somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রার্থণা, চিরবৈশ্বিক অন্ধকার

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.

হ্যাঁ,তোমাকে যদি একটা কারাগারে বন্ধি করা হয়, আর কারাগার থেকে তোমার মুক্তির একমাত্র উপায় অনবরত তোমাকে নিজের সাথে নিজের কথা বলতে হবে সেই দিন অবধি যেদিন সপ্তর্ষি একটা প্রশ্নের সাপ হয়ে ঢুকে যাবে হিরক পাহাড়ের গর্তে অথবা তোমার পেশীর উপর এঁকে নিতে হবে সাতটা উতপ্ত নক্ষত্রের ট্যাঁটু। নক্ষত্রে পোড়া ঘাঁ নিয়ে তুমি বাঁচতে এই কুষ্ঠ সমাজে;তাই কী বলে যাচ্ছে কথা,ঐ নক্ষত্র- বলয়টাকে সাপ হিসাবে নামিয়ে এনে পিতলের পাত্রে তাকে নিয়ে তুমি চলে যাবে কামাক্ষারুপী কাম। তাই কী তুমি বলে যাচ্ছে কথা প্রাণ হে! তবে তুমি কি বললবে এই স্যাঁতস্যাঁতে ছাল ওঠা লাল দেওয়ালে ঘেরা কারাগারে বসে? বসে আছো ভিনদেশী আপেলের ডালে গড়া ইজিচেয়ারে। তোমাকে খেতে দেওয়া হয় ভাত,মাছ,রুটিগাছের ফল,পিপড়ের বিষ আর ফুলের সুবাস। তোমার সামনে ফেলে রাখা হয়েছে সবুজ মাকাল ফলের উপর রক্তের গন্ধে আঁকা একটা ইঙ্গিতময় বিশ্ব মানচিত্র। তুমি ঘুমিয়ে থাকো স্বপ্নের ভেতর,আর জেগে হেঁটে চলো স্বপ্নের মিউজিয়ামের এদেয়াল সেদেয়াল। এই বিস্মিত কারাবাসে তোমাকে আবিস্কার করতে হবে তোমার মস্তিস্কের কোষে লুকানো শব্দের নুড়ি পাথর আর তা তোমাকে ছুড়ে দিতে হবে কন্ঠের অন্ধকারে লুকানো বৃদ্ধ সিংহের দিকে। যেন গলার অন্ধকার থেকে সেই বলবে তোমার সমূহ সংকেতময় ব্যর্থ ভাষা। আর এই ভাষা শুনবে ঘুমন্ত কারারক্ষী আর তার পোষমানা দেশী কুকুর। আর তোমাকে কথা বলতেই হবে,তোমাকে কথা বলতে হয় কেননা ঐ সপ্তর্ষি তার খোলস দুইবার পাল্টে নিয়েছে এরই মধ্যে তোমার ইচ্ছায় কেননা তুমি মালিক হবে নক্ষত্র-সাপের,সর্প রাজ্য সে খবর জানে,কেননা তোমাকে আজ এক একে সব বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে হচ্ছে বাঘেদের সাথে,কেননা তোমাকে কথা বলতেই হবে,বলে যেতে হবে একা একা সন্ধ্যা অবধি,রাত্রির কাছাকাছি তোমাকে পৌচ্ছাতে হয় কথা বলে বলে,কেননা সপ্তর্ষি রাত-বধির,কেননা ঘন রাত্রিতে সে শোনে না তোমার কথা। কেননা সারাদিন তুমি কথা বলছো তাই কি? রোজ গোধূলি সন্ধ্যায় তোমার কথা থামে,থামলেই লাল কুকুরটা ডেকে উঠবে,আর কারাক্ষরী তার প্যাপিরাস পাতার খাতায় হিসাব রাখে কবে তুমি নামিয়ে আনবে সপ্তর্ষি-সর্প।

কোন এক বর্ষার সন্ধ্যায় তুমি মুক্তি পাও। তুমি দেখতে পাও বৃষ্টিতে গোপনে হেঁটে যাচ্ছে সাদা উটের বিহ্বল ডাক,ইশারায় ডেকে যাচ্ছে পায়ের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়া হেঁটে আসা নদী,ঐতো স্বর্গ-নরকের সিঁড়ি বসে আছে তোমার নিরন্ন মা, তোমাকে মা কী ভিক্ষা দিয়ে তুমি পুতে রাখবে তোমার মাথা মাটির নিচে,কত যুগ,মাটির উপরে তোমার দেহ ছটফট করবে তত যুগ,যেভাবে একটা কেটে ফেলা গাছ বিষন্নতায় চুপচাপ উপুড় হয়ে পড়ে বাতাস ভেঙে ভেঙে। তুমি আরও দেখবে তারাগুলো সমুদ্রের নোনা জলে লক্ষ কোটি বছরের পোড়া ঘাঁ ধুয়ে নিচ্ছে,কেমন তাদের ব্যথা,তুমিও জ্বলে যাবে। বাঁশ ঝারের প্রতিটা বাঁশের মাথায় তুমি আবিস্কার করবে তোমার চোখ বোজা মুন্ডু, গাছের পাতায় পাতায় তোমার শত শত লক্ষ লক্ষ চোখ একদৃষ্টিতে দেখছে শতরুপা পৃথিবীর রুপনারানের কূল। আর তোমার ত্বক দিয়ে বোনা কার্পেটে করে তুমি উড়ে পাড় হচ্ছে তেপান্তরের দীর্ঘ এক গনিকা পল্লীর হাসি তামাশা।

মূলত কাল রাতে তুমি কামড়ে ধরেছিলে বিষাক্ত মাকাল মানচিত্র।

২.

রৈখিক ভাষা বিজ্ঞানের কাছে আমাদের চেতনা অবদমিত। সে কোন দ্বিতীয় চিন্তাকে প্রশয় দেয়না। আর উত্তোরাধুনিকতা হলো গোপন বহুগমন। সে ষষ্ঠ চিন্তাকে প্রশয় দেয়, কিন্তু সেক্ষেত্রে সপ্তম ভাবনার কথা মনেই আসে না। আর যারা এই সপ্তম চেতনাকে ভাষার ভেতর থেকে উদ্ধার করতে সম্ভব তারা কথা বলে ভুল ব্যাকরণে,লিখে থাকে নতুন এপিকের দুই অথবা তিন প্যারা। লিরিকের আত্মোন্মচোনের ঝোক এরা এড়িয়েই চলে। আর সেই সমস্ত কবিতাকেই আমি ‘লিরিক’ বলি যারা ঠিক এই সপ্তম চেতনার পিপাসার জল নিয়ে বসে থাকে না সারাটি রাত্রি। শব্দটার সাথে যে কারো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হবে যদি একে কেউ কাব্য-দর্শন বলে ভুল বুঝে বসে। আর আমার ডিকশনারির এই লিরিক আর এই এপিক একান্ত আমার,এর সাথে কোন অতীত ঐতিহ্যের সংযোগ যোগ নেই। তোমার অতীতের ভুল কবিতা ব্যাকরণ জ্ঞান নিয়ে একে ঠিক তুমি বুঝবে উঠতে পারবে না।

এপিক কবিতা সেই কবিতা যা ধারণ করে বৈশ্বিক অন্ধকার,যার কাছে ভাষা পৃথিবীর সমস্ত কোড ব্যর্থ, যাকে দেখা যেতে পারে নবআবিস্কৃত চেতনা-ব্যাকরণ হিসাবে। কবিতাকে সামান্যতম বোঝারও কোন দায় রাখে না সে। সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে এই কবিতা ধারন করে নানা দৈর্ঘে,নানা রুপে রসে,ছন্দে অথবা অছন্দে। প্রত্যাশাহীন এক নারী শরীরের সৌন্দর্যের নাম 'এপিক‌‌' কবিতা।

আর এতো দিন লেখা প্রচুর ভালো মন্দ কবিতার ভেতর আমি দেখি লিরিকের তিতা স্বাদ। লিরিক কবিতা আলো উৎসের মত জ্বলে থাকে নানা সম্ভাবনা নিয়ে। এই আলো উৎস বৃত্তের যে ক্ষত্রেফল তার বাইরে এর আলোক যাওয়া বারণ। ফলে তাকে আমরা পাই একটা নিখুঁত বৃত্ত হিসাবে। সীমিত ক্ষেত্রফলে তার যাতায়াত,আর এই ক্ষেত্রফলের ভেতর অসীম সম্ভাবনার হাজারো বিন্দু নিয়ে সে জ্বলে পড়ে থাকে। এই সম্ভাবনা তৈরি করে অনর্থক স্নায়ু চাপ, অপ্রয়োজনীয়তা। কবিতা ঠিক শিল্প নয়,সে আসলে কবিতা,সমস্ত কিছুর থেকে তার সম্পর্কশূন্যতা। মর্হূতে গড়ে ওঠা এক জীবাশ্ম যার কোন শিল্প মূল্য নেই। কবিতা ঠিক শিল্প নয়,সে এক ব্যাপ্ত অদৃশ্য ইথার, যার অস্তিত্ত্ব নেই বলে প্রমানিত। বৃত্ত ঘেরা যে কবিতা,কেন্দ্র থেকে তার পরিধির দুরত্ব পাঠক সহজেই চিনে নিতে ভুল করে না। তাকে চিনে ফেলা যায়,শত বছরের একটা চাপ নিয়ে সে আবির্ভূত হয় পাঠকের কাছে। বোঝা না বোঝার দায় নিয়ে কবিতা এতো দিন আগায়নি। বরাবরই সে ছিলো কবিতা, ভাষা পৃথিবীর গরুর দড়ি তাকে বাধ্য করেছে বিদ্যানিকেতনের মাঠের সবুজ অর্থময়তার ঘাস খেতে। মহান এপিক কবিতা এই দায় এড়িয়ে বহুদূরে দাড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ অথিতির মত,তাকে প্রবেশ করতে দাও বাংলা কবিতার তাড়ির আসরে। পোস্টমর্ডানিটি দিয়ে এই এপিককে মাপা যায় না। পোস্টমর্ডানিটি একটা কারিগরি বিদ্যার নিখুঁত বহু সম্ভাবনাময় এক বৃত্ত যাকে যে কোন সুক্ষ পারদর্শী কৌশলী কোন বিন্দুতে কেটে সরলরেখা তৈরি করে ফেলতে পারে। পোস্টমর্ডানিটি একটা একরৈখিক ব্যাপার কেননা তাকে ডিকোড করা হয় মর্ডানিটি দিয়ে। পরিধির পরিমাপ জানা থাকলে একে সরল রেখা করতে আর কতক্ষণ। ফলে ভাবনার উপর ভাষা পৃথিবীর যে চাপ তা থেকে রা হয় না পাঠকের। স্নায়ু চাপহীন ভূ-দৃশ্যের মত সরলতা,বিজ্ঞানহীন বিকল্প-বিজ্ঞান,এখানে সময় ছড়িয়ে পড়ে আছে পাখি বিষ্ঠার মত উলঙ্গ -- লাজহীন,যুক্তিহীন প্রবল এক মুক্তিবোধ;এ সমস্ত হলো এপিক কবিতার প্রাণ।

আমরা কি এই ভাষা পৃথিবীর অত্যাচারের মুখোমুখি এখনও দাড়িয়ে আছি? যে নামেই তোমাদের ভাষা রাজ্যকে মাপো নাকে, তা দিয়ে আমাদের কবিতাকে ভুল ভাবে মাপা যাবে না।

৩.

ছিন্নভিন্ন,সম্পর্কহীন,দ্যোতনাহীন নানা কারুকাজে সজ্জিত,অনুজ্জল,দারুরসে ভরপুর,উদ্ববিড়ালের মত লাজুক,হিংস্র,সহনীয়,ধৈর্য্যহীন,মহা পৃথিবীর ব্যর্থ দর্শন আক্রান্ত,কান্ত,নিরলশ,মনে মনে কেঁদে ফেলান মত গভীর বেদনাময় আমাদের এই ভাবনার জগৎ, এই আমাদের ভাষা ভবন। চিন্তার প্রকাশ ভাষা,আর যে কোন ভাষাই প্রকাশ করে চিন্তা,যে কোন শব্দই, যে কোন চেনা জানা নাজানা কম্পনই প্রকাশ করে চেতনার গাম্ভীর্য্য,ভাবনার আবলুস কাঠের কালো দরজায় সেও রেখে যেতে পারে মিহি টোকা। ভাষা ভবনের দেয়ালের সব ছবিই দর্শনভারহীন সরল সাধারণ,তার অধিকাংশই না শোনা না দেখা। তবে কোনটাই উপলব্ধি-উত্তর নয়। মহা বিশ্বের সমস্ত কাঁপন,দৃশ্য আর অদৃশ্য অভিজ্ঞানের ভেতর থেকে নানা সুরে বাজায় তার বিষ নামানোর বাঁশি। সবাই শোনে না;আর যারা শোনে তারা অতি সাধারণ,ব্যাকরণহীন দলিল লেখক। ঐ মানুষকে চিনতে চেতনার কিছু দৃশ্যমান প্রমান আবিস্কার হতে হয়। ফলে সময় বয়ে যায়,যাচ্ছে। আবিস্কারক তাত্ত্বিক,যাদুকরের মত পোষাক পরে মিথ্যা করে দেয় বাস্তবতা। ভেলকির জগতে সে মুগ্ধ করে রাখে নক্ষত্র সকল।

বস্তু পৃথিবী আর বস্তু কেন্দ্রিক আমাদের যে সংবেদন তা গনিতের দুটি সম্ভাবনার অক্ষর ‘শূন্য’ আর ‘এক’ -- এই বিমূর্ত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে আছে। ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ এর বাইনারী সীমানা বন্ধি আমাদের চিন্তার জগৎ। হ্যাঁ আর না এর সম্ভাবনা বন্ধি যুক্তির জগৎ,সকলের না কারও কারও। ফলে সপ্তম চেতনায় পৌচ্ছানোর সামর্থ্যকে অস্বীকার করে যুক্তির জগৎ। যুক্তি মেকানিকাল ম্যাকানিজম, মুক্তিবেগের শক্তি তার ডানায় অনুপস্থিত। বস্তু,গতি,সময় আর স্থান এর বিপরীতে প্রতি-বস্তু, প্রতি-গতি, প্রতি-সময় আর প্রতি-স্থান। ‘শূন্য’ থেকে ‘এক’ এই অসীম সম্ভাবনার সীমার মধ্যে ভাবনার ভ্রমন, চেতনার যে অনুলিলিপি তা আজও লিরিক্যাল -- পরে পাওয়া বাইবেলের মত জরাজীর্ণ,হায়হায়ময়। হ্যাঁ আর না শাসিত এই প্রযুক্তির বাইরে আছে এক চিরঅন্ধকার চেতনার মহাবিস্তার। মহাবিশ্ব সসীম সম্ভাবনাময়,হাতে গুনে একদিন দেখানো যেতে পারে সূর্যের আলোর গাঢ়ত্ব অথবা গ্রহ নত্রের পাপের ওজন করে কালু ব্যাপারির কাছে আমি অথবা তুমি বিক্রি করে দেবে অন্ধকারের উজ্জ্বলতা। মানুষ উড়তে পারে। পরস্পর বিপরীতমুখী প্রতিসাম্য আমাদের আজও উড়তে দিলো না। আমরা উড়তে পারি,উড়ে গিয়ে বসতে পারি পর্বত চূড়ায় সোনালী ঈগলের বাসায়। এই দেহ দেহের ভেতর ধরে রাখা বস্তু পৃথিবী যদি চেতনার মত হালকা মিহি গতি পেতে পারতো তবে আমরা উড়তাম। ইশারুসকে মৃত্য পতন থেকে তাকে বুকে জড়িয়ে ভাসিয়ে নিয়ে আসতাম আমার ছনে ছাওয়া বর্গি আক্রান্ত দেশে। সারাঘরময় দেওয়ালে দেওয়ালে উড়ে উড়ে তুমি ভেঙে দিতে পারতে নিয়োলিথিক্যাল প্রাচীন মাকড়সার ঘর। যার ডানাহীন উড্ডয়ন দেখে তুমি ভুলে যেতে চাও এই মর্তের ভাষা শাসন। তবে কেমন সেই বৈশ্বিক চিরঅন্ধকার?


৩.

তবে কেমন সেই বৈশ্বিক চিরঅন্ধকার?

আমরা কত দূর পর্যন্ত স্মৃতি স্মরণ করতে পারি? কেউ কেউ বহুদূর পর্যন্ত পারে। পৃথিবীর প্রথম যে মানুষ মারা গিয়েছিলো তার কবর খোঁড়ার শব্দ আজও কেউ শুনতে পায়, মনে আছে পাহাড়ের দেবতার অচেনা রূপালী গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে নেমে এসেছিলো যমুনা দেবীর চুলের কালো ফিতে,মনে আছে ফেরেস্তা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে জেদ্দার মাটি,পাখি ওড়ার শব্দে এক নগরের সমস্ত মানুষ মানুষীর ঘুম ভেঙেছিলো শেষ রাতের গভীরতর হামুখের ভেতর থেকে,সাগরের সব জল কবে মেঘের কালো দড়ির মই বেয়ে নেমে এলো নীল মাটির দেশে,দেবীরা কোন বিদ্যালয়ে লিখতে পড়তে শিখেছিলো তাও তুমি লিখে রেখেছ তোমার পাথরের স্লেটে। মাতৃ জরায়ুর অন্ধকারে কত কত রাত সাদা মোম বাতি জ্বেলে গেছে শয়তান তাও আমি মনে করতে পারি,জলের বাধা সাঁতরে কবে আমি উঠে এলাম এই মৃগনাভীর বালির বাঁধে,মনে আছে কবে শরীরের শুকনো মাংশে ঢুকে যাচ্ছে ভয়ে পালানো সাপের লেজ,প্রথম বজ্রপাতে পুড়ে গিয়েছিলো এশিয়ার গম ক্ষেত,প্রথম আগুন জ্বলেছিলো জলের ভেতর , মৃত্যুর সটফটানিতে ঘটে গিয়েছিলো নির্থক বিগব্যাং,তখনও জন্মেনি কমলান বাগান,বন রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধ নিয়ে এসেছিলে তুমি রসুইঘরে,আর শয়তানের হাতের কাচের জারে নোনা পানির ভেতর বন্ধি ছিলো জেলিফিস আর অক্টোপাস,তার গলায় ঝোলানো ছিলো হাইড্রার আয়ু। তুমি দিব্যি দেখতে পাও সমস্ত প্রাগইতিহাস,দেখা না দেখা ঘটনা অঘটনা,বর্তমান;আর ভবিষ্যত তোমাকে দেখে, তুমি দেখতে পাওনা ভাগ্যের বর্ণিল হস্তরেখা।

আমরা যখন একটা বিগব্যাঙের কথা ভাবি তখন আসলে আমাদের চেতনা ঐ মহাবিস্ফেরোনের ঠিক বিপরীত পাশে বসে থাকে। মনে হয় যেনো চেখোর সামনেই ঘটে গেলো বিগব্যাং,মানব জন্ম। আমাদের চেতনা এই শরীরে বসবাসকারী কোন লাল বায়ুর তৈরি মগজের ঘন তরলের কোন আত্মা নয়। চেতনা মহাবিশ্বের এপ্রান্ত ওপ্রান্ত এপাড় ওপাড় হয়ে যায় সময়হীন গতিহীন। চেতনা ব্যাপ্ত সমস্ত মহাবিশ্বের স্নায়ুর ভেতর। এই পৃথিবীর কোথাও আমি নেই, আমার ভেতর পৃথিবী; চেতনার মিহি বিমূর্ততার ভেতর ডুবে আছে মহাবিশ্ব। আর এই আমার চেতনা পৃথিবীকে দেখছে মহাবিশ্বের বাইরে থেকে। ফলে মহাবিশ্বের বাইরে আমাদের আরও এক নাদেখা নাবোঝা চেতনার ঘরবসতি। ফলে আমি আর আমার যা কিছু তা মহাবৈশ্বিক অন্ধকারময়,ল্যাম্পপোষ্টের আলোর নিচে তাকে ঠিক দেখতে পাবে না তুমি, কেননা সে আলো খেকো-রাস।

কবিতার ভাষা লোকবর্তী, তবে তার চেতনা লোক-বিশ্বের কাছাকাছি নয়। আমরা এই চেতনাই লিখে চলেছি সশব্দে। এই ভাষাভবনের মেঝেয় ধুলোর মত সে বসে আছে,সে ঢেকে দিচ্ছে একে একে ভাষা মর্তের চাপ। এটা একটা মুক্তির চাপ, মুক্তিবেগ।

৪.

না, আসলে তুমি মরে যাওনি। তুমি আসলে জেগে উঠেছিলে। জেগে উঠেছিলে মাকাল পাহাড়ের আড়াল থেকে,ঐ সবুজ ফলের নিচে তোমাকে ফেলে রাখা হয়েছিলো মৃত মানুষের মত। এখন তোমার জানালায় এসে গেছে লটারি বিক্রেতা,কাঠি লজেন্সওয়ালা, বানর নাচানো ভাড়,সোনার মাছ শিকারী মাঝি, নতুন হেঁটে আসা পথ। মৃত্যর খুব কাছাকাছি ঘুরে এলে গভীর ঘুম আসে। তুমি জেগে উঠছো ঐ কুকুরের শ্বাসে। এখনই বলবে কথা তুমি।



সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৫৬
১১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×