somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘের দেশে পাহাড়ের দেশে (দার্জিলিং) - ২

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব - ১
Click This Link

টাটা সুমো জীপের পিছনে বসা একটু কষ্টের। তাই সুজন মেহেদী অর্ধেক রাস্তা পার হওয়ার পর সিটিং এরেজ্ঞমেন্ট চেন্জ করার কথা বলে গাড়ীতে উঠলেন। শিলিগুড়ির মালাগুড়ি থেকে বিকেল ৪টায় দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে যখন জীপ ছাড়ল তখনও ভাবছিলাম অন্ধকারে পাহাড়ী রাস্তা কিভাবে যাওয়া যাবে।

শুকনা ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার পর শুরু হল পাহাড়ী আকাবাকা রাস্তা। আমার রাঙামাটি-কাপ্তাইয়ের আকাবাকা পাহাড়ী রাস্তা দেখার অভ্যাস আছে। কিন্তু এ এক ভয়াবহ রাস্তা। আমি বুঝতে পারলাম দার্জিলিং আসা কি ভুল হয়েছে! হঠাত হঠাত রাস্তা মোড় নেয়। শুধু মোড় নিলেও এক কথা ছিল। মোড় নিয়ে আবার উপরে উঠে যায়। উপরে উঠে দেখা যায় নিচে কোন রাস্তা দিয়ে এলাম। আবার উপরে কোন রাস্তা দিয়ে যাব তাও দেখা যায়। টীমের অনেকেই বলতে থাকল, 'কি সুন্দর কি সুন্দর'! শুধু আমারই গলা শুকিয়ে কাঠ। ছোট্ট ফাইজা কিন্তু কিছুই বুঝল না। সে মহা আনন্দে গান গাচ্ছিল। আমি ওকে বললাম, মা তুমি যদি বুঝতা কি ভয়াবহ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি তাহলে আর গান গাইতা না। আকাবাকা রাস্তা, চা বাগান আর পাহাড়ের ঢালে পাহাড়ী জীবন দেখতে দেখতে সামনে যাচ্ছিলাম। গুনগুনিয়ে শুধু গাচ্ছিলাম - 'খাদের ধারের রেলিংটা.............."

প্রায় ১.৫/২ ঘন্টা পার হয়ে গেল। ততক্ষনে রাস্তাও কিছুটা সহ্য করে নিলাম। এর মাঝে আবার বৃষ্টির ভাব। গাড়ীর উপরের লাগেজ ঢাকার জন্য আর কিছুটা রেস্ট নেয়ার জন্য আমরা কুরসেং নামের এক যায়গায় থামলাম। এখানে ঠান্ডা হাওয়া আর অপূর্ব 'মোমো' খেয়ে রিফ্রেশ হলাম। বৃষ্টির মধ্যেই বাকি রাস্তা পার হলাম। মন থেকে তখন ভয়-ডর সব চলে গেছে।

রাত ৮ টায় দার্জিলিং নেমে শুরু হল হোটেল খোজা। একে তো ঠান্ডা তার উপর আবার বৃষ্টি হয়ে জমে যাবার মত অবস্থা। সুজন মেহেদী আগে একবার দার্জিলিং আসায় আমরা তার উপরেই অনেকটা নির্ভর করছিলাম। হিরন আর সুজন ভাইকে নিয়ে যখন হোটেল ঠিক করলাম ততক্ষনে ৩০/৪০ মিনিট পার হয়ে গেছে। আর এই পুরো সময়টা জোকের মত এক লোক আমাদের সাথে লেগে রইল। আগেই শুনে গিয়েছিলাম ভারতে এমন লোক লেগেই থাকে যারা মাঝখানে দালালির টাকা পায়। আমরা বারবার বলেও তাকে সরাতে পারছিলাম না। এতটা সময় ঠান্ডার মধ্যে ফাইজাকে নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে জিয়া ভাই বেশ বিরক্ত হলেও আমাদের কিছু বলেন নি। রাত ৯ টার দিকে গান্ধী রোডের হোটেল ফেয়ারমন্টের একই ফ্লোরে ৬০০ রুপির ৪টা রুম নিয়ে যখন উঠলাম তখন আমরা প্রচন্ড ক্লান্ত। তবে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় ক্লান্তি দূর হয়ে যাচ্ছে। আর সহযাত্রীদের সাহচার্যে আমার মন তখন হাওয়ায় উড়তে শুরু হয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম কি এক দূর্লভ বন্ধুভাগ্য আমি বরন করতে যাচ্ছি। আমাদের পরবর্তী কয়েকদিন এই মানুষগুলোর স্পর্শে আনন্দময় হয়ে উঠল।

রাত ৯টার মধ্যেই দেখলাম দার্জিলিং শহড় ঘুমিয়ে পড়েছে। খাবার হোটেল পেতে তাই কষ্টই হল। সবাই ক্লান্ত, তাই পরেরদিন ভোরের কোন প্রোগ্রাম রাখলাম না। জনপ্রতি ৪০-৬০ রুপি দিয়ে মহাকাল হোটেলে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরেই ঘুম। ৩ প্রস্থের লেপ-কম্বল দিয়ে কোনমতে শীত আটকিয়ে এক ঘুমে এক কাতে রাত পার।

সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরালাম। ইয়া আল্লাহ। এ কি দেখলাম। এ কি বিষ্ময়। এ কোন দুনিয়া!

(বাকি কথা পরের পর্বে ইনশাল্লাহ)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০০৯ দুপুর ২:৪০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×