলেন। পলিনেশিয় তাহিতিয়ান সমাজে বিভিন্ন উল্কির মাধ্যমে তাদের স্বাতন্ত্র্য ও ব্যক্তিত্বকে ফুঁটিয়ে তোলার রেওয়াজ ছিল। মা'ই ÔMa’i (ইংরেজরা যাকে বলে Omai) প্রথম তাহিতিয়ান হিসেবে ইউরোপ সফরকারী হিসেবে বিখ্যাত হলেও তার দেহে অঙ্কিত উল্কির জন্যও তিনি কম বিখ্যাত ছিলেন না।
বর্তমানে ইকেলট্রিক মেশিন ও টিটানিয়াম ডাই অক্সাইড, আয়রন অক্সাইড, কার্বন, এক্রিডাইন, কুইনোলিন ইত্যাদি রং হিসেবে ব্যবহার করা হলেও পলিনেশিয় তাহিতিয়ান সমাজে উল্কি আঁকার প্রথাগত যন্ত্রটি সাধারণত হাড় বা কচ্ছপের খোলসের তৈরি সূঁচ দিয়ে, আর রং বানানো হয় ক্যান্ডলনাট পোড়ানো ছাই পানি বা তেলে মিশিয়ে। রংয়ে চুবানো সূঁচ ত্বকের উপর রেখে কাঠের তৈরি হ্যান্ডেল দ্বারা সামান্য আঘাত করলে সূঁচটি ত্বকে বিঁধে ভেতরে রং ঢুকিয়ে দেয়া হতো।
পলিনেশিয় মিথ অনুসারে সৃষ্টিকর্তা তা'আরুয়া-র দুই ছেলে মানুষকে উল্কি আঁকার শিক্ষা দিয়েছেন। এটা ছিল একটি পবিত্র শিল্পকর্ম। তাহিতিয়ান সমাজে সাধারণত তাহুয়া বা পুরোহিতেরাই এ শিল্পকর্মটি করতেন যারা উল্কির বিভিন্ন ডিজাইনের গূঢ়ার্থ, কারিগরিদিক ও অন্যান্য ধর্মীয় আচাররাদি সম্বন্ধে ভালো জ্ঞান রাখতেন। গোত্রগত বা বংশগত পরিচয়, সামাজিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত অর্জন ইত্যাদি দিক বিবেচনায় উল্কির ডিজাইন ও শরীরের কোথায় তা আঁকা হবে তা নির্ধারণ করা হতো। উল্কি আঁকার আগে যার শরীরে তা আঁকা হবে তাকে একটা নির্দিষ্ট শুদ্ধি সময় পার করতে হয়। এসময় ঐ ব্যক্তিকে যৌনকাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। ১৭৯৭ সালে মিশনারীদের আগমনের পর থেকে এই উল্কি আকার রীতি বন্ধ হতে থাকে, কেননা ওল্ড টেস্টামেন্টে উল্কি আঁকা নিষিদ্ধ করা আছে। মিশনারীদের নোট, স্কেচ থেকে পুরনো উল্কির প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা করা যায় যে, সেসময় প্রচলিত উল্কির ডিজাইনে সাধারণত ব্যক্তির জীবন ইতিহাস, কোন দ্বীপে তার জন্ম, সামাজিক অবস্থান ও কার্যকলাপকে তার দেহে ফুটিয়ে তুলত। উল্কির নির্দিষ্ট কিছু মোটিফ সম্মোহনের কাজও করত। এছাড়া বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষার জন্য ম্যাজিক্যাল বা তান্ত্রিক নিরাপত্তার জন্যও ছিল উল্কির ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন।
জীবন ও সংস্কৃতি-৩ (পলিনেশিয় তাহিতিয়ান সমাজে উল্কি)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।