সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:১৯
সোডিয়াম বাতির আলো-আধারিতে বিক্ষিপ্ত মনের কিছু ক্রিয়া
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪/৫ দিন আগে বন্ধু পরাগের সাথে ফার্মগেট দেখা হয়ে গেল। কাজকর্ম শেষ করে ওর সাথে চলে গেলাম কালাচাঁদপুর ওর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য। সেখানে সন্ধ্যায় দেখা হলো বিপিন, শুভজিতসহ অন্যান্যদের সাথে। রাত ৮টার দিকে পরাগ, বিপিন ও আমি চলে এলাম সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায়। এখানে বিপিনদের আরো কয়েকজন বন্ধু আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। সোডিয়াম বাতির আলো-আধারিতে বিপিন ওদেরকে ঠিকই খুঁজে বের করল। সংখ্যায় আমরা হলাম মোট ৬জন। লেকের বাধানো পাড়ে বসে আছি আমরা। নাগরিক মানুজনের নানা ব্যস্ততায় চোখ বুলাচ্ছি আগ্রহ ভরে। এর আগে এমন সময় এখানে আড্ডা মারার অভিজ্ঞতা আমার বা পরাগ কারোরই ছিল না। এখানে আসা মূলত বিপিনের আগ্রহেই। হেড লাইটজ্বলা প্রাইভেটগুলো চোখের সামনে এপার-ওপার করছে বিরতিহীন ভাবে। মাঝে মাঝে একটা -দুটা থামছে কিছুক্ষণের জন্য, লোকজন নামছে। কেউ কেউ উঠছে, চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। নাগরিক ব্যস্ততা। কারো দিকে তাকানোর সময় যেন নেই কারোরই। আঙুলের ফাঁকে সিগারেট শলাকা জ্বলছে একের পর এক। নানান বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা চলছে অবিরত। তবে কিছু কিছু ছায়া যেন বারে বারে ফিরে আসছে দৃষ্টি সীমায়। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়ত এটা হয়ত আলো-আধারির কোন চাতুরতা। কিন্তু না, সত্যিই কিছু মুখ ঘোরাফিরা করছে এদিক-ওদিক। আমাদের অন্য বন্ধুরা সমানে নিজেদের মধ্যে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে; তবে তা কি নিয়ে তা আমার মাথায় খেলছে না। বা বলা চলে আমিই খেলাচ্ছি না। সিগারেট ফুঁকছি আর আমার হিজিবিজি ভাবনার সাথে খেলছি। মানুষের মস্তিস্কের ক্ষমতা আসলেই অসাধারণ। একসাথে কতকিছু নিয়ে ভাবতে পারে। বার্মার মানুষদের মুক্তির জন্য উন্মাদনা, মধুপুরে নতুন করে আদিবাসী উচ্ছেদের প্রক্রিয়া, একান্তরভাবে আমাদের রাজনৈতিক উদাসীনতা ইত্যাদি সহ নাগরিক ব্যস্ততার নানান ভাবনার সাথে আমায় মাথায় খেলে যাচ্ছে ইদিলপুরের সুলভদের কথাও। ওরা একটা গানের দল করেছে গ্রামে। বাংলাতে নয়, আপন ভাষাতেই গানের চর্চা করবে ওরা। ওদের ভাষাটা না জানলেও ওদের একজন আমাকে বলেছিল বাংলাতেই কিছু গান লিখে দেওয়ার জন্য। কখনো গান লিখিনি। তাই অপারগতা আগেই প্রকাশ করেছিলাম ওদের কাছে। ওদের প্রস্তাব মাথায় রেখেই যেন কিছু শব্দ গুন গুন করছিল ভেতরে। জানিনা কেন জানি এরকম অনেক পরস্পর সংযোগহীন ভাবনাগুলো প্রাইভেট কারের ন্যায় হেড লাইট জ্বালিয়ে এদিক-ওদিক করছে। সিগারেট পুড়ছে সমান তালে। হঠাৎ খেয়াল করলাম বিপিন যেন কাকে ডাকছে, ' ..দেশী, ও দেশী.. '। দেখি এক তরুনী সাড়া দিল। কাছে এল বিপিনের, 'কী দেশী দেশী করো কে? আইজকা অবস্থা বেশী ভালা না।' বিপিনের সামনে আসতেই বিপিন ওকে কাছে টেনে নিল। আমার ঘোর কাটেনি যেন, এমন ভাবে তাকিয়ে আছি বিপিনের দিকে। কিছুক্ষণপর বিপিন ওকে ১০ টাকার একটা নোট দিল। তরুনীটি চলে গেল একপাশে। বিপিনের সাথে আমার পরিচয় অনেকদিন ধরেই। বেশ দিলখোলা মানুষ হিসেবেই জানি ওকে। এভাবে ওকে কখনো চিন্তা করিনি। যাই হোক, এবার বিপিনদের আড্ডায় কান রাখলাম। হ্যাঁ, ওরা সেইসব নারীদের নিয়েই কথা বলছে যারা এই নাগরিক ব্যস্ততায় এপাশ-ওপাশ করছে নিজেদের পেট বাঁচানোর তাগিদে। আমার চোখ বিপিনদের মতই ঘুরছে কড়া মেকাপ-সম্তা পারফিউমের গন্ধ ছড়ানো নারীদের পিছু পিছু। পরাগ কোন কথা বলছে না। চুপচাপ। হয়তো কোন কবিতার লাইন মনে মনে চিন্তা করছে। আমরা চোখ ঘুরছে তাদের পিছু পিছু। কেউ কেউ হারিয়ে যাচ্ছে আশপাশের আধারে, কেউবা প্রাইভেটের নিরাপদ(!) খোলসে; কেউবা ঘুরছে এপাশ-ওপাশ। আশপাশ থেকে ছেলে-ছোকরাদের কেউ কেউ টিজ করছে। তবে কাকে করছে তা বুঝা মুশকিল। হয়ত ওই গাড়ি ওয়ালাকে বা ঐ খোলসে ঢোকা রমনীকে অথবা উভয়কে। কিছুক্ষণ পর কর্ণেল এসে যোগ দিল আড্ডায়। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন বর্তমান ছাত্র । কর্ণেল আরেকটা মেয়েকে ধরে এনে দরদাম শুরু করে দিল। সে আড্ডায় যোগ দেয়ার পর বিপিনদের আড্ডায় যেন নতুন মাত্র যোগ হলো। আচ্ছা নারীকে এ অবস্থায় দেখে একজন বোধবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের যেখানে লজ্জা পাওয়ার কথা সেখানে কেমন আমরা আনন্দিত হয়ে উঠছি। মজা করছি। কী অদ্ভূত একটা নিয়ম আমরা চালু করে রেখেছি যে, নারীকে বাঁচতে হবে পুরুষের কামনাকে মিটানোর মধ্য দিয়েই। শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য নারীকে তার দেহ দিতে হবে, মন দিতে হবে, প্রয়োজনে সর্বস্ব দিতে হবে। পুরুষের কাছে এটাই যেন সার্বজনীন ধর্ম, সার্বজনীন আচার-প্রথা। পুরুষের প্রয়াজনে নারীকে আমরা তার দেহ বিক্রিতে বাধ্য করলেও তাকেই পতিত জ্ঞান করেছি, কিন্তু কোন পুরুষকে নয়। নারীকে কী আসলে আমরা এভাবেই দেখতে পছন্দ করি?
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।