somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেই ফুলচোরেরা কি আজও আছে ??

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, সেই একুশে ফেব্রুয়ারীকে ঘিরে কত স্মৃতি, কত ঘটনা । একুশের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে খালি পায়ে ফুল হাতে প্রভাতফেরী, শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দেয়া চাই ই চাই । এ অভিজ্ঞতা ছাড়া কোন বাঙ্গালি ভাবাই অসম্ভব ।

সেই প্রভাতফেরীর জন্য কতোই না প্রস্তুতি, কতো আয়োজন । আমার জন্ম বেড়ে ওঠা ছোট্ট একটি শহরে, মফস্বলে । সেই ছোট্ট মফস্বলে কিংবা বোধহয় সেই সময়ের একুশে ফেব্রুয়ারীর আমেজটা ছিল এখনকার থেকে একবারেই আলাদা । আমার শৈশবকালটা আশির দশকের মাঝামাঝি । সেই সময় মফস্বলে কমবেশি প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ফুলের বাগান করার চল ছিল । সেই বাগানে নানা রঙের গোলাপ, ডালিয়া, পপি, চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী, জিনিয়া, রজনীগন্ধাসহ নানা মৌসুমী ফুল । আর একুশের রাতে দল বেধেঁ ভাইয়ারা, পাড়ার ছেলেরা বেরিয়ে পড়ত ফুলচুরির অভিযানে , পরদিন সকালে যে ফুল নিয়ে সবাই শহীদ মিনারে যাবে । আর সেজন্য সবাই নিজের বাড়ির ফুল রেখে যেতো অন্যের বাগানে ফুল চুরি করতে । আবার নিজেদের বাগানের ফুল বাচাতে থাকতো রাত জেগে পাহাড়া । রাতে বাগানে লাইট জ্বালিয়ে একুশের রাতের জন্য থাকতো আলাদা ব্যবস্থা । আমি তখন ছোট ছিলাম বলে ফুলচোরদের সংগী হতে পারিনি । কিন্তু ছোট ছিলাম বলে আমার জুটতো ভাইয়াদের চুরি ফুলের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটা । সেই চুরি করা নানা বাহারি ফুল আর পাতাবাহারের পাতা দিয়ে নিজেরাই বানাতাম ফুলের তোড়া । সেই তোড়া সুতো দিয়ে বেধে নানা রঙের গোলাপ, ডালিয়া, পপি কিংবা চন্দ্র মল্লিকা দিয়ে সাজানো হতো । আর সন্তানের মতোন যত্নে লালন করা ফুলগুলো থেকে সুন্দর আরো বড় ফুল ছিড়ে নিয়ে যাওয়া হতো শহীদ মিনারে । ভোর হবার আগেই মাইকের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যেতো । দলে দলে প্রভাতফেরী দল মাইকে একুশের গান গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে যেতো । সেই দল গুলোর কোন একটি দলে ভাইয়াদের সাথে ভিড়ে যেতাম । যদিও মা বলতেন তোমার যাবার দরকার নেই, ঠান্ডা লাগবে । স্কুলের গানের ক্লাসে কিংবা দলীয় সংগীতেও যেই আমি হেড়ে গলায় গান গাইবার সাহস করতাম না সেই আমি একুশের ভোরের প্রভাতফেরীতে পরম মমতায় গাই অমর একুশের গান । আমার হেড়ে গলাতেও কেন এই গানটি খারাপ শোনায় না । আর একটু বড় হয়ে যখন স্কুলে ভর্তি হলাম তখন তো স্কুলের ইউনিফর্ম পড়ে স্কুল থেকেই যাওয়া হতো আর সেই সময় আমাদের মাঝে চলত তুমুল প্রতিযোগিতা, কার ফুলের তোড়া, ফুল সবথেকে সুন্দর । আহা কি চমৎকার সেই সবদিন গুলি । আচ্ছা সেই ফুলচোরেরা কি আজও আসে ?? এভাবেই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় শহীদ মিনারে ?? মনে হয় না । কেননা মফস্বলেও এখন আর প্রতিটি বাড়িতেই ফুলের বাগানের চলটি চোখে পড়ে না । তাই বোধহয় কালের বিবর্তনে সেই ফুলচোরেরা হারিয়ে গেছে, তাই বোধহয় আজ আর সেই ফুলচোরেরা আসে না ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১৬
২৫টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×