Click This Link
টাটা সুমো জীপের পিছনে বসা একটু কষ্টের। তাই সুজন মেহেদী অর্ধেক রাস্তা পার হওয়ার পর সিটিং এরেজ্ঞমেন্ট চেন্জ করার কথা বলে গাড়ীতে উঠলেন। শিলিগুড়ির মালাগুড়ি থেকে বিকেল ৪টায় দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে যখন জীপ ছাড়ল তখনও ভাবছিলাম অন্ধকারে পাহাড়ী রাস্তা কিভাবে যাওয়া যাবে।
শুকনা ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার পর শুরু হল পাহাড়ী আকাবাকা রাস্তা। আমার রাঙামাটি-কাপ্তাইয়ের আকাবাকা পাহাড়ী রাস্তা দেখার অভ্যাস আছে। কিন্তু এ এক ভয়াবহ রাস্তা। আমি বুঝতে পারলাম দার্জিলিং আসা কি ভুল হয়েছে! হঠাত হঠাত রাস্তা মোড় নেয়। শুধু মোড় নিলেও এক কথা ছিল। মোড় নিয়ে আবার উপরে উঠে যায়। উপরে উঠে দেখা যায় নিচে কোন রাস্তা দিয়ে এলাম। আবার উপরে কোন রাস্তা দিয়ে যাব তাও দেখা যায়। টীমের অনেকেই বলতে থাকল, 'কি সুন্দর কি সুন্দর'! শুধু আমারই গলা শুকিয়ে কাঠ। ছোট্ট ফাইজা কিন্তু কিছুই বুঝল না। সে মহা আনন্দে গান গাচ্ছিল। আমি ওকে বললাম, মা তুমি যদি বুঝতা কি ভয়াবহ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি তাহলে আর গান গাইতা না। আকাবাকা রাস্তা, চা বাগান আর পাহাড়ের ঢালে পাহাড়ী জীবন দেখতে দেখতে সামনে যাচ্ছিলাম। গুনগুনিয়ে শুধু গাচ্ছিলাম - 'খাদের ধারের রেলিংটা.............."
প্রায় ১.৫/২ ঘন্টা পার হয়ে গেল। ততক্ষনে রাস্তাও কিছুটা সহ্য করে নিলাম। এর মাঝে আবার বৃষ্টির ভাব। গাড়ীর উপরের লাগেজ ঢাকার জন্য আর কিছুটা রেস্ট নেয়ার জন্য আমরা কুরসেং নামের এক যায়গায় থামলাম। এখানে ঠান্ডা হাওয়া আর অপূর্ব 'মোমো' খেয়ে রিফ্রেশ হলাম। বৃষ্টির মধ্যেই বাকি রাস্তা পার হলাম। মন থেকে তখন ভয়-ডর সব চলে গেছে।
রাত ৮ টায় দার্জিলিং নেমে শুরু হল হোটেল খোজা। একে তো ঠান্ডা তার উপর আবার বৃষ্টি হয়ে জমে যাবার মত অবস্থা। সুজন মেহেদী আগে একবার দার্জিলিং আসায় আমরা তার উপরেই অনেকটা নির্ভর করছিলাম। হিরন আর সুজন ভাইকে নিয়ে যখন হোটেল ঠিক করলাম ততক্ষনে ৩০/৪০ মিনিট পার হয়ে গেছে। আর এই পুরো সময়টা জোকের মত এক লোক আমাদের সাথে লেগে রইল। আগেই শুনে গিয়েছিলাম ভারতে এমন লোক লেগেই থাকে যারা মাঝখানে দালালির টাকা পায়। আমরা বারবার বলেও তাকে সরাতে পারছিলাম না। এতটা সময় ঠান্ডার মধ্যে ফাইজাকে নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে জিয়া ভাই বেশ বিরক্ত হলেও আমাদের কিছু বলেন নি। রাত ৯ টার দিকে গান্ধী রোডের হোটেল ফেয়ারমন্টের একই ফ্লোরে ৬০০ রুপির ৪টা রুম নিয়ে যখন উঠলাম তখন আমরা প্রচন্ড ক্লান্ত। তবে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় ক্লান্তি দূর হয়ে যাচ্ছে। আর সহযাত্রীদের সাহচার্যে আমার মন তখন হাওয়ায় উড়তে শুরু হয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম কি এক দূর্লভ বন্ধুভাগ্য আমি বরন করতে যাচ্ছি। আমাদের পরবর্তী কয়েকদিন এই মানুষগুলোর স্পর্শে আনন্দময় হয়ে উঠল।
রাত ৯টার মধ্যেই দেখলাম দার্জিলিং শহড় ঘুমিয়ে পড়েছে। খাবার হোটেল পেতে তাই কষ্টই হল। সবাই ক্লান্ত, তাই পরেরদিন ভোরের কোন প্রোগ্রাম রাখলাম না। জনপ্রতি ৪০-৬০ রুপি দিয়ে মহাকাল হোটেলে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরেই ঘুম। ৩ প্রস্থের লেপ-কম্বল দিয়ে কোনমতে শীত আটকিয়ে এক ঘুমে এক কাতে রাত পার।
সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরালাম। ইয়া আল্লাহ। এ কি দেখলাম। এ কি বিষ্ময়। এ কোন দুনিয়া!
(বাকি কথা পরের পর্বে ইনশাল্লাহ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

